মেক্সিকোকে আলাদা করা হচ্ছে সুউচ্চ কংক্রিট প্রাচীর দিয়েই

Please log in or register to like posts.
News

আমেরিকার সাথে মেক্সিকো সীমান্তের ৩২০০ কিলোমিটার এলাকাকে আলাদা করে দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতবছর মেক্সিকোর সীমান্ত জুড়ে প্রাচীর তৈরির এক সম্মতিপত্রে সই করেছিলেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অবৈধ অভিবাসী, উদ্বাস্তু, চোরাকারবারি, মাদক পাচারকারীদের রুখতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা বাড়াতে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জোড় গলায় জানান। কয়েকদিন আগেই তিনি টেলিভিশনের এক সাক্ষাৎকারে পরিস্কার জানিয়েছেন যে দ্রুত এই প্রাচীর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি এই নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণে সুরক্ষা দিতে হাজারো ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের পাঠিয়েছেন এবং ঘোষণা দিয়েছেন প্রয়োজনে সেখানে মিলিটারির সদস্যদের নিয়োগ দেবেন যতদিননা এই নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে। তার ঘোষণা মতে বর্ডার এরিয়ায় ২ থেকে ৪হাজার সৈন্য নিয়োজিত থাকবে।

ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারের সময় ঘোষণা করেছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেই মেক্সিকো সীমান্ত জুড়ে প্রাচীর তুলে দেবেন। এদিকে আমেরিকান সরকারের ব্যাখ্যা, শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনের জন্যই নয়, প্রাচীর নির্মাণে মাদক, অপরাধ, অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো একাধিক সমস্যা খুব সহজেই ঠেকানো যাবে। পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীরা যে সকল শহর কিংবা রাজ্য গুলোতে অবৈধভাবে বসবাস করছেন সেসমস্ত এলাকার জন্য ফেডেরেল আর্থিক অনুদান সংকুচিত করে দেয়ারও কথা বলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের অভিযোগ, সান ফ্রান্সিসকোর মতো শহরগুলোতে যেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আধিক্য সেখানে স্থানীয় প্রশাসন এর প্রতিনিধিত্বকারী ডেমোক্র্যাটরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধা দেয়। মেক্সিকোর সঙ্গে সম্পর্কের দারুণ অবনতি হওয়ার শঙ্কা থাকলেও ট্রাম্প তার নীতিতে অটল। উল্টো প্রায় ৩২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রাচীর তৈরিতে মেক্সিকোকেই শতভাগ টাকা দিতে হবে বলে জানান। তবে মেক্সিকোর রাষ্ট্রপতি এনরিকে পেন নিয়েতো সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, কোনভাবেই পাঁচিল তৈরির জন্য একটা পয়সাও তারা দেবেন না। দেয়াল নির্মাণে ১৫ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে৷ এ নিয়ে আলোচনা যখন কেন্দ্রবিন্দুতে তখন মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট এনরিকে তার আগের বক্তব্যকেই সমর্থন করে বলেছেন- ‘পূর্বেও বলেছি আর এখনো বলছি, কোনো প্রাচীর নির্মাণে মেক্সিকো টাকা দেবে না৷’ পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘মেক্সিকো একটি সম্পূর্ণ সার্বভৌম দেশ হিসেবে অন্য দেশকে সম্মান দেয় এবং যা তাদের কাছ থেকেও আশা করে’। 

এদিকে প্রাচীর নির্মাণ করে নতুন করে প্রবেশ ঠেকানো ছাড়াও ট্রাম্প খুব তাড়াতাড়ি বৈধ অভিবাসীদের সংখ্যাও কমাতে চলেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর বেড়িয়েছে যে আমেরিকায় থাকা ১ কোটিরও বেশি অভিবাসীকে খুব শীঘ্রই নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবেন ট্রাম্প। ধারণা করা হয়, মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে বছরে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মত মানুষ বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে যার অধিকাংশই আসে মেক্সিকো থেকে৷ বেআইনিভাবে আমেরিকায় বসবাস করা খুব একটা সহজ কাজ নয়৷ প্রতিনিয়ত অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসন শক্ত অবস্থান নিলেও কিছু কিছু মেক্সিকানদের থাকতে দেওয়া হয়, কিন্তু তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ভিসা দেওয়া হয় না৷ যার ফলে মেক্সিকানদের অনেকেই আমেরিকায় বসবাস করলেও তাদের পরিবারের সদস্যরা যুগ যুগ ধরে মেক্সিকোতে থেকে যায়। তারা বিভিন্ন সময় আমেরিকা ও মেক্সিকোর সীমানায় এসে নিজেদের মধ্যে করমর্দন করে ভাব বিনিময় করে। তবে এখন সম্ভবত সেই সুযোগটিও আর থাকবেনা কেননা পূর্বে স্টিলের পাত দিয়ে দেয়াল থাকলেও তার মধ্যে হাত গলানোর মত ফাঁক ছিল। আর এখন যে সীমানা প্রাচীর নির্মিত হচ্ছে তা সম্পূর্ণ কংক্রিটের তৈরি সুউচ্চ এবং কোন প্রকার ছিদ্রবিহীন।

এদিকে প্রাচীর নির্মাণে সরাসরি বিরোধিতায় নেমেছেন ডেমোক্র্যাটরা। তাদের যুক্তি প্রাচীর নির্মাণ হলে এর প্রভাব পড়বে গোটা অভিবাসন নীতিতে আর এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবনাও বদলে যাবে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পূর্ব থেকে এখনো পর্যন্ত একই সুরে বলছেন- যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধির স্বার্থে মেক্সিকো সংলগ্ন সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণে তিনি বদ্ধপরিকর৷

Reactions

1
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

1

Nobody liked ?

Leave a Reply