Now Reading
ভারত ভ্রমনের ৩ সপ্তাহের ১ম ও ২য় দিন।



ভারত ভ্রমনের ৩ সপ্তাহের ১ম ও ২য় দিন।

ঘুরতে কেনা ভালোবাসে? এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ৯৮% শতাংশ তরুন পৃথিবী ঘুরার স্বপ্ন দেখে। আমার বাবার চাকরিতে প্রায়ই ট্র্যান্সফার হওয়ার দরুন বাংলাদেশের অনেক জায়গাই দেখে ফেলেছি। জন্ম ভোলায় । প্রাইমেরি মাদারিপুর এ,হাই ইস্কুল পিরজপুর এ । এখন কলেজের জন্য খুলনায়। তাহলে বুজতেই বুজতেই পারছেন আমার জীবনটাই ঘুরাঘুরি। সেই ছোট বেলা থেকেই বিশ্ব ভ্রমনের চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘুরেছি বাংলাদেশের অনেক জায়গা। এরপর মনে হল একটু  দেশের বাইরে যাওয়া উচিত। যেই ভাবা সেই কাজ। মাথায় চিন্তা আসলো ভারত ঘুরবো । তাই পাসপোর্ট করে ভিসা করে দে দৌড় । আমার লক্ষ্য ছিল কলকাতা , দিল্লী ,আগ্রা, রাজস্থান,আজমির,জাম্মু,কাশ্মীর । সময় টা ছিল ২০১৫ সালের নভেম্বর এর ১৫ তারিখ। আমি বেনাপোল স্থলবন্দর পার হয়ে ওপারে দিয়ে টাকা ভাঙিয়ে নেই।ও হ্যা, কেউ আপনার পাসপোর্ট চাইলে দিবেন না যদি উনি সরকারি কর্মকর্তা না হয়। টাকা ভাঙিয়ে এক কাপ গরম চা খেয়ে গ্রিনলাইন বাস এ উঠলাম বিমান বন্দর যাওয়ার জন্য । আমার প্লান ছিল সবার শেষে কলকাতা ঘুরবো। বাসে বিমানবন্দর পর্যন্ত ভাড়া ১০০ রুপি। বাস ভাল ,এসি আছে। ঘুম থেকে কেউ ডেকে উঠাল, দাদা বাস থেমেছে এখানে দুপুরের খাবার খেতে হবে। তা বেশ,খুদাও লেগেছিল অনেক। বাস থেকে নেমে ভাত আর মুরগির মাংস অর্ডার দিলাম। খাওয়া শেষ করে ফের বাস এ,এবার আর ঘুম এলো না। একটু পর চলে এলাম কলকাতা নেতাজী সুভাসচন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট। আমার জীবনে আমি এয়ারপোর্ট এ আসি নি,আর না কখনো প্লেন এ উঠিনি । তাই খুব ভাল লাগছিল নতুন কিছুর অভিজ্ঞতায় ।বড় বিমানবন্দর তাই সব কিছু গুলিয়ে ফেললাম। একটু পর একজন অফিসার টাইপের কারো কাছে জিজ্ঞেস করায় সব বুঝিয়ে দিলেন। ভিতরে ঢুকেই বিপত্তি,আমার টিকেটে কি যেন একটা সমস্যা হয়েছে। আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেল। পরে এক পাঞ্জাবি অফিসার সব ঠিক করে দিলেন,সব থেকে সুন্দর লাগল আমি বাংলাদেশি বলে এক্সট্রা খাতিরদারি পেলাম।  ফ্লাইট এর সময় হয়ে গেলে প্লেন ছাড়ল চলে এলাম দিল্লী ।অনেক  শুনেছি দিল্লির নামে। হোটেল থেকে গাড়ি চলে আসছে। গাড়িতে করে সোজা হোটেল এ ।তখন রাত ৮.৩০ মিনিট । কলকাতা থেকে দিল্ল যেতে ২.৪৫ মিনিট লাগে।ঐদিন কিছু খেলাম না সোজা হোটেল রুম এ ঘুম। পরদিন দিল্লী ঘুরার স্বপ্ন নিয়ে ঘুমিয়া গেলাম। সকাল হতেই নাস্তার জন্য হোটেল এর রেস্টুরেন্ট এ চলে গেলাম। ফ্রি ব্রেকফাস্ট (হ্যাপি) ,বুফে সিস্টেম হওয়ায় নিজের খাবার নিজেই আনতে হবে। খেয়ে নিলাম,সকাল ৯.০০ বাজে। হোটেল থেকে বের হয়ে হয়ে গাড়ির খোজ লক্ষ্য একদিনেই দিল্লী দেখতে হবে। কিন্তু আধা ঘণ্টা পরেও গাড়ি পেলাম না। একটা পেয়েছিলাম দাম চড়া। একটুপর হোটেলের একটা লোক আমাকে উদ্বিগ্ন দেখে হোটেলের গাড়ি আর ড্রাইভার দিল বেশ কম দামে।  তখন ১০.৩০ বাজে। তখন চলে গেলাম কুতুব মিনার । বিশাল মিনারের সামনে নিজেকে খুব ক্ষুদ্র মনে হল । বিশালতা আমায় মুগ্ধ করেছে।

আমার কাছে ভাল কোন ক্যামেরা না থাকায়  কোন ছবি উপহার দিতে পারব না বলে দুঃখিত । ২ ঘণ্টা  কাটালাম কুতুব মিনারের এলাকায় যদিও যার একদিনে দিল্লী দেখার ইচ্ছা তার ঐখানে ২ ঘণ্টা কাটানো বোকামি । এরপর চলে গেলাম দিল্লীর সব থেকে বিখ্যাত লাল দুর্গে (The Red Fort) এ । লাল দুর্গ এমন একটা জায়গা এখানে না এসে যদি আমার কাছে বলেন আমি দিল্লী ঘুরে এসেছি তাহলে আমি আপনাকে বলব আপনার দিল্লী ভ্রমন বৃথা গেছে। কুতুব মিনারে অনেক টুরিস্ট দেখেছি কিন্তু লাল দুর্গের কাছে ঐ সংখ্যা কিছুই না। অবাক নয়নে তাকিয়ে ছিলাম।শুধু আমি না,আরও অনেক মানুষ ছবি তুলতেই ভুলে গেছে। এরপর ওখানে কিছু সময় থেকে অনেক দেশ বিদেশ এর টুরিস্ট দের সাথে কথা বলে এবার যাত্রা এমন একটা জায়গায় যেটা কোন টুরিস্ট পয়েন্ট না তাও হাজার হাজার মানুষের ভিড় ,জায়গাটির নাম ইন্ডিয়া গেট। অনেক বড় করে গেট করা রাস্তার মাঝখানে । দেখতে অমায়িক। যদিও গাড়ির শব্দে মেজাজ খারাপ হচ্ছিল। কিছুক্ষন থাকলাম। এরপর অনুভব করছি শরীরী শক্তি লোপ পাচ্ছে কারন সকালের পর এখন বিকাল ৫.৪৫ আমি এখনো কিছু খাই নি্‌আর আমার ড্রাইভারও কিচ্ছু খায় নি। চলে গেলাম খেতে । হাইদ্রাবাদি বিরিয়ানি খাওয়ার পর একটু ঘুম পাচ্ছিল। এরপরও শহরের মধ্যে ঘুরলাম । রাত ৮ তায় হোটেলে গিয়ে গোছল করে,  রাস্তায় বের হলাম রাস্তার খারাব খেতে,ভারত এসে রাস্তার খাবার না খেলে ভ্রমণই মাটি । ১০ টা পর্যন্ত ঘুরে হোটেলে এসে শুয়ে পরলাম , পরের দিন আগ্রার তাজমহল ,আগ্রা দুর্গ দেখার স্বপ্ন নিয়ে ঘুম। ৩ সপ্তাহ অর্থাৎ ২১ দিনের প্রথমদিন শেষ হল।

এখানে কিছু জিনিস জেনে রাখা ভাল হবে দিল্লী এবং কলকাতা এয়ারপোর্ট এর জন্য,১.আপনি কলকাতা এয়ারপোর্ট এ গেলে একটু ভদ্র থাকার চেষ্টা করবেন। কোন রকম অসুবিধায় পরলে নিজেকে বাংলাদেশি বলে পরিচয় দেন। আমার অভজ্ঞতা থেকে বলছি আপনার অসুবিধা একটু আগে হলেও দূর হবে কারন ভারত এর একটা সব থেকে ভাল গুন হল এরা টুরিস্ট দের সন্মান করে আর বাংলাদেশিদের একটু বেশি ভালবাসার কারন ভারতে বাংলাদেশি টুরিস্ট দের সংখ্যা ব্যাপক। ২.আপনি কোন হোটেল থেকে গাড়ি নিয়ে যাবেন না, একটু কস্ট করে সময় নিয়ে খুজুন কারন আমি পরে আরেকবার কাজের জন্য দিল্লী গিয়ে দেখেছি খুজলে ভাল মানের গাড়ি পাওয়া জায় কম দামে আর ড্রাইভার আপনার টুরিস্ট গাইডের কাজও করতে পারে। কিন্তু হোটেলের ড্রাইভার গাড়ি চালানো ছাড়া আর কিচ্ছু পারে না। আর বাইরে থেকে গাড়ি নিলে হোটেলের ড্রাইভারের মত বাধ্যগত খাওয়াতে হয় না।৩.আপনি যদি হিন্দি জেনেও থাকেন তাহলে এয়ারপোর্ট ,হোটেল ছাড়া বলবেন না,ইংরেজি বলুন বাহিরে গেলে। সন্মান পাবেন ভাব্বে টুরিস্ট। আর বাইরে গিয়ে হিন্দি বললে ভাব্বে ভারতীও সন্মানটা একটু কম(এইটা একটা আনঅফিসিয়াল টিপস ) হাহা। ৪.হোটেল বুক করার ক্ষেত্রে কখনই অনলাইন বুক করবেন না। আমি অনেক জায়গায় সরাসরি গিয়ে ৫০০-১০০০ রুপি কম পেয়েছি। অনলাইন বুক করার কোন দরকার নেই। একটা না একটা হোটেল পেয়েই যাবেন। আপনি যে বাজেটে চাইবেন সেই বাজেটেই হোটেল পাবেন। খরচ নির্ভর করবে সম্পূর্ণ আপনার উপর। এটা ধরাবাধা বলা যায় না।  গাড়ি না নিয়ে আপনি মেট্ররেল না বাস ব্যাবহার করতে পারবেন এ ক্ষেত্রে আপনার খরচ ৫০% পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ৫. এয়ারপোর্ট থেকে একটু দূরে থাকুন হতেল,খাওয়া দাওয়া অনেক কম। ৬. আমার দিল্লী ট্যুর টা ছিল ছোট কারন আমি আরো অনেক জায়গায় যাব, কিন্তু আপনি যদি যান তাহলে বলব দুইদিন থাকতে কারন অনেক জায়গা আছে যা দেখার মত।

(চলবে)

About The Author
FAHAD BIN HUSNE ALI
FAHAD BIN HUSNE ALI
Like to Travel a lot.Fond of travel writing.i am a part time poet.Student of diploma in computer .

You must log in to post a comment