Now Reading
ভারত ভ্রমনের ৩য় দিন(আগ্রা)



ভারত ভ্রমনের ৩য় দিন(আগ্রা)

ভ্রমনের ৩য় দিন । সকালে উঠলাম ।দিল্লী হোটেলে ফ্রি ব্রেকফাস্ট থাকা সত্যেও খেতে পারলাম না(এত খারাপ লাগছে যা বলার মত না,খুব মুখরোচক তাও আবার ফ্রি) কারন দিল্লী থেকে ৭.০৫ এর তাজ এক্সপ্রেস এর ট্রেন ধরতে হবে আগ্রার জন্য । যথারীতি ট্রেন এ চড়ে চলে এলাম আগ্রায় ১০.৪৫ এ। দিল্লী একটু নোংরা হলেও আগ্রা খুব পরিষ্কার সেটা ট্রেন থেকে নেমে বুজে ফেললাম। একটা ট্যাক্সিওয়ালার কাছে গিয়ে বিনম্র ভাষায় বললাম আজকের জন্য আপনার ট্যাক্সি ভারা নিব সিটি ট্যুর এর জন্য ,কত রুপি লাগবে। উনিও বেশ ভদ্র ভাষায় বললেন ৩০০০ রুপি।  এখন  ১১ টা বাজে আর দিনের বাকিই বা আছে কি? তাছাড়াও আপনার ত জিপ না ট্যাক্সি এত দাম কেন? অনেক কথার পর রাজি হলেন ২৫০০ রুপি তে। ঠিক ১.০৫ মিনিটে ভাত খেয়ে ঢুকলাম আগ্রার তাজমহল এর গেটে। উনার নাম্বার রেখে ছেড়ে দিলাম। গেটের আশেপাশে অনেক ছোট গাড়ি আমাকে নেওয়ার জন্য উৎসুক। আমি বললাম যাব না। এইটুকু পথ গাড়ি নিব নাকি? কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। পথ অনেক খানি। তাও হেটেই গেলাম। কই তাজমহল? দেখি না কেন? পরে শুনি টিকিট কেটে এরিয়ার ভিতরে ঢুকতে হবে। বাইরে অনেক মানুষ টিকেট নিচ্ছেন । ভারতীয় দের জন্য ২০রুপি, সার্ক ভুক্ত দেশ হলে ৫১০ রুপি,আর অন্যান্য ৭৫০ রুপি। আমার পাশেই এক ব্রাজিল এর নাগরিক ৭৫০ রুপি তে টিকেট কিনছে দেখে মজাই লাগল । কিন্ত আমি ভাবলাম ভারতীয় সাজা যায় কিনা। দেখতে ত একিরকম। বড় ধরনের একটা অপরাধ করে ফেললাম। ভারতীয় লাইনে ঢুকে পরলাম। কোন সমস্যা ছাড়াই ২০ রুপির টিকেটে ভিতরে(ভয় ছিল,ভালও লাগছিল।ইস্কুল পালানোর অনুভূতি হচ্ছিল) ভিতরে ঢুকার আগে দুইদফায় চেক করে। পায়ে পড়ার জন্য একটা মাস্ক দেয় যাতে তাজমহল অপরিষ্কার না হয়। ভিতরে ঢুকেই একটা কথাই মুখ থেকে বের হয়েছে ওয়াও। এত সুন্দর কোন দালান দেখে লাগেনি। সাদা ধবধবে রঙ যেন বুকে টেনে নিচ্ছে। প্রিয় মানুষের সাথে কোন রোম্যান্টিকে জায়গায় যেতে চাইলে তাজমহল সেরা জায়গা । স্বপ্নের মত লাগছিল। অনেক মানুষের ভিড়। হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম তাজমহল এর ভিতরে। শাহ জাহান ও মমতাজ বিবির মাজার। শাহ জাহান ও মমতাজ দুইজনকেই এক রাস ধন্যবাদ দিলাম। তোমরা ভালবেসেছিলে বলেই আজ তাজমহল দেখছি। যদিও ইতিহাস এই প্রেম টাকে নিয়ে নাড়াচাড়া করে। আমি ভাবনায় মন না দিয়ে ঘুরতে লাগ্লাম, সব দিক পরিপাটি । চোখে পরল শাহজাহান আর মমতাজ এর খাসকামরা । উকি মেরে দেখলাম ভিতরটা। এক সাদা চামরা টুরিস্ট আমায় একটা ছবি তুলে দেওয়ার জন্য বললে চট করে তুলে দিলাম, একটা হাসি দিয়ে বিদায় নিল। ওখানে বসেই একটা কবিতা লিখলাম (একটু ব্যক্তিগত তাই শেয়ার করতে পারলাম না) । কিছুক্ষন পর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি হায় হায় ২ টা বাজে। বিদায় নিলাম তাজমহল থেকে। বের হতে হতে আরও ৩০ মিনিট লাগল। আমার ট্যাক্সিওয়ালা কাকাকে ফোন দিলাম। আসছি বলে ৩০ মিনিট শেষ করে দিলে(হয়ত অন্য কথাও ধান্দা করছিল)। তারপর বললাম কাকা এখন কথায় যাওয়া যায়? কাকা বল্ আগ্রা দুর্গ। চলেন তাহলে। যেতে সময়ই লাগল না। আগ্রা দুর্গে কিচ্ছু লাগেনা । ঢুকে যান আপনার মত। এবার আর সাদা দেখবেন না,লালের খেলা। রুপের দিক থেকে আমার আগ্রা দুর্গ তাজমহল থেকে  ভাল লেগেছে বেশি যদিও আলাদা। লালের সর্গে হারিয়ে গেলাম। এটাই সেই  জায়গা যেখানে ইতিহাসের অনেক কিছু ঘটেছে। শাহজাহান এখানেই বন্দি ছিলেন। এখন আগ্রা দুর্গের মাত্র ৩০% টুরিস্ট দের জন্য আর বাকিটা মিলিটারির আস্থানা। আপনি জানবেনও  না বুজবেনও না যে ঘুরার পর আরও জায়গা বাকি পরে আছে। আগ্রা দুর্গে সব লাল ইট দিয়ে দালান  উঠানো । তাজমহল এর মত জুয়েলারি দেওয়া না কিন্তু তারপরও অবাক করবে আপনাকে ।এত বিশাল,শক্তপক্ত দালান সাথে এত ভাল নকশা ঐ আমলে কিভাবে সম্ভভ? জাদুর মত লাগে। কিন্তু দুর্ভাগা আমি বেশিখানি দেখতে পারিনি। কারন সময় তখন সন্ধ্যা ৬ টা। আমার যেতে হবে ,এক হিন্দু বন্ধুর মেয়ের জন্মদিন।আমি ঐ শহরে আছি আর না গেলে ভীষণ রাগ করবে, তাই প্রস্থান করলাম আগ্রার দুর্গ থেকে, নিয়ে এলাম এক মুঠো সৃতি ।বাইরে এসে আবার কাকার সন্ধান,না এবার উপস্থিত ছিলেন। চলে গেলাম দক্ষিন আগ্রা।যেতে যেতে  শহরটা দেখে নিলাম। রাতে মনে হচ্ছে জিলিক দিচ্ছে। একটা ফুলের তোরা কিনে বন্ধুর বাড়ী গিয়ে জন্মদিন পালন করতে করতে রাত ১০.৩৫। বিদায় জানিয়ে চলে এলাম। ও ্ট্যাক্সি কাকাকে ছেড়ে দিছিলাম। তাই এবার আরেকটা ট্যাক্সি ভাড়া করে হোটেল এর পথে রওয়ানা । হোটেলে আসলাম ১১.৩০ বা ৫ মিনিট আগে পরে। হোটেল এর রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে আবার পছন্দের বিরিয়ানি খেয়ে ,ক্লান্ত শরীর টানতে টানতে বিছানায় নিয়ে গেলাম। পরের দিন ভ্রমন পরিকল্পনা রাজস্থান ! সেই সপ্নে বিভোর হয়ে ঘুম………
এখনে জেনে রাখা ভাল।১. আগ্রায় সব কিছু দামি। হোটেল থেকে শুরু করে যানবাহন  এমনকি জামা কাপড়ও .২. আপনি গেলে কখনই ট্যাক্সি দিন অনুযায়ী ভাড়া করবেন না। আমি একদিনের জন্য নিলেও ঘুরা বেশি হয় নি । কারন তাজমহল  আর আগ্রা দুর্গ এক জায়গায়। আর একদিনে আপনি এই দুই জায়গার বেশি দেখতে পারবে না, আর যদিও দেখেন সেটাকে আমি বলব দৌড় যাপ ,ঘোরাফেরা আর হোল কই? আগ্রায় ভুলেও হোটেল আগে বুক করবেন না। ১০০০-১৫০০ বেশি রাখতে পারে! ট্যাক্সির ক্ষেত্রেও তাই। জামা কাপড় না কেনাটা শ্রেয় .৩. আগ্রায় যাওয়ার ক্ষেত্রে আপনি আগের দিন রাতের বাসে আসবেন এর ফলে সকালে আসলেন  আগ্রায় ফলে সারা দিন পাবেন। সকালের ট্রেনে আসলে কখনই সিট পওয়ার আশা করবেন না। প্রচুর ভিড় থাকে। আমি একটা পেয়েছিলাম( বাংলাদেশি ত ্‌চাপাচাপির মধ্যে সামলিয়ে নিতে পারি ) কিন্তু অনেক মানুষ দাড়িয়ে এসেছে। ৪. আগ্রায় তাজমহল থেকেও আগ্রা দুর্গের জন্য বেশি সময় বরাদ্দ রাখুন। ৫.আমি তাজমহলে ঢুকে ছিলাম ভারতীয় সেজে,এই ভুলটা কখনই করবেন না। আমি বেচে গেছি কিন্তু আপনি ধরা খাবেন না  তার কোন নিশ্চয়তা নাই। আর ধরতে পারলে মোটা অংকের টাকা জরিমানা সাথে আপনার জেল হওয়ায় সম্ভাবনা আছে যা আমি পরে জেনেছি। জানলে কখনই ঢুকতাম না.৬. টিকিটের সাথে আপনাকে একজন লোক ফ্রি দেওয়া হবে গাইড হিসেবে ,ভুলেও  সাথে নিবেন না। ফ্রি ঠিকি ,দিন শেষে আপনার ৫০০ রুপির উপরে দিতে হবে এটা চা্ -নাস্তা খেতে। দূর দেশের দাদাদের নিয়ম মান্তেই হয়। আমি নেই নি,কারন একা ঘুরতে বরাবর ভালবাসি ।

আশা করি ৪র্থ দিন অর্থাৎ রাজস্থান ট্যুর সম্পর্কে জানতে সাথে থাকবেন।
(চলবে)

About The Author
FAHAD BIN HUSNE ALI
FAHAD BIN HUSNE ALI
Like to Travel a lot.Fond of travel writing.i am a part time poet.Student of diploma in computer .

You must log in to post a comment