Now Reading
ARBOVIRUS – ভালোবাসা ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে যে ব্যান্ড



ARBOVIRUS – ভালোবাসা ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে যে ব্যান্ড

অনেকটা পথ হেটেছি একসাথে

কতগুলো ভোর দেখেছি পাশাপাশি

তারপর সবকিছু ফেলে দূরে সরে গিয়েছি

একটু একটু করে।

হারিয়ে যাও তুমি দূরে আরো দূরে।

গানটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্বোভাইরাসের। দেশের ব্যান্ড সংগীত জগত বর্তমানে খুবই প্রশংসা কুড়াচ্ছে সংগীত প্রাঙ্গণে। জনপ্রিয়তা পেয়েছে বেশ কয়েকটি নামকরা ব্যান্ডগুলো। তবে জনপ্রিয়তার মূলে রয়েছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। দেশের তরুণ প্রজন্মের সাপোর্টের জন্য ব্যান্ডগুলো এখনো দেশের মাটিতে টিকে রয়েছে। আর্বোভাইরাসের নাম হয়ত সবাই শুনে থাকবে। কারণ সম্প্রতি সময়ে ব্যান্ড সংগীত প্রাঙ্গণে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে আর্বোভাইরাস ব্যান্ডটি।

আর্বোভাইরাস ব্যান্ডটি মূলত ঢাকায় বেড়ে উঠে। ব্যান্ডটি গঠনের পেছনে যে মানুষ দুটির হাত ছিল তারা সম্পর্কে ছিলেন কলেজের বন্ধু। ঢাকার সেরা কলেজগুলোর একটা নটর ডেম কলেজ এর দুই বন্ধু সোহার্ত ও রঞ্জন মিলে ২০০২ সালে আর্বোভাইরাস নামের ব্যান্ডটির যাত্রা শুরু হয়। বন্ধুত্বের বন্ধন ও গানের প্রতি ভালোবাসা তাদের হয়ত আজ এতটা জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। ব্যান্ডটির নামেও এক অসাধারণ নতুনত্য রয়েছে। তবে এর পিছনে মূল কাহিনী হল নামটি নেয়া হয়েছিল একটি কমিক বই থেকে যে বইয়ের নাম Blade II. বইটিতে arbovirus নিয়ে কিছু কথা লিখাছিল। তারা সেই লেখাগুলোর মূল হিসেবে ব্যান্ড এর নাম করে আর্বোভাইরাস। Blade II কমিক বইটিতে যে কথাগুলো ছিল- Vampirism is an arbovirus, one that’s spread through the saliva of parasitic organism. In this case, vampires are the vector. The virus replicates within the human bloodstream, evolving its host into an entirely new life-form.

তাদের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হচ্ছে তাদের ইন্সট্রুমেন্ট বাজানোর ধরণ যা সত্যি চমৎকার এবং অসাধারণ। রক ব্যান্ড হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়া ব্যান্ডটি সবধরণের Genres এ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। নিজেদের স্টুডিওতে সমকালীন বিভিন্ন গান ছাড়াও heavy metal, punk rock, nu metal এ তারা গান করে থাকে। এছাড়াও তাদের জনপ্রিয়তার আরো একটি কারণ হচ্ছে প্রাণবন্ত লাইভ কনসার্ট। যা সত্যি অনেক মুগ্ধ করে। তাদের লাইভ কনসার্টগুলোর কারণে তারা আজ তরুণদের মনে দারুণভাবে জায়গা করে নিয়েছে। তবে Rocknation সিরিজ এর বিভিন্ন কাজ যা Livesquare ইভেন্ট এর সম্পাদনে অনুষ্ঠিত হয় খুবই চিত্তাকর্ষক। এছাড়াও লাইভ কনসার্টে স্পেশাল ড্রামস ও আসিফ রঞ্জনের গিটার ভাঙ্গা দর্শকের মনে অনেক বেশি কড়া নাড়িয়ে দেয়। যার ফলে তাদের সরাসরি সম্প্রচারিত বিভিন্ন কনসার্টের জন্য তারা এতটা জনপ্রিয়তার আসন পেয়েছে।

তবে ব্যান্ড এর শুরুর দিকে অনেক চিরায় উতরায় পার হয়ে আসতে হয়। অনেক পরিশ্রমের মাধ্যমে আজকের এই অবস্থানে তারা আসতে পেরেছে। ২০০২ সালে দুই বন্ধু মিলে যে ব্যান্ডটি শুরু করেছিল পরবর্তীতে সোহার্ত ও রঞ্জনকে তাদের সেরা লাইন আপ তৈরির জন্য খুব বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। ২০০৬ সালে তারা তাদের প্রথম এলবাম বের করে জি-সিরিজ এর ব্যানারে। এলবামের নাম 64m 53s. এলবামে মোট ১২টি গান ছিল। এর পরবর্তী সময়ে তাদের দুই বন্ধুকে লাইন আপ নিয়ে সময়ের সেরা স্ট্রাগল করতে হয়। সোহার্ত নিজে ছিলেন গিটারিস্ট হিসেবে আর রঞ্জন ছিলেন গিটারিস্টের সাথে অসাধারণ লিরিক্স লেখক। বিভিন্ন ছন্দছাড়া কনসার্টে অন্যান্য ব্যান্ডদের সাথে তারা তাদের কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। এরপর সুফি, এল্ডনেন ও নাফিজ কে সাথে নিয়ে তারা তাদের লাইন আপ বেশ পোক্ত করে ও পরবর্তী এলবামগুলো প্রকাশ করে। ২০১২-১৩ সালে তাদের দ্বিতীয় এলবাম ‘মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন’ প্রকাশিত হয়। এর মাঝামাঝি সময়ে তারা বিভিন্ন মিশ্র এলবামে একক গান প্রকাশ করে। এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য’ অনেক সারা ফেলে। ১৫ বছরের সূচনায় তাদের প্রথম একক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে।

আর্বোভাইরাসের ব্যবহৃত ধরণ ও স্টাইল হরেক রকমের হওয়ার এটা সত্যিই বলা কঠিন কোনটা তাদের নিজস্ব ধরণ। তবে মূলত তারা রক ব্যান্ড হিসেবেই নিজেদের আত্মপ্রকাশ করেছে। আর্বোভাইরাসের গানের ভাষা ঠিক যেন অন্য লেভেলের ইঙ্গিত বহন করে। মূলত সব গান তারা বাংলাতেই গেয়ে থাকে এবং তাদের প্রায় সব গানের লেখক ছিলেন রঞ্জন। রঞ্জন ছাড়াও সুফি, সোভন, রুম্মান আলম বেশ কয়েকটি গান লিখেছিলেন। সুফি মাভেরিক ২০০২ সাল থেকেই আর্বোভাইরাসের মূল গায়ক বা ভোকাল হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাই সেরা লাইন আপের সংগ্রামে তিনিও বেশ ভালো সাক্ষী হয়ে আছেন। তারা তাদের  গানের কথায় বাংলাদেশের সবধরণের ইস্যু তুলে ধরার চেষ্টা করতেন এবং করছেন। যা তাদের জনপ্রিয়তায় অন্য এক মাত্রা যুক্ত করে।

তাদের সর্বকালের সেরা তিনটি এলবাম হচ্ছে

  • 64m 53s
  • মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন
  • বিশেষ দ্রষ্টব্য

যা আমি আগেই লিখেছি। এছাড়াও বিভিন্ন মিশ্র এলবামে তাদের একক গান প্রকাশিত হয়। সেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান হচ্ছে ‘শহর’ বোকা মানুষ এলবামের, ‘আর্তনাদ’ আগন্তুক ২ এলবামের, ‘কেউ কারো নয়’, ‘প্রার্থনা’ অনেক জনপ্রিয়তা পাওয়া কিছু গান। আর্বোভাইরাসের ‘ হারিয়ে যাও তুমি’ গানটি ইউটিউবে ব্যান্ড মিউজিকের সেরা রেকর্ড জড়ে। গানটি ইউটিউবে ২.২ মিলিয়ন ভিউ হয়।

আর্বোভাইরাসের বর্তমান সদস্যদের নাম গুলো না জানলেই নয়। যেন এত কিছুর মাঝে কমতি রয়ে যাবে একটা কিছুর। ব্যান্ড এর শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দুজন মানুষতো প্রথম থেকেই ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন সোহার্ত শরিফ (গিটার), অন্যজন হলেন আসিফ আসগর রঞ্জন (গিটার ও লিরিক্স)। জীবনের টানা পোড়ায় ও ক্যারিয়ারের টানে অনেককেই ব্যান্ড ছেড়ে চলে যেতে হয়। এরপর তাদের সেরা লাইন আপ যাদেরকে নিয়ে গঠিত হয় তাদেরকে সত্যি ভালোবাসার  স্থানে রাখতে হয়। মূল ভোকাল বা গায়ক হিসেবে আছেন সুফি মাভেরিক, নাফীজ আল আমিন (ড্রামস) এবং এল্ডনেন আলম (বেস)।

হয়ত তারা সময়ের সাথে পাড়ি দিবে আরো অনেক খানি পথ, সেটাই আশা করি আর্বোভাইরাসের একজন ছোট ফ্যান হিসেবে।

Information Source – wikipedia

Image – google

About The Author
Ashraful Kabir
Want to be learn how to write..... also trying.....
5 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment