সাহিত্য কথা

আজ হেরার মেহেদী

আজ হেরার মেহেদী উৎসব । সারা বাড়ি জুড়ে তার আমেজ ছড়ানো ।  হেরাদের বাড়িটি পুরনো ধাঁচের  । একতলা । বেশ বড় জায়গা নিয়ে । বাড়িটি যেমন তেমনি এর বাসিন্দাও অনেক । হেরার দাদাজান তার পুরো পরিবার,  যেমন তার ছেলে মেয়ে আর তাদের পুরো পরিবার সহ বসবাস করছেন ।

— বাড়ির সামনে স্টেজ করা হয়েছে । তাতে লেখা হেরার মেহেদী উৎসব । হেরা বারান্দায় একটি চেয়ারে বসে তাকিয়ে দেখছিল কোথায় কে কি করছে । নিমন্ত্রিতের সাথে মিলে বাড়ির লোকেরা  নানন কাজে গল্পে  খুব হৈ চৈ হচ্ছে । মাঝে মাঝে দাদাজান চিৎকার করে কিছু বলছেন । তিনি রান্নাঘরের দরজার পাশে বসে আছেন একটি চেয়ারে । দুপাশে মা আর বাবা দাড়িয়ে । দাদা বাবাকে বকছেন । কারনটা হোল বাবা টিউব মেহেদী কিনে নিয়ে এসেছেন । বাবার ইচ্ছে ছিল পার্লার থেকে কাউকে এনে টিউব মেহেদী দিয়ে ডিজাইন করাবেন । এটা দেখে দাদাজান বললেন ,’কিছুতেই নয় । যা তুই আতিয়ার  বাড়ি থেকে মেহেদী নিয়ে আয় । বিসমিল্লাহ বলে কিন্তু পাতা ছেঁড়া শুরু করবি । আর শোন গোসল করে পাক পবিত্র হয়ে যাবি । প্রথম পাতাটি কিন্তু তুই ছিঁড়ে পাত্রে রাখবি ।  তুই অথবা বউমা। যেহেতু বউমা যেতে পারছে না কাজটা তোকেই করতে হবে।‘

—কাল  থেকে দাদা এটা বাবাকে পই পই করে  বুঝালেন যে,  ‘আমাদের বাগানের গাছটা তো প্রায় মরা , তো তুই আতিয়ার বাড়ি গিয়ে মেহেদী আনবি ।‘   আর সকালে দেখেন বাবা এক ঝুড়ি টিউব মেহেদী নিয়ে এসেছেন। দাদাজানতো রেগে ফেটে যাচ্ছেন, সকালেই বাবাকে পাঠালেন আতিয়া খালা মানে আমার বড় খালার বাড়ি। বাবা  মেহেদিও নিয়ে এলেন। এখন গোলমালটা হচ্ছে বাবা যে মেহেদী এনেছেন তাড়াহুড়োয়  তিনি বিসমিল্লাহ্‌ বলে ছিঁড়তে ভুলে গেছেন। দাদা খুটে খুটে সব জেনে নিলেন। মেয়ের বিয়ে বলে কথা মিথ্যে তো আর বলা যাবে না। বাবা এখন বকা খাচ্ছেন,

—পরে মা এগিয়ে এলেন। নিচু গলায় বললেন,  ‘বাবা তাহলে আমি যাই।  গিয়ে নিয়ে আসি।‘

—‘না একদম না। গাধাটা ভুল করেছে গাধাটা যাবে। এটা কোন ছেলে খেলা নয়। হেরার  মেহেদী সে এ বাড়ির মেয়ে । আমার আদরের নাতনি ।  উল্টোপাল্টা কিছু করলে তো হলোনা, এই আজিম তুই যা। জলদি যা। এবার যদি বিসমিল্লাহ্‌ বলতে ভুলে যাস তো মাথায় বাড়ি।‘ তিনি লাঠিটা উঁচু করে বাবার মাথা বরাবর নিয়ে সেটা নামিয়ে এনে নিজের কপালের উপর চেপে ধরে বললেন,  ‘আবার যদি গাধামি করিস,  তোর নয় আমার মাথায় ভাঙ্গবো।‘

—এটা শুনে মা বাবা হকচকিয়ে গেলেন।  ‘যাচ্ছি বাবা যাচ্ছি  ।‘ বলে বাবা ছুটলেন মেহেদী আনতে।

—মেহেদী তো এসেছে। তা কিভাবে ধোঁয়া আর বাটা হচ্ছে তিনি তা দেখছেন। গোলাপ পানি দিয়ে তিনবার পাতগুোল ধুয়ে নিলেন মা। বিসমিল্লাহ্‌ বলে পাটায় একটা পেশা দিতেই দাদা বললেন, বউমা তোমার স্পর্শ হয়েছে এবার যাও অন্য কাজে  যাও। এদিকটা আমি দেখছি।‘

—উঠোনের মাঝ বরাবর স্টেজ করা হয়েছে। ফুল আনতে গিয়েছে হেরার কাজিন বুলবুল ভাই। দাদা বলে দিয়েছেন ‘শুধু মাত্র বেলি আর গন্ধরাজ ফুল চাই। অন্য কিছু হলে চলবে না।‘

—বাবা মিন  মিন করে বললেন,  ‘গাঁদা ফুলটাও আনা  দরকার। গায়ে হলুদে হলুদ ফুল ভালো মানাবে, সবাই হলুদ ফুল ব্যবহার করে।‘

—দাদা আবার হুঙ্কার দিলেন, ‘ সবাই করে বলে তো আমি এটা করতে চাই না। আমার নাত্নির জন্য হবে নতুন কিছু।‘

—বাবা উঠোনের কোনে দাড়িয়ে ফোনে এবার বুলবুল ভাইয়ের সাথে কথা বলছেন, বাবার অর্ডার ছিল হলুদ গাঁদা আর বেলি ফুল । বেলি তো পাওয়া গেলো কিন্তু গন্ধরাজ  পাওয়াটাই মুশকিল হচ্ছে । কম কিছু নিয়ে আসলেও চলছে না । দাদাজান যেটা বলবেন সেটাই করতে হবে ।

—‘বুলবুলটা এখনও আসছে না কেন ?’ দাদাজানের চিৎকারে বাবা লাফিয়ে উঠলেন ।

—‘এই তো বাবা , রওনা দিয়েছে ।‘  কিন্তু বাবার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে , বুলবুল ভাইয়ের জন্য আজ বকা খাওয়া নিশ্চিত ।

—দাদাজানের নজরদারিতে মেহেদী বাটা শেষ । এবার দাদাজান বুল্বুল  ভাইয়ের অপেক্ষোয় গেইটে দাড়িয়ে আছেন ।  অপেক্ষা শেষ হোল । বুলবুল ভাই ফুলের ঝুড়িগুলো গাড়ি থেকে নামিয়ে মঞ্চের পাশে রাখলেন । গন্ধরাজ অল্প জোগাড় হয়েছে । ভাইয়ার বন্ধুরা সাজাতে লেগে গেছে । দাদা উঠোনের কোনায় ভাইয়াকে ডেকে নিয়ে বললেন , ‘প্রথম বার ছেড়ে দিলাম  বিয়ের রাতের ফুলের যদি এদিক সেদিক হয় তো তোর গাধামি আমি বের করবো । গাধা কোথাকার ।‘

—‘গাধা ।‘ গাধা শব্দটা দাদাজানের খুব প্রিয় শব্দ । তিনি সবাইকেই গাধা বলেন । দিন রাত বলেন । যাকে তাকে বলেন ।  অনবরত বলেন । খুশি হলেও গাধা , রাগ হলেও গাধা । গাধা বলতে তিনি পছন্দ করেন অথবা স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন কে জানে । তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে , সকালে গাধা বলে যাকে তিনি ধমকিয়েছেন , বিকেলেই তাকে আদরের সুরে অবুজ গাধা , ছোট্ট গাধা বলে আদর করেছেন । আবার তেমনি  রাতে যাকে কইরে গাধা কইরে গাধু গাধা হলেও দারুণ বুদ্ধি আছে । গাধা থেকে মানুষ হয়ে গেলি যে ? বাহ বাহ । ইত্যাদি বলছেন  কিন্তু পরদিন সকালেই হয়তো তাকেই কোন একটা কারনে  তুই পুরোটাই গাধা, গাধা কোথাকার , অপদার্থ গাধা, কিছুই বুঝিসনা গাধা বোলে চিৎকার শুরু করে দিয়েছেন হয়তো । একেবারে মিলিটারি মেজাজ । হবেই তো তিনি মিলিটারির বড় অফিসার ছিলেন । রিটায়ার করার এতো বছর পরও একই মেজাজে আছেন । যেন বাঘা দাদা ।

— তবে হেরা আর বর্ষাকে তিনি কখনও গাধা বলেন নি । এ বিষয়ে তিনি যথেষ্ট সচেতন । বর্ষার নাম রাখা নিয়ে ঘরে একবার মহা হৈ চৈ বেঁধে গেলো । ঘটনাটা হচ্ছে দাদাকে না জানিয়ে ছোট চাচা তার মেয়ের নাম রাখলেন বর্ষা । ব্যপারটা ইচ্ছাকৃত নয় । জমি সংক্রান্ত ঝামালার কারণে দাদাজানকে একবার অনেক দিন দেশের বাড়ি থাকতে হয়েছে ।ঠিক তখুনি বর্ষার জন্ম । চাচা ভাবলেন নামে কি আসে যায় । পছন্দমত একটা রাখলেই হয় । অর্থ ভালো হওয়া নিয়ে কথা । দাদাজানকে বুঝালেই বুঝবেন । বর্ষা নামটা আমাদের খুব পছন্দ হোল । সবাই বর্ষা নামে পিচ্চিটাকে ডাকা ডাকি করছি ।

–আঠারো দিনের শিশুকে মানে বর্ষাকে কোলে নিয়েই দাদাজান বললেন , ‘মাসাআল্লাহ , খুব সুন্দর মেয়ে । এ বংশে মেয়ে কম । কিন্তু যেটাই এসেছে ঘর আলো করে এসেছে । পরির মত রুপ নিয়ে এসেছে । ওরে একটি ভালো নাম রাখতে হয় রে ওর । খুব ভালো হতে হবে নাম ।’

— ছোট চাচা হাসি মুখে এগিয়ে এলেন , ‘বাবা আপনার কষ্ট করতে হবে না । আমরা নাম রেখেছি ।‘

—রেখে ফেলেছিস ? বাহ বেশ করেছিস । ইসলামি নাম তো ?  কি নাম ?’

— ‘বর্ষা , বাবা । বর্ষা রেখেছি ওর নাম ।

— ‘বর্ষা ? এটা কেমন নাম । ঝড় বৃষ্টির নামে মেয়ের নাম রাখছিস আর বলছিস আমার কষ্ট করে নাম রাখতে হবে না । অপদার্থ গাধা কোথাকার । এই তোর কাজ  ? মুসলমান হয়েছিস মুসলমান নাম রাখবি । তা  নয় । ঝড় বৃষ্টি বন্যা সুনামি জলোচ্ছ্বাস কি কি সব নাম । কবে তোদের আক্কেল হবে । বে আক্কেল গাধা । এমন সব গাধামি করিস তোরা ।‘ চাচা মাথা নিচু করে শুনছেন । চাচি সামনেই এলেন না ।

—বর্ষারর মাথায় হাত বুলিয়ে দাদাজান বললেন , ‘আলহামদুলিল্লাহ , কি সুন্দর একটি শিশু । ইসলামে কি নামের আকাল পড়েছে রে গাধা ? ছোট্ট একটি ইসলামি নামও কি তোরা খুজে পেলি না ? বল ,  নাম রাখতে কষ্ট হোল আমার,  নাকি এতো গুলো কথা বলতে কষ্ট  হোল  ? শোন আজ থেকে আমার নাতনির নাম হোল সাবা । সাবা নামের অর্থ হোল সুবাহ মানে সকাল । বুঝেছিস ?’  তারপর থেকেই বর্ষা হয়ে গেলো সাবা । দাদাজান ছাড়া সবাই কিন্তু ওকে দুটো নামেই ডাকে ।

—হেরা কখনও ভুল করে ওকে দাদার সামনে  বর্ষা বলে ডাকলে দাদাজান কিছু বলার আগেই  দ্রুত সরি বলে দিলে দাদা চুপ করে যান । আর ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দেন ।  কিন্তু অন্য কেউ এ নামে ডাকুক না একবার দাদাজান তাকে নিজ হাতে ধুয়ে দেন গাধা নামের সাথে আরও সব সুন্দর সুন্দর বিশেষণ যোগ করে । হেরা আর বর্ষা দাদার স্পেশাল আদরেই বড় হতে থাকে । আজ হেরার মেহেদী উৎসব।

—সাদা ফুলে ফুলে সমগ্র স্টেজটা সাজানো হয়েছে । আর স্টেজের মাঝখানে সাদা ফুলের গহনায় সেজে বসে আছে হেরা । সোনালি হলুদ শাড়ির সাথে সাদা ফুলের গহনায় অপরূপ লাগছে ওকে । লাজুক কোমল মুখে বসে আছে । ছোট চাচি মায়ের হাত ধরে স্টেজের সামনে নিয়ে এসে বললেন,  ‘ভাবি আপনি শুরু করুন । আপনার দোয়া দিয়ে শুরু হলে মেয়ে চিরসুখি হবে ।‘

—মা স্টেজের একপাশে সরে এসে বললেন , ‘না আমি নই । হেরার বাবা কই ? উনাকেই প্রথমে আশীর্বাদ করতে  ডাকুন । চাচি হতাশ সুরে বললেন , ‘এই সামান্য কাজে একজন দিয়ে শুরু করলেই হয় । এতো বাছবিচারের কি আছে ।  আপনি মা আপনার অধিকার আগে ।‘

—মা দৃঢ় ভাষায় বললেন ,  ‘কনিকা বিয়ে ছোট জিনিস নয় , জীবনে একবারই হয় । প্রতিটা কাজ সুন্দর ভাবেই করা উচিত । যেন কখনও কারও মনে কোন খুঁত তৈরি না হয় । অন্তত চেষ্টা তো করবো যতটা পারি ।‘

—এদিকে বাবা দাদাজানকে খোঁজাখুঁজি করছেন । তাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না । বাড়ি বাগান উঠোন কোথাও নেই । দাদাকে চাই । বাবার ইচ্ছে মেহেদীর প্রথম ফোঁটা দাদাজানের হাত দিয়েই শুরু হোক নাতনির হাত রাঙানো ।

—বাবা আবার বাড়ির ভেতর ঢুকলেন । খুঁজে খুঁজে দাদাকে পেলেন বড় বসার ঘরটিতে । সবাই মেহেদী উৎসবে ব্যস্ত থাকায় ঘরগুলো খালি । ঘরটি অন্ধকার করে তিনি বসার ঘরটির একেবারে কোনায় বসে আছেন । একাকি । এমন আবছা আলোয় দাদাকে এমন একা বসে থাকতে দেখে বাবা ঘাবড়ে গেলেন । ‘বাবা তুমি এখানে ? কি করছ এখানে ? তোমাকে খুঁজে খুঁজে হয়রান ।‘

—‘কেন ? আমাকে কেন খুঁজছিস ?’

—‘কি বলছ তুমি বাবা ? আজ হেরার মেহেদী । তুমি হেরাকে আশীর্বাদ করবেনা  ? এসো । বাইরে এসো ‘

—‘ তুইই বা ভাবলি কি করে যে আমার হেরামনিকে আমি আশীর্বাদ করবো না । আমার খুব মাথা ঘুরছে । তোরা যা । তোরা আশীর্বাদ শুরু কর । আমি একটু রেস্ট নিয়ে আসছি ।‘

— বাবা অবাক করা গলায় বললেন , ‘তুমি মেহেদী না  লাগান পর্যন্ত কেউ হেরার হাতে আলপনা করবে এমন ভাবছ কি করে ?’ বাবার কথা শুনে দাদা বাবার ধরে রাখা হাতটি ঝট করে ছেড়ে দিলেন ।

—বাবা আবছা আলোয় দাদার মুখের ভাষা পড়তে চেষ্টা করলেন । কিছু বোঝা যাচ্ছে না । বাবা দাদাজানকে দুহাতে ধরে উঠালেন । তারপর এক হাতে কোমরে জড়িয়ে ধরে বাইরে আনলেন । আর বলতে লাগলেন , ‘তোমার দায়িত্ব থেকে  তুমি কোথায় পালাবে । সবার মাথার উপরে তুমি । তোমাকে বাদ দিয়ে কিছু করবো এটা ভুলেও ভেব না ।‘

— স্টেজে হেরার হাতের মাঝ বরাবর কাঠি দিয়ে একটি বিন্দু বসালেন দাদাজান । তারপর ছলছল চোখে নাতনির দিকে তাকিয়ে থাকলেন । হেরার খুবকান্না পাচ্ছিল । খুব মায়া হচ্ছিল দাদাজানের জন্য । বুড়ো মানুষটা কঠিন আর কোমলে ছায়া হয়ে মায়া হয়ে আশা ভরসা বুদ্ধি আর দানে পুরো পরিবারটিকে এক বিন্দুতে বেঁধে রেখেছেন ।

—উঠোন জুড়ে হৈ চৈ । গান বাজনা । হাসি তামাশা । একজন বউটিশিয়ান কে এনে মেহেদী লাগান হচ্ছে । আসে পাশে সবাই আছে শুধু দাদাজান নেই । হেরার ভেজা চোখ দাদাজানকে খোঁজে । হা ওই যে , বাগানের বকুল গাছটির নিচে বসে আছেন । ওখানটায় ছায়া ছায়া । দাদাজান বারবার চোখে মুখে হাত বুলাচ্ছেন । কাঁদছেন কি ?   হ্যা সেটাই হবে । যদিও কিছু বোঝা যাচ্ছে না ।  ওর মনটাও দুঃখে ভরে গেলো। ও বাবাকে ইশারায় ডাকল, বাবা কাছে আসতেই কানে কানে বলল, ‘বাবা দাদাজানেরর কাছে যাও উনি মনে হয় কাঁদছেন।‘

—বাবা কিছু না বলে দাদার কাছে ছুটে গেলেন। হেরা দেখতে পেল বাপ বেটায় কথা হচ্ছে। ও মেহেদিতে আবার মন দিলো,

— বাবা দাদার কাছে গিয়ে পায়ের কাছে বসে বললেন,  ‘কি হয়েছে বাবা? কাঁদছ। হেরার জন্য? চলে যাবে তাই ? আজতো আনন্দের দিন। কাঁদছ কেন? আস একসাথে আনন্দ সবাই করি।‘

—দাদা হটাত বাবাকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কাঁদতে লাগলেন। আজিম  আজ আমার মন হেরার চলে যাবার দিনটা ঘনিয়ে আসার কারণে একটু দুখী হলেও আমি প্রচণ্ড খুশি। আমার নাতনির যোগ্য একটা ছেলের সাথে বিয়ে হতে যাচ্ছে। আরও যে  বলতেই কথা  হয় , সে কথা আজ সারাদিনভর ভাবছিলাম যে,  বিসমিল্লাহ্‌ বলে হেরার হাতে মেহেদীর ফোঁটা লাগানর সুখ আর সম্মান টুকু পাবো কিনা, তোদের বলতে সংকচ হচ্ছিল। তোরা বাবা মা তোদের অধিকার আগে, আমার কিছু বলাটা  ঠিক হবে না। কিন্তু বাবারে আজিমরে তুই আজ আমাকে যে সম্মান শান্তি  দিলি এটা আমার বড় পাওনা। আমার সঞ্চয়। আমার আনন্দময় গর্ব। তোদেরকে আমি বিগড়ে যেতে দেই নি রে বাবা। গুরুজনের প্রতি এই সম্মান তোদেরকে বংশ পরম্পরায় সম্মান আর প্রতিষ্ঠার শিখরে নিয়ে যাবে। এটাই আমার দোয়া।

—বাবা দাদার ডান হাতখানি নিজের দুহাতে শক্ত করে ধরে বসে রইলেন। চোখের জলে বাবা ছেলের কত কথাই না হোল।

—এই দৃশ্যের সাক্ষী  বিধাতা আর তার প্রকৃতি  তার সাথে আর একজনও রইলো। হেরা। হেরা মাঝে মাঝেই তাকিয়ে দেখছিল। দাদার নাতনি হিসেবে আন্দাজ করতে কষ্ট হলনা কি কথা হতে পারে ওখানে।

—হেরার মুখেও হাসি ফুটে উঠলো। মধুময় এই দিনটা যেন ক্রমশই আরও মধুময় হয়ে যাচ্ছে। মাথার উপর এমন গুরুজনরা থাকলে কার না হয়। সুখ মধুরিমায় সবকিছু  তো  ভরেই  যাবে।

©সেলিনা জান্নাত

রচনাকাল

০৫/০৬/২০১৭ইং

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

কারন আমি সাইকো!

Maksuda Akter

খুন!

Maksuda Akter

জীবন চলমান

Musfiqur Rahman

6 comments


Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208
Ashraful Kabir June 14, 2017 at 3:46 am

Lekhar style vallagse


Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208
Salina Zannat June 18, 2017 at 12:40 pm

আপনাদের উৎসাহ নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই — অসংখ্য ধন্যবাদ


Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208
SHUVO DIP June 14, 2017 at 2:00 pm

nice one
carry on
best wish


Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208
Salina Zannat June 18, 2017 at 12:41 pm

জি ভাই । লিখতেই চাই । পাশে থাকুন । শুভকামনা রইলো


Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208
Mohammad Johirul Islam June 14, 2017 at 8:16 pm

aita ki porbo akare thakbe


Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208
Salina Zannat June 14, 2017 at 8:46 pm

ekhono bujhte parcina . khub jodi pathok priyota pay to dibo porbo akare– footprint er onek kicui ekhono bujhte parci na – osonkhyo dhnyobad o suveccha

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: