গণবিলুপ্তির পথে বাংলাদেশের সিনেমা হল।

Please log in or register to like posts.
News

চলচ্চিত্র নিঃসন্দেহে একটি দেশের সংস্কৃতি,মূল্যবোধ আর ভাবধারাকে প্রকাশ করে।কিন্তু দুঃখের বিষয় হল বর্তমান সময়টা যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশেরর সিনেমার জন্য।দিন দিন কমছে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা;অবস্থাটা এতটাই গুরুতর হয়ে পড়েছে যে সিনমা হলগুলো অনেকটা গণবিলুপ্তির পথে বললেও অসংগতিপূর্ন হবেনা।পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যেখানে সিনেমা হলগুলো বেশ জমজমাটভাবে চলছে,সেখানে আমাদের দেশে সিনেমাহলের অবস্থা এতটাই নাজেহাল যে হলমালিকেরা গুটিয়ে নিচ্ছেন সিনেমা ব্যবসা।বাংলাদেশের সিনেমার ক্রান্তিকাল চলছে বেশ কয়েক বছর ধরেই,শুধুমাত্র দুই ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোই ব্যবসার মুখ দেখলেও বাকিগুলো অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়ছে।উপায় না পেয়ে অনেক হলমালিকরা তো সারাবছরই প্রায় দুই ঈদের ছবি দিয়েই কাটিয়ে দেয়।এর পিছনে আসলে কোন কারনগুলো দায়ী খতিয়ে দেখলে অনেকগুলো কারন বেরিয়ে আসে।
প্রথমত সিনেমার সংকট,
প্রতি বছর অপর্যাপ্ত সিনেমা নির্মান,যার কারনে বছরের বেশিরভাগ সময়ে সিনেমাহলগুলো নতুন ছবি রিলিজ করতে পারছেনা ফলে বন্ধ করে দিচ্ছে সিনেমা ব্যবসা;এখানে একটা বিষয় লক্ষনীয় যে কেন অপর্যাপ্ত সিনেমা নির্মান হচ্ছে?প্রযোজকরা কি সিনেমায় টাকা লগ্নি করতে অনীহা প্রকাশ করছেন?
হয়ত সেটাই যার কারন উপর্যপরি সিনেমা ফ্লপ এবং প্রযোজকের ব্যবসা তো দূরে থাক লগ্নি করা টাকাই ফেরত পাচ্ছেন না।
এর পেছনে বেশ কিছু কারন রয়েছে,যেমন
সিনেমার স্ক্রিপ্ট যারা লেখেন তাদের অধিকাংশই হয় তামিল/তেলেগু কোন একটা সিনেমার গল্প কপি করেন নয়ত সেই নব্বইয়ের দশকের ভাবধারা মাথায় রেখে গল্প লিখেন। তারা ভুলে যান যে এই ২০১৮এ একজন দর্শক কেমন গল্প আশা করেন;আমরা পিছিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় কারন।
দ্বিতীয়ত,মেকআপের ব্যাপারটা,আমাদের দেশের সিনেমার নায়ক নায়িকা কিংবা অন্যদের মেকআপ দেখলে বেশ অপেশাদারিত্ব মনে হয় যার ফলে দর্শকের শুরুতেই একটা নেগেটিভ মনোভাব চলে আসে।
তৃতীয়ত,কম বাজেট।
এরপর বলা যেতে পারে বাংলাদেশি সিনেমায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দূরে থাক এখনো সেই পুরানোদিনের জিনিসপত্র দিয়েই কাজ চালাচ্ছে।
আর একটি বিষয় হল ভিএফএক্স।অধিকাংশ বাংলাদেশি সিনেমার ভিএফএক্স এতটাই জঘন্য হয় যে ছবিটা দেখলে দর্শকের বিরক্তির সৃষ্টি হয়।আরএকটি বিষয় এই ২০১৮এ এসেও অনেক পরিচালককে অনেকটা অশ্লীল রকমের ছবি তৈরিতে আগ্রহ দেখা যায় কিন্তু তারা ভুলে যান যে এ যুগে কেউ টাকা খরচ করে সিনেমা হলে এসব ছবি দেখতে যাবেন না।
এছাড়াও অভিনয়ে ত্রুটি,বছরের পর বছর অপরিবর্তনীয় ভাবধারার সিনেমার কারনে দর্শকরা হল বিমুখ হচ্ছেন।এভাবে বাংলাদেশি সিনেমার করুন দশা চলতে থকালে খুব বেশিদিন দরকার হবেনা বাদবাকি প্রেক্ষাগৃহগুলো ও বন্ধ হতে।

Reactions

0
0
0
0
1
0
Already reacted for this post.

Reactions

1

Nobody liked ?

Leave a Reply