Now Reading
মধ্যবিত্তের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী



মধ্যবিত্তের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী

বাবা সরকারি চাকরি করেন।আমাদের পরিবার সুখি পরিবার ৯০ দশকের পয়সার মত। যেহেতু বাবা সরকারি চাকরি করেন তাই দাদার বাড়ি আর নানা বাড়ি থেকে অনেক দূরে প্রায় বাংলাদেশের এক প্রান্তে থাকতাম আমরা। তখন শুধু জানতাম ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। আমি যেখানে থাকতাম সেখান কার মানুষের চাহিদা ছিল ৫টি মানে হল মৌলিক চাহিদা আমিও বেতিক্রম না। মা বলে ছোট থেকেই নাকি আমি বন্ধু প্রিয় মানুষ সারাদিন নাকি বাসায় থাকতাম না। ক্ষুদ লাগলেও নাকি আমার কোন অসুবিধা হত না,আমার ভক্ত সমাজ আমকে ধরে নিয়ে তাদের বাসায় নিয়ে যেত। স্কুল আর খেলা এই নিয়ে সময় কেটে  যাচ্ছিল । কোন মতে পরীক্ষায় পাশ করে নতুন ক্লাসে উঠছি বুজতেই পারছেন নতুন বছর শুরু হইছে। সকলে বাবা ঘুম থেকে ওঠালেন ,ঘুমের চোখ ডোলে খুলে দেখি লাল র সবুজ রঙের  খেলোয়াড় দের পোশাক আনছে। আমি মহা খুশিতে লাফালাফি করলাম। পোশাক দেখলাম লালটা ছোট আর সবুজটা বড়,বুঝতে আর বাকি থাকল না।আমি আর বাবা পোশাক পরে সকাল ৬ টায় বেড় হতাম অনেক মজায় মজায়। হাটা হাটি করতাম ৪৫ মিনিট। পরে খাবার রেস্টুরেন্টে বসে সকালের নাস্তা করতাম দুইজন এবং আম্মুর জন্য খাবর নিয়ে বেড় হয়ে বসতাম একটা কেহেরমান এর দোকানে। দোকানের মালিকের সাথে কেহেরমান এর মিল ছিল নাকি কেহেরমান এর সাথে মালিকের তা আমি জানি না কিন্তু সে ছিল আমার কাছে কেহেরমান। যাই হোক আব্বু কেহেরমান কে বলত একটা চা দেও কিন্তু কেহেরমান চা এর সাথে সিগারেট ও দিত আব্বুকে। তাই দেখে আমিও কেহেরমান কে বলতাম একটা চা আর সিগারেট দেও কিন্তু কেহেরমান আমাকে দিতো একটা জুস আর সাদা গোলাপি রঙের পাইপ চকলেট। সেই মজায় মজায় থাকা বিষয়টা বেশি বছর ছিলনা ঘুম কাতুরে মানুষের যা হয়।
নতুন বছরের কিছু দিন যাইতেই শুনলাম ওই এলাকায় নাকি বিদেশী তত্ত্বাবধায়নে একটি নতুন  স্কুল খুলছে। আমার দলের মেম্বাররা অনেকেই ভর্তি হল কিন্তু দলের নেতা মানে আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না । কারন আমার ৫/১০ টাকার খেলনা আর কোমল পানীয় খাওয়ার আব্দার ছাড়া আর কোন কিছু ছিল না। স্কুলের গাড়ি প্রতিদিন বাসার সামনে  এসে ছাত্র দের নিয়ে যাবে, টিফিনে খাবার দিবে, ক্লাস শেষে প্রাইভেট পরাবে আর বিকেল হলে বাসায় আবার সেই গাড়িতে দিয়ে আসবে । আশা করি টাকার কথা কাও কে বলে বুঝাতে হবে না। মাসের অর্ধেক দিন না যাইতেই দেখা গেল দলের নেতা একা একা বিকাল বেলা জলপাই গছের পাতা চাবাইতেছে। কিছুক্ষণ চাবানো হলে বাসায় গিয়ে দরজা