অন্যান্য (U P) নারী শক্তি ও অধিকার

বিধবা বিবাহ আন্দলোনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

উনবিংশ শতাব্দীতে সমাজসংস্কারের জন্য যে কয়েটি আন্দলনের  ইতিহাস আমরা দেখতে পাই তার মধ্যে  হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আন্দোলন অন্যতম। বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহরে  ব্যাপক প্রচলনের কারনে সমাজে বিধবার সংখ্যা মারাত্নক ভাবে বেড়ে যায়। কিন্ত তখন বিধবা বিবাহের প্রচলন ছিল না। তাই তখন বিধবা পুনর্বিবাহের জন্য সমাজসংস্কার আন্দোলন সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। উনবিংশ শতাব্দীর এই নবজাগরনের অন্যতম পথিকৃত ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। অক্লান্ত পরিশ্যম ও নানা বাধাবিপওি পেরিয়ে তিনি এই নবজাগরন ঘটাতে সক্ষম হন। অর্থাৎ ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই ‘বিধবা বিবাহ পুনর্বিবাহ আইন’ পাশ হয়। এই আইন পাশের মাধ্যমে বিধবা বিবাহের সকল বাধা দুর হয়। এই বিধবা বিবাহ আইন পাশ করাটা মোটেও সহজ ছিলনা। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরেরও একশত বছর পূর্বে বিধবা বিবাহের পক্ষে লেখালেখি শুরু হয়। কিন্ত কট্টর হিন্দুদের কারনে তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি।রাজা রাজবল্লভ তার নিজ বাল্যবিধবার বিয়ে দেবার জন্য পন্ডিতদের প্রচুর ভেট দিয়ে শাস্ত্রসম্মত অনুমতি লাভ করেছিলেন। কিন্ত তা অন্য আরেক প্রভাবশালী রাজা কৃষ্ণচন্দের কারনে ব্যার্থ হয়। এই ঘটনা ঘটেছিল বিদ্যাসাগরের ও একশত বছর পূর্বে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আগেও রাজা রামমোহন রায়ের ‘আত্নীয় সভা মাধ্যমে এবং পরে ১৮২৮-২৯’ সালে ডিরোজিওর অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েসন একে ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলন ও বলা হয়, বিধবা বিবাহের পক্ষে লেখালেখি করা হয়েছিল। জাতীয় আইন কমিশনও তখন বাল্যবিধবাদের পুনর্বিবাহেনর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন। কিন্ত কট্টর হিন্দুত্ববাদের বিপক্ষে যেতে তারা শেষ পর্যন্ত সাহস করেন নি। হিন্দুদের ধর্মীয় গোড়ামী, কুসংস্কার ও কুপ্রথার বিরুদ্ধে যে কয়জন মনীষী অন্দোলন,প্রতিবাদ করে সফলকাম হয়েছেন বিদ্যাসাগর তাদের মধ্যে অন্যতম। বিদ্যাসাগর প্রথম অবস্খায় জনমত তৈরিতে ব্যার্থ হয়ে ছিলেন এবং প্রাচীনপন্থীদের চরম বিরোধীতার সম্মুখীন হন। এমনকি তাকে প্রান নাশের হুমকিও দেওয়া হয়। কিন্ত এতে অসীম সাহসী বিদ্যাসাগর থেমে থাকেননি । বিদ্যাসাগর তার নিজ কাজ চালিয়ে গেছেন নির্ভিকভাবে। ১৮৫৫ সালে বিধবা বিবাহ প্রচলন হৗয়া উচিত কিনা িএই বিষয়ে  প্রস্তাব ( প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রস্তাব ) রচনা করেন। তারানাথ বাচস্পতি তার এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করলে বিদ্যাসাগর বেনামে ‘ কস্যাচিত উপযুক্ত ভাইপোষ্য’ এবং ‘ অল্প হইল’ রচনা করেন। বিধবা পুনর্বিবাহ আন্দোলনের জন্য ঈশ্বরচন্দ্রকে শাস্ত্রীয় যুক্তি এবং মানবমুখী যুক্তিবাদের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা করতে হয়েছে। এজন্য তিনি শাস্ত্রীয় অস্ত্র হিসাবে বিধবাদের আর্থ-সামাজিক সমস্যার বিবরন দিয়েছেন। যে সকল হিন্দু পন্ডিতগন বিদ্যাসাগরের চরম বিরোধিতা করেছিলেন তাদের মধ্যে ব্রজনাথ বিদ্যারত্ন, কাশীনাথ তর্কালঙ্কার, রমাতনু তর্কসিন্ধান্ত, গঙ্গাধর কবিরাজ, মহেশচন্দ্র চূড়ামনি, দীনবন্ধ ন্যায়রত্ন, ইষানচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ এদের মদ্যে অন্যতম। শুধুমাএ এ সকল পন্ডিতগনই যে তার বিরোধিতা করেছেন এমন নয়, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পন্ডিত ব্যক্তিত্ব বঙ্কিমচন্দ্রও রীতিমতো তার বিরোধিতা করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র তার ‘বিষবৃক্ষে’ সূর্যমুখীকে দিয়ে উক্তি করান যে, “ যে বিধবা বিবাহের ব্যাবস্থা দেয়, সে যদি পন্ডিত হয় তবে মূর্খ কে?” এসকল পন্ডিত ব্যক্তিদের প্রচ্ন্ড বিরোধিতার পরও তিনি ( বিদ্যাসাগর ) একটুকুও পিছপা হননি। বিদ্যাসাগর তখন বলেছিলেন, “ বিধবা বিবাহ প্রবর্তন আমার জীবনের সর্ববৃহৎ সৎকর্ম” । এ জম্নে ইহার চাইতে সৎকর্ম করতে পারব তাহার সম্ভাবনা নাই। এ বিষয়ের  জন্য সর্বশান্ত হইয়াছি এবং আবশ্যক হইলে প্রান দিতেও দ্বিধাবোদ  করব না। তিনি আরও বলেছেন, “ অামি দেশাচরের নিতান্ত দাস নহি, নিজের বা সমাজের মঙ্গলেরজন্য যা করা উচিৎ আবশ্যক বোধ হইবে তাই করিব । লোকের বা কুটুম্বদের ভয়ে কদাচ সঙ্কচিত হইব না । বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় বিধবা বিবাহ আন্দোলনের সপক্ষে ব্যাপক জনমততৈরি হয়ছিল । ঈশ্বরচন্দ্র তার কবিতায় লিখেছিলেন যে-

সুখের দিন কবে হবে বল , দিদী কবে হবে বল লো,
কবে হবে বল।
শান্তিপুরের তাতিরা তো ‘বিদ্যাসাগর পেড়ে ’ শাড়িও বেড় করেছিল ।  শাড়ির পাড়ে লেখা ছিল
বেচে থাক বিদ্যাসাগর চিরজীবি হয়ে
সদরে করেছ রিপোর্ট বিধবাদের হবে বিয়ে  ।
অবশেষে  পর্বতসম বাধাবিপওি উপেক্ষাকরে সমাজ সংস্কারের বিদ্রহী নায়ক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৫৫ সালের ১৭ই নভেম্বর বঙ্গীয় ব্যপস্থাপক সভায় বিধবা বিবাহ আইনের খসড়া পেশ করলে ভারতে এ পক্ষে বিপক্ষে তুমূল আন্দোলন শুরু হয়। ভারত সরকারের কাছে রাজা রাধবকান্ত এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৮,০০০ হাজার লোকের সাক্ষরিত এক আবেদনপএ পাঠান। বিভিন্ন পন্ডিতগনও এর বিরুদ্ধে আবেদনপএ পাঠান । অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে বিধবা বিবাহের পক্ষে বহু আবেদন পাঠানো হয়। অবশেষে ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাস হয়। বন্ধ হয় প্রথার নামে পরোক্ষ ভাবে নারী হত্যা। বিধবাদের পুনর্বিবাহ চালু হওয়ায় হিন্দু নারীগন তাদের বিবাহের অধিকার ফিরে পায় এবং সতীদাহ কুপ্রথার হাত থেকে রক্ষা পান।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

বাংলাদেশে চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সংস্কার এখন সময়ের দাবী।

hasiburrahman

কিভাবে ১০০ বছর বা তার বেশী বছর পর্যন্ত বাঁচা যায়

Muhammad Uddin

অপার্থিব বান্দরবন – আমিয়াখুম

Sazid Hossain Upam

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: