ঘুরে আসুন আহসান মঞ্জিল

Please log in or register to like posts.
News

যারা অল্প সময়ের জন্য ঢাকার আসে পাশের সুন্দর জায়গা থেকে ঘুরে আসতে চান তাদের জন্য আহসান মঞ্জিল হবে উপযুক্ত স্থান । খুব সুন্দর করে গড়ে তোলা হয়েছে আহসান মঞ্জিল কে ।

ইতিহাস –
কোন এক ফরাসির কাছ থেকে ১৮৩৫ সালে আব্দুল গনি কিনে নেয় এই প্রাসাদটি । যখন ফরাসি থেকে কিনে নেন তখন প্রাসাদের অবস্থা কিছুটা খারাপ ছিল । পরবর্তী কালে ১৮৭২ সালে আব্দুল গনি এটিকে আবার পূর্ণ নির্মাণ করেন । তার ছেলে আহসানউল্লাহ এর নাম অনুসারে তিনি এই প্রাসাদের নাম রাখেন আহসান মঞ্জিল । কিন্তু প্রাসাদটি বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি । ১৮৯৭ সালে ১২ জুন শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেঙে যায় আহসান মঞ্জিল এর অনেকখানি অংশ । পরবর্তী কালে আবার তা পূর্ণ নির্মাণ করেন নবাব আহসানউল্লাহ ।
এটি ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত । ইসলামপুর ব্রিটিশ আমল থেকে বিখ্যাত ছিল তাদের বাণিজ্যের জন্য । এখানে নানান জিনিস পত্র পাওয়া যেত । ঢাকার সাথে তখন বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল এই বুড়িগঙ্গা নদী । পরবর্তী কালে নদীর পানি দূষিত হওয়ার কারণে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখন আর আগের মতো পণ্য আনা নেয়া হয়ে না । ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলে নবাবের পরিবার বিদেশে চলে যায় । নবাব যাদের উপর দায়িত্ব দিয়ে যান তারা ভালো মত দেখা শুনা না করার কারণে তাদের প্রাসাদ ক্ষতির সম্মুখীন হলে , তখন নবাব সিদ্ধান্ত নেন তাদের এই জায়গাটা তারা নিলাম করে দিবেন । কিন্তু তৎকালীন সরকার এই জায়গার গুরুত্ব বুঝতে পেরে নিলাম সিদ্ধান্ত বাতিল করান । এবং নবাব থেকে নিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান ঘোষণা করেন । পরবর্তী কালে জনসাধারণের জন্য জাদুঘর নির্মাণ করেন ।

কি আছে আহসান মঞ্জিলে ?

এই প্রাসাদের ছাদের উপরে আছে কে বিশাল গম্বুজ ।যা একসময় ঢাকার সবচেয়ে বড় গম্বুজ ছিল । আগের দিনের নবাবের এই প্রাসাদে বসে সারা ঢাকা শহর কে পরিচালনা করতো । মূল প্রাসাদের আঙিনা দিয়ে সুবিশাল সিঁড়ি দেখতে পাওয়া যায় ।যা মূলত প্রাসাদের মূল ফটকের সাথে যুক্ত । আপনি যদি সেই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যান , তাহলে আপনি নাচের ঘর দেখতে পাবেন । আর যদি সিঁড়ি দিয়ে দাঁড়িয়ে নিচ বরাবর তাকান তাহলে আপনার সামনে ফুটে উঠবে বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য । আপনি সামনে মাঠের মত দেখতে পাবেন , আর আপনার চোখ যদি একটু সামনে যায় তাহলে আপনি বুড়িগঙ্গা নদী দেখতে পাবেন । আর দেখবেন ইসলামপুর এর মানুষের জীবন যাত্রা এর কিছু চিত্র ।

প্রথমে আপনাকে টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকতে হবে । বর্তমানে টিকিটের মূল্য বাংলাদেশী দের জন্য ২০ টাকা । সার্ক ভুক্ত দেশের জন্য ১০০ টাকা আর বিদেশী নাগরিকদের জন্য ২০০ টাকা । টিকিট কেটে আপনার প্রয়োজনীয় মালামাল কাউন্টারে জমা দিয়ে টোকেন নিয়ে নিন । এই টোকেন পরবর্তী কালে বের হওয়ার সময় কাউন্টারে দেখিয়ে আপনার মাল বুঝে নিবেন । ভুলেও টিকিট ফেলে দিবেন না ।কারণ মূল ভবনে প্রবেশ করার জন্য আপনার টিকিটি লাগবে । আপনি সোজা হেঁটে যাবার পথে ফুলের বাগান দেখতে পাবেন । সোজা হেঁটে হাতের ডান পাশ ধরে গেলে আপনি ভবনের প্রবেশ পথ দেখতে পাবেন । টিকিটে দেখিয়ে ভেতরে ঢুকলে প্রথমে পরবে রণ সাজে সজ্জিত এক সেনা । যুদ্ধে যাওয়ার আগে এই রকম পোশাক পরিধান করা হতো । আপনি সেই রাস্তা ধরে সামনে আসলে দেখতে পাবেন কিছু ছবি আর বই নিয়ে একটি ঘর । এখান থেকে আপনি ছবি কিনে নিতে পারেন কারণ ভেতরে মোবাইল বা ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষেধ । তার পরের কামরায় আপনি বিশাল আকারের ঝাড়বাতি দেখতে পাবেন । আর সাথে আহসান মঞ্জিল এর সুন্দর কিছু ছবি দেখতে পাবেন । একের পর এক কামরায় আপনি এক এক রকমে জিনিস দেখতে পাবেন । একটি কামরা আছে যেখানে নবাবদের সময় চিকিৎসা করার যন্ত্রপাতি আছে । আপনি দেখলে অবাক হয়ে যাবেন । কারণ এই সব যন্ত্রপাতি এখন দেখতে পাওয়া যায়না বললেই চলে । আপনি একটু সামনে আসলে দেখতে পাবেন বিশাল একটা হাতির মাথার খুলি । খুব সুন্দর চক চক করছে । আমি যখন প্রথম দেখি তখন অনেকটা অবাক হয়ে যাই । কারণ মাথার সাইজটা বিশাল ছিল । তার পর আপনি দেখতে পাবেন একটা কামরা যেখানে নবাবরা বসে খাবার খেয়ে থাকতো । বিশাল বড় তাদের খাবার রুম।রুম দেখে বোঝা যায় , তারা যখন খাবার খেতে বসতো, তখন অনেক মানুষ এক সাথে বসতো । প্রথম তোলা ঘোরা শেষ হলে আপনি উপরের কামরায় যেতে পারবেন । সেখানে বিভিন্ন নবাব সহ বাংলাদেশে অনেক নামীদামী ব্যক্তিদের ছবি আছি । তার পাশের কামরায় গেলে দেখতে পাবেন নবাবদের ঘুমানোর ঘর ও কিছু আসবাবপত্র যা তারা বিভিন্ন সময় ব্যবহার করেছেন । এছাড়া আপনি আরও অনেক কিছু দেখতে পাবেন । যা আপনাকে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করবে ।

কিভাবে আসবেন ?

আপনি ঢাকার বাহিরে বা ঢাকার ভিতরে যেখানেই থাকেন না কেন আপনাকে প্রথমে গুলিস্তান অথবা সদরঘাট আসতে হবে । সেখান থেকে ইসলামপুর হয়ে কাউকে জিজ্ঞেস করলে দেখিয়ে দিবে আহসান মঞ্জিল কোথায় ।

সাবধানতা

আপনি কাউন্টার মাল জমা দেয়ার সময় অবশ্যই নিজের মোবাইল , টাকা সাথে রাখবেন । ইচ্ছা করলে পানির বোতল সাথে রাখতে পারেন । আর ভুলেও ভেতরে ছবি তোলার চেষ্টা করবেন না । যদি করেন তাহলে ভেতরে নিয়োজিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে খুব বেশি ভালো ব্যবহার পাবেন না ।

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?

One comment on “ঘুরে আসুন আহসান মঞ্জিল

Leave a Reply