স্বল্প দৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী – পর্ব – ২য়

Please log in or register to like posts.
News

প্রথম পর্বের পর

মাংস নিতে গিয়ে আমি তার শরীরে কিছুটা ঝোল ফেলে দিলাম । কি পরিমাণ বোকা নিজেকে মনে হচ্ছে তা বলে বোঝাতে পারবো না । আমি তাকে সরি বলতে বলতে শেষ । উনি আমার দিকে তাকিয়ে এমন একটা হাসি দিলেন মনে হচ্ছে আমার পেছনে কেউ রকেট লাগিয়ে দিয়েছে আর আমি আকাশে ভাসছি। উনি আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন,

আরে এতে সরি বলার কি আছে । আপনি তো আর ইচ্ছে করে ফেলেননি ।
এই কথা শোনার পর ইচ্ছে করছিলো আরেক বাটি ঝোল ফেলে দেই। বিনিময়ে শুধু তার হাসিটা আমার চাই ।
আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম , চলুন আপনাকে আমি নামিয়ে দিয়ে আসি । কোনো রকম খাবার খেয়ে , বন্ধুর থেকে বিদায় নিয়ে আমার গাড়িতে করে বের হয়ে পড়লাম ।
গাড়ির ভেতর আমাদের বেশ ভাব জমে উঠেছিল । আমি তার দিকে তাকিয়ে বুঝলাম তার মন খারাপ , কেন মন খারাপ সেটা জিজ্ঞেসও করতে পারছি না । প্রথম দেখাতে একদম ব্যক্তিগত কিছু জিজ্ঞেস করা মনে হয় ভদ্রতার মধ্যে পড়ে না । মাথায় হুট করে একটা জোকস আসলো । আমি মেঘলা কে বললাম,

একটা জোকস শুনবেন ?
উনি কোনো শব্দ না করে , মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ ইঙ্গিত করলেন ।
আমার বন্ধু এক মেয়ের সাথে প্রেম করতো , একদিন মেয়ের সাথে ব্রেক আপ হয়ে যায় । মেয়ের পেছনে সে অনেক টাকা খরচ করে । সেই টাকা ফেরত নেয়ার জন্য মেয়ের কাছে গিয়ে বলে,
একদিন তোমার জন্য বুকে পাথর রেখে প্রেম করেছিলাম । এখন সে পাথর বুক থেকে নেমে কিডনিতে এসেছে । অপারেশন করামু টাকা দাও ।
এই জোকস শুনে মেঘলা হাসতে হাসতে যেন আমার গায়ের উপর পড়ে যায় ।
বললাম, মন ভাল হয়েছে ?
আপনি যেই জোকস শুনিয়েছেন মন ভালো না হয়ে পারে ?
এই রকম দুষ্ট মিষ্টি কথা বলতে বলতে পৌঁছে গেলাম মেঘলার বাড়ি । নামার পথে শুধু বলেছিলাম আমি আবার তোমার ওই হাসি মাখা মুখ দেখতে চাই । যদি এর জন্য পাড়ি দিতে হয় কোনো লংকা , তাও না হয় দেব ।

সেদিন রাতে আর ঘুমাতে পারলাম না । চোখ বন্ধ করলে সেই হাসি মাখা মুখ, আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল ।

আচ্ছা পাঠক, আমি কি প্রেমে পড়েছি ? আচ্ছা, আপনারা যখন প্রেমে পড়েছিলেন তখন কি আপনাদের সাথে এমন হয়েছে , আশেপাশের বাতাসের ঘ্রাণ মিষ্টি লাগে , বৃষ্টি থেকে মিষ্টি মাটির গন্ধ নাকে এসে সজোরে ধাক্কা দেয় , বিকেলবেলা মুক্ত আকাশে পাখি উড়া দেখতে ভালো লাগে । ভালোবাসার গানে বারবার নিজেকে খুঁজে পান । জানেন, আমার সাথে না এমনটা ঘটছে । তাহলে কি আমি প্রেমে পড়েছি ?

আমি এতো বোকা কেন ? এত রাস্তা গাড়িতে করে আসলাম তার মোবাইল নম্বরটা পর্যন্ত নিইনি । রাত তখন বাজে ৩.৫০ । সাথে সাথে বন্ধুকে কল দিলাম ।
দোস্ত কি করিস ?
শালা আজ আমার বাসর রাত , তুই এতো রাতে কল দিয়ে বলিস আমি কি করি ? ইচ্ছে করছে তোরে এসে সজোরে কানের নিচে লাথি মারি ।
আরে দোস্ত, আমি তো একটা ভুল করে ফেলেছি। মেঘলার নম্বরটা নেয়া হয়নি । এখন কি হবে ?
দোস্ত আমারে ঘুমাইতে দে সকালে আমি তোরে নম্বর দিচ্ছি ।
আচ্ছা দোস্ত ঘুমা। এই কথা বলে কানের সামনে মোবাইলে “আভ ফিরসে যাব বারীশ হোঙ্গি ” এই গান ছেড়ে , গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়লাম ।
সকালে উঠে দেখি বন্ধুর নম্বর থেকে ম্যাসেজ , মেঘলার নম্বর ম্যাসেজ করে পাঠিয়েছে । সাথে আরো কিছু কথা লিখেছে , যা লিখলে আমাকে ৫৪ ধারায় জেলে ভরা হবে । হাহাহা ।

সাথে সাথে মেঘলাকে কল দিলাম । সকাল কয়টা বাজে তাও জানি না । কল দিয়ে বললাম,
আজ দেখা করবেন আমার সাথে ?
হ্যালো আপনি কে ?
ও সরি , নিজের পরিচয় দিতে ভুলে গিয়েছিলাম । আমি রিফাত ।
মাফ করবেন, আমি ঠিক চিনতে পারছি না । আপনি কোন রিফাত ?
আপনাকে কাল বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসলাম ।
ও আচ্ছা, আপনি । আচ্ছা, আমার নম্বর কিভাবে পেলেন ?
সেই কথা না হয় সামনাসামনি বলা যাবে । আজ দেখা করবেন ?
আচ্ছা বিকেল ৫ টার দিকে বাড়িতে ।
ওকে , বলেই লাইন কেটে সেলুনে দৌড় দিলাম । নিজেকে আজ সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ লাগতে হবে । প্রেমের কথা বলার আগে অর্ধেক পাগল হয়ে গিয়েছি । বাকিটা মনে হয় বলার পরে হবো ।

বিকেল ৩ টায় বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে পড়লাম । পৌঁছে গেলাম বিকেল ৪ টার মধ্যে । অপেক্ষার প্রহর শেষ হতেই চায় না ।বিকেল ৫ টায় একটা নীল রঙের পরী আসলো আমার সামনে । না, আমি ভুল দেখছি না । এইটাই পরী । হ্যাঁ, এইটাই পরী । আমি কিছু না বুঝে জিজ্ঞেস করলাম
পরী কেমন আছো ?
আবার সেই হাসি । উত্তর আসলো
কে পরী ?
কেন তুমি।
আমি কবে পরী হলাম ?
এই কথা বলার পর আমার হুশ ফিরে আসলো । আরে হ্যাঁ তুমি , ইয়ে মানে আপনি । কেমন আছেন ?
জি আমি ভালো আছি , কিন্তু আপনি ভালো আছেন বলে মনে হচ্ছে না । কোনো সমস্যা ?

হ্যাঁ অনেক সমস্যা ?

পাঠক রিফাতের কি হলো জানতে অপেক্ষা করুন তৃতীয় পর্বের জন্য ।

চলবে …

Reactions

1
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

1

Nobody liked ?

Leave a Reply