জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব- কালো জাদু

Please log in or register to like posts.
News

আমার অন্যতম সফল একটি সিরিজ হল জ্বীন সমাচার ।

বেশ কিছুদিন পর আবার আরেকটি নতুন পর্ব নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি । আজকের পর্বটি বিগত পর্বের থেকে একটু আলাদা থাকবে । বিগত পর্বে মূলত সরাসরি জ্বীন এর কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখা হলেও আজ একটু ভিন্ন ধরণের লেখা হবে । লেখার আগে বলে নিই , এই সিরিজের প্রতিটা গল্প সত্য । হয়তো আপনাদের কাছে বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে । এখানে প্রতিটা ঘটনা আমার সাথে না হয় আমার কাছের মানুষদের সাথে ঘটে যাওয়া । আমার ঘটনার সাথে হয়তো খোঁজ নিলে আপনার বা আপনার আশেপাশের মানুষদের সাথে মিলে যাবে ।

মূলত আজকের ঘটনা কালো জাদু নিয়ে । কালো জাদু নিয়ে ইতিমধ্যে আমার প্রিয় লেখক ও বন্ধুসুলভ ফেরদৌস ভাই লিখেছেন । আমি আজ আপনাদের সাথে একটা ঘটনা শেয়ার করবো যা আমার কাছের একজন মানুষের সাথে ঘটে গিয়েছে ।

প্রথমে আপনাদের কালো জাদু সম্পর্কে ধারণা দিয়ে নিই । কালো জাদু বা ব্ল্যাক ম্যাজিক হল এমন একটা মাধ্যম , যার সাহায্যে আপনি অন্যের ক্ষতি করতে পারবেন , সেই সাথে অনেক নিষিদ্ধ কাজ কিছুটা সহজ উপায়ে করতে পারবেন । নিষিদ্ধ কাজ বলতে বোঝানো হয়েছে , আমাদের ধর্মে বলা হয়েছে আপনি কোনো জ্বীনকে নিজের বশ করতে পারবেন না । কিন্তু কালো জাদুর মাধ্যমে আপনি খারাপ বা দুষ্ট জ্বীনদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন , আবার অনেক সময় আপনি তাদের হুকুমের গোলামও করতে পারবেন । কিন্তু এতে আপনার উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কা অনেক বেশি । কি রকম ক্ষতি বা কালো জাদু – তা নিয়ে আমি আরেকটি লেখা লিখবো !! আজ আমি সরাসরি আমার ঘটনায় চলে আসি ।

সুমির ( ছদ্ম নাম ) বিয়ে হয়েছে আজ ৫ বছর । বিয়ের আগে থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ২ বছর । একে অপরকে অনেক ভালোবাসে । সম্পর্কের দুই বছরের মাথায় ভালোবাসাকে পরিপূর্ণতা দেয় বিয়ের মাধ্যমে । খুব ভালো ভাবে চলছিল তাদের সংসার । সাগর ( ছদ্ম নাম ) মানে সুমির হাজবেন্ড মূলত একজন ব্যবসায়ী । প্রায় তাকে ব্যবসার কাজে ঢাকার বাহিরে যেতে হয় । বিয়ের দুই বছরের মাথায় তাদের সংসার আলোকিত করে আসে এক মেয়ে । সুখের যেন অভাব ছিল না । ঠিক বিয়ের ৩ বছরের মাথায় সাগরের ব্যবহারে কিছুটা পরিবর্তন দেখতে পায় সুমি । কেমন যেন তাকে ইগনোর করে । হুট করে ক্ষেপে যায় । প্রথম দিকে সুমি ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবে নিলেও পরবর্তীতে অস্বাভাবিক আকার ধারণ করে । কথায় কথায় গালি দিয়ে কথা বলে সাগর , যা এর আগে কখনো করেনি । এখন সুমির গায়ে হাত তুলতে লাগলো । সুমি কিছুতেই বুঝতে পারছে না সাগরের কি হয়েছে । সুমির বান্ধবীর মামা একজন সাইক্রিয়াটিস্ট । সুমি একদিন তার সাথে দেখা করে ও তার সব সমস্যা খুলে বলে । সমস্যা অনুযায়ী তাকে সমাধান দেয়া হলেও , সেই সমাধান কোনো কাজেই আসছে না । দিন দিন তাদের সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করছে । শেষে সুমি উপায় না পেয়ে তাদের এলাকার এক হুজুরের কাছে দ্বারস্থ হয় । হুজুর সম্পূর্ণ ঘটনাটি মনোযোগ দিয়ে শোনেন । হুজুর তখন বলেছিলেন,তিনি সমস্যাটা ধরতে পেরেছেন । এটার চিকিৎসাও আছে কিন্তু তার হাজব্যান্ডকে নিয়ে আসতে হবে । সুমি চিন্তায় পড়ে যায় । সাগর আর আগের মতো নেই । আর যেই ব্যবহার সাগর সুমির সাথে করে, কিভাবে এখন ওই হুজুরের কাছে নিয়ে যাবে বুঝে উঠতে পারছে না । একদিন দেখতে পেল সাগরের মনটা কিছুটা ভালো । সেইদিন সাগরকে অনেক বুঝিয়ে নিয়ে গেলো হুজুরের কাছে । বিকেল ৪ টার দিকে গেলেও তাদের মাগরিবের ওয়াক্ত পর্যন্ত বসিয়ে রেখেছে । মাগরিবের পর তাদেরকে একটা রুমের মধ্যে নিয়ে বসালো । প্রথমে হুজুর সাগরকে এক গ্লাস পানি খেতে দিলো । পানি খাওয়া মাত্রই সাগর বমি করা শুরু করলো । প্রচুর বমি শুরু হল । সুমি ভয় পেয়ে গিয়েছে । পানির মধ্যে এমন কি আছে যে খাওয়া মাত্র বমি শুরু করলো – হুজুরকে প্রশ্ন করলো সুমি ।
হুজুর বলল মা একটু চুপ থাকো আমি তোমাদের সব খুলে বলবো । ১০ মিনিট পর তার বমি বন্ধ হয়ে যায় । বমির কারণে সাগর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে । তখন হুজুর মূল ঘটনা খুলে বলে। আমি হুজুরের কথা সম্পূর্ণ তুলে ধরলাম ।

মা তোমার জামাই মনে হয় ঢাকার বাহিরে যায় কাজের জন্য । ঠিক এই রকম কাজের জন্য একবার চট্টগ্রামে যায় তোমার জামাই । সেখানে এক ক্লায়েন্ট এর বাসায় সম্ভবত উঠে । সেইদিন রাতে সেখানে ভাতের সাথে চিলের আর মুরগির মাংস মিলিয়ে খেতে দেয়া হয় । ওই চিলের মাংসে কুফুরী কালাম করা ছিল । সেদিনকার পর থেকে তোমার জামাই তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে । মূলত তারা চেয়েছিল তোমার জামাই পাগল হয়ে যাক । তাহলে আর ব্যবসা করতে পারবে না । তার মার্কেট দখল করবে । এখানে আমি পানিপড়া দিয়ে দিয়েছি । আজ রাতে তাকে কিছু খেতে দিয়ো না । কাল সকালে খালি পেটে এই পানি খেতে দিও ।হয়তো আরেকবার বমি করলেও করতে পারে । তার পেটের ভেতরে যা ছিল বের হয়ে গিয়েছে । এখন আশা রাখি আর কোন সমস্যা হবে না ।

সুমি হুজুরের কথা মতো কাজ করলো । এরপর দেখলো ধীরে ধীরে সাগর এর উন্নতি হচ্ছে । তারপর থেকে সাগর বাহিরে কাজের জন্য বের হলেও কোনো ক্লায়েন্ট এর বাসায় কিছু খায় না ।

আমি আবারও বলছি । লেখাটা আপনার বিশ্বাস যোগ্য নাও লাগতে পারে । বা আপনার কাছে এর ব্যাখ্যা থাকতে পারে । আবার এমনও হতে পারে এই রকম একটি ঘটনা আপনার বা আপনার কাছের মানুষের সাথেও ঘটে যেতে পারে । আমি যা শুনেছি তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম ।

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?

One comment on “জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব- কালো জাদু

Leave a Reply