Now Reading
আজ আমার বিয়ে – পর্ব ৫ম



আজ আমার বিয়ে – পর্ব ৫ম

আজ আমার বাসর রাত।অনেক জল্পনা কল্পনা শেষ করে আমার কাছে ধরা দিলো আজকের রাত । আমি তাহারে অবশেষে পাইলাম । এই রকম কিছু কথা আমার মনের মধ্যে বার বার বেজে উঠছিল । বিয়েটা পারিবারিক ভাবে হওয়ার কারণে ঝামেলা একটু কম হয়েছে । আমি কাজ শেষ করে ঘরে ঢুকবো । আমার উনি মানে আমার বউ আমার জন্য অপেক্ষা করছে । আমি ঘরে ঢুকে প্রথমে তাকে সালাম দিলাম
আসসালামু আলাইকুম , আমি বললাম
ওয়ালাইকুম আসসালাম
আমি আর কোনো কথা না বলে তার পাশে গিয়ে বসলাম । আজ ও আমি প্রথম দিনের মতো চুপ করে বসে আছি । কিন্তু এইবার আর তাকে আগে কথা বলতে দিলাম না ।কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর আমি নিজেই বললাম – ওযু করেছেন ?
তিনি হয়তো একটু অবাক হয়েছে আমার কথা শুনে । উনার উত্তর – জী না , এখনো ওযু করিনি ।
আমি বললাম – আমার ওযু আছে , আপনি ওযু করে আসেন দুই জন এক সাথে নামাজ আদায় করে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি ।
তিনি কোনো কথা না বলে ওযু করতে চলে গেলেন । ওযু করে এসে দুই জন এক সাথে নামাজ পড়ে উঠলাম ।
নামাজ পড়ে উঠে আমি তার কপালে চুমু খেয়ে বললাম আমি আজ অনেক খুশি আলহামদুলিয়াহ ।
উনি আমার কথা শুনে কোনো উত্তর না দিয়ে বলে উঠলেন – আপনার বেলকনিটা অনেক সুন্দর ।
জী আমি নিজের হাতে সাজিয়েছি আমার বেলকনিকে । মাঝে মাঝে আমি এখানে বসে বই পড়ি । আবার চাঁদের জোছনা উপভোগ করি । চলেন আজ আপনাকে নিয়ে বসি , কিছু কথা শেয়ার করি ।
আমি আর উনি চলে গেলাম বারান্দায় । একে অপরের সাথে গল্প করছিলাম নিজেদের জীবন নিয়ে । কে কি করেছি , কিভাবে বিয়ের আগে নিজেদের হেফাজত করেছি ।
ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি রাত প্রায় ৪ বাজে । আমি তাকে বললাম ফজরের সময় হয়ে গিয়েছে , নামাজ পড়ে শুয়ে পড়ি । আমি নামাজ পড়ে শুয়ে পড়লাম । আমার উনি ও শুয়ে ছিলেন
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে চলে গেলেন রান্না ঘরে । মা , মামা , চাচা ও আমার জন্য নাস্তা বানিয়ে আমাকে ঢাক দিলেন ।
সকাল সকাল কানে বাজছে – এই যে লাল জীন ঘুম থেকে উঠেন । ও বলতে ভুলে গিয়েছি আমাকে উনি লাল জীন বলে ঢাকে । অবশ্য আমি কারণ জিজ্ঞেস করেনি ।
আমি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে এসে দেখি সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে । আমি রুটিটা মুখে দিয়ে বললাম – মা আজ তুমি খুব ভালো রুটি বানিয়েছ ।
আমার আমাকে ঝাড়ি দিয়ে বলল আমি আজ রুটি বানায়নি তোমার বউ বানিয়েছে । আমি আর কোন কথা বললাম না । লজ্জা পেয়ে গেলাম অনেক ।খাবার খেয়ে নিজের ঘরে এসে পড়লাম । উনি একটু পর আসলো ।
আপনি নাস্তা খেয়েছেন ? আমি প্রশ্ন করলাম ।

জী আপনারা খেয়ে যাওয়ার পর আমি খেয়েছি ।
কিছু দিন এভাবে কেটে যায় আমাদের নভ বিবাহিত জীবন । কিছু দিনের মধ্যে অফিস খুলে যায় । আমি অফিসে বসে শুধু আমার রুপার কথা ভাবছি । ভালো লাগছিল না ।
কম্পিউটার সামনে ছিল তাই ফেসবুকটা ওপেন করলাম । ওপেন করে চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল । অনেক দিন ঢোকা হয় না , যার ফলে অনেক ম্যাসেজ এসে জমা হয়েছে । ম্যাসেজ এ চোখ বুলাতে বুলাতে একটা কবিতা চোখে পড়লো
তোমার চোখের আমি হারিয়ে যেতে চাই স্বপ্ন লোকে । অবাক হলাম কবিতাটা পড়ে । নাম খেয়াল করলাম । উনার নাম জান্নাত । আজ সকালে ম্যাসেজ দিয়েছে আমাকে । খুব দুরু দুরু বুক নিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম
কে আপনি ?
সাথে সাথে উত্তর আসলো আপনার মনের মান্নাত । আমি তো আপনারই জান্নাত ।
আপনি কি কবিতা ছাড়া কথা বলতে পারেন না ?
কেন আমার কবিতা আপনার ভাল লাগে না ? আমি তো আপনার জন্য কবিতা লিখি । আপনি জানেন আপনার জন্য কত রাত ঘুমায়নি ?
আরে আজব তো আপনি কে ? আর আমি বিবাহিত , আমাকে আপনি কি সব কথা বলছেন ।
এই কথা বলে আমি আর এক মিনিট ও ফেসবুকে থাকলাম না বের হয়ে পড়লাম ।

মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দেখি বউ কল দিয়েছে । ফেসবুকে থাকার কারণে খেয়াল করা হয়নি । কল ঘুরাতে প্রশ্ন আসলো
খুব ব্যস্ত নাকি আপনি ?
আরে না একটু কাজ ছিল করছিলাম ।
তাই বুঝি ,
জী
আচ্ছা আপনার ফেসবুকের ছবিতে এক মেয়ে কমেন্ট করলো তুমি আমার চাঁদ । আমি তোমার জোছনা ? আপনি না বিয়ের আগে প্রেম করেনি তাহলে এখন চাঁদ জোছনা কোথা থেকে আসছে ?
কি বল এই সব ।মাফ করবেন আপনাকে তুমি করে বলেছি । কি সব বলছেন আপনি । কোন মেয়ে , আর কেনই বা এইসব কোথা বলবে ?
হ্যাঁ অন্য সব মেয়েকে তুমি করে বলতে সমস্যা নাই চাঁদ বলেন জোছনা বলেন ।শুধু আমার বেলায় সমস্যা । মেয়ের নাম জান্নাত । আপনি থাকেন আপনার জান্নাতকে নিয়ে । আমি রাখি ।
এই কথা বলে সাথে সাথে রেখে দিল ।
কি যে বিপদে পড়লাম । কে আবার এই জান্নাত , কি সব যে করছে ।

 

চলবে

সব গুলো লিংক এর জন্য সাইটে প্রবেশ করুন

About The Author
Rohit Khan fzs
Rohit Khan fzs
বি.এস.সি করছি ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং। লিখতে ভালবাসি। নতুন নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হতে পছন্দ করি।
2 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment