Now Reading
নগর বাউলের বাউল গিরি – গুরু জেমস



নগর বাউলের বাউল গিরি – গুরু জেমস

বাংলাদেশে যে কয়টি বিখ্যাত ব্যান্ড দল আছে তাদের মধ্যে অন্যতম হল নগর বাউল । আচ্ছা আপনি আপনার পছন্দের জন্য কত টুকু ত্যাগ করবেন ? এমন প্রশ্ন করলে বলবেন আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো । আর সেই কাজ যদি আপনার ফ্যামিলি কেউ পছন্দ না করে তখন ? তখন আপনার ক্ষেত্রে প্রায় উত্তর আসবে , কিছু করার থাকবে না ফ্যামিলি এর কথা মেনে নিতে হবে । ঠিক ব্যান্ড গুরু নাম খেত জেমস তিনি তার কাজের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করেছেন । তিনি গানের প্রতি এতো পরিমাণ পাগল ছিল যে , গানের জন্য ঘর ছেড়ে দিয়েছে ।

তার বাবা ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান । খুব নামীদামী লোক । তার ছেলে গান শিখে বেড়াবে , তিনি তা পছন্দ করতেন না । পরিবার থেকে একদম সাপোর্ট পাননি জেমস । কিন্তু নিজের ভালোবাসা কে ত্যাগ করতে পারবেন না জেনে তিনি ঘর থেকে পালিয়ে যান স্কুল পড়ুয়া বয়সে । জন্ম সূত্রে নওগাঁ এর ছেলে হলেও বাবার কাজের জন্য তাদের থাকতে হয়েছে চট্টগ্রামে । তার শৈশব কেটেছে চট্টগ্রামে । তিনি পালিয়ে চলে আসেন আজিজ বোর্ডিং এ । মূলত আজিজ বোর্ডিং ছিল জেমস এর আস্তানা মানে জেমস এখান থেকে হয়ে উঠে জেমস । তারা সংগীত যাত্রা শুরু ১৯৮৬ সালের দিকে । ঘর থেকে পালিয়ে আসার পর তিনি গান গেয়ে বেড়াতেন আগ্রাবাদের কিছু নাইট ক্লাবে ।

খুব ভালো ভোকাল ছিল , সেই সাথে খুব ভালো গিটার ও বাজাতেন । সেই সুবাদে অল্প দিনের মধ্যে তার নাম ছড়িয়ে পরে । সর্ব প্রথম তিনি চোখে পড়েন ফিলিংস ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা পাবলো । এই ব্যান্ড থেকে জেমস এর হাতেখড়ি । পাবলো তাকে নিয়ে আসে তার ব্যান্ড দলে । সেখানে তিনি মাঝে মাঝে ভোকাল দিতেন আর প্রায় সময় মেইন গিটারিস্ট ছিলেন । তাদের সাথে তিনি প্র্যাকটিস করতেন । তাদের সবার থাকা খাওয়া ছিল ওই আজিজ বোর্ডিং এ । জেমস এর মূলত দল থেকে নিজের প্রতি ফোকাস ছিল বেশি । মানে তিনি এক তার নাম করতে চান , কোনো দলের সাথে থেকে নিজেকে পরিচিত করতে চান না । এমন মানসিকতার কারণে তিনি চলে আসেন ঢাকা ।

চট্টগ্রামে ফিলিংস ব্যান্ডের সাথে থাকা কালীন কিছু ইংলিশ গান কভার করতেন । কিন্তু তিনি দেখতে পেলেন ইংলিশ গান মানুষ তেমন একটা পছন্দ করছে না । তখন তিনি ঢাকায় এসে শুরু করেন নিজের একক বাংলা গান । ১৯৮৬ সালে ঢাকায় এসে তিনি তার জীবনের প্রথম অ্যালবাম বের করেন । প্রথম অ্যালবাম এর নাম ছিল ‘ স্টেশন রোড ‘ । তেমন সারা ফেলতে পারেননি প্রথম অ্যালবাম এর মাধ্যমে । পরের বছর তিনি আবার অ্যালবাম বের করেন ‘ অনন্যা ‘ । এই গানের মাধ্যমে নিজের জাত চিনতে ভুল করেনি তিনি ।এই অ্যালবাম এর প্রতিটি গান সুপার হিট হয়েছিল । জেল থেকে বলছি দিয়ে তিনি চলে আসেন লেম লাইটে । এর পর আর তাকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি ।

তিনি গানের জগতে যেমন ছিলেন সমালোচিত ঠিক তেমনি ব্যক্তিগত জীবনেও ছিলেন সমালোচিত । ১৯৯২ সালের দিকে প্রেম করে বিয়ে করেন এক মডেল কন্যা কে । কিন্তু বিয়ে বেশি দিন স্থায়ী হয়নি । ২০০১ সালে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে ।
তার গান নিয়ে অনেক শিল্পী প্রশ্ন তোলেন । বিশেষ করে তার গান গাওয়ার ধরণ নিয়ে । তিনি এই সমালোচনার জবাব দেন কবি শামসুর রহমান এর কবিতা কে গানে রূপান্তরিত করে । সুন্দরী প্রিয়তমা আমার এই কবিতাকে গানে রূপান্তরিত করে আলোচনায় আসেন । গানটা সেই আমল থেকে আজ ও জনপ্রিয় । তার পর তিনি বের করেন আমি তারায় তারায় রটিয়ে দিবো তুমি আমার । এই গানটা এতটা জনপ্রিয় হয় যে প্রতিটা দোকানে , অলি গলি তে , সবার মুখে শোনা যাচ্ছিলো ।

তিনি যত না বেশি গান গেয়েছেন তার থেকে তিনি কনসার্ট করেছেন অনেক বেশি।তিনি ৯০ এর দশকে মূলত কনসার্ট কে তুলে আনেন বাংলাদেশে । তখন অ্যালবাম আর কনসার্ট এর ছিল রুপালি যুগ । তিনি মা গান দিয়ে কাঁদিয়েছেন অনেক শ্রোতাকে । শুধু মা কে নিয়ে নয় তিনি বাবা কে নিয়েও গান করেছেন । তার গানে মাধ্যমে যে আবেদন , তা নাড়া দিয়েছে অনেককে । তার অভিব্যক্তি ফুটে উঠত গানের মাধ্যমে ।

তিনি তার গান দিয়ে শুধু দেশের গণ্ডির মধ্যে সীমা বন্ধ থাকেন নি । তিনি আমাদের দেশে যেমন গান গেয়ে জনপ্রিয় হয়েছেন । ঠিক পাশের দেশেও তিনি উজ্জ্বল করেছে তার নাম , সেই সাথে বাংলাদেশের নাম ও । তিনি দুই বাংলায় ছিলেন সমান জনপ্রিয় । শুধ বাংলা নয় তিনি গান গেয়েছেন ভিন্ন ভাষায় । বলিউড মুভির জন্য গান গেয়ে জাত চিনিয়েছেন ।

জেমস এর সবচেয়ে বড় কষ্ট তার এই সাফল্য দেখে যেতে পারেনি তার মা বাবা । তার আগেই তারা পাড়ি জমান পরলোকে । তার বাবার জন্য তিনি একটি গান উৎসর্গ করতেন । বাবা কত দিন কত দিন দেখি না তোমায় । কেউ বলে নাকো মানিক বুকে আয় । নিজে যেমন কেঁদেছে এই গান গেয়ে ঠিক কাঁদিয়েছে হাজারো শ্রোতাকে । তার প্রতিটা গান ছিল শ্রুতি মধুর আর হৃদয়ে ছুঁয়ে গিয়েছে শ্রোতাদের ।

About The Author
Rohit Khan fzs
Rohit Khan fzs
বি.এস.সি করছি ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং। লিখতে ভালবাসি। নতুন নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হতে পছন্দ করি।

You must log in to post a comment