Now Reading
মানুষের জন্য সম্ভাব্য Head Transplantation এবং কিভাবে তা সম্ভব ?



মানুষের জন্য সম্ভাব্য Head Transplantation এবং কিভাবে তা সম্ভব ?

আমরা আমাদের চারপাশের মানুষকে অসুস্থ হতে দেখেছি | মোটামুটি অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে ওষুধ খেয়ে চিকিত্সা নিতে দেখি আর খুব বেশি হলে হয়ত বিভিন্ন অর্গান চেঞ্জ করার মত ঝুকিটুকুই নিতে হয় | আর সেই অর্গান বললে কল্পনায় আসে Heart, lung কিংবা kidney transplant এর মত বিষয়গুলো | কিন্তু, ক্ষেত্র বিশেষে যদি পুরো শরীরটাই পুড়ে যায় তাহলে হয়তবা Skin transplant  পর্যন্তই থাকে | এর বেশি হয়ত কারো লাগেনি কিংবা সম্ভব হয়নি কিংবা হয়তবা কল্পনাতেও আসেনি | তবে, এখন সম্ভব কিংবা কারো লাগে কিনা এই সম্ভাবনা বাদ দিয়ে অন্ততপক্ষে কল্পনার অংশটুকু মনে হয় করা যেতে পারে ! কারণ, খুব শীঘ্রই মানে এই বছরেই ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসেই Dr. Sergio Canavero নামক একজন বিজ্ঞানী রাশিয়ার Valery Spiridonov নামের একজন মানুষের উপর এরকম একটা সার্জারী করতে যাচ্ছে যেইটা আগে মানুষ কখনই করেনি, কারো ক্ষেত্রে লাগেও নি এবং খুব বেশি মানুষ হয়তবা কল্পনাও করেনি ! আর তাহলো, একটা “Head Transplantation” !

 

head-transplant-1.jpg

  Dr. Sergio Canavero with Valery Spiridonov at a meeting of the American Academy of Neurological and Orthopaedic Surgeons in Annapolis, Maryland, on June 12, 2015. 

Head Transplantation কি ?   

এইটা নাম শুনেই বুঝে ফেলা যায় যে একজনের মাথা আরেকজনের মাথার অংশে লাগানোর মত হয়ত একটা বিষয় হবে ! কিন্তু, বাস্তবতা হলো একজন মানুষ তার মাথা মারা না গিয়ে ডোনেট করতে পারেনা আবার আরেক মানুষ নিজে মারা না গিয়ে সেই ডোনেট প্রাপ্ত মাথাটা তার জায়গায় লাগাতেও পারেনা ! কাজেই, এইটা আসলে যৌক্তিক হবে যদি এইটাকে “Body transplant” বলা হয় কারণ, এইখানে আসলে একজন অসুস্থ মানুষের পুরো বডির অংশটুকুই পরিবর্তন করা হয় | যদিও, যখন সার্জারী করা হবে তখন কেবল মাথাটাই এক বেড থেকে আরেক বেড়ে নিয়ে যাওয়া হবে | আর এর পিছনে যুক্তি হলো ভারী শরীর বহন করার চেয়ে মাথা বহন করার কাজটা বরং এর চেয়ে সহজ !

 

Head Transplantation কি সম্ভব ? আগে হয়েছিল ?

আগেই বলেছি মানুষের ক্ষেত্রে আগে কখনো হয়নি কাজেই, সম্ভব কিনা তা হয়ত বলা সম্ভব না ! কিন্তু, অন্য পশুপ্রাণীর ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা কিন্তু ঠিকই এক্সপেরিমেন্ট করে দেখেছেন এবং তাতে সফলতাও এসেছে | যেমন এরকম একটা ঘটনা ঘটেছিল ১৯৫৪ সালে । যেখানে রাশিয়ান ডাক্তার  “Vladimir Demikhov” যিনি “two-headed dogs” সৃষ্টির জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন | তিনি একটা কুকুরের মাথা আর সামনের পা আরেকটা কুকুরের ঘাড়ের সাথে যোগ করেন | বেশ সফলভাবেই তিনি তার কার্য সম্পাদন করেন | আর এর ফলে যেই দুই মাথার কুকুর তৈরী হয় তা অন্য স্বাভাবিক প্রাণীর মতই খাওয়া-দাওয়া, চোখ দিয়ে দেখা কিংবা গন্ধ শোঁকার কাজগুলো করতে পারত | যদিও, এই দুই মাথা কুকুর ৪ দিনের মাথাতেই মৃত্যু বরণ করে (নিচের চিত্র দ্রষ্টব্য) | তবে, এই বিখ্যাত ডাক্তারের এরকম অন্যান্য এক্সপেরিমেন্ট প্রানীগুলো কম বেশি ২৯ দিন পর্যন্ত জীবিত ছিল |

 

dog_head_transplant.jpg

 

এরপরে, এরকম আরেকটা ঘটনা হয় ১৯৭০ সালে | “Dr. Robert white” নামের আমেরিকান একজন নিউরো-সার্জন বানরের উপর এই এক্সপেরিমেন্ট টা করেন | বানরের “Head transplantation” এর পর বানরটা প্রায় ৩৬ ঘন্টা নিউরলোজিক্যালি ইন্ট্যাক্ট ছিল যদিও, সে সেই মূহুর্তে কোন মুভমেন্ট করতে পারতনা । এর ঠিক ৯ দিনের মধ্যে বানরটার মাথা ইমিউন সিস্টেম কর্তৃক রিজেক্ট হয় আর এরপরেই তা মারা যায় ।

তবে, এসব বাস্তব ঘটনা বাদেও যারা ফ্রাঙ্কেন্সটাইন এর নাম শুনেছে তারা নিশ্চয় জানে এই বিজ্ঞানীটা বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জোড়া লাগিয়ে একটা মন্সটার তৈরি করেছে যেইটা শেষমেষ কিনা তাকেই মেরে ফেলে !

কাজেই, এসব ঘটনা দেখে এতটুকু বোঝা যায় “Head transplant” মানুষের ক্ষেত্রে আগে না হলেও এর হয়ত একটা সম্ভাবনা আছে ।

 

Head Transplantation কিভাবে কাজ করে ?

এই ক্ষেত্রে প্রথমেই ডোনার কে চিহ্নিত করতে হবে | কারণ, ডোনার এমন কাউকে হতে হবে যার ইমিউন সিস্টেম, উচ্চতা রিসিপিয়েন্ট এর সাথে সামঞ্জস্য | যখন প্রয়োজনীয় সকল বৈশিষ্ট্য মিলে যাবে তখন তাকে সিলেক্ট করা যেতে পারে | এরপরে, দুইটা সার্জারী সাইমালটেনিয়াস হবার জন্য বড় একটা অপারেশন রুম দরকার |

প্রথমেই, ডোনার এবং রিসিপিয়েন্ট উভয়েরই পুরো শরীর অত্যন্ত ঠান্ডা করা হয় প্রায় ১২-১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস | এর ফলে ব্লাড ফ্লো কম হয় যার ফলে বাড়তি কিছু সময় পাওয়া যায় | এরপরে, ঘাড়ের কাছে একটা গভীর ছিদ্র করা হয় | এরপরে, artery, jugular vein, spine ইত্যাদি বের করা হয় | এরপর সর্বশেষ স্পাইনাল কর্ড থেকে কাটা হয় এবং খুব দ্রুত রিসিপিয়েন্ট এর সেই মাথাকে ডোনার এর সেই সুস্থ শরীরে লাগানো হয় | এই অংশটুকুর জন্য প্রায় ১-২ মিনিট সময় রাখা হয় | কারণ, মস্তিষ্কের জন্য অক্সিজেন আর গ্লুকোস অত্যাধিক প্রয়োজনীয় উপাদান | কাজেই, সময়টা এইখানে অনেক বড় একটা ফ্যাক্টর | এরপরে মাথা জোড়া লাগানোর জন্য “polyethylene glycol (PEG)” নামক একধরনের আঠা ব্যবহার করা হয় | PEG একটা বহুল ব্যবহৃত প্লাস্টিক যেইটা টুথপেস্ট, স্ক্রিন ক্রিমার সহ বিবিধ জায়গায় ব্যবহার করা হয় | আর এইটা ব্যবহার করার কারণ হলো এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ঠ্য যা হলো ডেমেজ সেল মেমব্রেন গুলোকে দ্রুত সরিয়ে তুলতে পারার ক্ষমতা | মোটামুটি এইভাবেই জোড়া লাগানর কাজটুকু করা হয় ।

 

head transplant demo.jpg

 

এই পুরো প্রক্রিয়াটা সহজে বোঝার জন্য চাইলে উপরের ছবিটা কেউ মনোযোগ দিয়ে দেখতে পারে | যেখানে, দেখা যাচ্ছে দুইজন মানুষের মাথা কাটা হচ্ছে । তারপর রিসিপিয়েন্ট এর মাথা ডোনার এর সুস্থ শরীরে PEG নামক আঠা দিয়ে লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে ! আসলে, পুরো বিষয়টার বর্ণনা হয়ত এরকমই সহজ; যদিও পুরো প্রসিড্যিউর টা যথেষ্ট দুর্বোধ্য । এমন কি অনেক বিজ্ঞানী এই সার্জারী নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহও প্রকাশ করেছেন । এখন, পুরো বিষয়টার ফলাফল জানার জন্য হয়ত বছরের শেষ পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে । দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয় !

 

যাইহোক, আজকে এই পর্যন্তই, আশা করি সবার ভাল লেগেছে । সবাইকে ধন্যবাদ ।

 


 

References:

  1. http://www.alphr.com/science/1001145/human-head-transplant-what-is-dr-canaveros-controversial-2017-surgery-and-can-it
  2. http://health.howstuffworks.com/medicine/modern-treatments/human-head-transplant1.htm
  3. http://health.howstuffworks.com/medicine/modern-treatments/human-head-transplant2.htm
  4. http://health.howstuffworks.com/medicine/modern-treatments/human-head-transplant3.htm
  5. http://www.todayifoundout.com/index.php/2016/04/time-soviet-scientist-created-two-headed-dog/
About The Author
Jannatul Firdous
Jannatul Firdous
Studying in Computer Science & Engineering (CSE)
6 Comments
Leave a response
  • Rohit Khan fzs
    June 16, 2017 at 3:11 pm

    aita niye ami koyek din study korechilam ,,, emon ki lekha rdy kore felechi … ekhon dekhi apni aita niye likhe fellen

    • Jannatul Firdous
      June 16, 2017 at 11:16 pm

      ভাই আপনি নির্দ্বিধায় দিন | একই টপিক নিয়ে সব ভাষাতেই বহু লেখা হয় | এইটা ব্যাপার না | তবে, নতুন কিছু লিখতে পারেন যেইটা আমি উল্লেখ করেনি | তাহলে, হয়ত আমিও কিছু শিখলাম ! অপেক্ষায় রইলাম |

  • Rajib Rudra
    June 17, 2017 at 1:04 am

    good post
    your content is to informative

    • Jannatul Firdous
      June 17, 2017 at 5:51 pm

      আপনারা কি বাংলা ব্যাকরণ বই নিয়ে ভুল ধরতে বসেন ? তাহলে, বাংলা নতুন ব্যাকরণ পরিবর্তন বিষয়ে কি কিছু জানেন ? যেমন -ণ-ত্ব বিধান জনিত জটিলতা এখন নেই জানেন কি ? এছাড়া, একটা শব্দের বাংলা কিংবা ইংরেজি বানান যে ভিন্ন হতে পারে তা জানেন কি ?
      আশা করি কোথায় ভুল আছে কিংবা কেন ভুল মনে হয়েছে তা ব্যাখা করার দাবি আমি লেখক হিসেবে রাখি ! কাজেই, অনুগ্রহ করে ব্যাখা করুন |
      শুধু ভুল ধরার মাঝে কোনো কৃতিত্ব কিংবা বড়াই নেই | ধন্যবাদ |

You must log in to post a comment