উদারপন্থী আধুনিক সৌদি আরবের রূপকার প্রিন্স সালমান!

Please log in or register to like posts.
News

সৌদি সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রাতারাতি সৌদি আরবের অনেক রীতিতে সংস্কার আনছেন। শুধু রীতি নয় অনেক আইন কানুন এরও পরিবর্তন এনে কট্টরপন্থীদের এক প্রকার কোণঠাসা করে ফেলেছেন। বহু বছরের কট্টরপন্থী নিয়ম কানুন এবার শিথিল হতে শুরু করেছে সৌদি আরবে। সৌদি আরব সম্প্রতি তাদের সংস্কার নিতিমালা হাতে নিয়েছে আর যার মুল পরিকল্পনায় রয়েছেন যুবরাজ মোহাম্মদ। কিছুদিন পূর্বেই তিনি মেয়েদের গাড়ী চালানোর অনুমতি দিয়ে সৌদি নারীদের কাছে রীতিমত হিরোতে পরিণত হন। তার সুত্র ধরেই সম্প্রতি দেশটির এক শীর্ষ ধর্মীয় গুরু বলেছেন সৌদি মেয়েদের বোরকার মতো পোশাক পরিধানে তেমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আরো অনেক বিষয়ের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে দেশটি যার পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছেন যুবরাজ সালমান। সৌদি আরবের বেশ কিছু নিতিমালা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বহুদিন ধরেই সমালোচনা ছিল। যার মধ্যে নারী অধিকার অন্যতম।

যুবরাজের ভিশন ২০৩০ অনুযায়ী সৌদি আরব এখন সামাজিক সংস্কারের দিকে এগুচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সৌদি আরবকে কট্টরপন্থী খোলস থেকে বের করে আনতে চান যুবরাজ সালমান। আর তাকে সমর্থন যোগাচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব যার সবটায় তাদের স্বীকৃতি মিলছে। সৌদি বিনোদনের উৎকর্ষ বাড়াতে সম্প্রতি সিনেমা হলের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির রাজ পরিবার। সৌদি আরবের লোকজন সর্বশেষ হলে গিয়ে সিনেমা দেখেছে সেই ১৯৭০ এর দশকে। পরবর্তীতে দেশটির কট্টরপন্থী ইসলামিক নেতাদের ফতোয়ায় সিনেমা হলগুলো বন্ধ করে দেয় সৌদি রাজ পরিবার। এরপর বিগত ৩৫ বছর ধরে সেখানে আর কোনো সিনেমা হল ছিল না। কিন্তু সৌদি যুবরাজের ইচ্ছায় দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আগামী ১৮এপ্রিল রিয়াদে সারম্ভরে চালু হচ্ছে দেশটির প্রথম সিনেমা হল। একই প্রক্রিয়ায় আগামী ৫ বছরে আরো ৪০ টি সিনেমা হল চালু করা হবে  সৌদি আরবের ১৫ টি শহরে। প্রশ্ন হচ্ছে, সিনেমা হল আর বিনোদন কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে সৌদি আরব কি তার কট্টরপন্থী খোলস থেকে বেরুতে পারবে?

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন যুবরাজ সালমান আর এই সুযোগে তিনি বিশ্বের সবচাইতে বড় সিনেমা হল চেইন অ্যামেরিকান মুভি ক্লাসিকস বা এএমসির সাথে চুক্তি সেরে ফেলেছেন। নিজ দেশে মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে বিনোদন খাতে হাজারো কোটি ডলার খরচ করতে সৌদি আরব নিজেও আগ্রহী। বিনোদনের নানা উৎসে হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের অংশ হিসেবে প্রথম ধাক্কায় সিনেমা হল চালুর মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সালমান।  সৌদি আরবের ৭০ শতাংশ বিশাল জনগোষ্ঠীর বয়স এখন ৩০ এর নিচে। আর তারা বিনোদনের খোঁজে মরিয়া যার জন্য তারা দেশের বাইরে গিয়ে বহু টাকা খরচ করে ফেলে। আপাতদৃষ্টে ধারণা, সৌদিরা বিনোদনে দেশেই নিজেদের টাকা খরচ করুক সেটিই সৌদি যুবরাজ চাইছেন। সৌদি আরব নিজের দেশেই তাদের সেই সুযোগ করে দিতে আগামী পাঁচ বছরে পশ্চিমা বিনোদনের এবং গ্ল্যামারের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করতে চলেছেন। সৌদি আরব বিনোদনে বিশাল বিনিয়োগ করছে দেখে হলিউড এর রথী মহারথীরা তার ভাগ পেতে উদগ্রীব হয়ে উঠেছেন।

বিনোদনের কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে রক্ষণশীল সমাজ থেকে বের হয়ে আসার উদাহরণ দাঁড় করাতে চাইছে সৌদি রাজ পরিবার। আর সে উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যুবরাজ সালমান। ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলস এর বিলাসবহুল ফোর সিজনস হোটেলটির পুরোটাই ভাড়া নিয়েছিলেন যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান। আর তাতেই গান থেকে শুরু করে সাজ সজ্জা, খাবারের মেনুসহ সব কিছুতেই সৌদি আরবের ছোঁয়া লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। হোটেলটিতে যুবরাজ সালমানের দেয়া পার্টিতে হলিউডের সবচাইতে ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়েছিলেন। ডোয়েইন দা রক জনসনের মতো তারকারাও মেতেছেন যুবরাজের প্রশংসায়। ফিল্ম স্টুডিও হিরো ভেনচারের সিইও রিক লাইখট বলেন, “আমরা মার্ভেল কমিকস এর বিনোদন নিয়ে সৌদি আরব যেতে চাই। আশা করছি এ বছর শেষ হওয়ার আগেই সেই সুযোগ আমরা পেয়ে যাব। যুবরাজ সালমান দারুণ এক আয়োজন করেছেন”

যুবরাজ কিংবা রাজপুত্র কথাটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে রূপকথার দৃশ্য যেখানে তারা অনেক অসাধ্য সাধন করেন। কিন্তু সৌদি যুবরাজ রুপকথায় নয় বাস্তবেই রাতারাতি পরিবর্তন করতে চলছেন সৌদি আরবের বহু বছরের রীতি যা পূর্বের কোন যুবরাজ কিংবা বাদশাহ চেষ্টা করে দেখেননি। যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি যুবরাজকে দেখা গেছে ঐতিহ্যবাহী সৌদি পোশাক ছেড়ে স্যুট পরিধান করতে। মোটকথায় সৌদি আরবকে আক্ষরিক অর্থে একটি ফ্যাশন সচেতন আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করার মিশনে আছেন যুবরাজ সালমান। দীর্ঘ দিনের কট্টর সৌদি রীতিতে পরিবর্তনে খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ৩২ বছর বয়সী এই প্রভাবশালী যুবরাজ। তার ক্ষমতা আর অর্থ দিয়ে তিনি শক্ত হাতেই সব পরিস্থিতি সামাল দেয়ার সামর্থ্য রাখছেন। আর তাই বিনোদনে সৌদি সরকারের হাজার হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগের পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়নের পথে।

Reactions

1
0
1
1
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

1
1
1

Nobody liked ?

Leave a Reply