Now Reading
অস্ট্রেলিয়ার হারের কারণ ও বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ . . .



অস্ট্রেলিয়ার হারের কারণ ও বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ . . .

গতকাল মাঠে গড়ায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটির ফলাফল হয় পরিত্যক্ত। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয় দুই দল। এতে করে দুই ম্যাচ খেলে কোন ম্যাচের ফলাফল না হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট দুই আর দুই ম্যাচ এর একটিতে হেরে বাংলাদেশের পয়েন্ট এক।

ইংল্যান্ড এর সাথে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেট এ হেরে যায় বাংলাদেশ। এরপর অস্ট্রেলিয়ার সাথে দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের বোলিং তোপে মাঠে টিকতে পারেনি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। শুধু মাত্র তামিমের ৯৫ রানের অসাধারণ ইনিংস বাংলাদেশকে ১৮২ রানের সংগ্রহ এনে দেয়। দলের বাকি ১০ জন মিলে করেন মাত্র ৮৭ রান।

অপরদিকে ১৮৩ রান তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের জয়ের শঙ্কা দেখা দেয়। আকাশে মেঘ করার অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়গণ অনেকটা চিন্তিত হয়ে পড়েন। আর কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ অন্যদিকে ব্যাটসম্যানদের হিমশিম খাওয়াতে থাকেন। ১৬ ওভার পর ৮৩ রানে ১ উইকেট হারিয়ে পানি বিরতিতে গেলে বৃষ্টি শুরু হয়। আর অস্ট্রেলিয়া দলের কপাল পোড়ে। পরবর্তীতে ম্যাচ আম্পায়ার ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয় দুই দল।  এতে করে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে ১৬ ওভারে অস্ট্রেলিয়া যে রান করেছিল, ২০ ওভারে যদি আর রান নাও করত কিংবা আরো ২/৩ টি উইকেট হারাতো তাহলেও অস্ট্রেলিয়াকে বৃষ্টি আইনে জয়ী করে দেয়া হত। কিন্তু তারা হেরে যায় বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন মাশরাফির বুদ্ধির কাছে। আসলে মাশরাফি আগে থেকেই জানত যে ইংল্যান্ডে ৬ টা বা ৭ টা নাগাদ বৃষ্টি হতে পারে। আর তাই নিশ্চিত পরাজয় জেনেও মাশরাফি বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতে থাকে। আর সেই জন্যে যাতে সময় বেশি লাগে এবং ২০ ওভার যেন তাড়াতাড়ি শেষ না হয়ে যায় তাই তিনি দলের পেসার বোলারদেরকে বেশি সময় নিয়ে বোলিং করতে বলেন এবং যাতে তারা দৌড়ে রান করে সেভাবে বোলিং করতে বলেন। মাশরাফি নিজেও এক ওভার বোলিং করতে সময় নেয় প্রায় ৮ মিনিট আর দলের অন্য পেসার রুবেল এক ওভার বোলিং করতে সময় নেয় ৬ মিনিট করে। ১৬ ওভারের মধ্যে ১৫ ওভারই মাশরাফি পেসারদের দিয়ে বোলিং করান। বোলিং এ যাতে বেশি সময় যায় তাই তিনি মিরাজকে বোলিং এ এনেও আবার সরিয়ে নেন। অতঃপর পানি বিরতিতে গিয়েও মাশরাফির মনে হচ্ছিল তাদেরকে আরো বোলিং করতে হতে পারে। কিন্তু ভাগ্য সাথে থাকায় তাদেরকে আর বোলিং করতে হয় নি। বৃষ্টি তাদের ভাগ্য খুলে দেয়। মাঠে ব্যাটিং করা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদ্বয় মাশরাফির চালাকি ধরতে পেরে রিতিমত রাগারাগি শুরু করে দেয়। যা তাদের আচার ভঙ্গি দেখেই বুঝা যাচ্ছিল। মাশরাফি বোলিং এ বেশি সময় লাগাচ্ছিল বলে ওয়ার্নার ও স্মিথ অনেকটা রেগে যায়। কিন্তু মাশরাফি তার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।

বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ায় টুর্নামেন্টে এখনও টিকে থাকার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার দুটি ম্যাচের একটিতেও ফলাফল আসে নি। তাই অস্ট্রেলিয়া দলের খেলোয়াড়রা এখন কপাল চাপড়াতে ব্যস্ত। কারণ তাদের হাতে যে কেবল একটি ম্যাচ বাকি আছে ইংল্যান্ড এর বিরুদ্ধে। এই ম্যাচটিতে অস্ট্রেলিয়া জিতলেই কেবল তারা টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল খেলতে পারবে। তবে বাংলাদেশেরও রয়েছে এই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল খেলার হাতছানি।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড জয় লাভ করে। ইংল্যান্ডকে তাদের পরবর্তী দুটি ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জিতলে বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলতে পারে। তবে ইংল্যান্ডকে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে হবে। অপরদিকে নিউজিল্যান্ডকেও হারাতে হবে ইংলিশদের। আর যদি বাংলাদেশ তাদের শেষ ম্যাচ এ নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারতে পারে তবে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ থাকবে।

যেহেতু ইংল্যান্ড তাদের নিজস্ব কন্ডিশনে খেলছে তাই তারা অস্ট্রেলিয়াকে হারাতেই পারে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া যদি তাদের সাথে জিতে যায় তাহলে নিউজিল্যান্ডকেও ইংল্যান্ড এর বিরুদ্ধে জিততে হবে। আর নিজেদের শেষ ম্যাচ এ বাংলাদেশকে অবশ্যই হারাতে হবে নিউজিল্যান্ডকে এবং তা বড় ব্যবধানে। তাহলে বাংলাদেশের অনেক  আকাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণ হতে পারে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ অর্জন করবে।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আয়ারল্যান্ড এ বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে ত্রিদেশীয় সিরিজে হারিয়েছিল। তাই বাংলাদেশ শেষ ম্যাচ নিয়ে অনেক আশাবাদী। তারা এখন নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারানোর পরিকল্পনা করছে। চলুন দেখে নেই ঠিক কিভাবে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল খেলার সুযোগ অর্জন করতে পারবে।

ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড এর ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয় এবং ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয় হতে হবে। তবে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে। তাহলে ইংল্যান্ডের হবে ৬ পয়েন্ট, বাংলাদেশের ৩ পয়েন্ট, অস্ট্রেলিয়ার ২ ও নিউজিল্যান্ড এর ১। তাহলে সেমিতে যাবে ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড এর ম্যাচে যদি নিউজিল্যান্ড জয়ী হয় তাহলে ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়াকে জিততে হবে। আর বাংলাদেশ যদি নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারে তাহলে ইংল্যান্ডের হবে ২ পয়েন্ট, বাংলাদেশের ৩ পয়েন্ট, অস্ট্রেলিয়ার ৪ ও নিউজিল্যান্ড এর ৩। এক্ষেত্রে সেমিতে যাবে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ যদি রান রেটের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকে তবে সেমিতে যাবে বাংলাদেশ।

বৃষ্টি এখনও বাংলাদেশকে সেমিতে খেলার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কি ঘটবে তা খেলার মাঠেই দেখা যাবে। যদি বাংলাদেশ টিমের ভাগ্য ভালো থাকে, যদি বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারে তবে বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলতেও পারে। আর এটা এখন পুরোটাই সময়ের ব্যাপার।

ছবি – গুগল

About The Author
Ashraful Kabir
Ashraful Kabir
Want to be learn how to write..... also trying.....
2 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment