বানছাডাঃ জন্মই যেখানে পতিতাবৃত্তির জন্য

Please log in or register to like posts.
News

বানছাডা সমাজে মেয়েদের জন্ম কে খুব সৌভাগ্যের লক্ষন মানা হয় , কারন এই মেয়েই হবে আরেকটি উপার্জন মাধ্যম। কিভাবে? পতিতাবৃত্তির মাধ্যমে।

জ্বী হ্যা, ঠিকই পড়েছেন। ভারতের মত দেশ, এখনো যেখানে ছেলে সন্তান এর পরিবর্তে মেয়ে সন্তান হলে তাকে ভ্রূণেই নস্ট করে দেয়ার রেওয়াজ প্রচলিত আছে সেখানে মধ্য প্রদেশের ৩ টি গ্রাম যথাক্রমে – রাতলাম, মান্দাসুর এবং নিমুচ এলাকায় মেয়েদের জন্মকে খুব আয়োজন করে উদযাপন করা হয়। কারন এরাই হবে পরিবারের আয়ের উৎস এবং পুরুষেরা সেটা ভোগ করবে।

অঞ্চলগুলো পতিতাবৃত্তিতে নিজেদের পরিবারের মেয়েদের লেলিয়ে দেয়া ছাড়াও আরেকটা কারনে বিখ্যাত তা হলো আফিম এর জন্য। প্রচুর পরিমানে আফিম এই অঞ্চলে চাষ করা হয়। অবাক করা ব্যাপার হল – এই কাজ গুলো খুব খোলামেলা হচ্ছে যেন তা সর্বজন স্বীকৃত।

যেহেতু তারা ঘরের মেয়েদের আয়ের উপরে নির্ভর করে তাই, মেয়ে জন্মানোর পর তারা খুব ধুমধাম এর সাথে তা উদযাপন করে। আইনের চোখে তা বেআইনি হয়া সত্বেও প্রশাসন সেখানে খুব নিষ্ক্রিয়, ফলে প্রতিটা পরিবারের থেকেই পুরুষরা ঘরের মেয়েদের জোর পুর্বক পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করে।

বানছাডা সমাজ ৩ টা অঞ্চলের প্রায় ৭৫ টা গ্রাম নিয়ে গঠিত যেখানে জনসংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার এর মত আর এই মোট জনসংখ্যার ৬৫% ই নারী।

২০১৫ সালে মধ্য প্রদেশ নারী শক্তি অধিদপ্তর একটি সমীক্ষন চালায় যেখানে দেখা যায় মান্দাসুর এর মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩৪৩৫ যেখানে ২২৪৩ জন নারী আর ১১৯২ জন পুরুষ। এর মানে পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা দ্বিগুন প্রায়। ২০১২ সালে নিমুচ গ্রামে একই সমীক্ষন চালিয়ে দেখা যায় সেখানে নারীর সংখ্যা ৩৫৯৫ জন ও পুরুষের সংখ্যা ২৭৭০ জন। দেখা যাচ্ছে এরা নারীদের ব্যাপারে যত্নশীল , কিন্তু ভুল রাস্তায় যত্ন নিচ্ছে তারা।

ব্যাপারটা এখানেই শেষ না। তারা মানব পাচারের সাথেও জড়িয়ে পরেছে। নিজের পরিবারের বা গোত্রের আয় বৃদ্ধি করার জন্য তারা বাইরের অঞ্চল্গুলো থেকে মেয়ে কিনছে। যেমন ২০১৪ সালে নিমুচ গ্রামে পুলিশের রেইড পরে আর সেখানে একটি পরিবার থেকে৬ বছরের একটি শিশুকে উদ্ধার করা হয়। পরে সেই পরিবার এর একজন মহিলা স্বীকার করে যে ২০০৯ সালে বাচ্চাটিকে উজান অঞ্চলের নাগাড়া এলাকা থেকে ৫০০ রুপির স্ট্যাম্পে সই করিয়ে কিনেছে। পরবর্তীতে সেই মহিলাকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়।

এই বাচ্চা কেনার ব্যাপারটা একজন দালালের মাধ্যমে হয় এবং তারা ব্যাপারটা খুব সহজভাবেই নেয়, অনেকটা জমি কেনা-বেচার মত। এটাকে তারা বিনিয়োগ ভাবে, যে আজকে এই বাচ্চা কিনলাম, সে আমাকে ভবিষ্যতে বিশাল টাকা উপার্জন করে দিবে। ক্রয়-কৃত বাচ্চাগুলোর সঠিক যত্ন তারা নেয় না, ক্রীতদাসের মত ব্যাবহার করে, আর বাচ্চাগুলোর দাম সাধারনত ২০০০ থেকে ১০,০০০ রুপি হয়ে থাকে।

 

Reactions

1
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

1

Nobody liked ?

Leave a Reply