টোকা দিলাম কিন্তু দরজাটা আম্মু খুলছেনা। আমি জানি আম্মু ঘুমাচ্ছে, আমি যতক্ষণ বাসায় থাকি আম্মু ততোক্ষণ ঘুমাতে পারে না কারন আমি এই ছোট রাজ্যের দুষ্টু রাজা। অনেক টোকা দিতে দিতে যখন দরজার সাতে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম তখন আম্মু দরজা খুলে দিলো। আম্মুতো আমাকে দেখে পুরাই অবাক এই সময় আমি বাসায়। আম্মু একবার আমার দিকে তাকায় আর একবার ঘড়ির দিকে তাকায় । আমি  ভিতরে ঢুকতেই প্রথম কথা কোন সমস্যা,ঝগড়া করছ, মারামারি নাকি কেউ কিছু বলছে ? আমি কোন কিছু না বলে সোজা বারান্দায় প্রাইভেট সৈনিক দের নিয়ে খেলা শুরু করলাম। এই ভাবে ৪/৫ দিন বাসা থেকে বেড় হইনাই এই কথা শুনে তো আমার চাচা,মামা,খালা সবাই দূর থেকে আমাদের বাসায় এসে হাজির তাদের দেখে কিসের মন খারাপ সব যে কথায় চলে গেল বুজলাম না। কিন্তু দুই দিন পর যখন চলে গেলো ঈশ মনের ভিতর ধুক ধুক আর আড়াল করা চোখের পানি নিয়ে ঘুমায় গেলাম। আমি বাসায় থাকি তাই আব্বু ও বাসায় থাকা শুরু করলো আগের চাইতে বেশি। আমি আর  আব্বু সাজনা ডাঁটা দিয়া তলোয়ারই খেলতাম আর আম্মুর বোকা শুনতাম।
শুক্র বার আমি বাসায় নাই সন্ধ্যা হয়ে গেছে আমি বাসায় আসছি  না! আব্বু আর আম্মু  খুঁজতে বেড় হইছে । বাহির হইয়া দেখে আমার বন্ধুদের বাবা মা তাদের সন্তান দের খুঁজছে। তাদের মধ্যে কথা হতেই আমার আব্বু বুঝল  আমার ঘরে থাকার কারন । আমরা সবাই ক্লাস ৩ তে পরলে কি হবে “ডিপু নাম্বার টু” সিনেমা দেখে সবাই বড় হয়ে গেছিলাম তাই হয়তো পানির ট্যাংকইর উপরে উঠছিলাম কিন্তু কেঁউই নামতে পারি নাই । হয়তো ছোট ছিলাম বা তারেক এর মত কেউ ছিল না । ১৭ জন যখন বাসায় ফেরেনাই সবাই খোঁজ শুরু করলো এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা ট্যাংকইর নিচে নেমে আসতে পারলাম। রাতে খাবার টেবিলে আব্বু বলল তোমার বন্ধু দের স্কুলটা অনেক সুন্দর কাল সকলে ঘুরে আসবো । পরদিন সকলে গেলাম স্কুল দেখতে ।পুরো স্কুল ঘুরলাম আধা ঘণ্টা সময় নিয়ে একটু পর আব্বু জিজ্ঞাসা করলো কেমন লাগলো ভর্তি হবা ?
স্কুলে আমি  ক্লাস ৩/৪ শেষ করলাম আর এই দিক দিয়ে আব্বুর সকাল বেলা বাহিরে নাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে । কেন হয়েছি এখন বুজতে পারলেও তখন কার সময় আমি বুজতে পারি নাই । মধ্যবিত্ত পরিবার এর প্রতি জন সদস্য এক জন আর এক জনের চাহিদা পূরণ করে  নিজের ইচ্ছা কে নির্দ্বিধায় মুছে দিয়ে। সরকারি চাকরির বদলী হচ্ছে পেরাসিটামল তিন বেলা খাওয়ার মত । নতুন জায়গা,নতুন স্কুল, নতুন জীবনের শুরু …

About The Author
Mir Sehab Amin Anik
আমি আর আমার ভাললাগা
4 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment