Now Reading
টিকে থাকার লড়াই ( শেষ পর্ব )



টিকে থাকার লড়াই ( শেষ পর্ব )

প্রথম পর্বের পর   . . .

http://footprint.press/%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B2%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%87-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE-%E0%A6%AA%E0%A6%B0/

অন্যদিকে জেমস থাকার জন্য আস্তানা তৈরি করছিল। আস্তানা তৈরি শেষ হতেই অন্ধকার নেমে আসল। আর তাই জেমস প্রথমেই চকমকি দিয়ে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করছিল। চারিদিকে এতটাই ভেজা যে কোনমতেই আগুন জ্বালানো সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে অনেক্ষণ চেষ্টা করার পর আগুন জ্বালাতে পেরে খুব স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করছিল তারা। কারণ একটা নির্জন জঙ্গলে আগুন মনের জোর অনেকটা বাড়িয়ে দেয়।
যেহেতু তারা কোন খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে নি তাই তাদেরকে আজ রাত না খেয়েই কাটাতে হবে। টিম এদিকে আগুনের প্লাটফর্ম বানানোর সময় পুরোনো একটা কৌটা পেয়েছিল। তাই সে ভাবলো তাতে করে পানি ফুটিয়ে সেই পানি পান করা যেতে পারে। কারণ পরের দিন তাদেরকে আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। আর তার জন্য তাদের শক্তির প্রয়োজন। রেইন ফরেস্ট এর সেই কাদামাখা পানি তারা ফুটিয়ে অনেক কষ্টে পান করল।
পরের দিন খুব ভোরে তারা আবার রওনা দিল। তারা আবার সেই সবুজ আস্তরণের পানিতে হাটতে লাগল। যতই তারা হেটে সামনের দিকে এগোচ্ছে ততই দিন যাচ্ছে সময় যাচ্ছে সাথে দিনের তাপমাত্রাও বাড়ছে। হাটতে হাটতে হঠাৎ ই তাদের চোখে কিছু একটা ধরা পড়ল। অনেক দিনের পুরোনো একটা নৌকা। তারা সেটি দেখে ওটার কাছে গেল। কাছে গিয়ে যা দেখল তা তারা সত্যি বিশ্বাস করতে পারছিল না। নৌকাটি প্রায় ৪০ বছরে পুরোনো। নৌকার তলায় পুরোটা ভাঙ্গা। তাই তারা নৌকাটি ব্যবহার করতে পারছে না। কিন্তু নৌকার পাশেই তারা আরেকটি জিনিস লক্ষ্য করল। পুরোনো কাঠের মাস্তুল দড়ি দিয়ে বাধা।
মাস্তুলটি দেখে তারা কিছুক্ষণ চিন্তা করল। তারা দুজনে মিলে যদি মাস্তুলটিকে ভালোভাবে মেরামত করে তবে তারা মাস্তুলটি ব্যবহার করে এই নির্জন বন থেকে বের হতে পারবে। যেই ভাবনা সেই কাজ। তারা দুজনে মিলে কাঠের মাস্তুলটি ঠিক করতে লাগল। পুরোনো পচা কাঠের বিভিন্ন অংশ তারা কেটে বাদ দিল এবং গাছের ডালপালা দিয়ে অসাধারণ একটা মাস্তুল তৈরি করল। কিন্তু তারা আজ মাস্তুলে করে যাত্রা শুরু করল না। কারণ মাস্তুলটি অনেক বছরের পুরোনো। পথের মধ্যে যদি তা ভেঙ্গে যায় তবে তারা অনেক বিপদের সম্মুখীন হবে। আর বেলা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। দিনের আলো আর বেশিক্ষণ থাকবে না। রাতের অন্ধকারে তারা পানিতে বিপদে পড়তে চায় না। অন্যদিকে আকাশে মেঘের গর্জন শোনা যাচ্ছে। মাস্তুল বাইতেও অনেক শক্তির প্রয়োজন। কিন্তু এত শক্তি তাদের এই মুহূর্তে নেই। তাই সবদিক বিবেচনা করে তারা সেদিন ওখানেই রাতটি কাটাবে বলে সিদ্ধান্ত নিল।
টিম আজ আগুনের প্লাটফর্মটি খুব দ্রুতই বানিয়ে ফেলল। কারণ আজ তাদেরকে কিছু খাবার খেতে হবে। নাহলে পরেরদিন মাস্তুল বাইতে যে শক্তির প্রয়োজন হবে তা শরীরে থাকবে না। তাই টিম মাছ ধরার পরিকল্পনা করছিল। তার কাছে কিছু শক্ত রশি ছিল। তা দিয়ে সে বড়শি বানাবে ঠিক করল। পুরোনো মাস্তুল থেকে একটি তারকাটা নিল এবং সেটা দিয়ে বড়শি বানাল। টোপ হিসেবে সে একটি জীবিত ঘাসফড়িং ব্যবহার করল। যাতে করে মাছ দ্রুত আকর্ষিত হয়। এরপর সে জেমস কে সাহায্য করতে গেল। জেমস থাকার জন্য আস্তানা তৈরি করছিল গাছের ডালপালা দিয়ে। আস্তানা বানানো শেষ হলে তারা আস্তানার উপর একটি ছাউনি দিল যা তারা ঐ পুরোনো নৌকাটিতে পেয়েছিল। ছাউনিটি এমন ভাবে তারা দিল যাতে বৃষ্টি হলে তাতে পানি জমা হয়। এতে করে তাদেরকে ঐসব পচা পানি পান করতে হবে না। বৃষ্টির বিশুদ্ধ পানি তারা পান করতে পারবে।
ছাউনি বানানো শেষ হলে টিমের বড়শিতে কি যেন একটা আটকালো। বেশ বড় ধরনের কিছু। অনেক্ষণ চেষ্টার পর তারা সেটা ধরতে পারল। সেটা আসলে একটা বড় ক্যাটফিস ছিল। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি শুরু হল। টিম আর জেমস এর মুখে আনন্দের হাসি। তারা বৃষ্টিতে গোসল করে নিল। বৃষ্টির পানিও তারা খাওয়ার জন্য সংগ্রহ করল। সেদিন রাতে তাদের ডিনার বেশ ভালোভাবেই হল। ক্যাটফিসটি খুব সুস্বাদু ছিল। তাদের কাছে খাওয়ার জন্য বিশুদ্ধ পানি ছিল। আহ! আর কি লাগে ভালো থাকার জন্য।
রাতে তাদের বেশভালো ঘুমও হল। এবার হয়ত জঙ্গল থেকে বের হওয়ার পালা। সকাল হলে তারা আর দেরি না করে মাস্তুলটিকে পানিতে ভাসানোর চেষ্টা করল। অবশেষ এ মাস্তুলটি পানিতে ভাসল। পাশেই তারা একটি খাল দেখেছিল। খালটি ধরেই এগোতে থাকলে তারা বড় ও খোলা কোন পানির উৎস পাবে। আর সেই আশায় তারা খালটি ধরেই সামনের দিকে এগোতে থাকে। কিন্তু পথে বিপদ আসন্ন যা তারা ভালোভাবেই বুঝতে পারছিল। পুরোনো এই পচা কাঠের মাস্তুলের উপর এতটা ভরসা করা উচিত হয় নি তাদের। কারণ যাত্রাপথে মাস্তুলটির অংশ ভেঙ্গে যাচ্ছিল। পানির কোন বড় উৎসে পৌঁছানোর আগেই যদি পুরো মাস্তুল পানিতে নিমজ্জিত হয় তাহলে তাদের কুমিরের পেটে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। এদিকে হঠাৎ করেই তারা পাড়ের দিকে কয়েকটি এলিগেটর দেখতে পেল। ভয়ে তাদের বুকের পানি শুকিয়ে এল। তারা অনেক সাবধানতার সাথে আস্তে আস্তে বাইতে বাইতে পাড়ি দিতে থাকল। এরপর অল্পকিছুক্ষণের মধ্যেই তারা একটি নদী দেখতে পেল। পাশে তারা কিছু ঘরবাড়ি ও মানুষও দেখতে পেল। অবশেষে তারা মানব সভ্যতায় ফিরে এল।
তাই যেকোন পরিস্থিতিতে মনের জোর ও ইচ্ছাশক্তি হারানো উচিত নয়। মনে ইচ্ছাশক্তি রেখে বুদ্ধি দিয়ে কাজ করলে যে কোন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা যায়।

About The Author
Ashraful Kabir
Ashraful Kabir
Want to be learn how to write..... also trying.....
1 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment