Now Reading
বাংলাদেশের সামনে এবার অস্ট্রেলিয়া



বাংলাদেশের সামনে এবার অস্ট্রেলিয়া

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এবার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। যাদেরকে এবার ধরা হচ্ছে শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার।
তাদের এমন কিছু খেলোয়ার আছেন যে একজনই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশ তাদের নিয়ে মটেই চিন্তিত না। কারন বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ যেকোনো দলকেই হারাতে পারে এটা তারা বিশ্বাস করে। তাই অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে খারাপ দল ভাবতে নারাজ। আর স্টিভেন স্মিথ বলেছেন “ইন্ডিয়ার সাথে আমাদের যেমন প্লান থাকে বাংলাদেশের সাথেও একই প্লান নিয়ে আমরা মাঠে নামব”। বাংলাদেশ অধিনায়াক মাশরাফি বলেছেন “তাদের সাথে জেতা কঠিন কিন্তু অসম্ভব না। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামব “।
এখন পর্যন্ত ১৯ বারের দেখায় বাংলাদেশ মাত্র ১ বারই জয় পেয়েছে। তাও আবার সেই ২০০৬ সালে। আশরাফুলের কারনে সেই ম্যাচ বাংলাদেশ জিতেছিল ৫ উইকেটে।তাই সেই জয়টি বাংলাদেশ অধিনায়কের অনুপ্রেরণার কারণ হতে পারে। সেই ম্যাচে খেলা বর্তমান দলের একমাত্র সদস্যও তিনি।কার্ডিফের সেই ম্যাচের পর আরও ১৩ বার মুখোমুখি হয়েছে দুদল। টানা ১২ বার হারার পর বাংলাদেশ সর্বশেষ ম্যাচে স্বস্তি পেয়েছিল। গত বিশ্বকাপে সেই ম্যাচটি ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে।এটা নিয়ে মটেই চিন্তিত নয় বাংলাদেশ যে তারা মাত্র একটি ম্যাচ জিতেছে। কারন ২০১৫ সালের ওয়ার্ল্ড কাপের পর থেকে বাংলাদেশ অনেক বড় বড় দেশকে হারিয়েছে। বর্তমানে তারা ৬ নং এ উঠে এসেছে।

Bangladesh-vs-Australia-2017-series-match-schedule.jpg

ইংল্যান্ড ম্যাচ এ বাংলাদেশ ৩ জন পেস বোলার নিয়ে খেলেছিল। আজ মনে হয় রুবেলকে বসিয়ে শফিউলকে নিতে পারে। আবার একজন ব্যাটসম্যান কম খেলিয়ে মিরাজকে খেলাতে পারে। এসব নির্ভর করছে টিম কম্বিনেশন এর উপর। তবে আজকের ম্যাচে যে পরিবর্তন আসছে এটা নিশ্চিত। বাংলাদেশের যেহেতু গত ম্যাচে ৩০০ এর উপর রান করেছে তাই আজ একজন ব্যাটসম্যান কম খেলানোর সম্ভাবনা বেশি। অপর দিকে অস্ট্রেলিয়া দলে তেমন একটা পরিবর্তন আসার সম্ভবনা নেই। নিউজিল্যান্ড এর বিপক্ষের একাদশই আজ নামতে পারে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু নিউজিল্যান্ড এর বিপক্ষের ম্যাচে তাদের ব্যাটিং ঠিক মত হয় নি। বৃষ্টি আসার আগ পর্যন্ত তাদের রান ছিল ৫২ /৩ উইকেট। তাই তারা ব্যাটিং নিয়ে চিন্তা করছে বেশি। তবে বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে সাকিবের দিকে। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ স্থানে উঠেছিল বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে টাইগারদের জন্য যা ছিল বড় অনুপ্রেরণা। সাফল্যের মাঝেও তখন সবচেয়ে বেশি কথা হচ্ছিল সাকিব-আল হাসানের অফ-ফর্ম নিয়ে। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা দৃঢ়কণ্ঠে বলেছিলেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বড় মঞ্চ দিয়েই ফর্মে ফিরবেন দলের বড় তারকা। কিউইদের বিপক্ষে সেদিন ২ উইকেট শিকারে ইঙ্গিতও ছিল। কিন্তু পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ হয়ে উদ্বোধনী দিনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও চরমভাবে হতাশ করেছেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার। ইংলিশদের কাছে বড় হারে শুরুর পর শেষ চারের আশা জিইয়ে রাখতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আজ জিততেই হবে, সাকিবের জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় সবাই। সাকিব-তামিমরা জ্বলে উঠলেই যে জেতে বাংলাদেশ, সেটি প্রমাণিত। ইংল্যান্ড ম্যাচে ব্যাটে-বলে হতাশ করেছেন সাকিব। তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহীমের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দারুণ প্লাটফর্মের ওপর দাঁড়িয়েও আউট হয়েছেন ১০ রান করে। বল হাতে ৮ ওভারে ৬২ রান দিয়ে উইকেটের দেখা পাননি। আর প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৩ রান এবং ৬ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ১ উইকেট। দ্বিতীয় প্রস্তুতিতে ভারতের কাছে লজ্জার হারের দিনে ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য, ব্যাটিংয়ে ৮ রানে আউট। এইসব কি একজন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের পারফর্মেন্স? কেবল তাই নয়, বেশ লম্বা সময় পার হয়ে গেছে ব্যাটে রান নেই, বলও নির্বিশ। তাই সাকিবের উপরও আলাদা নজর থাকবে ভক্তদের। ইংল্যান্ড এর বিপক্ষে বোলিং নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও অধিনায়ক মাশরাফি বিশ্বাস করেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বোলাররা নিজেদের প্রমাণ করতে পারবে। তিনি বলেন, ‘বোলাররা সবাই চেষ্টা করেছে। তারা খারাপ বল করেনি, আমি চেষ্টা করেছি। রান আরো বেশি হলে হয়তো রান রেটের চাপ ওরা অনুভব করতো, তখন কিছু হতে পারতো। সেটা হয়নি। এমনকি সাকিব পর্যন্ত সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও কিছু করতে পারেনি। তবে আশা করি সামনের ম্যাচে আমাদের চেষ্টা সফল হবে।’

অস্ট্রেলিয়া নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হয়ে যায়। যে কারণে তারাও আজ জিততে মরিয়া থাকবে। এই কন্ডিশনটা অজিদের বেশ ভালোভাবে চেনা। প্রথম ম্যাচে তাদের বোলিংটা শুরুতে একটু খারাপ হলেও শেষ দিকে ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার পেসাররাই টাইগার ব্যাটসম্যানদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে। বাংলাদেশ দল দুই দিন ধরে কড়া অনুশীলনে ব্যস্ত। বিশেষ করে অনুশীলনে বোলাররাই বেশি পরিশ্রম করছেন। ওভালের উইকেট নিয়ে অধিনায়ক মাশরাফিও বেশ হতাশ। তিনি বলেন, ‘শুধু ওভাল নয়, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডে পেসাররা এখন এরকমই অসহায়।

এদিকে ম্যাচের আগে বড় চিন্তা হয়ে এসেছে লন্ডনের হামলা। বাংলাদেশে এমন হামলা হলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তার অজুহাতে দলগুলো বাংলাদেশে আসতে চায় না। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফর স্থগিত করেছিল। অথচ দুইবার হামলার পরও ইংল্যান্ডে এখন ক্রিকেট খেলা হচ্ছে, সারা বিশ্ব নিশ্চয়ই তা দেখছে। এই ব্যাপারটা বুঝতে পারলে কোনো দলই বাংলাদেশে আসতে আর অনাগ্রহ দেখাবে না বলে মনে করেন মাশরাফি। তাছাড়া এখন সব জায়াগায় নিরাপত্তাও বেশ জোরদার হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি, ‘আইসিসি এখন সব জায়গায় নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই ভালোভাবে নজর রাখছে। স্বাগতিক দলও সেটা নিয়ে ভাবে। তাই এখন কোথায়ও নিরাপত্তা নিয়ে খেলোয়াড়দের খুব একটা ভাবতে হয় না।’ তাই লন্ডনে হামলা নিয়ে চিন্তিত নয় মাশরাফি, ‘আসলে বিষটি নিয়ে আমরা খুব একটা চিন্তিত নই। তা ছাড়া আমরা তো বেশির ভাগ সময়ই হোটেলে থাকি। হোটেলের নিরাপত্তা ভালোই আছে। তা নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথাও না।’
তবে নিরাপত্তার অজুহাতে যারা এর আগে বাংলাদেশে যায়নি তারা এখন বিষয়টি ভালোভাবে বুঝবে বলে মনে করেন মাশরাফি, ‘তারাও এখন বুঝতে পারবে তাদের দেশে এত নিরাপত্তার মধ্যেও হামলা হচ্ছে। আসলে পৃথিবীর সব জায়গায়ই এমন হামলা হচ্ছে। তাই খেলাটাকে এসব থেকে দূরে রাখাই ভালো।’

আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো কিছু করতে হলে বাংলাদেশকে সব দিকে ভালো করতে হবে। ব্যাটিং, বোলিং আর ফিল্ডিংয়ে চমক দেখাতে হবে। আজ হয়তো দলে আট ব্যাটসম্যান নিয়ে মাঠে নামবে না টাইগাররা। তারপরও বড় স্কোর গড়তে না পারলে অস্ট্রেলিয়ার কাছেও হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হতে হবে বাংলাদেশকে। ফলে ইংল্যান্ডে বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের কথা ভুলে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নতুন ভাবেই শুরু করতে হবে মাশরাফি। বাংলাদেশের সবাই আশা করছে যে আজ বাংলাদেশই জিতবে। তাহলে তা বাংলাদেশের জন্য হবে এক নতুন মাইলফলক।

About The Author
Ashraf Ahmed
Ashraf Ahmed

You must log in to post a comment