শত ব্যস্ততার মাঝেও থাকলে ফিট,আপনিই হবেন সুপারহিট!

Please log in or register to like posts.
News

বর্তমান কর্মব্যস্ততার জীবনে,কর্মব্যাস্ততার জন্য আমাদের খাবার ঠিক সময়ে খাওয়া হয়ে ওঠে না। কর্মব্যস্ততার জন্য অনেক সময় ই বাহিরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হয়। এবং এরই মাধ্যমে আমাদের শরীরের হয়ে থাকে নানাবিধ জটিল সমস্যা। জটিল সমস্যাগুলো মধ্য অন্যতম হলো গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যা।
এটি এমন একটি সমস্যা যার সাথে নাতি-নানা পর্যন্ত আমরা সকলেই পরিচিত।
এটি প্রধানত একটি গ্যাসজনিত সমস্যা। এই সমস্যার অন্যতম কারন হিসেবে উল্লেখিত হলো “খাবারের অনিয়ম “। এছাড়া ও ফাস্টফুড এর ভাজা পোড়া, পার্টি বা দাওয়াতের হালকা মশলাযুক্ত খাবার খেলে হয়ে থাকে এই গ্যাসের সমস্যা।
বুক জ্বালা, গলা জ্বালা ও পেট ব্যাথা এর অন্যতম লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত। যারা এই অসহ্যকর সমস্যার শিকার হয়েছেন, তারাই বলতে পারবে এটা কতো টা অস্তিকর ও জ্বালাদায়ক। তাই এখন দেখা যায়, কোন বাসা বাড়িতে খাবারের জন্য আর কিছু না থাকলেও, একটি গ্যাস্ট্রিক এর ঔষুধের পাতা সব বাসায় ই পাওয়া যায়।
এই গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা প্রখর হলে এর থেকে ‘আলসার’ এর মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে। তাই এর থেকে সচেতন থাকা দরকার।
শুধু মাএ গাদা গাদা গ্যাস্ট্রিক এর ঔষুধে এই সমস্যা সমাধান হবার নয় বলে জানান বিশেষজ্ঞ ডাক্তারবৃন্দ।
এই রোগ টি এখন সর্বসাধারণের রোগ হিসেবে চিহ্নিত। এই মারাত্মক সমস্যা থেকে পরিএাণ পাবার একটি উপায় হলো সুপরিকল্পিত “খাবার রুটিন”। এই রোগ নিরাময় এর জন্য খাবার রুটিন এর বিকল্প নেই। এছাড়াও প্রতিদিন যদি কিছু খাদ্যভাস মেনে চলা যায় তাহলে এ থেকে পরিএান পাওয়া যেতে পারে।

★ শসা > শসা খুব ই সাশ্রয়ী মূল্যের একটি সবজি। কম বেশি সবাই এই সবজি পছন্দের তালিকায় রাখেন। কেন জানেন? শসা আমাদের শরীরের চর্বি কমায় এবং তর্ক পরিষ্কার করে থাকে। কিন্তু, আরো গুরুত্বপূর্ণ যেইটা তা হলো শসা পেট ঠান্ডা রাখে এবং এতে রয়েছে ফ্লেভানয়েড ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি যা পেটের গ্যাস এর উদ্রেক কমায়।
★ দই > দই বাঙালির ঐতিহ্য। যেকোন পারিবারিক উৎসবে বাঙালির কাছে এর বিকল্প নেই। দই আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং এটি পেট কে করে গ্যাস ঝামেলামুক্ত।
★ পেঁপে > পেঁপে সাধারণ সবজি হলেও এটি বেশ কার্যকরী। হেপাটাইটিস বি এর মতো মারাত্মক রোগ এর ক্ষেতে ডাক্তারা কাঁচা পেঁপে খাওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া পেঁপে তে থাকা পাপায়া নামক এনজাইম আছে, যা হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। আর নিয়মিত পেঁপে খেলে গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
★ আদা > আদা হলো সবচাইতে কার্যকরী মসলা। যার মধ্য আছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান। এই মসলাটি কাঁচা কুচি করে খেলে পেট ফাঁপা ও গ্যাস এর সমস্যা থেকে খুব দ্রুত মুক্তি মেলে।
★ ঠান্ডা দুধ > ঠান্ডা দুধ এই গরমে অনেকেই বেশি পছন্দ করে থাকেন। ঠান্ডা দুধ পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক এসিডকে হ্রাস করে এবং অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি দেয়।
★ পুদিনাপাতার পানি > বিভিন্ন ফাস্টফুডের খাবার ই পুদিনাপাতা দিয়ে পরিবেশিত হয়ে থাকে। ৫ টি পুদিনাপাতা এক কাপ পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে খেলে, পেটফাঁপা ও বমি ভাব এর থেকে বেশ উপকার পাওয়া যায়।
★ লবঙ্গ > ২/৩ টি লবঙ্গ মুখে দিয়ে চুষলে বুক জ্বালা, বমিবমি ভাব এবং গ্যাসের সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
★ এলাচ > লবঙ্গ এর মতো করেই, এলাচ এর গুড়ো খেলে গ্যাসের সমস্যা দূর হয়।
★ দারুচিনি > খাবারের স্বাদের জন্য দারুচিনি বেশ ফলপ্রসূ। দারুচিনি হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। একগ্লাস পানিতে অাধ চামচ দারুচিনির গুড়ো দিয়ে দিনে ২-৩ বার খেলে, গ্যাসজনিত সমস্যা গুলো দূরে থাকবে।
★ কলা ও কমলা > কম বেশি এই দুইটি ফল সবার ই খাওয়া হয়ে থাকে। কলা যেমন আমাদের শরীরের ক্যালরি জোগান দেয় তেমনি কমলা আমাদের ভিটামিন এর অভাব পূরণ করে থাকে। এছাড়াও কলা একটি আশঁযুক্ত খাবার, এতে রয়েছে সলুবল ফাইবার যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। কলা ও কমলা পাকস্থালীর অতিরিক্ত সোডিয়াম কমায়। এতে করে গ্যাস এর সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

★ জিরা > জিরা মাংসের সাথের একটি পরিচিত শস্য দানা। জিরা পেটের গ্যাস, বমি,পায়খানা, রক্তবিকার সহ প্রভৃতিতে ফলপ্রসূ একটি শস্য দানা।জ্বর হলে ৫০ গ্রাম জিরা ১০ গ্রাম আখের গুড়ে ভালো করে মিশিয়ে পাচঁটি বড়ি করতে হবে। দিনে ৩ বার একটি করে খেলে ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দিবে।
★ সরিষা > সরিষা আর সরিষার ক্ষেতের সাথে বাঙালির অন্যরকম এক সম্পর্ক বিদ্যমান । সকলেই জানে বাঙালির সরিষা ইলিশের রসের গল্প। আধুনিকতার খাবারে যত ই আসুক বাঙালির খাবারে সরিষার একটা রেশ থেকে ই যাবে । সরিষা পেট এ গ্যাস কমায় এবং অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি দেয়।

গ্যাস যেমন একটি শারীরিক সমস্যা, তেমনি, এটি একটি মানসিক সমস্যার ও কারন বটে। কারন, গ্যাস্ট্রিক এ বুক জ্বালা ও পেট ব্যাথা সব কিছু কে ই করে দেয় মূল্যহীন। তখন মেজাজ হয়ে যায় খিটখিটে। আর অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক এ পেট এ আলসার ঘাঁ হয়ে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
তাই সকলকে খাবার রুটিন মেনে চলা উচিত, যদি সমস্যা হয় তাহলে ঘরোয়া উপায় গুলো প্রয়োগ করা দরকার এবং অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যার জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?