Now Reading
ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে আসলো বাংলার বাঘ



ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে আসলো বাংলার বাঘ

মিরাকল মনে হয় একেই বলে । তা না হলে কিভাবে একটা দল ৪৪ রানে ৪ উইকেট থেকে উঠে এসে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় ? আসলে কথায় আছে ক্রিকেট গোল বলের খেলা , যেকোনো সময় যেকোনো কিছু ঘটতে পারে ।
বাংলাদেশের জয়টি ছিল প্রায় অবিশ্বাস জয় । হেরে যাওয়া ম্যাচ বের করে এনেছে বাংলার দুই বাঘ মাহমুদউল্লাহ ও বিশ্বের এক নাম্বার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান । অসাধারণ খেলেছে তারা দুই জন । দুই জনই ১০০ রান করে নিয়েছে ।

টসে জিতে নিউজিল্যান্ড ব্যাটিং এ আসে । বাংলাদেশের সামনে তখন কঠিন সমীকরণ । হেরে গেলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় । আর জিতলে টিকে থাকবে আর তাকিয়ে থাকতে হবে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচের দিকে । এমন সমীকরণ মাথায় নিতে খেলতে নাম বাংলাদেশ দল । শুরু আগে হানা দিলো বৃষ্টি । বাংলাদেশ দলের জন্য প্রথম ধাক্কা ছিল । সেই ধাক্কা পিছনে ফেলে খেলা শুরু হয় । যথারীতি বাংলাদেশ দলের স্ট্রাইক বোলার মাশরাফি বল করতে আসেন । তিনি খুব কম রান দিচ্ছিলেন । কিন্তু মাশরাফির বিপরীত কাজ করছিলো মুস্তাফিজ । তিনি কোনো মতেই তার রিদম খুঁজে পাচ্ছিলো না । যার ফলে রান দিচ্ছে প্রচুর । তার জায়গার প্রথম বারের মত ডাক পাওয়া তাসকিন বল করতে আসেন । প্রথম ওভার নিজের গতি দিয়ে ব্যাটসম্যানদের কে বেঁধে রাখেন , হামলা দেন তার ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ওভারে । তাসকিনের বল সামনে এসে ব্যাট উপরের দিকে করে খেলতে যান তিনি । কিন্তু টাইমিং ঠিক না থাকার কারণে মিড অনের দিকে চলে যায় বল । সেখানে প্রস্তুত ছিলেন ফিজ । সহজ ক্যাচ তালু বন্ধী করেন তিনি । লুক ব্যক্তিগত ৩০ রান আর দলীয় ৪৬ রানে ফিরে যায় । প্রথম ১০ ওভারে তারা অনেকটা রান দিয়েছে । যা দেখে অনেকে ভেবে নিউজিল্যান্ড ৩০০ প্লাস রান করবে । কিন্তু তাসকিন , মুস্তাফিজ , মাশরাফি ও সাকিবের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এর কারণে তারা ২৬৫ এর বেশি করতে পারেনি । যখনি নিউজিল্যান্ড বড় পার্টনারশিপ করতে যাবে তখনি আঘাত হানে বোলাররা । ব্যতিক্রম ছিল না রুবেল । এমনিতে নিউজিল্যান্ড এর বিপক্ষের তার রেকর্ড ভালো । দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন রুবেল । মাঝ পিচে পড়ে বল যখন ভিতরে ঢুকবে , তখন ব্যাট চালায় গাপটিল , কিন্তু বল বাক খেয়ে ভেতরে ঢুকে পায়ে আঘাত আনে । এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফিরে যান তিনি । ভালো বল হবার কারণে তাদের রানের চাকা ছিল স্থির । রান তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে ব্যাটসম্যান । যার ফলাফল স্বরূপ রান আউট হতে হয়ে । মোসাদ্দেক এর থ্রো তে স্ট্যাম্পিং করেন সাকিব আল হাসান । সেই সাথে বিদায় নেন উইলিয়ামসন ।
উইলিয়ামসন ফিরে গেলেও অন্য প্রান্তে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিল টেইলার । আবারো তাকে ফিরিয়ে দেন দলের প্রথম উইকেট নিয়ে তাসকিন ।শর্ট ফাইন এ ব্যাট ঘুরিয়ে খেলতে দিয়ে আউট হয়ে যান । সেই সাথে ধীর হয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ড এর রান । শেষের দিকে তারা হুড়া করা খেলতে গিয়ে মোসাদ্দেক হাতে ধরে পড়ে মিডল অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান । শেষের দিকে বাংলাদেশ খুব ভালো বল করার কারণে নিউজিল্যান্ড জ্বলে উঠতে পারেনি । উইকেট শিকারের নাম থেকে মুস্তাফিজ ও বাদ যায়নি । শেষের দিকে খুব সুন্দর ইয়র্কার এর মাধ্যমে ফিরে দেন মিলনকে । ৫০ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ড এর ২৬৫ রান ।

বাংলাদেশ খেলতে নেমে শুরুতে ভুল করে বসেন তামিম ইকবাল । তিনি দলের একমাত্র ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান । সাউদির বলে এলবিডব্লিউ এর ফাঁদে পড়ে যান তিনি । যার ফলে দলের ও নিজের শূন্য রানে ফিরে যান । ক্রিজে নেমে আসেন সাব্বির । কিন্তু তাকে নামিয়ে দলের লাভ হয়নি , বরং দলকে চাপে রেখে আউট হয়ে যান তিনি । খুব বাজে বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান তিনি । সাব্বির এর সময় খুব খারাপ যাচ্ছে । নিজের নামের সাথে সুবিচার করতে পারছেন না তিনি । অন্য দিকে সৌম্য এর উপর ভরসা ছিল বাংলাদেশ দলের । কিন্তু না তিনি ও ব্যর্থ । বাংলাদেশ দলের দুঃসময় তিনিও ফিরে গেলেন খালি হাতে । মাত্র ৩ রান করে ফিরে যান তিনি । ক্রিজে তখন সাকিব আর অন্য প্রান্তে ভরসার নাম মুশফিক । কিন্তু তিনি ও আউট হয়ে গেলেন । আমি নিজেও তখন ভেবে ছিলাম বাংলাদেশ হেরে যাবে । কিন্তু না তা হতে দেননি সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ । ৪৪ রান থেকে দল কে এই দুই জন নিয়ে যায় জয়ের বন্ধরে । খুব সাবধানের সাথে দেখে শুনে খেলেন তারা । তাদের খেলা দেখা আবার জয়ের আশা বুকে বাঁধতে থাকে । সেই সাথে তারা করে ফেলেন রেকর্ড । বাংলাদেশের ইতিহাসে তারা প্রথম তৃতীয় উইকেটে করেন ২০০ রানের জুটি । যা এর আগে কেউ করতে পারেনি বাংলাদেশের হয়ে । একদম জয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে আউট হয়ে যান সাকিব আল হাসান । তখন সাকিবের ১১৪ রান । পর পর দুই বলে দুই চার মেরে তৃতীয় বলে আউট হয়ে যান তিনি । মাঠে শুধু দলের জয়ের পতাকা হাতে নিতে নেমে আসেন মোসাদ্দেক হোসেন । প্রথম বলে চার মেরে দ্বিতীয় বলে দুই রান নেন তিনি । তার পর এক রান নিয়ে মাহমুদউল্লাহ কে ব্যাট করতে পাঠান মোসাদ্দেক । শেষ বলে চার মেরে নিজের শতক পূরণ করেন তিনি । শেষের দিকে মোসাদ্দেক ৪ মেরে খেলা শেষ করে দেন ।

সেই সাথে বাংলাদেশে জিতে যায় । আর টিকে থাকে সেমি ফাইনালের দৌড়ে ।
সাবাস বাংলাদেশ ।

About The Author
Rohit Khan fzs
বি.এস.সি করছি ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং। লিখতে ভালবাসি। নতুন নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হতে পছন্দ করি।
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment