Now Reading
সত্য মিথ্যা!



সত্য মিথ্যা!

বাংলাদেশে একজন মানুষ গড়ে ৬৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। আর একটা ঈগল পাখি বাঁচে গড়ে ৭০ বছর। এই ৭০ বছর ঈগল পাখিটিকে বাঁচতে হলে ঈগল পাখিটিকে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ঈগল পাখিটির যখন ৪০ বছর বয়স হয় তখন ওর আস্তে আস্তে মনে হয় ওর ঠোটটা বড় হয়ে বেকে যাচ্ছে এবং সে ঠিকমত খাবার খেতে পাচ্ছে না। ৪০ বছর বয়সে ঈগল পাখিটির নখ গুলো ভোতা হয়ে যায় এবং ও ঠিকমত শিকার করতে পারে না। ঈগল পাখিটার যখন ৪০ বছর হয় ওর পালক গুলো ডানার সাথে শক্ত হয়ে আটকে যায় এবং ও ঠিক মত উড়তে পারে না। তখন ঈগল পাখিটিকে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। একটা উপায় হচ্ছে ও নিজেকে আর ইম্প্রুভ করবে না আর আস্তে আস্তে মারা যাবে। ও ওর জীবনের বাকি ৩০ বছর আর বাঁচতে পারবে না। অথবা ২য় সিদ্ধান্তটা ও নিতে পারে যেটা ওর জন্য অসম্ভব রকমের কঠিন। ওকে যেটা করতে হয় অনেক উঁচু একটা পাহাড়ে যেতে হয় এবং ওই পাহাড়ে যেয়ে পাথরে ওর ঠোটটা ঠুকরে ঠুকরে শার্প করতে হয় এবং ওর নখ গুলো পাথরে ঘষে ঘষে শার্প করতে হয় যাতে করে ও আবার শিকার করতে পারে আবার খেতে পারে। তারপর ও একটি একটি করে পালক নিজের ডানা থেকে ছিরে ফেলে। খুবই পেইনফুল একটি প্রসেস।

এইটা করার পর ও অপেক্ষা করে পাহাড়ের ঠিক উপরে। পাহাড়ের ঠিক উপরে যায় যাতে অন্য কোন ঈগল তার সাথে ঝামেলা না করতে পারে তাকে দুর্বল পেয়ে তাকে মেরে ফেলতে না পারে। যখন তার পালক গুলো আবার গজায় এবং যখন তে তার সম্পূর্ণ শক্তি পেয়ে যায় তখন সে পাহাড় থেকে ঝাপ দেয় এবং শিকারের কাজে নেমে যায় এবং বাকি ৩০ বছর সে রাজার হালে থাকে।
এখান থেকে যে শিক্ষাটা আমাদের নেয়া দরকার সেটা হচ্ছে আমাদের জীবনে অনেক সমায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা কি হাল ছেড়ে দেব নাকি সংগ্রাম করব? হয়ত আমরা এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গেছি যেখানে আমাদের হাল ছেড়ে দেওয়াটাই অনেক সহজ মানে হয়। অনেক সময় আমরা সুইসাইড করে বসি, কেন ? কারণ আমাদের কাছে মনে হয় হাল ছেড়ে দেওয়াটা বাঁচার থেকে অনেক সহজ। কিন্তু অনেকে আছে তারা সুইসাইড না করে তারা হেল্প চায় তারা একটা কঠিন প্রসেসের মধ্যে দিয়ে যায় তারা পজেটিভ চিন্তা করে এর ফলে তারা তাদের বাকি জীবন টুকু সুন্দর ভাবে বাঁচে।

এখন আমরা যদি ঈগলটার থেকে শিক্ষা নেই একদিকে আমরা বুঝবো যাদের মনে হয় সুইসাইড করলে তারা মুক্তি পাবে আসলে সেটা সঠিক না। আমাদের জীবনে আরও অনেক বছর আছে যেগুলো আমরা অনেক ভালো ভাবে কাটাতে পারবো।

আমি যেই ঈগলের গল্পটা বললাম এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঈগল যে তার পালক গুলো ছিরে ফেলবে তাহলে ও কিভাবে বাঁচবে? ওর খেতে হবে না ? ঈগলটা যে পাহাড়ে যাবে সব যায়গায় কি পাহাড় আছে ?

তো এই গল্পটা হয়তো আমাদের কাছে মনে হচ্ছে গল্পটা অনেক ইন্সপায়ারিং। হ্যাঁ, ম্যাসেজ কিন্তু ঠিকই আছে যে আমরা যারা সুইসাইড করতে চাই সেটা মাথায় আনা উচিৎ না। আমাদের সামনের বছর গুলো বাঁচা উচিৎ। ম্যাসেজ ঠিক আছে কিন্তু আমি যেই ঈগলের কাহিনীটা  বললাম সেটা কি সম্পূর্ণ ঠিক? নাহ সম্পূর্ণ ভুল।

তো দ্বিতীয় শিক্ষাটি হল এইটা যে আমারা ইন্টারনেটে অনেক কিছু দেখব, অনেক আর্টিকেল দেখব, অনেক নিউজ দেখব এর মানেই না যে এগুলো সত্যি। আমরা কোন সুন্দর একটা ভিডিও তে দেখব সুন্দর একটা মানুষ সুট-টাই পরে নিউজ রিপোর্টারের বেশে আমাদের সাথে কথা বলছে এর মানে এই না যে তার কথা গুলো সম্পূর্ণ সত্যি। তো আমাদের জীবনে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত আসবে সেগুলো সত্যি কিন্তু আমাদের জীবনে এমন অনেক ছোট ছোট জিনিস আসে যেখানে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে জিনিসটা কি আসলেই সত্যি না মিথ্যা। আমরা জিনিসটা কি গ্রহণ করব নাকি গ্রহণ করব না। আমাদের সামনে এমন অনেক কঠিন সময় আসবে যে আমরা সবসময় অনেক নেগেটিভে নিউজ দেখব আমরা ফেইক নিউজ দেখব। কিন্তু আমাদের আগে চিন্তা করতে হবে যে, এইটা কি আসলেই সম্ভব? আসলেই কি সঠিক বলছে? তারপর আমারা দেখব নিউজটা আসলে সত্যি কি সত্যি না। যদি মনে হয় এটা আসলেই আমাদের জীবনে কাজে লাগবে তাহলে আমরা সেটা নিবো। কিন্তু রিসোর্সটাই যদি বাজে হয় বা ফেইক হয়? আমাদের সেটা যাচাই করতে হবে। আমরা যেন একটু সময় নিয়ে সেটা দেখি। কোনটা ঠিক বা কোনটা ভুল তার মধ্যে পার্থক্যটা করি। না হলে আমার মত একটা ফেইক ঈগলের গল্প দিয়েও অনেকে আপনাদের জীবন বদলে দেবে কিন্তু আমাদের জীবনে তার চেয়ে আরও বেশি ক্ষতি করে ফেলবে। কারণ কোন একটা মিথ্যাকে যেনে সুখে শান্তিতে বসবাস করার চেয়ে সত্যিটাকে যেনে একটু কষ্ট সহ্য করা ভালো। কারণ আমরা একবার যখন সত্যিটা যেনে নেবো পরে জীবনে শান্তি খুঁজে পাওয়া অনেক সহজ হবে আমাদের জন্য।

About The Author
Sakif Mahmud Reshad
Sakif Mahmud Reshad
1 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment