সুপারহিরো সোয়াত

Please log in or register to like posts.
News

ইউরোপ ও আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলোতে সোয়াত টিমকে এলিট ফোর্স হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রয়ারি আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর আদলে গঠন করা হয় স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাক্টিকস যা সংক্ষেপে সোয়াত নামে পরিচিত। এটি মুলত পুলিশের একটি এলিট ফোর্স হিসেবে স্পেশাল অপারেশন গুলি পরিচালনা করে। যেসব অভিযান সাধারণ পুলিশের পক্ষে পরিচালনা সম্ভব নয় সেসব ঝুঁকিপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অভিযান চালায় এ টিম। তাদের কাজের মধ্যে আছে- যদি কোনো হাই প্রোফাইল ব্যক্তি সন্ত্রাসীদের দ্বারা জিম্মি কিংবা অপহরণের শিকার হলে বা বড় ধরনের কোন জঙ্গি হামলা হয় তখন আক্রান্ত ব্যাক্তিদের উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী বা জঙ্গিদের গ্রেফতারের কাজ করে সোয়াত টিম। আমেরিকাসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের ভিআইপিসহ অন্যান্য নাগরিকদের সোয়াত আলাদাভাবে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। তার পাশাপাশি দেশে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সোয়াতকে তলব করা হয়। দুষ্কৃতকারীদের হাতে জিম্মি লোকজনকে উদ্ধারে সোয়াত টিমের সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ রয়েছে। একই সঙ্গে জঙ্গি হামলা মোকাবেলা ও ছিনতাই হওয়া বিমান উদ্ধার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে এ টিমকে। যদিও বিগত বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ, পহেলা বৈশাখ এবং বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে শোডাউন ছাড়া বড় ধরনের কোনো তৎপরতায় যেতে হয়নি এ টিমকে।

বর্তমানে নানা কারণে সোয়াত টিম বাংলাদেশের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।  খুব শীগ্রই এই টিমকে এলিট ব্যাটলিয়নে রূপান্তর করার পরিকল্পনা আছে সরকারের, তবে আলাদা ব্যাটেলিয়ন তৈরির আগ পর্যন্ত সোয়াতের সদস্যরা বিগত বছরগুলোতে রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে মূলত ঢাকা মহানগর ও চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অধীনেই কাজ করেছে। বর্তমানে তারা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ইউনিটের সাথেও কাজ করছে। সোয়াত টিমের সদস্যদের সার্বিক প্রশিক্ষণ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের অ্যান্টি টেরোরিজম অ্যাসিস্ট্যান্স (এটিএ) পাশাপাশি ভার্জিনিয়ায় অত্যাধুনিক অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণও নেয় এই টিমের সদস্যরা। এমন অনেকেই আছেন যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন একাধিকবার। সোয়াত সদস্যদের ট্রেনিং এর মধ্যে ছিল গ্লোক-১৭ পিস্তল ও এম-৪ রাইফেল হ্যান্ডলিং, ডায়নামিক এসল্ট, ভেহিকেল এসল্ট, টেকনিক্যাল প্ল্যানিং, ডাইভারশনালি টেকনিক প্রোগ্রাম ইত্যাদি। বর্তমানে সোয়াতের সদস্য সংখ্যা স্পষ্টভাবে নিরূপণ করা না গেলেও এরা প্রত্যেকেই কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাছাড়া বাংলাদেশে সিলেটের স্কুল অব ইনফরমেটি অ্যান্ড ট্যাকটিস সেন্টারে সেনাবাহিনী দ্বারা হেলিকপ্টার রেপলিংবিষয়ক ট্রেনিং নিয়েছেন তারা। সোয়াতের প্রশিক্ষণে মাথাপিছু ব্যয় আনুমানিক লাখ টাকারও বেশি। সন্ত্রাসবাদ দমনে একটি চৌকস এলিট ফোর্স গড়তে মূলত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই টিমের জনবল বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। যেসব অস্ত্র সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইর সদস্যরা ব্যবহার করে থাকেন তেমনি সব অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র আমেরিকা থেকে আনা হয়েছে সোয়াতের জন্য। সোয়াতকে দিন দিন বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও আধুনিক অস্ত্র সরঞ্জাম দিয়ে শক্তিশালী করা হচ্ছে। সোয়াতের ব্যাবহার করা অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে আছে তুলনামূলক হালকা ও সহজে বহনযোগ্য ক্রিস সুপার ভি সাবমেশিনগান, আছে কারবাইন রাইফেল, ব্লক সেভেনটিন পিস্তল এবং স্নাইপার রাইফেলসহ বিপুল পমিরাণ অস্ত্র ও গোলা-বারুদ। সোয়াতের জন্য কেনা হয়েছে দুটি অত্যাধুনিক বুলেটপ্রুফ সোয়াত ভ্যান যার চাকা গুলিবিদ্ধ হলেও নির্বিঘ্নে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে।

কোটি টাকা ব্যয়ে সোয়াতের জন্য মিরপুরের পাবলিক অর্ডার মেনেজমেন্ট (পিওএম)-এ তৈরি করা হচ্ছে স্যুট হাউস যেখানে টিমের সদস্যদের পাশপাশি পুলিশের অন্য সদস্যদেরও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে । ২০০৮ এর অক্টোবরে শুরুর দিকে সোয়াতের সদস্য ছিল মাত্র ২৪ জন। যার মধ্যে ২জন সহকারী পুলিশ কমিশনার, ২জন ইন্সপেক্টর, ৪জন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ও ২জন সার্জেন্টসহ প্রত্যেক চৌকস পুলিশ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয় বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য। প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরার পর তাদের দিয়ে সোয়াতের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

গুলশানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় জিম্মি উদ্ধারে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সোয়াত বাহিনীকে প্রত্যাশিত ভূমিকায় দেখা যায়নি। অভিযানের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলেও উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে তাদের অভিযান চালানো থেকে বিরত রেখে সেনাবাহিনীর কমান্ডোদের দায়িত্ব দেয়া হয়, যদিও অভিযানের দ্বিতীয় স্তরের দায়িত্বে ছিল তারা। কিন্তু কল্যানপুর এবং নারায়ণগঞ্জের পাইক পাড়ায় জঙ্গি আস্তানা দুটোর অপারেশনে SWAT সদস্যরা যে মাত্রার ঝুঁকি নিয়ে সফল অপারেশন চালিয়েছে তাতে সর্বমহলে তাদের প্রতি আস্থা বহুগুণে বেড়ে যায়। জনবহুল এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের কোন প্রকার জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া সফল অভিযান তাদের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনাকে অধিকগুণে জাগিয়ে তুলেছে। তাই পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যাণ্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এর মতো মনে করি সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সোয়াত কার্যত সুপার হিরোতে পরিণত হয়েছে।

 

Reactions

2
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

2

Nobody liked ?

Leave a Reply