Now Reading
তামিমের ৯৫ রান যখন অন্য ১০ জনের মোট রানের চেয়েও বেশি . . .



তামিমের ৯৫ রান যখন অন্য ১০ জনের মোট রানের চেয়েও বেশি . . .

শুরু হয়েছে চ্যাম্পিয়নদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। আর গতকাল বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার খেলা হয়ে গেল। ম্যাচটি যদিও অজিদের হাতেই ছিল। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে খেলার ফলাফল হল ভিন্ন। গত কাল বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে দুই দলই পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিয়েছে। ‘এ’ গ্রুপ এর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে ইংল্যান্ড এবং সবশেষে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ড এর প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ইংলিশদের কাছে ৮ উইকেট এ পরাজিত হয়। গত কালের ম্যাচটিতেও হয়ত এমন কোন ফলাফলের সম্ভাবনা ছিল। চলুন জেনে নেই গত কালের ম্যাচ নিয়ে খুঁটিনাটি।

ম্যাচটি মাঠে গড়ায় বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয় টায়। প্রথমে টসে জিতে  ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন মাশরাফি।

বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার শুরুটা খুব ধীর গতিতে করলেও শেষটা বাংলাদেশের জন্য খুব খারাপ ছিল। ধৈর্যহীন সৌম্য আবারও ধৈর্যহীনতার পরিচয় দিল। দলীয় ২২ রানের মাথায় Hazlewood এর বলে ক্যাচ তুলে দেয় উইকেট রক্ষক Wade এর হাতে। ১১ বলে ৩ রান করে সাজ ঘরে ফেরেন সৌম্য। অতঃপর ১০ ওভারের পাওয়ার প্লে তে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে মাত্র ৩৭ রান। গত ম্যাচ এর চেয়ে মাত্র ১ রান বেশি।

তিন নাম্বারে নেমেছিল আরেক বাহাতি ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস। তিনিও পারলেন না তিন নাম্বার পজিশনে নামার দায়িত্ব পালন করতে। ১০ ওভারের পাওয়ার প্লে শেষে ১১ তম ওভারে ইমরুল কে সাজঘরে পাঠায় Pat Cummins. ১৬ বলে ৬ রান করা ইমরুল কায়েস এর ক্যাচ তালুবন্দী করে Aaron Finch. দলীয় ৩৭ রানে ইমরুল মাঠ ছাড়েন।

অন্যদিকে ওপেনার তামিম ইকবাল একাই অজি বোলারদের মোকাবেলা করে যাচ্ছেন। গতকালের ম্যাচের একমাত্র কাণ্ডারী ছিলেন একমাত্র  তামিম ই। অন্যরা সবাই ছিল অজি বোলারদের খেলনা। ইমরুল কায়েস আউট হলে মাঠে তামিম কে সঙ্গ দিতে আসেন বাংলার আরেক কাণ্ডারী মুশফিক। বাংলাদেশের অনেক অনেক ম্যাচ যিনি একাই লড়েছেন এবং ম্যাচ জিতিয়েছেন। তার খানিকটা  প্রমাণ মেলে ইংল্যান্ডের ম্যাচে তামিম এর সাথে মুশফিকের পার্টনারশিপ দেখলে। হয়ত এ ম্যাচেও তিনি তেমন কিছু একটা করতে চেয়েছিলেন। তামিমের সাথে আবারো আরেকটি বড় রানের জুটি। কিন্তু ভাগ্য যখন বিরুদ্ধে চলে তখন কি চেষ্টা  করেও সফল হওয়া যায় কিনা আমার জানা নেই। Henriques এর বলে এক বিতর্কিত lbw তে মুশফিককে  সাজঘরে ফিরতে হয়। মাঠ ত্যাগ এর আগে মুশফিক রানের খাতায় যোগ করেন মাত্র ৯ রান ২০ বলের বিনিময়ে। সে সময় বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ ছিল ৫৩ রান ৩ উইকেটের বিনিময়ে।

অতঃপর মাঠে প্রবেশ করেন অফ ফর্মে থাকা বিশ্বের এক নাম্বার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। মাঠে নেমেই তিনি তার মেজাজের পূর্ব পরিচয় আবার তুলে ধরেন। নিজের খেলা দ্বিতীয় বলেই তিনি ৪ মেরে রানের খাতা খুলেন। সাকিবকে নিয়ে তামিম অজি বোলারদের বিরুদ্ধে ব্যাটিং চালিয়ে যান। সাকিব যখন উইকেটে প্রায় সেট হয়েই গেছেন তখন আবারও আশা জাগতে থাকে। এবার বুঝি বড় রানের জুটি হবে। বাংলাদেশ ভালো রান সংগ্রহ করবে। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দেয় Head. Head এর বলে Down the wicket এ এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে সাকিব lbw এর শিকার হয়। যদিও সাকিব নিশ্চিত ছিলেন বলে আউট এর থার্ড আম্পায়ার রিভিউ নেন। কিন্তু তিনি রিভিউ এ সফল হন নি। আবারো আরেকটি উইকেট। ৪৮ বলে ২৯ রানে সেট হয়ে যাওয়া সাকিব ২ চার মারেন। দলীয় ১২২ রানে সাকিব মাঠ ছাড়েন।

অজি বোলারদের বোলিং তোপে যখন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা মাঠে আসছে আর যাচ্ছে তখন তাদের রাজ করে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তামিম ইকবাল। সাকিব চলে গেলে তামিম এর সঙ্গ হয় টি-২০ স্পেশালিষ্ট খ্যাত সাব্বির রহমান। তবে এখন শুধু যাওয়া আসার মিছিলে আছে বাংলাদেশ দলের খেলোয়ারগণ। সাব্বিরও বেশিক্ষণ উইকেটে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারলেন না। তরুণ অজি বোলার Adam Zampa-র বলে  Steven Smith  এর হাতে সাব্বির ৩৪.২ ওভারে ক্যাচ তুলে দেন। সাজঘরে ফেরার আগে সাব্বির মাত্র ৮ রান করতে সক্ষম হয়।

এরপর মাহমুদুল্লাহ যিনি গত বিশ্বকাপে পরপর দুটি শতরান করেন তিনিও ৮ রান করেই মাঠ ত্যাগ করেন। একপ্রান্ত কঠিন ভাবে আগলে রাখা তামিম ইকবালও অবশেষে কুপোকাত হলেন অজিদের অন্যতম সেরা বোলার Starc এর বলে। ক্যাচ তুলে দিয়ে তিনি মাঠ ছাড়েন দলীয় ১৮১ রানের মাথায়। শতক পুরণের মাত্র ৫ রান দূরে থেকে ৯৫ রান করে আউট হন তামিম। তারপর তো পুরোটাই অজিদের কথা। মাশরাফি, রুবেল, মেহেদি মিরাজ মিলে দলীয় রানের মাত্র ১ রান যোগ করেন। Starc ব্যর্থ হন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করতে।

ম্যাচ বিরতির পর অজিরা ব্যাটিং এ নামলে মুস্তাফিজ কিছুটা হিমশিম খাওয়ালেও ১৬ ওভারে অজিরা সংগ্রহ করে ৮৩ রান। রুবেল এর বলে lbw হন Aaron Finch. তারপর অজিদের ভাগ্যের পরিহাস যেন নির্মম। নিউজিল্যান্ড এর সাথে তাদের প্রথম ম্যাচের মত এই ম্যাচেও বৃষ্টি তাদের ম্যাচ জয়কে বাধা দেয়। অবশেষে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

যে ম্যাচটি জুড়ে  অজিরা রাজত্ব করল সেখানে তামিম অন্যতম একটি বিশ্বরেকর্ড গড়া থেকে মাত্র ৫ রান দূরে ছিলেন। তিনি শতক পূর্ণ করতে পারলে হয়তো পৃথিবীর আরো অনেক বড় বড় খেলোয়াড়ের পাশে নাম লিখানোর সুযোগ পেতেন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পরপর দুই ম্যাচে শতক করার রেকর্ড গড়তে পারতেন এবং ইতিহাসে নিজের নামকে স্থান দিতে পারতেন।

ফিচার ছবি- গুগল

তথ্য সূত্র – cricbuzz.com

About The Author
Ashraful Kabir
Ashraful Kabir
Want to be learn how to write..... also trying.....
1 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment