Now Reading
জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব ২য়



জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব ২য়

ঘটনাটি আমার সাথে ঘটেছে । আপনাদের কাছে হয়তো ফালতু , বানানো গল্প মনে হতে পারে । কিন্তু আমি আপনাদের বলতে চাই আমার এই সিরিজে আমার সাথে অথবা আমার পরিবার , আত্মীয় স্বজনদের সাথে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা বলবো । আসলে যার সাথে এমন কিছু ঘটে সেই বলতে পারবেন ঘটনা সত্য নাকি মিথ্যা । আমি আপনাদের কাছে সত্য বা মিথ্যা প্রমাণ করতে আসিনি । শুধু কিছু ব্যাখ্যা হীন সত্য অবলম্বনে গল্প শেয়ার করতে এসেছি ।

ঘটনাটি সাক্ষী ছিলাম আমি নিজে । আমার দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ৰ বাড়ি কুমিল্লা ।ইন্ডিয়ার বর্ডারের সাথে বাড়ি । তাদের প্রাইভেসি এর স্বার্থে জায়গার সম্পূর্ণ বিবরণ দিতে বিরত থাকলাম । আমাদের পরিবারের সাথে আমিও ছিলাম সেখানে । সেখানে ছিলেন আমার দূর সম্পর্কের এক নানী । যার সাথে আমার আবার খুব মিল । সারা দিন দুষ্টামি করি । তিনিও আমাকে খুব আদর করেন । আমার সেই নানীর বাবার বাড়ি ছিল তাদের বাড়িতে থেকে কিছুটা দূরে । তাদের বাড়ি থেকে নানীর বাপের বাড়ির দূরত্ব হবে ৩৫ মিনিট বা এর কিছু বেশি । প্রতিদিনের মতো একদিন বিকেলে আমরা সবাই বসে গল্প করছিলাম । হঠাৎ করে নানু বলে উঠলো , তোমার সবাই গল্প করো আমি একটু আবার বাপের বাড়ি থেকে আসতেছি । আমাকে গতকাল বলে গিয়েছিলো যাতে আমি তাদের বাড়ি যাই ।আমরা আর তার কথায় মনোযোগ দিলাম না । উনি উঠে চলে গেলেন । আমরা যে যার মতো আড্ডা দিছিলাম । তিনি যাওয়ার ঠিক ১ ঘণ্টা পরে আবার চলে আসেন । তখন মাগরিবের আযান দিচ্ছে । এর মানে উনি আজানের কিছুক্ষণ আগে বের হয়েছে । যায় হোক । আমাকে ডাক দিলো । বলল এই নাও ভাই তোমার জন্য পিঠা এনেছি । তেলের পিঠ । আমি একটি পিঠা খেয়ে বললাম অনেক ভালো হয়েছে ।
যেহেতু সন্ধ্যা হয়েছে আমরা সবাই ঘরের মধ্যে চলে আসলাম । নানু এসে খাটের উপর শুয়ে পড়লেন । আমি , আমার কিছু মামা তার সামনে বসে কথা বলছিলাম । কথা বলার সময় তিনি বলে বসলেন , তার নাকি শরীর ভালো লাগছে না । আমরা জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে ? উনি বললেন উনার নাকি শরীর খারাপ লাগছে । যাই হোক আমরা আবার আড্ডা দেয়া শুরু করলাম । হঠাৎ তিনি কথার মাঝে খুব বাজে ভাবে একটা গালি দিয়ে বসলেন । আমরা সবাই অবাক , এখানে গালি দেয়ার কোনো কথাই ছিল না । গালি দেয়ার সাথে সাথে উনি উঠে বসলেন । বসে উল্টা পাল্টা কথা বলছেন । আমি প্রথম একটু অবাক হয়ে যাই । আমার পাশে তার বড় ছেলে ও মেঝো ছেলে বসা ছিল । আমি তাদের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করি
মামা নানুর হঠাৎ করে কি হলো ?
বড় মামা আমার দিকে তাকিয়ে উত্তর দেয়ার আগে তার মানে নানুর হাতের আঙ্গুল চেপে ধরলো । তখন আমি বুঝতে পারছিলাম না আসলে ঘটনা কি !
একটু পর তার মেঝো ছেলে বলে উঠলো তোমার নানুকে জ্বীনে ধরেছে । আমি অনেকটা অবাক হয়ে যাই । এই মহিলাটার সাথে আমি কিছুক্ষণ আগেও দুষ্টামি করছিলাম , যে আমাকে পিঠা এনে খাইয়েছে , তাকে জ্বীনে ধরলো ! আমি আবার নিজেকে বিশ্বাস করার জন্য তাকে প্রশ্ন করলাম – মামা আপনি কি বলছেন ? নানুকে জ্বীনে ধরেছে ?
তিনি বললেন হ্যাঁ , তোমার নানুকে জ্বীনে ধরেছে । এই ব্যাপারটা অনেকটা ক্লিয়ার হয়ে গেলো যখন দেখলাম আমার পাশে বসে বড় মামা নানুর শেষের দিকে আঙ্গুল ধরে ছিল আর কি যেন এক সূরা পড়ছিল আসতে আসতে । হঠাৎ নানু বলে উঠলো আমার আঙ্গুল ছাড় , এই কথা বলে এক অদ্ভুত হাসিতে মেতে ছিলেন । আমি প্রথম দিকে অনেক ভয় পাই । আমি মামা কে বললাম মামা এইটা কি নিয়মিত ঘটনা নাকি ? উনি বলল না , কিন্তু মাঝে মাঝে উনাকে জ্বীনে ধরে । আমরা যেই রুমে বসা ছিলাম. মামা সেই রুম থেকে তাকে আরেক রুম নিয়ে ভেতরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিলেন । যাতে করে তিনি উঠে দৌড়ে পালিয়ে যেতে না পারেন , একবার নাকি উনাকে এমন অবস্থা রেখে মামা পাশের রুম গিয়েছিলো , এসে দেখে উনি নেই । পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে একটি বট গাছের নিচে পাওয়া গিয়েছে । যাই হোক , উনাকে প্রশ্ন করা হচ্ছিলো ।মামা জিজ্ঞেস করলেন
তুই কে , কেন আমার মা কে ধরেছিস ?
সে উত্তর দিলো আগে তুই সূরা পড়া বন্ধ কর , আমার আঙ্গুল ছাড় তাহলে আমি সব বলবো ?
না আঙ্গুল ছাড়বো না , সূরা পড়া বন্ধ করলাম এইবার তুই বল
তোর মা সন্ধ্যার সময় মাথার চুল ছেড়ে হাতে পিঠা নিয়ে যাচ্ছিলো , এই সময় আমি ওরে ধরেছি । আমি তোদের বাসার আসে পাশে বেশ কিছু দিন ঘরে ঘুরছিলাম কিন্তু তোর মা কে সুবিধা মতো পাচ্ছিলাম না বলে ধরতে পারিনি , এই কথা বলে উনি হাসা শুরু করলেন ।
মামা বলল আমার মা কে ছেড়ে দে । তা না হলে সূরা পরে তোর শরীরে আগুন লাগিয়ে দিবো ।
উনি বলল না আমি যাবো না , তুই আমার আঙ্গুল ছাড় ,
এই রকম কথা বার্তা চলছিল তাদের মধ্যে । এক পর্যায় মামা বলল তোর বাসা কোথায়? আর তুই কি করলে মা কে ছেড়ে দিবি?
উনি বলল আমার বাসা ওই দিন যে বট গাছে ওরে পেয়েছিলো ওখানে । আমরা ৭ ভাই ২ বোন । আমাকে যদি মিষ্টি পান এনে দিস তাহলে আমি চলে যাবো ।
মামা বলল ঠিক আছে পান এনে দিচ্ছি তুই চলে যা ।
না , আগে এনে দে তার পর ।
এই বলে মামা উঠে চলে গেলেন আর আমাকে বললেন যেন আমার তার হাতের শেষের আঙ্গুল চাপ দিয়ে ধরি । আমি খুব ভয় পাচ্ছিলাম । মামা বলল ভয় নাই তুমি আঙ্গুল ধরে রাখলে কিছু করতে পারবে না । আমি আঙ্গুল জোরে চাপ দিয়েই ধরলাম । উনি তখন আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিল । আর কি ভাষায় যেন কথা বলছিলো আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না ।
মামা বেশ কিছুক্ষণ পর পান নিয়ে আসলো । মামা বলল তুই যে যাবি এর প্রমাণ কি ?
তখন বলল যখন আমার মুখে পান ঢুকবে তখন তোরা আমার সামনে থেকে সরে যাবি , আর যাওয়ার সময় আমি তোদের গাছের একটা কাঁঠাল ফেলে দিয়ে যাবো ।
তখন আবার ছিল গ্রীষ্ম কাল । গাছে প্রচুর কাঁঠাল ।
নানু মুখে পান দিলো আর কিছুক্ষণ পর উনার শরীর ঘাম দিয়ে একদম ঠাণ্ডা হয়ে গেলো । আর উনি অজ্ঞান হয়ে পড়লেন । আর কিছুক্ষণ পর নিচে একটা কাঁঠাল পড়ার শব্দ পেলাম । বুঝতে পারলাম নানুকে জ্বীন ছেড়ে দিয়েছে । বেশ কিছুক্ষণ পর উনার জ্ঞান আসলে আমি উনাকে প্রশ্ন করি নানু কি হয়েছিল ? উনি বলে কোথায় কি হয়েছিল , পরে উনাকে সব ঘটনা খুলে বলা হয়েছিল ।

এই ছিল আমার ঘটনা । যার সাক্ষী আমি নিজে । হয়তো আপনাদের অনেকের সাথে আমার ঘটনা মিলবে । কারো নানু , দাদু বা মায়ের সাথে এমন ঘটনা ঘটতে পারে ।

চলবে

About The Author
Rohit Khan fzs
Rohit Khan fzs
বি.এস.সি করছি ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং। লিখতে ভালবাসি। নতুন নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হতে পছন্দ করি।

You must log in to post a comment