খেলাধূলা

সেমি ফাইনালে বাংলাদেশের হারের ময়না তদন্ত !

কিছু হার কখনো মেনে নেয়া যায়না । আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে আপনি কখনো হারতে দেখতে ভালো লাগবে না । ঠিক বাংলাদেশ আমাদের কাছে তেমন একটি জায়গা । বাংলাদেশ এক ভালোবাসার নাম । এভাবে আমাদের ভালোবাসা হেরে যাবে তা মেনে নেয়া খুব কষ্টের । তাও যদি সেই হার ভারতের বিপক্ষে হয় তাহলে ব্যথার মাত্রা আরো দ্বিগুণ বেড়ে যায় । তারা যেভাবে আমাদের দেশ কে অপমান করেছে তা আসলে খুব কষ্টের । ভেবে ছিলাম সেই কষ্ট এর জবাব দিবো ভারতের বিপক্ষে একটা জয়ের মাধ্যমে , কিন্তু তা আর হলো না ।

টসে হেরে ব্যাট করতে আসে বাংলাদেশ । ১৬ কোটি মানুষের চোখ টিভি পর্দায় । যথারীতি ওপেনিং করতে নামেন তামিম ও সৌম্য । বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ তাদের থেকে বড় ধরণের একটি পার্টনারশিপ পাবে সেই আশা করেছিল , শুধু যে এদেশের মানুষ তাদের থেকে আশা করেছিল তা কিন্তু না , বাংলাদেশ দল ও তাদের থেকে আশা করেছিল । কিন্তু সেই আশা বেশিক্ষণ বুকে বেঁধে রাখতে দেননি ওপেনার সৌম্য সরকার । প্রথম ওভারে ফিরে যায় এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের । অফ স্ট্যাম্পের বাহিরের বল খেলতে গিয়ে আউট হয়ে ফিরে আসেন তিনি । ব্যাটের কানায় লেগে স্ট্যাম্পে আঘাত হানে বল । এই সময় এতো বাহিরের বল খেলা একদম উচিত হয়নি । শূন্য রানে ফিরে যান তিনি ।
৩ নাম্বারে কে নামবে সে নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকলেও আজ সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে মাঠে নামেন সাব্বির । মাঠে নেমে ভারতীয় বোলার দের উপর ঠেরে খেলেন তিনি ।প্রথমে বলে ৪ মেরে শুরু করেন তিনি । ভারতের বোলার দের বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন তিনি আজ তাদের অপর দিয়ে ঝড় তুলবেন । কিন্তু সেই ঝড় বেশিক্ষণ রইলো না । প্রথম দিকে তার খেলা দেখে ভালো লাগলেও পরে এক সময় মনে হচ্ছিলো তিনি বেশ তাড়াহুড়া করেছিলেন । অফার বল ব্যাট ঘুরিয়ে খেলতে গিয়ে পয়েন্ট কাভারে ক্যাচ তুলে দেন তিনি । ১৯ রান নিয়ে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে । দলের তখন ৩১ রানে নেই দুই ব্যাটসম্যান । অন্য প্রান্তে হাত গুটিয়ে খেলছিলেন তামিম ইকবাল । তার সঙ্গী হিসেবে নামেন মুশফিকুর রহিম ।

out

তামিম ও মুশফিক মিলে খুব সুন্দর খেলছিলেন । তারা দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে হাল ধরেছিলেন । তাদের পার্টনারশিপ দেখে দল ও বাংলাদেশের মানুষ আশায় বুক বেঁধে ছিলেন । সবাই ধারণা করেছিল বাংলাদেশ তাদের পার্টনারশিপ এর হাত ধরে ৩০০ পেরুবে । ঠিক তখনি সবার বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেন তামিম ইকবাল । সৌম্যের মতো অফার বল খেলতে গিয়ে আউট হয়ে যান । কিন্তু না , তিনি তখন ক্রিজে কারণ আম্পায়ার নো বলের সংকেত দেন তিনি , সেই সাথে জীবন ফিরে পায় তামিম । জীবন ফিরে পেলে তিনি যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা তিনি আজ প্রমাণ করে দিলেন । দলের প্রয়োজনে মুশফিক কে নিয়ে খেললেন এক অসাধারণ ইনিংস । মুশফিকের সাথে তিনি গড়েন ১২৩ রানের জুটি । গুড লেন্থের বল সুইপ করতে গিয়ে আউট হয়ে যান তিনি । বলটি খুব ভালো ছিল । ওই মুহূর্তে এই শর্টটি ছিল একদম অপ্রয়োজনীয় । বল একটু উপরে উঠে মিডল স্ট্যাম্পে আঘাত হানে । সেই সাথে তামিম ফিরে যায় তার ব্যক্তিগত ৭০ রানে ।বাংলাদেশের তখন ১৫৪ রানে ৩ উইকেট ।

musfiqমাঠে নামের আগের দিনের ম্যান অফ দ্য ম্যাচ সাকিব আল হাসান । বাংলাদেশের প্রথম সারির ব্যাটসম্যান । এমন অবস্থায় তার উচিত ছিল আগের দিনের মতো একটি শতক ইনিংস খেলে বাংলাদেশের রানকে বাড়িয়ে নেয়া । কিন্তু তিনি মুশফিকের সাথে বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেনি । নিজের ১৫ রান ও দলীয় ১৭৯ রানে ফিরে যান বিশ্বের এক নম্বর আল রাউন্ডের সাকিব আল হাসান । কাট করতে গিয়ে ধরা পড়েন বিশ্বের অন্যতম সেরা কেপ্টিন ধোনির হাতে । অপর প্রান্তে দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মুশফিকুর রহিম ।
ক্রিজে তখন আগের দিনের আরেক ম্যাচ উইনার মাহমুদউল্লাহ । ক্রিজে তখন দুই ভাইরা ভাই । তাদের মধ্যে বোঝা পড়াটাও অনেক ভালো । কিন্তু মুশফিকের মনে হয় খারাপ লাগছিলো দর্শক হয়ে এক প্রাণে দাঁড়িয়ে থাকে । তাই নিজেকেও আশা যাওয়ার মাঝে নাম লিখলেন তিনি । ফিরে গেলেন কোহিলির হাতে ক্যাচ দিয়ে । ভালো বল ছিল , তিনিও ভালো ভাবে খেলতে চেয়ে ছিলেন । কিন্তু সময় মানে টাইমিং তার সাথে ছিল না , যার ফলে দ্রুত আউট হয়ে যান তিনি । দলের তখন মাথার উপর কালো মেঘ ঘোরা ঘুরি করছে । বাংলাদেশের তখন স্কোর ৪০ তম ওভার শেষে ২০৭ রান , হাতে আছে মাত্র ৫ টি উইকেট ।মিডল অর্ডার যে এখনো দুর্বল তা মোসাদ্দেক এর আউট দেখে বোঝা যায় । তিনি স্লোগ ওভারে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে খেলেন পুল শর্ট । আর সেই শর্ট তালু বন্দি করেন ভারতীয় ফিল্ডার । এর পর মাশরাফি ছাড়া আর কেউ ক্রিজে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি । শেষের দিকে মাশরাফির ব্যাটিং দল গিয়ে পৌঁছে ২৬৪ রানে ।

bating

 

ভারতের ব্যাটিং লাইন আপের কাছে ২৬৪ রান তেমন কিছুই ছিল না । যা তারা আবারো তাদের ব্যাটিং এর মাধ্যমে প্রমাণ করলেন । ৯ উইকেট হাতে রেখে জয় ভারত ক্রিকেট দল । এক প্রান্ত থেকে খুব ভালো বল করছিলেন মাশরাফি । অন্য প্রান্তে অন্য সব বোলাররা মার খাচ্ছিলেন । দলের প্রয়োজনে উইকেট এনে দিলেন মাশরাফি । সেই সাথে ভাঙলেন উদ্বোধনী জুটি । ৪৬ রানে ফিরিয়ে দিলেন ধাওয়ান কে , সেই সাথে ভাঙলো তাদের ৮৭ রানের পার্টনারশিপ । মাঠের এক প্রান্তে আরো ভয়ংকর হচ্ছিলো রোহিত । তার সাথে যোগ দিলেন বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি । তারা দুই জন হেঁসে খেলে হারিয়ে দিলেন বাংলাদেশ দল কে । আজ মাশরাফি ব্যতীত কেউ ভালো বল করতে পারেননি ।আজ সাকিব বোলিং ও ব্যাটিং ডিপার্টমেন্ট ছিলেন একদম নিখোঁজ । আজ তাকে জ্বলে উঠতে দেখা যায়নি । দলীয় পারফরম্যান্স না থাকার কারণে বাংলাদেশের আজ বিশাল ব্যবধানে হারতে হয় ।

win

 

দুই দলের স্কোর

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৬৪/৭ (তামিম ৭০, সৌম্য ০, সাব্বির ১৯, মুশফিক ৬১, সাকিব ১৫, মাহমুদউল্লাহ ২১, মোসাদ্দেক ১৫, মাশরাফি ৩০*, তাসকিন ১১*; ভুবনেশ্বর ২/৫৩, পান্ডিয়া ০/৩৪, অশ্বিন ০/৫৪, জাদেজা ১/৪৮, যাদব ২/২২,বুমরাহ ২/৪০, )

ভারত: ৪০.১ ওভারে ২৬৫/১ (রোহিত ১২৩*, ধাওয়ান ৪৬, কোহলি ৯৬*; মাশরাফি ১/২৯,মাহমুদউল্লাহ ০/১০, তাসকিন ০/৪৯, রুবেল ০/৪৬, সাকিব ০/৫৪, মোসাদ্দেক ০/১৩, সাব্বির ০/১১,মুস্তাফিজ ০/৫৩,)

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

শুরুটা ভালো করেও ২২১ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ

MD BILLAL HOSSAIN

কঠিন সমীকরণ বাংলাদেশ দলের জন্য

Rohit Khan fzs

হঠাৎ কেন খেয় হারিয়ে ফেলল বাংলাদেশ?

Merajul Bondhon

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy