Now Reading
অস্ট্রেলিয়ার বিদায় , সেমিতে বাংলাদেশ !



অস্ট্রেলিয়ার বিদায় , সেমিতে বাংলাদেশ !

আজ ১৬ কোটি মানুষের চোখ ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের দিকে । সবাই মনে প্রাণে দোয়া করছে ইংল্যান্ড যেন জিতে যায় । ইংল্যান্ড জিতে গেলে বাংলাদেশের সেমি ফাইনাল নিশ্চিত । আর যদি বৃষ্টি ও আসে তবুও বাংলাদেশের সেমি ফাইনালে খেলা নিশ্চিত । গত কালের অসাধারণ এক ম্যাচ জিতে সেমি ফাইনালের যাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রেখেছ ।

এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে অভাগা দল অস্ট্রেলিয়া কে বলতে হয় । প্রথম ম্যাচ নিউজিল্যান্ড এর সাথে ১ পয়েন্ট ভাগ ভাগি করে নিতে হয় বৃষ্টির জন্য । সেই বৃষ্টি আবার হানা দিলো বাংলাদেশ দলের সাথে ম্যাচের সময় । সেই সুবাদে এবারো তারা পয়েন্ট ভাগ ভাগি করে নিতে হয় । আজকের ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে আসে অস্ট্রেলিয়া । আগের দুই ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার কারণে এই ম্যাচ ছিল তাদের জন্য বাঁচা মরার লড়াই । শুরু থেকে অস্ট্রেলিয়া চাপে ছিল । উড ৭ তম ওভারে বল করতে আসেন ।ওভারের ২য় বলে ফিরে যান ওয়ার্নার । যখন হাত খুলে খেলতে যাবেন তখনি আউট হয়ে যান তিনি । আউট সাইডের বল এজ হয়ে যায় , সেই সাথে বলকে তালু বন্দি করতে ভুল করেনি বাটলার । ব্যক্তিগত ২১ রান ও দলীয় ৪০ রানের মাথায় হারায় ওয়ার্নার কে । সাময়িক ধাক্কা থেকে উঠে আসে অস্ট্রেলিয়া । মাঠে তখন নেমে আসেন স্মিথ । ক্রিজে থাকে ফিঞ্চের সাথে গড়ে তোলেন অসাধারণ জুটি । তারা দুই জন মিলে করেন ৯৬ রানের এক অনবদ্ধ রান । যার ফলে অস্ট্রেলিয়া এগোতে থাকে বড় সংগ্রহের দিকে ।তখনি তাদের জুটি কে ভেঙে দেন স্টোকস । নিজের ক্যারিয়ারের ৫০ তম উইকেটটি তুলে নেন ফিঞ্চ কে আউট করে । মিড অফ এর দিকে ব্যাট উঁচু করে খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন অধিনায়ক মরগ্যান এর হাতে । কভার থেকে দৌড়ে এসে ক্যাচ লুফে নেন তিনি । ফিঞ্চ এর তখন ৬৮ রান । তার দুই জন দলকে সুবিধা মতো জায়গায় নিয়ে আসে । যেভাবে দল এগিয়ে যাচ্ছিলো মনে হচ্ছিলো তাদের মোট রান ৩০০ ছাড়িয়ে যাবে । কিন্তু ইংল্যান্ড এর নিয়ন্ত্রিত বোলিং এর কারণে পারেনি । বরং দলীয় ১৬৩ রানের মাথায় আউট হয়ে যান হেনরিকেস । রাশিদ খুব ভালো একটি বলে তিনি আউট হয়ে যান । রাশিদ এর গুগলি বল তিনি বুঝে উঠতে পারেননি । বড় শর্ট খেলতে গিয়ে বল ব্যাটের উপরে লেগে মিড অন এর দিকে চলে যায় । আর এই সহজ ক্যাচ ধরেন প্লাঙ্কেট । এই বিপদের সময় দলকে আরো বিপদে রেখে ফিরে যান স্মিথ । উড এর স্ট্যাম্প এর বাহিরের বল ড্রাইভ খেলতে গিয়ে কভার ড্রাইভে আউট হয়ে যান তিনি । দলের এই মুহূর্তে তার দরকার ছিল , যেন দলকে আরো বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যেতে পারে কিন্তু তিনি তার দায়িত্বে সফল ভাবে পালন করতে পারেননি । দলের তখন ১৮১ রানে ৪ উইকেট । এমন অবস্থায় মাঠে নামেন ম্যাক্সওয়েল । হেড কে নিয়ে খুব ভালো খেলছিলেন ম্যাক্সওয়েল । কিন্তু আবারও উড আঘাত হানে অস্ট্রেলিয়ার দলে। উড এর বল পুল করে দেন তিনি । ছয় হয়ে যাবে ঠিক এমন অবস্থা বলকে তালু বন্দি করেন রয় । সেই সাথে থেমে যায় অস্ট্রেলিয়ার রানের চাকা । উড এর পরের ওভারে বল করতে আসেন রাশিদ । এক ওভারে দুই উইকেট তুলে নেন তিনি ।দুই ব্যাটসম্যান প্রায় একই শর্ট খেলতে গিয়ে আউট হয়ে যান । রশিদের গুগলি তাদের জন্য মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায় । এর পর আর কেউ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে । আসা যাওয়া মিছিলের মধ্যে । শুধু শেষের দিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত ৭১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে এনে দেয় সুবিধা জনক স্থানে । অস্ট্রেলিয়ার তখন ২৭৭ রান ।

ইংল্যান্ড এর জন্য ২৭৭ রান যে বিশাল না তা খেলতে নেমে প্রথম বলে প্রমাণ করে দেন রয় । প্রথম বলে ৪ মেরে শুরু করেন । কিন্তু তখন ইংল্যান্ডের আকাশে মেঘ সরে যায়নি । প্রথম ওভারের ২য় বলে স্ট্রেস এর বলে ফিরে যান রয় । এলবিডব্লিউ এর ফাঁদে পড়েন তিনি । পরের ওভারে আবার আঘাত হানে হাজলেউড । দলীয় ৬ রানে নেই ইংল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যান । অফ স্ট্যাম্পের বাহিরের বল হুক করতে যান তিনি , কিন্তু টাইমিং ঠিক না থাকার কারণে এজ হয়ে ফিরে যান তিনি । দল তখন ভীষণ চাপে । এর থেকেও বেশি চাপে মনে হয় বাংলাদেশের দর্শক ।ইংল্যান্ডের হারের সাথে সাথে বিদায় নিবে বাংলাদেশ । এই শঙ্কা যেন আরো প্রকট করে তোলে ৰূট । দলীয় ৩৩ রানে নেই ইংল্যান্ডের উপরের সারির তিন ব্যাটসম্যান ।

এর পর শুরু হয় মরগ্যান আর স্টোকস এর খেলা । তাদের ব্যাটিং এ ভর করে ইংল্যান্ড পেয়ে যায় জয়ের সুবাস । তারা ৩৩ রান থেকে টেনে নিয়ে যায় ১৯৫ রান পর্যন্ত । এই নিরবিচ্ছন্ন রানের সুবাদে ইংল্যান্ডের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় । আর সেই সাথে বাংলাদেশের সেমি ফাইনালে খেলাও অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় । মরগ্যান তার ব্যক্তিগত ৮৭ রানে ফিরে যান । অপর প্রান্ত ধরে রাখেন স্টোক । মাঠে নাম বাটলার । বাটলার কে নিয়ে আবার নতুন পার্টনারশিপ করেন স্টোক । দলীয় ২৪০ রানে হানা দেয় বৃষ্টি । কিন্তু তখন ইংল্যান্ড এর জয় প্রায় নিশ্চিত । ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে অস্ট্রেলিয়া কে হারায় ৪০ রানে ।

আর সেই সুবাদে বাংলাদেশ উঠে যায় সেমি ফাইনালে । গ্রুপ ‘এ’ থেকে খেলবে ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশ । দীর্ঘ ১১ বছর পর বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তে ফিরে সুযোগ পেয়ে গেলো সেমি ফাইনালে ।

বাংলাদেশের জন্য রইলো শুভ কামনা । সেই সাথে ইংল্যান্ড দলকেও জানাই অভিনন্দন ।

About The Author
Rohit Khan fzs
Rohit Khan fzs
বি.এস.সি করছি ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং। লিখতে ভালবাসি। নতুন নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হতে পছন্দ করি।
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment