সকল নারীকে যদি মা-বোন এর চোখে দেখতেন!

Please log in or register to like posts.
News

images (3).jpg

জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত কত মানুষের কতই সুন্দর মুখই না আমরা দেখি কিন্তু কয়জন এর চেহারা আমাদের মনে থাকে, আর সেই আপন চেহারা-পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর  মায়ের মুখ কি ভুলতে পারি আমরা …পারি নাহ। পৃথিবীর সবচেয়ে আপন আমাদের মা। মা কেবলি মা নয় বেহেশত।  মেয়ে হয়ে জন্ম নেই মা, মায়ের গর্বেই আমাদের  জন্ম। নিজের মা  ….ভেবে দেখুন তো আপনার দৃষ্টি কেমন আপনার মায়ের প্রতি। ভালো করে ভাবুন। আপনার মা যেমন আপনার কাছেহ  পবিত্রতার প্রতীক…..সুন্দরের প্রতীক…তাই না! কিন্তু  আপনি কি  অন্য কোনো মায়ের দিকে  সেই দৃষ্টিতে তাকাচ্ছেন? আপনার বোনের দিকে যে দৃষ্টিতে তাকাচ্ছেন  অন্যের বোনের দিকে কেনো সমান দৃষ্টি যায় না….কেন?

নারী—-  আজ ভোগের বস্তুু । নাহ! সত্যিই ভোগের বস্তু..

সকল নারী  যদি আপনার মা বোন হতো….. কি করতেন ..পারতেন …আপনার কামনার দৃষ্টিতে তাকাতে! পারতেন নাহ। আপনার বিবেক কে জিঙ্গেস  করুন। আপনি যেমন অন্যের মা – বোনদের দিকে তাকাচ্ছেন আপনার মা-বোনের দিকেও অন্যরা  তাকায়।  কি করবেন আপনি আপনি কামনার দাস ….!

আপনার-আমার কারণে আজ নারীরা ভোগ্য পণ্য…আজ কি বলবেন…..নারী আজ ঘরে-বাইরে কোথায় নিরাপদ-কোথায়?   প্রতিনিয়ত নারী নির্যাতনের মাত্রা বাড়ছেই। এর মূল কারণ হলো আপনার  আমার সেই দৃষ্টি…..কামনার দৃষ্টি…হিংস্রতার দৃষ্টি..  ।

‘নারী-পুরুষের সমতার অভাব, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষেত্রে নারীর মতামত প্রদানের সুযোগ না থাকা, সুশাসনের অভাব সর্বোপরি সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নারীর প্রতি সহিংসতার জন্য দায়ী। নারীকে সুরক্ষিত করতে আইন যথেষ্টই আছে্ কিন্তু আইনের যথেষ্ট প্রয়োগ নাই। দেশের বিবাহিত নারীদের ৮৭ শতাংশই স্বামীর হাতে কোনো না কোনো ধরনের পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ বলেছেন, তারা স্বামীর মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতন ভোগ করেছেন, ৩৬ শতাংশ যৌন নির্যাতন, ৮২ শতাংশ মানসিক ও ৫৩ শতাংশ নারী স্বামীর মাধ্যমে অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত ‘ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন (ভিএডব্লিউ) সার্ভে ২০১১’তে পারিবারিক নির্যাতনের এমন চিত্রই উঠে আসে। গবেষণায় দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালে ৪০.২ শতাংশ নারী সেবাগ্রহনকারী বলেন যে তারা সেবা প্রদানকারীদের থেকে দুর্ব্যবহারের শিকার ও শতকরা ১৫ জন হাসপাতালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। আজ প্রত্যেক জায়গায় নারী নির্যাতিত…. তাহলে নারী অধিকার  কোথায় আজ….নারী অধিকার রক্ষা করছে কারা?

নারীদের অধিকার সচেতনতার অভাব এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োগগত সীমাবদ্ধতার কারণে নারীরা একদিকে যেমন তাদের ন্যয্য অধিকার ভোগ এবং আইনী সহায়তা প্রাপ্তির সুফল থেকে বঞ্চিত,  অন্যদিকে বৈষম্যমূলক আইনের উপস্থিতি তাদের অবস্থাকে আরো বেশি নাজুক করে তুলছে। এই বাস্তবতায় নারীদের মধ্যে অধিকার সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ যৌতুক, বাল্যবিবাহ, পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ, উত্যক্তকরণসহ নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে নারীনেত্রীদের নারীর অধিকার ও আইন বিষয়ক শিক্ষা দিয়ে থাকে। তাতেই কি নারী নির্যাতন বন্ধ হবে?

এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০২
–  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধন ২০০৩)
– যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০
– মুসরলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রীকরণ) আইন, ১৯৭৪
–  মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রীকরণ) বিধিমালা, ১৯৭৫
– মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১
– মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯
– বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন. ১৯২৯
– বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন খসড়া (২০১৪)
– পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন, ২০১০

দেশে আইনের অভাব নেই…শুধু আইনের সঠিক ব্যবহারের অভাব।রাজনীতি-সহ দেশের সবক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। এজন্য নারীদেরকে তাদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে হবে। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ বাল্যবিবাহের শিকার হওয়া নারীরা অপরিণত বয়সে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়।নারী নির্যাতন বন্ধে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। যাতে নারীরা উপযুক্ত সেবা পায়।নারীরা যদি পুরুষের সমান সুযোগ-সুবিধা, অধিকার ও সমান মজুরি পায়, তাহলে জাতি হিসেবে আমরা এগিয়ে যাবো। কিন্তু আমাদের নারীরা এখনও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, তারা কর্মক্ষেত্রে সমান মজুরি না পাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশে নারীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছে। ‘বর্তমানে নারীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন। এ কারণে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে,  এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। তবে আমরা সবাই মিলে সংঘব্ধভাবে যদি নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হই, তাহলে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারবো।ইতিহাস থেকে দেখা যায় যে, যুগে যুগে নারীরা পুরুষের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তবে বর্তমানে এ অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। আমরা পুরুষরা যদি পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব পরিবর্তন করে নারীর প্রতি বৈষম্য না করি তাহলেই নারীরা তাদের অধিকার পাবে।

ইসলাম  এর দৃষ্টিতে নারী….

ইসলাম নারী নির্যাতন বন্ধ করার এবং নারী জাতির হক্ব বা অধিকার আদায় করার প্রতি কতখানি গুরুত্বারোপ করে তা এ আয়াত থেকেই অনুমান করা যায়।

ইরশাদ হচ্ছে- আর যখন তোমারা স্ত্রীদেরকে তালাক দাও এবং তারা ইদ্দত পূর্ণ করে, তখন তাদেরকে সঠিকভাবে নিয়ম মাফিক আপন করে রাখ; অথবা উত্তমভাবে বিদায় কর।

সাবধান! তাদের প্রতি অত্যাচার করার লক্ষ্যে কষ্ট দেয়ার উদ্দেশ্যে তাদেরকে আটকে রেখো না; এটি মানবতা বিরোধী কাজ। যে ব্যক্তি এমন অন্যায় আচরণ করবে; সে নিজেরই ক্ষতি কর; নিজের প্রতিই সে জুলুম করবে। কেননা এমন অন্যায় আচরণের কঠিন শাস্তি তাকে অবশ্যই ভোগ করতে হবে।

তাই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিবর্তনকরতে হবে। আমরা যদি দৃষ্টি ঠিক রাখি তাহলে নারী আর নির্যতিত হবে নাহ। নারীর নিরাপত্তার জন্য আইনের সঠিক প্রয়োগ করতে হবে..সমাজে নারীকে তার অধিকার ভোগ করতে দিতে হবল। তার সাথে সাথে আমাদের সচেতন হতে হবে।মায়ের জাতকে সম্মান দিতে হবে। কারণ মা ছাড়া পৃথিবির আলোই দেখা হতো নাহ।

 

 

 

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?

One comment on “সকল নারীকে যদি মা-বোন এর চোখে দেখতেন!

Leave a Reply