বিদেশী সিনেমা রিভিউ

ঈগলের চোখ!!

 

 

আপনি কি কখনো নিজের Conscious & Sub-Conscious মাইন্ড নিয়ে ভেবেছেন? এটা আসলে কি ? দেখতেই বা কেমন তার আচরণটাই কেমন ? এই বিষয়গুলো একজন লেখকের লেখনীতে যেভাবে ফুটে উঠে তার চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে ধরা দেয় একজন নির্মাতার চোখে বা ক্যামেরায়। আমাদের প্রত্যেকের আচরণে একটা দ্বিস্তরের পর্দা আছে যার একটার সাথে বাহ্যিকতায় সবাই পরিচিত অন্যটার সাথে কেবল নিজেই পরিচিত,অনেক সময় কেউ কেউ এটা ধরতে পারে না। আমরা নিজেই নিজের সাথে সংলাপ করি, প্রলাপ করি নিজেকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাই। এই বিষয়গুলো কেউ আমাদের দেখিয়ে দেয় নয়তো নিজেরা কখনো এর সম্মুখীন হয়।

সিনেমা গুলো হচ্ছে সভ্য সমাজে মানুষের আচরণের দর্পণ এই দর্পণে অনেক সময় নিজের অবিকল প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে। আমরা সবাই কমবেশি সিনেমা দেখি নিজেদের সময় কাটানোর জন্য কিছু কিছু কালজয়ী সিনেমা আছে যা দেখার পর আমরা একটু নড়েচড়ে বসি। কিছু কিছু সিনেমা আছে যা আমরা বহুবার দেখি মনের খোরাক মেটানোর জন্য।

“আমাদের জীবনটা না খুবই কঠিন এর প্রতিটা বাঁকে বাঁকে রয়েছে রহস্যের মোড়, খুব কাছ থেকে দেখলে এর সবটা দেখা যায় না। একে যদি ভাল করে দেখতে হয় তবে অনেকটা উপর থেকে দেখতে হবে যেমন অনেকটা ঈগলের মত করে।”

ঈগল আকাশে উড়ছে ঠিকই কিন্তু তার শ্যোন দৃষ্টি কিন্তু রয়ে যায় নিচে যেখানে সবকিছু তার কাছে পরিস্কার।এমনই একটা সংলাপ ছিল ঈগলের চোখ ছবিতে। বর্তমানে ধুন্ধুমার এ্যাকশন আর বাহারি স্পটে গানের যুগে কিছু ছবি আছে যা আপনাকে পর্দার সামনে আটকে রাখবে করে রাখবে মন্ত্রমুগ্ধ। আপনি যদি  CRIME থ্রিলারের ভক্ত হন তবে এই ছবিটা একবার হলেও দেখবেন কেননা এখানে নায়কোচিত কোন হাবভাব নেই,নেই কোন আইটেম সং। এখানে  শক্তিশালী একটা গল্প আর সুন্দর নির্মাণশৈলী মূলত গল্পের প্রাণ বলা চলে।যা আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে।

মূল গল্পটি প্রখ্যাত উপন্যাসিক শীর্ষেন্দু মুখোপধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেছে অরিন্দম শীল। শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের ব্যানারে প্রযোজিত ছবিটি মূলত সিক্যুয়ালের ২য় ধাপ। আগের পর্বটি ছিল এবার শবর…..

এখানে অভিনয় করেছে শ্বাশত চ্যাটার্জী,জয়া আহসান,পায়েল সরকার,অর্নিবাণ ভট্টাচার্য্ সহ আরো অনেকে ছবির ছোট একটা চরিত্রে রয়েছে পরিচালক অরিন্দম শীল।

কাহিনিসূত্র…..

পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিষাণ (অনিবার্ণ) নিজের জীবনের প্রতি বেশ উদাসীন তার স্ত্রী শিবাঙ্গী (জয়া আহসান) নিজেও একজন ব্যবসায়ী। তাদের ঘরে আশ্রিত শিবাঙ্গীর বান্ধবী নন্দিনি (পায়েল সরকার) আর জাহ্নবী। সিনেমার প্রথম দৃশ্যতে দেখা যায় ঘরে ডাকাত ঢুকেছে আর ডাকাতের কবলে পড়ে মারা যায় আশ্রিত নন্দিনি,একই সাথে শিবাঙ্গী গুরুতর আহত হয়ে কোমায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনার জেরে পুলিশ মামলার তদন্তে নেমেছে যেখানে তারা স্বামী বিষাণকে দোষী প্রমাণ করতে ব্যস্ত।

এই খুনটাকে ওপেন এন্ড শাট মার্ডার কেস বলে চালিয়ে দিলেও সামনে চলে আসে নানা তথ্য যেখানে শিবাঙ্গীর সাথে বিষাণের ডির্ভোস ফাইল করা ছিল।এখানে ডির্ভোসের ক্ষতিপূরণও ছিল বিশাল। এই ক্ষতিপূরণের ঝামেলা থেকে বাঁচতে বিষাণ তার স্ত্রীকে মেরে ফেলতে চাই নি তো! নন্দীনি আর শিবাঙ্গীকে সরিয়ে জাহ্নবীকে নিয়ে বিষাণ নতুন জীবন শুরু করতে চাই এমন বিষয় বা সন্দেহ সামনে চলে আসে।

এই মামলার তদন্তভার ছিল পুলিশের ধুরন্ধর গোয়েন্দা অফিসার শবরের (শাশ্বত চট্টোপধ্যায়) হাতে। নিজে তার পেশার প্রতি এতটা ডেডিকেটেড যে নিজের যে একটা স্বাভাবিক জীবন তা যেন হারাতে বসেছে । একটা সময় মনোবিদের শরণাপন্ন হলে নিজের সমস্যা কথা জানতে পারেন। গোয়েন্দা অফিসার শবরের সমস্যা হলো ওনি নিজের একটা প্রতিচ্ছবি সকল ক্রিমিনালের মাঝে দেখেন যেখানটায় তিনি একজন মানুষের পরিচয়কে বড় করে দেখেন।

এখন একজন পুলিশ যদি অপরাধীকে এভাবে দেখেন তবে তো অপরাধী পার পেয়ে যাবে,তাই না? তবে তিনি কি করে একজন গোয়েন্দা বিভাগের বড় অফিসার হলেন?

তদন্তের স্বার্থে তিনি জানতে পারলেন শিবাঙ্গীর স্বামী বিষাণ মূলত একটা সাব-কনসাস লাইফের মোড়ক নিয়ে বেঁচে আছেন। বিষাণ আসলে একটা উন্মাদ আর অস্বাভাবিক মানুষ যে কিনা নিজের জীবনের উপর কোন কন্ট্রোলই রাখতে পারে না। এক সময়ে নন্দীনির সাথে বিষাণের পরকীয়ার সম্পর্কটার জের ধরে শবরের চোখে শিবাঙ্গী আর জাহ্নবী খুনি। এতসব কিছুর পরও পুলিশ কূল কিনারা করতে পারছে না।

নিজের জীবনের একটা কালো অতীত অধ্যায় যা বিষাণকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে যেটার জের ধরে তার সাথে স্ত্রী শিবাঙ্গীর মনোমালিন্য চলছে বিয়ের পর থেকে ফলাফল ডির্ভোস আর বিশাল টাকার মামলা,মাঝখানে নন্দীনির সাথে এক্সট্রা ম্যারিটিয়াল এ্যাফেয়ার যার কারণে নন্দীনি তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। নিজের ঘরে একটা টিন-এজ মেয়ে জাহ্নবী যাকে কেন্দ্র করে একটা ত্রিমূখী মোড় পেল।ছবিতে বিরতির পূর্বে গল্পের গতি থেমে থেমে আপনাকে খুনীর কাছে নিয়ে যাবে।

এই গল্পে লেখক আর নির্মাতার ভাষা বুঝতে হলে আপনাকে শেষ অব্দি দেখে যেতে হবে। এখানে একটা ক্রাইম থিলারের আদলে পরিচালক মানুষের জীবনবোধের একটা গল্প বলতে চেয়েছেন তার ঢঙে। আমরা আমাদের নিজেদের পারিপার্শ্বিক যে মানুষ সবগুলোকে দেখি তবে তাদের কতটা অবলোকন করতে পারি?

মুখ দেখে যায় চেনা এই টাইপ কথাবার্তা বলি আসলে কি মুখ দেখে কাউকে চেনা যায় ?

ঈগলের চোখ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ২০১৬ সালে আপনি যদি এখনো না দেখে থাকেন তবে অবশ্যই আপনার মাস্ট ওয়াচ লিস্টে রাখতে পারেন। এইটুকু বলতে পারি আইটেম গানের রমরমা এই  ‍যুগে আবহ সঙ্গীতের মূর্ছনায় আপনি গল্পের গতিতে এগিয়ে যাবেন।যা দ্বারা নিজের মানসিক স্বত্তাকে না হয় একটু যাচাই করে নিলেন।

হ্যাভ এ গুড টাইম উইথ মুভি।

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

গেম অফ থ্রোনসঃ S07E01 Review

Mrinmoyi Jahan

The Fate of the Furious রিভিউ

Shahed Hasan

ফরেস্ট গাম্প(শেষ পর্ব)

Farhana Afrose

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy