ভ্রমন কাহিনী

ভারত ভ্রমন (জাম্মু+কাশ্মির)

ভারতে সপ্তম দিন আজ । রাজস্থান হোটেল এ ঘুম থেকে উঠলাম ঠিক সকাল  ৪.১৫  তে( রাত বললে ভাল হয়)  লক্ষ্য জয়পুর থেকে দিল্লী ফ্লাইট ৬.০৫ মিনিটে যেতে সময় লাগবে ১ ঘণ্টা ০৫ মিনিট পৌঁছাব ৭ টা ১০ এ,  আবার ০৮ টা ২০ মিনিটে শ্রীনগর অর্থাৎ কাশ্মীর এর ফ্লাইট  দিল্লী থেকে । সামনে ২ টা ফ্লাইট এবং লক্ষ্য যখন কাশ্মীর তখন আমার মত আলসে মানুষও সকালে ঊঠতে পারে । আমি একটু বেশিই আগে উঠেছিলাম । যাইহোক , ঘুম থেকে উঠে বাইরে কুয়াশা দেখে মনটা ভাল হয়ে গেল । এয়ারপোর্ট যেতে হবে রাস্তা দেখি ফাঁকা । দুই একটা বাস যায় । নিরুপায় হয়ে হোটেল থেকে মোটা টাকায় গাড়ি নিতে হল ।(বেশি দামি হোটেল হলে ওরা এয়ারপোর্ট এ দিয়ে+নিয়ে আসে,আমি নরমাল হোটেলে ছিলাম) । এয়ারপোর্ট এ গিয়ে পৌঁছালাম  ৫.৩০ এ । ছোট এয়ারপোর্ট তাই সময় লাগেনি ফেছিলিটি শেষ করতে । যথাসময় প্লেন ছাড়লে পৌঁছে যাই দিল্লী। এক ঘণ্টা পরই আবার ফ্লাইট তাই আর বাইরে গেলাম না । ভিতরে বসেই অপেক্ষা করতে লাগলাম । ৮.২০ এ  ফ্লাইট এর সময়  গেলেও  যাত্রী প্ল্বনে নিচ্ছে না । আমার পাশে  একজন কাশ্মীরী জোয়ান ছেলে বসা ছিল উনি বললেন এমনটা কেন হচ্ছে । আমি উত্তর MY COUNTRY IS WAY BETTER THAN YOURS.( আমার দেশে আসলে হয়ত আমার চাপাটা ধরে ফেলত,তাও দেশকে একটু উপরে নিলাম।) একটা গোলযোগ বেধে গেল । এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ছিল । ওরা সরকারি হওয়ায় একটু গরম বেশি । আমরা একেরপর এক প্রশ্ন করেও জবাব পেলাম না । আমার পাশে বসা জোয়ান ভাই( নাম এজাজ আহমেদ ,এখন আমার খুব ভাল বন্ধু) মুটামুটি মারামারির পর্যায়ে চলে গেছে । আমি আর কি বলব ভিন দেশে চুপ রইলাম । ৫ ঘন্টা পরও কিছু হল না। এর পর আমার মাথা গরম হল এক অফিছার এর কথায় । আমি একটা প্রশ্ন করতেই উনি ধমকের সুরে হিন্দিতে কিছু একটা বললেন যেটা আমার ভাল লাগেনি । আমিও বিদ্রহিরুপ ধারন করলাম যুক্তি সহকারে । সবাই সাপোর্ট দিলে আমিও নেতা হয়ে যাই । আমার বন্ধু এজাজ ত আমার ফ্যান হয়ে যায় (কাশ্মীরের মানুষ গুলো একটু উগ্র মনভাব পছন্দ করে,বিদ্রহ করতে পারলেই আপনি নেতা) ।  তারপর চিফ অফিছার এসে আমাদের ব্রিফ দিলেন যে আবহাওয়া ভাল না থাকায় ফ্লাইট বাতিল( এটা সত্যি কিন্ত ৫ ঘণ্টা আগে বললে সবাই শান্ত থাকত) তারপর আর কি? কালকের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ফিরতি ফ্লাইট  একদিন পিছিয়ে নিয়ে এয়ারপোর্ট ত্যাগ করি আমি আর আমার কাশ্মীরি বন্ধু। বন্ধু  আমাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম সম্পর্কে বললে খুব ভাল লেগেছিল । ও আমায় বলল ওর বাসায় থাকতে ,রাজি হই(টাকার সংকট) । চলে যাই ওর ঘরে কিন্ত কোন কথা না বলে রুম আটকিয়ে ঘুম , অনেক ক্লান্ত । রাতে একবার উঠেছিলাম ভাত খেতে তারপর আবার ঘুম । যাইহোক , অনেক হাঙ্গামা করার পর স্বপ্নের কাশ্মীরের উদ্দেশ্যে পরদিন এয়ারপোর্ট এ যাই। এবার কোন সমস্যা হল না । প্লেনে বসা আছি একটা টিশার্ট পরে( টিশার্ট পরা আছি কেন বললাম পড়তে থাকেন বুজতে পারবেন)সময়ত প্লেন ছাড়ল । অবশেষে আমি কাশ্মীর যাচ্ছি । ফিলিং প্রাউড । ৪৫ মিনিট পর কাশ্মীর সিমানায় আসলাম । প্লেন থেকে ভিউ অমায়িক লাগে, যে কারও ইচ্ছা করবে লাফ দিতে  ঐ সবুজ সর্গে । কিন্ত বেচে  থাকতে হবে, তাই এই কাজটি করবেন না । ত কিছুক্ষণ পর প্লেন ল্যান্ড করলে একটা ঘোষনা শুনলাম , আমরা এখন আছি কাশ্মীর এয়ারপোর্ট এ বাহিরের তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হোয়াট? আমি একটা টিশার্ট পড়া । বাইরে গেলে মরে যাব । তাই ব্যাগ থেকে আমার কোর্ট বের করে পরলাম ভাবলাম শীতের বাপও আমাকে ধরতে পারবে না ।  কিন্ত আমি ভুল ছিলাম বাইরে গিয়ে আমি আরও ৪ টা গেঞ্জি পরিধান করিতে বাধ্য হই। দুপুর ১ টা । এয়ারপোর্ট থেকে নেমে এজাজ এর গাড়ি আসল ,আমাকে ফ্রি লিফট দিলে আমি চরম খুশি । চলে গেলাম পূর্ব বুকিং করা হাউজ নৌকায় । ভাবছেন এটা আবার কি? Houseboat_Trip_alappuzha_Kerala_Backwater_Cruise_Upper_Deck_Inside.jpgএটা এমন একটা হোটেল যেখানে আপনি থাকতে পারবেন,খেতে পাড়বেন কিন্ত ঐটার আকার নৌকার মত আর অবস্থান পানির মধ্যে ।আমি অবাক প্রথমবার দেখে । বেশ ভালই লাগছিল । ভিতরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেই । বিকালে ছোট ছোট নৌকায় ডাল্লেক নামক লেকের মধ্যে ঘুরাঘুরি করি প্রায় ২ ঘণ্টা । বিশাল বড় মানবসৃষ্ট লেক । সন্ধ্যা হলে আবার আমার হোটেল  ও, সরি নৌকায় ফিরে আসি । তখন বিপিএল হচ্ছিল । তাও আবার আমার বরিশালের খেলা । তাই সর্গ সুখ ভুলে গিয়ে খেলায় মন দিলাম( ভারতে প্রচুর মানুষ বিপিএল পছন্দ করে) । রাত হলে ভাত খেয়ে ঘুম দিলাম। আমার রুমে ছিল তাপ দেওয়ার হিটার । আমার বেডের নিচে ছিল হিটার। তাও শীতে মরে যাচ্ছি। বাইরে হয়ত মাইনাস  ডিগ্রি তাপমাত্রা । ঘুম দিয়ে পরের দিন সকালে উঠলাম খুব ভোরে । অসুস্থ হয়ে যাই ঠাণ্ডায় । কিন্ত সকালের প্রকৃতি দেখে অসুখ আর অনুভূত হল না। বেড়িয়ে পরলাম ঘুরতে লক্ষ্য গুল মারগ গোন্ডোলা (Gulmarg Gondola)। জায়গাটা বরফে আচ্ছাদিত । জীবনের প্রথম বরফ দেখলাম শত কিলমিটার বিস্তৃত । আহ্লাদে ১০ খানা । লাফ দিলাম জয় বাঙলা বলে। কিন্ত ঠাণ্ডায় শেষ । এরপর কি যেন একটা যানে উঠলাম ,সেটার  নাম জানি না তবে তারে তারে যায় উপর থেকে, আপনি উঠলে পুরো এরিয়া দেখতে পারবেনgulmarg-gondola2.jpg ।  ঘুরে ফিরে খুদা নিয়ে একটু জনপদে দিয়ে কাশ্মীরের সেরা খাসীর মাংস দিয়ে রুটি  খেলাম পেট পুরে । সুস্বাদু কিন্ত অন্যান্য  তরকারীর চেয়ে বেশ দামি । খাওয়া শেষ হলে একটা ধর্ম স্থানে গেলাম নাম হযরত বাল দরগাহ । বাল শব্দ টা কেমন লাগলেও এই জায়গাটা কিন্তু অনেক পবিত্র । বাল মানে হিন্দিতে চুল । মহানবী (সঃ) চুল সংরক্ষিত আছে এখানে । ভিতরে ঢুকতেই মনটা ভরে গেল। সব কিছু দেখা হয়ে গেলে বাস এ উঠলাম  হোটেলে যাওয়ার জন্য । না আজকে আর নৌকায় না । দালানে উঠব । সন্ধ্যা নেমে আসতেই ঘুম পেল । তাও কষ্ট করে একটু কেনাকাটা করলাম । কাশ্মীরের শীতের বস্ত্র খুব ভাল আর সস্তা । রাত ৮ টা পর্যন্ত বাজারে ঘুরে আর থাকতে পারলাম না । খুব শীত । মনে হবে ১০০ ছুড়ি আপনার মুখমণ্ডল আঘাত করছে । হোটেলে গিয়ে আবার খাসী দিয়ে রুটি  (মজা লাগলে কি আর করার দামি হলেও খেতে হবে)। কাল আমার কাশ্মীর ভ্রমন শেষ । স্বপ্নটা পুরন হওয়ার অনন্দের পাশাপাশি কোস্টও ছিল। প্রতিদিনের মত খুশি মনে নয় । বরং কষ্ট নিয়েই ঘুম।

 

এখানে জেনে রাখা ভাল.১. কাশ্মীরে নিরাপত্তা খুব কড়া। বিমানবন্দরে আপনাকে সেই আকারে চেক করবে, আপনার জামা প্যান্ট খুলে চেক করতে চাইলেও অবাক হবেন না। ২. নৌকায় কখনই থাকবেন না যদি শীতে সমস্যা হয়। ৩.অনেকে দিল্লী থেকে ট্রেনে যায় ।এটা বোকামি । টাকা বাচাতে আপনি অনেক কিছু মিস করবেন আর  ২ দিন ট্রেনে শেষ করবেন । বিমানের টিকিট আর ট্রেনের টিকেট এর পার্থক্য বেশি না । বিমানে বসে আপনি যে দৃশ্য দেখবেন তাতে আপনার পয়সা উসুল হয়ে যাবে যদি আপনি প্রকৃতিপ্রেমি হন। ৪. কাশ্মীরে কারও সাথে বিতর্কে যাবেন না, সমস্যায় পরলে সাহায্য চান করবে । মনের দিক থেকে ভাল ওরা । ৫. আপনি মুসলিম হলে পরিচয় দিতে দেরি করবেন না। ৭ খুন মাফ । আমার নাম ফাহাদ বিন হুসনে আলি । একটু আরবি  টাইপের হওয়ায় অনেক বেশি সন্মানে  সন্মানিত হয়েছি ।

সামনের ভ্রমন কাহিনী বেঙ্গালর (BENGALORE)ভ্রমন নিয়ে  , আশা করছি সাথেই থাকবেন ।

 

(চলবে)

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

সিলেটের “সুন্দরবন” বাংলাদেশের “আমাজন”

salma akter

সেন্ট মার্টিন যেতেও এখন ভিসা লাগবে…

salma akter

অপার্থিব বান্দরবন – আমিয়াখুম

Sazid Hossain Upam

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy