শ্রীলংকা কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে আদৌ নিরাপদ?

Please log in or register to like posts.
News

গতকাল বাঘের গর্জনে কেঁপেছে শ্রীলংকার প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম। পালাবার পথ খুঁজে পায়নি লংকানরা কথাটা এই অর্থেই বলা তারা আসলে লজ্জায় মুখ লুকাবার জায়গা খুঁজেছিল। স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেনি বাংলাদেশের কাছে তাদের এভাবে হেরে যাওয়া তাও আবার নিজেদের ঘরের মাঠে। গত ম্যাচের মুশফিকের মতই এইবার জয়ের নায়ক ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।  ১৮ বলে অপরাজিত ৪১ রানে ভর করে ফাইনালের টিকিট পেয়ে যায় টিম বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহর নৈপুণ্যেকেই ম্যাচ জেতার কৃতিত্ব দেয়া যায়। চার বলে ১২ রানের প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। স্নায়ু চাপে পড়েছে গোটা বাংলাদেশের দর্শক, জানিনা এই অবস্থায় কিভাবে টিকে থাকার শক্তি পেয়েছেন উইকেটে থাকা মাহমুদউল্লাহ! দুঃসাহসিক যোদ্ধার মত বুক চিতিয়ে খেলেছেন তিনি। উদানার করা তৃতীয় বলে চার, চতুর্থ বলে দুই ও পঞ্চম বলে বিশাল ছক্কায় বাংলাদেশকে এনে দেন রুদ্ধশ্বাস জয় এবং নিদাহাস কাপের ফাইনালের টিকিট।

প্রথমে ব্যাট করতে নামা শ্রীলংকা সাত উইকেটে নিয়েছিল ১৫৯ রান জবাবে বাংলাদেশ দুই উইকেট ও এক বল হাতে রেখেই ১৬০রান তুলে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। ১৮ বলে অপরাজিত থেকে ৪৩ রানের ইনিংস খেলে মাহমুদউল্লাহ হয়েছেন ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ।

১৫৯ রান তাড়া করে দলীয় ১১ রানে লিটন দাস ডাক নিয়ে ফিরেন ড্রেসিং রুমে। সাব্বির রহমান আউট হন ১৩রানে, তামিম-মুশফিকের দায়িত্বশীল জুটিতে ভর করে জয়ের পথে পা বাড়ায় বাংলাদেশ। ১৩তম ওভারে এসে ঘটে বিপত্তি মাত্র ৬৪ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হওয়া জুটি থেকে ছিটকে পড়েন মুশফিক, ২৮রানে কভারে ক্যাচ হয়ে যান তিনি। যদিও উজ্জ্বল ছিলেন তামিম, তিনি ৪১ বলে ম্যাচের পঞ্চম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কিন্তু ব্যাক্তিগত ৫০রানেই গুণাথিলাকার বলে তিনিও ক্যাচ দিয়ে ফিরেন। এদিকে দলীয় ১০৯ রানের মাথায় দুর্ভাগ্যবশত সৌম্যও ব্যাক্তিগত ১০ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। ১২ রানে যখন তিন উইকেট এর পতন তখন মারাত্মক স্নায়ু চাপে বাংলাদেশ। কিছুটা এলোমেলো হলেও পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থানে ফেরার দারুণ চেষ্টায় ছিল টাইগার দল। একপর্যায়ে ভরসা জাগিয়েছিল মাহমুদউল্লা-সাকিব জুটি, কিন্তু ১৮তম ওভারে সাকিব ব্যাক্তিগত ৭রান যোগ করে ফাইন লেগে ধরা পড়েন। এবার দলের জন্য ত্রাতা হয়ে ক্রিসে আশা জাগান মাহমুদউল্লাহ-রুবেল জুটি।

ম্যাচে ৬ বলে ১২ রানের স্নায়ুর যুদ্ধে প্রথম দুটি বলে আসেনি কোনো রান। তারমধ্যে দ্বিতীয় বলে মুস্তাফিজ হয়েছেন বিতর্কিত রানআউট। পরপর দুটি বাউন্সার অথচ নো বল দেননি আম্পায়ার! পিচে থাকা মুস্তাফিজের মাথার ওপর দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে বল চলে যাওয়াতে আম্পায়ার প্রথমে নো বল দিলেও পরে সিদ্ধান্তটি তুলে নেন। মেনে নিতে পারেননি টাইগার অধিপতি সাকিব, রিজার্ভ আম্পায়ারের কাছে তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করেন। গোটা দল তখন মাঠে, টাইগার দলপতি ইশারায় মাহমুদউল্লাহ-রুবেলকে বের হয়ে আসার নির্দেশ দেন। প্রায় সীমানার কাছে চলেও এলেও টিম ম্যানেজারের হস্তক্ষেপে ম্যাচে ফিরে যায় তারা। এর পরেই তো সব ইতিহাস…

শুরুতেই একটু নেতিবাচকভাবেই শ্রীলংকাকে উপস্থাপন করেছি এর সঙ্গত কারনও অবশ্য আছে। ম্যাচে তাদের করুণ পরিণতি দেখে বেসামাল হয়ে পড়েছিল শ্রীলংকান দর্শকরা, শুধু দেশের টানে খেলা দেখতে যাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেট পাগল দর্শকদের হেনস্তা করেছে তারা। শুধু তাই নয় শ্রীলংকার এসব উস্রিঙ্খল দর্শক স্বয়ং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সামনেই শারীরিক আক্রমণ করে বসে বাংলাদেশী ক্রিকেট ভক্তদের। ভিডিওতে বাংলাদেশী দর্শকদের অভিযোগ নিয়ে কাঁদতে দেখে দর্শক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ক্রিকেটের এই বিমাতা সুলভ আচরণে আদৌ কি শ্রীলংকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনে অধিকার রাখে কিনা?

সর্বশেষ আরেকটু হাস্যরসের যোগান দিয়ে যাই- ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট বক্সের আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড যানবাহনের যে কার পাস ছেপেছে, তাতে আগে ভাগেই ফাইনালের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ‘ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা এর নাম আছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ প্রেসিডেন্ট বক্সের সকল আমন্ত্রিত অতিথিই পেয়েছেন এই কার পাস, জানা গেছে টুর্নামেন্টের শেষ দুই ম্যাচের জন্য দু-তিন দিন আগেই ‘ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা’ ছাপিয়ে ফাইনালের কার পাস সরবরাহ করে শ্রীলঙ্কা বোর্ড। ম্যাচের পূর্বেই ভাগ্য নির্ধারণ করা এই কার পাস সত্যি আনন্দের খোরাক হিসেবে জন্ম দিয়েছে, আর টিম বাংলাদেশ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে তারা কি জিনিস।  

ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে ট্রফির জন্য লড়বে বাংলাদেশ। তাতে যদি বাংলাদেশ জিতে যায় সত্যি বলছি মাইরি এইবার নাগিন নৃত্যটি আমিও একবার চেষ্টা করে দেখতে পারি।

 

Reactions

2
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

2
Who liked your post?

Leave a Reply