Now Reading
“ ভারত নাকি দক্ষিণ আফ্রিকা ” সেমিফাইনালে টাইগারের প্রতিপক্ষ কারা….??



“ ভারত নাকি দক্ষিণ আফ্রিকা ” সেমিফাইনালে টাইগারের প্রতিপক্ষ কারা….??

স্বপ্ন এবার সত্যি হলো!

বাংলাদেশ সেমিফাইনালে…..

বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কারা হচ্ছে ?

D/L Method এ ইংল্যান্ডের হাতে অজি বধ বাংলাদেশের স্ব্প্ন পূরণের পালা……..

বার্মিংহামের আকাশে বৃষ্টির আভাস যখন ছিল তখন বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের মনে নানা স্বপ্নের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে। এবার প্রথম বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলতে যাচ্ছে তবে ফাইনাল কেন নয় ? ইংল্যান্ড জিতলেই যে বাংলাদেশ স্বপ্নপূরণ করবে। এখন যদি ম্যাচ ডার্ক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে যায় এমন শংকা কি উড়িয়ে দেয়া যায়। আজকের ম্যাচে এমনটাই এসেছে পরিস্থিতি ম্যাচের প্রায়ই শেষের দিকে… এই নিয়ম যে বড়ই নিষ্ঠুর ক্রিকেটের জন্য।

তবে সব জল্পনা কল্পনার মেঘ উড়িয়ে ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ শুরু হল।টসে জিতে ইংল্যান্ড ফিল্ডিংয়ে যায়।অজি ওপেনারদের দ্রুত রান তোলা ক্রমশ বিপদের কারণ হয়ে আসছিল? মারকুটে ব্যাটসম্যান ফিঞ্চ তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৬তম ফিফটি। অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের সাথে বেশ ভাল এগুচ্ছিল কিন্তু ফিঞ্চ পরে মির্ডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের উপযুক্ত সঙ্গ না পাওয়ায় কোন বড় জুটি হল না। অজি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে স্মিথের ৫৬ আর ট্র্যাভিস হেডের ৭১রানের উপর ভর করে টার্গেট দাঁড়ায় ২৭৮ রানের। ইংল্যান্ডের পক্ষে মার্ক উডের গতি আর আদিল রশিদের ঘূর্ণি বলে দুজনের ঝুলিতে মোট জমা পড়ে আট উইকেট।

২৭৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে মোটেও শুরুটা ভাল হয়নি ইংল্যান্ডের কোন  রান না করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যায় এ্যালেক্স হেলস (০)।জেসন রয় আর জো রুট দুজনে হ্যাজেলউডের বলে বোকা বনেন উইকেট দিয়ে আসে। জো রুট নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি।খেলার এই মুহুর্তে উত্তেজনার পারদ চরমে ক্রিজে আসে ইংল্যান্ড অধিনায়ক মরগান আর এই সময়ের বিধ্বংসী অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। মাঠ আর মাঠের বাইরে দুই জায়গায় আলোচনায় থাকতে পছন্দ করে এই ব্রিটিশ ক্রিকেটার। দুজনের ধীরস্থীর ব্যাটিং নৈপুণ্যে দিয়ে ম্যাচের রঙ পাল্টাতে থাকে। নিজেদের ভুল বোঝাবুঝিতে মরগান রান আউট হয়ে ফিরে যায় ৮৭ রানে। এই সময় ক্রিজে আসে উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান জস বাটলার আপাতত দৌড়ের বাটন তাদের দুজনের  হাতে ছিল।এই ম্যাচের বোলিংয়ে কোন নৈপুণ্যের ছাপ রাখতে না পারলেও বেন স্টোকসের ব্যাট যেন তার হয়ে কথা বলছিল। ৪১ ওভারের ২য় বলে এ্যডাম জাম্পাকে ডীপ কাভারে চার হাঁকিয়ে নিজের শতক পূরণ করেন।

 

আজকের ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে এ্যাশেজের একটা চাপা উত্তাপ থাকবে এটা স্বাভাবিক। এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্ধী দেশের ক্রিকেট মানে সবসময় বাড়তি কিছু তা আমরা ক্রিকেট ভক্তরা সবসময় আঁচ করতে পারি। আট জাতির এই মর্যাদার আসরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খেলতে যাওয়ার পেছনে শুরু থেকে কম নাটকীয়তা ছিল না। ওয়েস্টইন্ডিজকে টপকে র‌্যাংকিংয়ে আটে স্থান করার সুবাদে এখানে সরাসরি খেলার সুযোগ পাই। তখন এই নিয়ে নিন্দুকেরা কম জল ঘোলা করে নি। সুপ্রসন্ন ভাগ্য আর ক্রিকেট পাগল এক জাতির ভালবাসায় বাংলাদেশ দল এখন সমুন্নত অবস্থানে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে ত্রিদেশীয় সিরিজেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে পুরো টিম।অনেকটা ওয়ার্মআপ সিরিজ হলেও বেশ ভালোই লড়েছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ড আর নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে একটা আভাস যেন দিয়ে রেখেছিল। বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের ম্যাচের ড্র হওয়ার পর থেকে একটা তোপে ছিল কেননা তারা যে গ্রুপ অফ ডেথে পড়েছিল । যেখানে এশিয়ার তিন প্রতিপক্ষ অন্য গ্রুপে হলেও বাংলাদেশের গ্রুপ সঙ্গী ছিল কিউইরা,বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া এবং স্বাগতিক ইংল্যান্ড। বিদেশের মাটিতে প্রতিপক্ষও বিদেশী স্বাভাবিক একটা শংকা ছিল। সব জল্পনা কল্পনা উড়িয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিকদের সাথে বুক চিতিয়ে লড়াইটা যেন একটা আগমনী বার্তা ছিল। পরের ম্যাচে অজিদের সাথে বৃষ্টির বাগড়ায় ম্যাচ পন্ড হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি হলে প্রথমবারের মত কোন বিশ্ব আসরে সেমিফাইনাল খেলা হতে একধাপ পিছে বাংলাদেশ এমনটাই পরিস্থিতি দাঁড়ায়। এই রেসে টিকে থাকতে হলে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে হবে এমন কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে গতকালকের ম্যাচে বাংলাদেশ যেন একটা ঐতিহাসিক ম্যাচ খেলে ফেলল। আপনাদের এই ম্যাচের ফলাফল নিশ্চয়ই জানা আছে না থাকার কথা নয়। এদেশের ক্রিকেটকে আরো একবার জাগিয়ে দিয়েছে। কঠিন এক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশীরা কিভাবে চাপকে জয় করে ম্যাচ বের করে এনেছে তা যেন দেখার মত ছিল।

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আর মাহমুদল্লাহ রিয়াদ নিজেদের জাত চিনিয়েছে আরো একবার। এই জয়ের ফলাফল নিয়ে নিন্দুকেরাও প্রশংসা করতে কার্পণ্য করে নি। কার্ডিফ বরাবরের মতো বাংলাদেশের জন্য পোয়াবারো একটা মাঠ এখানে জয়টা যেন বাংলাদেশের জন্য নতুন একটা ধাপে এগিয়ে যাওয়ার সিড়ি। প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারানো আর কালকের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ধরাশায়ী করা দুটোই যেন রুপকথাকে হার মানায়। এবার তো গেল বাংলাদেশের টুর্নামেন্টের গ্রুপের হিসাব নিকাশ যার অনেকটা নিশ্চিত আজকের ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের উপর। দর্শকরা আজ অজিদের বধ হোক ব্রিটিশের হাতে এমনটাই বাংলাদেশের ভক্তদের বাসনা।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকে দর্শকদের মনে একটা গোপণ হিসাব নিকাশ ছিল বাংলাদেশ যদি আটজাতি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলে তবে কে হবে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ? এরকম একটা প্রশ্নের বিচারে ধরে নিলে বাংলাদেশের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা,ভারত নয়তো পাকিস্তান বা শ্রীলংকা দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। এখন যদি দক্ষিণ আফ্রিকা চোক করবে এটা ধরে নিই তবে থাকবে শ্রীলংকা ভারত নয়তো পাকিস্তান !

এখন যা পরিস্থিতি তাতে শ্রীলংকা পাকিস্তানের ম্যাচ হতে ছিটকে যাবে যেকোন এক দল তাতে নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে ভারত নয়তো দক্ষিণ আফ্রিকা !!

বি গ্রুপে ভারতের একক আধিপত্য ধরে নিয়ে হিসাব নিকাশ গড়ালেও শ্রীলংকার কাছে ম্যাচ হেরে অনেকটা ব্যাকফুটে চলে যায় ভারত। আনকোরা শ্রীলংকা পুরো পাশার ছকটা যেন পাল্টে দিয়েছে যাতে করে মূলত টুর্নামেন্টটাই উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। প্রতিটা ম্যাচের ফলাফলই নয় পরের ম্যাচে কি হচ্ছে তার জন্য মুখিয়ে থাকতে হচ্ছে দর্শককে। এই টুর্নামেন্টে “এ” গ্রুপের ম্যাচে আরো একটা প্রতিপক্ষ দল ছিল তা হল ইংল্যান্ডের অনাকাঙ্খিত বৃষ্টির বাগড়া দেয়াটা।

সম্প্রতি এশিয়ার উদীয়মান পরাশক্তি হিসেবে আর্ন্তজাতিক টুর্নামেন্টে ভারতের সাথে বাংলাদেশের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দুই দেশের ক্রিকেট ভক্তের মাঝে একটা দ্বৈরথ যেন সৃষ্টি করেছে। এটা বর্তমান সময়ে উপভোগ্য বটে ।এই দ্বৈরথ মূলত ২০০৭ সালে বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হতে ছিটকে দেয়ার পর থেকে শুরু হয়েছে।

Once More……..

BE AWARE  Team India & South Africa

TIGERS Are Roaring…..

 

About The Author
Rajib Rudra
Rajib Rudra
2 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment