Now Reading
সাকিব রিয়াদের কানামাছি!



সাকিব রিয়াদের কানামাছি!

“ক্রিকেট বিশ্ব শুনলো আবারো বাংলার বাঘের হুংকার”
ইন্ডিয়ানদের সাথে যখন বাংলার টাইগারদের খেলায় একটু বেহাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো, তখন প্রশ্নের ঝড় শুধু বাংলার এগারো টাইগারের বুকে বাঁধে নি ব্যাথার মৌচাক, বেধে ছিলো বাংলার ক্রিকেটের ভক্তদের বুকে। ইন্ডিয়ানদের কথা বলে কি হবে, ওরা বরাবর একটু বেশি ই জল ঘোলা করতে ভালোবাসে।
সেই ব্যাথার ই জ্বালা থেকে বাংলার টাইগার দের কাছ থেকে এক জাগ্রত হুঙ্কার শুনলো অস্টেলিয়ান রা। হয় তো সেই দিন ই অনেক এ বুঝতে পেরেছিলেন বাংলার বাঘ ক্ষেপেছে।
জয় পাওয়ার তৃপ্ত বাসনার কারনে ই বাংলার বাঘের কাছ থেকে এই বার রেহাই পেলো না নিউজিল্যান্ড । খেলা শুরু হওয়ার আগেই কার্ডিফে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকলেও, ক্রিকেটের আবহাওয়া ছিলো বেশ গরম।

আরো বেশি গরম হয়ে গেলো, যখন কিউই এর অধিনায়ক টস এ জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন। যদি ও বাংলাদেশের টাইগারদের অধিনায়ক মারশাফি জানিয়েছিলেন তিনি টস এ জিতলে অবশ্যই বোলিং নিতেন।

কে ই বা জানে, কেন ই বা, কিউই অধিনায়ক ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। হয় তো হতে পারে উইকেট তার কাছে শুকনো মনে হয়েছিলো।
তাই তিনি আগে বাগে ইঁদুর দৌড় দিতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু, বাংলার বাঘদের কাছ থেকে অতো সহজে রেহাই পাওয়া যাবে না। তা নিউজিল্যান্ড এর প্রথম উইকেট গোল্লায় যাওয়ার পর ই বুঝতে পারে।
মারশাফির সেই অসাধারণ নেতৃত্ব। বাংলার নেতা তো তাই আগে থেকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন। তাই তো সময়ের প্রয়োজনে ইমরুল ও মেহেদী কে একাদশ এর বাহিরে রেখেছিল। বাংলার কোপ মারার জন্য দলে নিয়ে এসেছিলো তাসকিন ও তরুন মোসাদ্দেক কে।
বাংলার বোলিং আর কিউই দের ব্যাটিং। প্রথম থেকেই ঠিক কসেই ধরে বসেছিলো বাংলাদেশী বোলারা।
বাংলাদেশী বোলারা মনে হয় কিউই দের একেবারে পাই টু পাই হিসাব করে। রান দিচ্ছিলো। শুধু কি রানে হিসাব করলে হয়, তাইতো এই বার শুরু হলো উইকেট এর হিসাব। তাসকিন এর দুই আংগুলের বাকা বলে কেড়ে নেয় কিউই দের প্রানঘাতি দুইটি মূল্যবান উইকেট। তখন ই মনে হচ্ছিলো মারশাফির ভাবা ভুল নয়। তারপর তার পুরোপুরি প্রমাণ করে দেয়, তরুন বোলার মোসাদ্দেক। এদিকে রুবেলের গতির কাছে কিউই দের হাল হয়ে উঠলো বেগতি। তাই রুবেলের গতি কাছে হার মানলো গাপটিল।রিভিউ নিলো কিন্তু কোন কাজই হলো না। তাসকিনের মতো এবার রুবেলেও দ্বিতীয় ওভারে উইকেট মিললো।
ফাইন লেগ থেকে রান চুরি করতে গিয়ে এবার সুবিধা করতে পারলো না কিউই এর অধিনায়ক। হয়ে গেলো রান আউট। মারশাফির এইবার এনলো তার অন্যতম হাতিয়ার মোসাদ্দেকে। তার অসাধারণ বোলিং এ কিউই রা পেলো একজোড়া ধাক্কা। ফলে ‘এজ’ বল উড়িয়ে দিল ব্যাকওয়াডর্র পয়েন্টে, আর ঠিক সময় ঠান্ডা মাথায় ক্যাচ নিলো তামিম। নামলেন
অ্যান্ডারসন, আরেকটি ভুল। সামনে পা বারিয়ে খেলতে বোল ঢুকে গেলো ভিতরে, প্যাড এ লাগলো, এলবিডাব্লিউ হয়ে চলেই যাচ্ছিলো। কিউই রা নিলো রিভিউ, কিন্তু কোন লাভ হলো না।
আবারো মোসাদ্দেক এর বোলিং আর মুশফিকুর এর গ্লাভস এর যাদু এক হয়ে করলো এক অন্যরকম মীরাকেল। ফলে হয়ে গেলো নিশাম এর পতন আর সেই সাথে সাথে ই গোল্লায় গেলো কিউই দের আর একটি উইকেট। এবার বুঝি বাকি ছিলো মুস্তাফিজের স্লোয়ার এর ঝলক দেখানোর। তাহলে শুভ কাজে দেরি কেন? বোলিং করলো মুস্তাফিজ, বোল সোজা দুই পায়ের মাঝখান দিয়ে একেবারে মামা বাড়ি যা বোল্ড। এর ই মাঝে বাংলা বোলার দের হাতে নাস্তানা ভূত হয়ে ২৬৫ রানে ই আটকে গিয়ে নিউজিল্যান্ড এর খেলার পরি সমাপ্তি ঘটে।

বাংলার বোলিং এর বোল কড়া যাদু সবাই দেখলেন।
এইবার পালা, বাংলার ব্যাটসম্যানদের ব্যাট এর যাদু দেখনোর।

নামলো তামিম বেশ বড় আশায় বুক বাধছিলো বাংলাদেশ। অবশ্যই বাধার ই কথা।কারণ, বিগত, দুই ম্যাচের স্কোরকার্ড বলছিলো তাই। কিন্তু তামিমের ভুল লাইনে খেলার জন্য দিতে হলো কড়া দাম। ডাক মারলো তামিম। মনে হলো এইটা তামিমের ডাক ছিলো না, ১৬ কোটি মানুষ এর কলিজা টা শূন্য হয়ে গেলো। যাই হোক মাঠে সাব্বির, কিন্তু হলো না, সাউদির গুড লেনথের বলে শিকার হলো সাব্বির। এলো সৌম্য সরকার, পা পিছনে দিয়ে খেলতে গেলো কিন্তু সাউদির গুডলেংথি ডেলিভারি সেই সুযোগ দিলো না, বোল গিয়ে লাগলো
আর তাতেই সৌম্য কাবু। বাস কি? ১২ রানে ৩ উইকেট এর পতন। ততক্ষনে অনেকেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাণী বলার কাজে লেগে গেলো। এই বার নামো মুশফিকুর। মুশফিকুর এর ব্যাট থেকে দুর্দান্ত এক চার। ও এতোক্ষনে একটু শান্তি লাগতে শুরু করলো, কিন্তু, কপালে সুখ সইলো না। মিলনের বোলিং এর সুইং, হয়ে গেলো মুশফিকুর এর উইকেট এর চুইং।

৩৩ রানে যখন বাংলাদেশের ৪ উইকেট এর পতন, তখন বেশিরভাগ লোক ই বলছিলো এবার বুঝি আর শেষ রক্ষা হলো না। ততক্ষণে বাংলাদেশ হারবে ভেবে খেলা দেখা ছেড়ে দিয়েছিলো আপনার মতো অনেক ই। আর তখন বাংলাদেশকে কমেন্ট্রি থেকে তো বাংলাওয়াশ দিচ্ছিলো ই। আর এই সুন্দর সুযোগ কোন ভাবেই মিস করতেছিলো না, ধারাভাষ্যকার সৌরভ গাংগুলি।
হয়তো এর ই উপযুক্ত জবাবের জন্য আবার আসলো এশিয়া কাপের সেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আরে এসেই দিলো বাংলার বাঘের হুংকার, নিশাম এর বোল কে দিলো উড়িয়ে দিলো স্কয়ার লেগ এ, কেল্লাফতে “ছয়”। এই ইনিংস এ বাংলাদেশের প্রথম ছয়। তার পরের বলেই মারলো চার’। আশা এখনো ফুরাই নাই, ইতিহাস অনেক বাকি। এই রকম এক বাতা নিয়ে ই বুঝি বাংলার এই বাঘ মাঠে নেমেছিলো।

২৩ তম ওভারে বাংলাদেশ করলো ১০০ রানের গন্ডি পার। সাকিব আর রিয়াদের ৫০ এর জুটি ও পার করে ফেলেছে দুই বাংলার বাঘ।
৩১ তম ওভারে দুই ক্রিকেট পাগল করে ফেললো শত রানের জুটি। এর ই মধ্য করলো সাকিবের ক্যারিয়ারের ৩৫ তম ফিফটি, সাধারণ ভাবে ফিফটি হলে ব্যাটসম্যানরা ব্যাট প্রদর্শন করে থাকে। কিন্তু, সাকিব তা করলো না, বরং, গ্লাভস চেয়ে পাঠালেন। তখন ই বুঝা হয়ে গিয়াছিলো বাংলার পাগলা এই বার কিউই দের দিবে বাংলার বাশ। তার সাথে সাথে মাহমুদউল্লাহ ও ক্যারিয়ারের ১৮ নম্বর ফিফটি করে ফেললো।

ওরে বাবা কিউই দের আর কতো দৌড় দিবি এইবার ছাড় দে। না বুজি এই বার আর রক্ষা পেলো না, কিউই রা, তাই করে ফেলো আরেক টি রেকড, সাকিব রিয়াদের ১৫০ এর জুটি হয়ে গেলো।
এই বার সাকিব রিয়াদ দুই জন ই বেশ ঝুকি নিয়ে খেলছিলো। আর সাকিব মাঝে মাঝে মুচকি হেসে দিচ্ছিলো। কিউই দের কাঁটা ঘাঁয়ে নুনের ছিটা পড়তাছিলো।
২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম-মুশফিক করেছিলো ১৭৮ রানের জুটি রেকড। কিন্তু, সাকিব-রিয়াদ এইবার সেই রেকড ছাড়িয়ে গেলো ২০০। বাংলাদেশের জুটি রেকড এ এইটা এখন সবচেয়ে বড় রেকর্ড।
২০০ রানে জুটি আবারো কার্ডিফকে দেখিয়ে দিলো বাংলার গর্রজন।

২০৪ বলে সাকিব-রিয়াদের ২০০ রানের জুটির পর, সাকিবের শতক রান করার পালা। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের সাথে শেষ শতক করেছিলেন এই অলরাউন্ডার। এই আবার করলো আজকের ম্যাচ এ। তারপর কি সাকিব ১১৫ বোল এ ১০৪ করে ঘরে ফিরে। তখন পুরো কাডিফ হাতে তালি দিয়ে স্বাগতম জানাচ্ছিলেন এই অলরাউন্ডার কে।

নামলেন মোসাদ্দেক, সেও নেনে কিউই দের নাস্তানাবুদ বানালো। কোন দাম ই পেলো না তার কাছেও নিউজিল্যান্ড এর বোলার রা। তখন মাহমুদউল্লাহ সুযোগ এ ছিলেন তার শতক পুরণ করার। তাই তো চার মেরে তার তৃতীয় শতক পুরন করে ফেললো। তারপর মহান আল্লাহ নামে সিজদায় পরে গেলেন। তারপর তার ব্যাট এর মিডেল এ খালি জায়গায় ইশারা করে বোধ হয় কাওকে দেখিয়ে বলে দিয়েছিলো, এই জায়গায় টায় তোমার নাম লিখে দিবা। খুব বেশি স্টাইলিশ ছিলো না, ছিলো কলিজার সাদা সিধা টান। তার এই ইশারা আসলে কাকে অনুসরন করে করা হয়েছিলো? তা নিয়ে সকলের মাঝেই ছিলো ব্যাপক কৌতূহল। অবশেষে মাহমুদউল্লাহ সেই রহস্য অবসান ঘটালেন”বাবা এই ব্যাট দিয়ে খেলো, তুমি ভালো খেলবে” কথাটি মাহমুদউল্লাহ ৫বছরের ছেলেটি বলছিলো। তখন এই ইশারায় বুজানো হয়েছিলো বাবা এই জায়গায় তোমার নামটা ই লেখবো। ভালো খেলোয়াড় এর সাথে সাথে মাহমুদউল্লাহ যে একজন ভালোবাসাময়ী বাবা তা ও প্রমান হয়ে গেলো।

এর ই মধ্য দিয়ে জিতে গেলো বাংলাদেশ এর বাংলার টাইগার, আর আবারো কাডিফ শুনলো বাঘের হুংকার কেমন হয়? মারশাফির ডাক যেমন হয়।

সাকিব – রিয়াদের জুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লেখা লিখির শেষ নাই। আসলেই জয় টা ছিলো এমন ই না শেষ হওয়ার মতো।
সেলুট মারশাফি আবারো তোমার বাঘের মতো সুচারু সব কৌশলের জন্য। জানি না ফাইনালে তে যাবো কিনা কিন্তু, জানি বাংলাদেশের বাংলার বাঘ দের ভালোবেসে যাবো।

এগিয়ে যাও বাংলার বাঘ…..

About The Author
AH Arman
2 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment