Now Reading
সেলফি আসক্তি!



সেলফি আসক্তি!

বেশ কিছুদিন আগে নিউজ দেখেছিলাম যে সেলফি নিতে যেয়ে একটা ছেলে কুমিরের কামরে মারা গেছে, সেলফি নিতে যেয়ে অনেকে ট্রেনের ছাদ থেকে পরে মারা গেছে, সেলফি নিতে যেয়ে মানুষ অনেক সেলফিস হয়ে যাচ্ছে বা সেলফি নিতে যেয়ে এতই ডিপ্রেসড হয়ে পরছে যে সুইসাইড করে ফেলছে এমন নিউজও পাওয়া গেছে।
এখন এইসব নিউজ তো আমরা দেখছি বা আমরা নিজেও অনেক সেলফি তুলি প্রশ্নটা হচ্ছে সেলফি নেয়া কি ভালো না খারাপ? সেলফি নেয়া আসলে ভালোও না আবার খারাপও না এটা শুধুমাত্র একটা অ্যাকশান এটা কিভাবে আমরা করছি এবং এটা কিভাবে আমাদের লাইফে ইফেক্ট ফেলছে তার উপর নির্ভর করে সেলফি কারো জন্য ভালো না খারাপ।

এখন আরও একটু বিস্তারিত বলি, কোন একটা মানুষ যখন একটা সেলফি নেয় সেটা আপলোড দিলো অনেক লাইক পরলো লাইক পরা কোন সমস্যা না সেলফি নেয়াও কোন সমস্যা না কিন্তু মানুষ যেই জায়গাটায় ভুল করে মনে করেন আমি একটা ছবি আপলোড দিলাম আমার ছবিতে কেউ মানুষ লাইক দিলো মানুষটা আমার ছবিতে লাইক দিলো মানুষটা আমার ছবিটাকে পছন্দ করল আমার ছবিটাকে বাহবা দিলো কিন্তু মানুষ কি ধরে বসে লাইকটা যে দিলো সেটা ছবিটাকে দেয়নি দিয়েছে মানুষটাকে।

তো ওরা কি মনে করলো যে লাইক ছবিতে দেয়া মানে আমাকে লাইক করলো এখন সমস্যাটা কি হয়ে যায় ওরা ওদের মানুষ হিসেবে বিচার করা শুরু করে যে আমার কয়টা লাইক পরলো আমার যদি লাইক বেশি পরে তাহলে আমি মানুষ হিসেবে ভালো আর আমার যদি লাইক কম পরে তাহলে আমি মানুষ হিসেবে খারাপ মানুষ আমাকে পছন্দ করে না। তো সমস্যাটা কোথায় সৃষ্টি হলো যে আমরা নিজেদের নিয়ে সেলফ কনফিডেন্স হিনতায় ভুগি যে আমাদের কনফিডেন্সটা নেই আমরা আত্ম হীনমন্যতায় ভুগি তাই আমরা যখন লাইক পেয়ে যাই ওইটা দিয়ে আমরা আমাদের বিচার করা শুরু করি আর যখনি সেটা শুরু হয় এটা একটা রোগের মত হয়ে যায় এরপর আমরা এটা অভ্যাস করে ফেলি যে আমাকে এরপরে আরও বেশি লাইক পেতে হবে এরকম প্রতিযোগিতায় চলতে থাকি তখন আমরা আমাদের লাইফের ফোকাস একটা ভালো ছবির উপর দেই যেটা যেটা কোনোভাবেই আমাদের মানুষ হিসেবে মুল্যায়ন করে না। মানুষ হিসেবে আমাদের স্কিল, আমরা দেশের জন্য কি করছি, আমাদের ক্যারেক্টার ইত্যাদি। কিন্তু আমরা তখন আমাদের চেহারা দিয়ে মানুষ হিসেবে আমাদের মূল্যায়ন করা শুরু করি আর ঠিক তখনই আমারা সেলফিস হয়ে যাই আত্মগ্লানিতে ডুবে যাই।

এখন আমরা কি বুঝলাম এখান থেকে যে আমরা যে লাইক গুলো দেই এই লাইকটা কাউকে মোটিভেট করতে পারে আমি যদি কারো ছবিতে লাইক দেই তাহলে হয়তো ওর কনফিডেন্স বুস্ট হবে, ভুল ভাবে বুস্ট হইলেও ওর কনফিডেন্স বুস্ট হবে। তার মানে আমাদের লাইকের একটা পাওয়ার আছে এখন আমারে যদি এই বিষয়টা বুঝি যে আমাদের লাইকের একটা পাওয়ার আছে। কোন মানুষ যদি ব্লাড ডোনেট করে ওই ছবিতে যদি আমরা লাইক দেই তাহলে ওর কি ভালো লাগবে না যে মানুষ আমাকে বাহবা দিচ্ছে মানুষ আমার এই কাজটা পছন্দ করছে। কেউ অনেক কষ্ট করে অনেক সুন্দর একটা লেখা লিখল আমরা যদি ওখানে লাইক দেই তাহলে সে মনে করবে মানুষ আমার লেখা পছন্দ করছে আমার আরও ভালো কিছু করতে হবে। অথবা আমরা যদি আমাদের লাইকটা অন্য কোনোভাবে কাজে লাগাই আমরা যদি কোন ফালতু বা অপমানজনক কোন পোস্টে লাইক দেই তাহলে মানুষটা কি বুঝছে? আরে আমি এইযে ফালতু পোস্ট দেই অপমানজনক পোস্ট দেই মানুষ সেটা পছন্দ করছে আমি অনেক ভালো কাজ করছে কারণ মানুষ এতে লাইক দিচ্ছে এতে করে কি হয় সে আরও ওই কাজটাতে বেশি আগ্রহি হয়ে যায়। আমরা যদি বাজে কোন নিউজ শেয়ার করি বা লাইক দেই ওটা ওই মানুষকে মোটিভেট করছে ওই কাজটা করার জন্য।

এখন আমরা আরও একটু গভীরে যাই। প্রথমে আমরা দেখলাম সেলফি নেয়াতে কিভাবে আমরা নিজেদের বেক্তি হিসেবে বিচার করছি এবং কিভাবে আমাদের লাইক গুলো একটা মানুষকে হীনমন্যতায় ভোগাতে পারে। তারপর আমরা দেখলাম আমরা যেই লাইকটা দিচ্ছি সেটা আমরা কিভাবে ব্যবহার করতে পারি যাতে করে মানুষ ভালো কাজ করে কিংবা খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকে।

এরপর আমরা এটাকে আরও একটু বড় লেভেলে নিয়ে যাই ন্যাশনাল লেভেলে নিয়ে নাই আমাদের যেসব বিজনেস হয় যেমন নিউজ পেপারে যেসব বিজনেস হয় কিংবা অনলাইন পোর্টালে যেসব বিজনেস হয় ওদের মুল উদ্দেশ্য হলো ওদের ব্যাবসাটা ঠিকমত চালানো তাকা-পয়সা ইনকাম করা। ইনকাম তখনই আসে যখন বেশি মানুষ সেই জিনিস গুলা দেখে। এখন ওরা সবসময় ওই ফন্দিতে থাকে যে এমান কিছু ওরা দিবে যাতে বেশি মানুষ সেটা দেখে। এখন আমরা যদি কোন খারাপ কিছুতে বেশি লাইক দেই বা বেশি ভিউ করি তাহলে তারা দেখবে মানুষ এইটাই বেশি দেখছে এরফলে তারা এইসবই বেশি করে পাবলিশ করবে। প্রতিদিন নিউজ পোর্টাল গুলোতে একদম ফ্রন্ট পেজে কোন সেলিব্রেটির পার্সোনাল খবর পাবলিশ হবে আর যদি আমরা ওইসব দেখি, লাইক দেই, শেয়ার দেই তো আমাদের জন্যই কিন্তু আমাদের নিউজ পোর্টাল গুলোর এরকম অবস্থা হচ্ছে এইসব ফালতু কনটেন্ট আরও বেশি সামনে আসছে আমাদের নিউজ পোর্টাল গুলো এইসব ব্রেইনলেস কনটেন্ট গুলো দিয়ে দিনের পর দিন চালিয়ে যাচ্ছে যে গুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহিন।

তো আমি শুরু করেছিলাম বেক্তি লেভেলের লাইক থেকে কিন্তু যখন সব মানুষ ওই একই কাজ করা শুরু করে এইসব উল্টা-পাল্টা জিনিসে লাইক দেয়া শুরু করে তখন পুর ন্যাশনাল লেভেলে ওইসব কনটেন্ট ছড়িয়ে যায়। আমরা যদি নিজেদের জায়গা থেকে ভালো জিনিস গুলোতে লাইক দিতাম ওইসব উল্টা-পাল্টা জিনিসে শেয়ার না করতাম তাহলে কিন্তু পরা সিচুয়েসনটাই পালটে যেত।
ধন্যবাদ।

About The Author
Sakif Mahmud Reshad
Sakif Mahmud Reshad

You must log in to post a comment