কেইস স্টাডি

ভালবাসার ফেরিওয়ালা – সিরিজ -১ম – পর্ব -শেষ পর্ব

প্রথম পর্বের পর

এই কথা শোনার পর সোহানের হাত থেকে কফির কাপ করে যায় । চোখে দিয়ে কয়েক ফোটা পানি গাল বেয়ে যখনি নিচে পড়তে যাবে তখনি মেঘলা তার পানি মুছে তাকে জড়িয়ে ধরে । সোহানের মনে হচ্ছি সে তার স্বর্গ পেয়ে গিয়েছে । আসলে ভালোবাসা বুঝি এমনি হয় । এভাবে চলতে থাকে তাদের ভালোবাসা । সোহানের শুধুই একটাই সমস্যা , তা হলো অল্প তে তার রাগ উঠে যায় ।সেই রাগ আবার চলে যায় খুব দ্রুত । সোহানের একদিনের একটা ঘটনা বলি –
একদিন ক্লাস শেষ করে তারা দুই জন বের হয়েছে । শীত যাবে যাবে এমন সময় নামলো মুসল ধরে বৃষ্টি । সোহানের পরনে ছিল ব্লেজার । তারা দুই জন বৃষ্টিতে ভিজে রওনা দিলো । কিছুক্ষণ পর সোহান বুঝতে পারলো মেঘলা শীতে কাঁপছে ।সোহান নিজের ব্লেজার খুলে মেঘলার গায়ে দিয়ে বলল , তোমার ঠাণ্ডা লাগছে তুমি পড়ো । মেঘলা বলে উঠলো – বাংলা মুভি মনে হয় একটু বেশি দেখো । এই কথা বলে দুই জন হেঁসে দিল । এভাবে চল ছিল তাদের ভালোবাসা । এক জনের প্রতি আরেক জনের খুব কেয়ার ।

এক জন কে ছাড়া আরেক জন থাকতে পারে না । যেদিন সোহান ক্লাসে না আসে , সে দিন সবাই ধরে নেয় মেঘলাও ক্লাসে আসবে না । মেঘলার আবার নীল গোলাপ খুব পছন্দ । সোহান তার জন্য প্রতিদিন একটি করে নীল গোলাপ নিয়ে আসে । সোহান মেঘলাকে বলে – তোমার নাম মেঘলা না হয়ে নীলা হলে খুব ভালো হতো । তোমাকে নীল রঙে খুব সুন্দর মানায় । তখন মনে হয় তোমার দিকে তাকিয়ে থাকি । আচ্ছা শুনো তুমি কখনো পূর্ণিমা রাতে বারান্দায় যাবে না । মেঘলা খুব অবাক হয়ে প্রশ্ন করে কেন ? সোহান হেঁসে বলে – না মানে , তুমি তো অনেক সুন্দর , তুমি যদি তোমার রূপ নিয়ে বাহিরে যাও তাহলে তো পূর্ণিমার চাঁদ তোমাকে দেখে লজ্জা পেয়ে মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকবে । আর আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের কষ্ট হবে , অবশ্য আমি ছাড়া । কারণ সবার কাছে তো তুমি নেই তাই না । মেঘলা এই কথা শুনে তার হাসি থামাতে পারে না । মেঘলা সোহান কে বলল – তুমি একটু বেশি চাপা মারো । সোহান একটু রাগ হয়ে বলল – চাপা মারলে মারলাম । আমার ভালোবাসার জন্য না হয় একটু মারলাম । এই তাদের ভালোবাসা । কিন্তু মেঘলা নামের সাথে তাদের ভালোবাসার অনেক মিল । তাদের ভালোবাসার পৃথিবীতে মেঘ এসে জমা হতে বেশি দিন সময় নেয়নি ।

সোহান কিছু হলেই রাগ করে । আর সেই রাগ ভাঙাতে ভাঙাতে মেঘলা প্রায় সময় বলে বসতো , আমি খুব ক্লান্ত তোমার রাগ ভাঙাতে । সোহানের যখন রাগ বেশি উঠে যেত , তখন সে তার প্রায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলতো ।.ওই মুহূর্তে সোহান কাকে কি যে বলতো নিজেও জানতো না ।. আর এই জিনিস টাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের ভালোবাসার মাঝে ।. এক সময় এই রাগ তাদের ঝগড়াতে পরিণত হয় ।. এমন একটা দিন তাদের সামনে এসে দাঁড়ালো , যখন ভালোবাসার কথা থেকে ঝগড়া বেশি হতো ।.এমন কোনো দিন নেই যে ব্রেক আপ হয়নি , আবার তারা দুজন মিলে যায়নি ।.তারা দুই জন জানে তারা একে অপরকে অনেক ভালোবাসে । কিন্তু তারা আজ কেউ তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই । তাদের একদিনের ঝগড়া ছিল এমন –

কি ব্যাপার মেঘলা তোমাকে কল দিচ্ছি অনেকক্ষণ ধরে , তুমি তো দেখি কল ধরার নাম নেই । ব্যাপারটা কি ?
সোহান তুমি এভাবে কথা বলছি কেন ? এই কথা গুলো তো আমাকে শান্ত ভাবে বলতে পড়তে তাই না ?
তুমি কল ধরো না . আর বলছো শান্ত ভাবে বলবো ? করছিলে কি বলতো ?
মোবাইল টা ছোট ভাইয়ের কাছে ছিল , ও গেমস খেলছিল । মেবি ও ভুল করে সাইলেন্ট করে ফেলেছে তাই দেখেনি ।
আচ্ছা মেনে নিলাম সাইলেন্ট করেছে । এতক্ষণ হয়ে গিয়েছে একটা কল করার প্রয়োজন বোধ করনি । তার উপর কল দিয়েছি কল ধরণী । এখানে এসেছে আমাকে গল্প শোনাতে ?
সোহান আমি তোমাকে কল দিতাম , কিন্তু ঘরে একটু কাজ ছিল তা করছিলাম ।
প্লিজ মেঘলা আমাকে বোঝাতে এসোনা । তুমি যাকে সময় দিচ্ছিলে তাকে সময় দাও ।( সোহান কিন্তু জানতে মেঘলা আর কাউকে সময় দিচ্ছিল না । কিন্তু ওই যে রাগ উঠে গিয়েছে )
দেখো সোহান তুমি কিন্তু এখন আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলছো । আমি কি বাজারের মেয়ে নাকি ?
তার পরের ঘটনা ইতিহাস মানে তখন তাদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় তুমুল ঝগড়া ।

এই রকম অনেক দিন চলার মাঝে প্রতি দিনের মতো তাদের ব্রেক আপ হয় । সোহান তো জানে ব্রেক আপ হলে আবার কিছুক্ষণ পর ঠিক হয়ে যাবে । প্রায় ঝগড়া হওয়ার ২ ঘণ্টা পর সোহান কল দিলে মেঘলা কল ধরে না । সেদিন সারা দিন কল দিয়েছিলো , কিন্তু মেঘলা ধরেনি । পরের দিন খুব সকালে মেঘলাদের বাসার সামনে গিয়ে কল দেয় । তাও যখন ধরলো না তখন নিজে উপরে গিয়ে মেঘলা কে ডেকে নিচে নামিয়ে নিয়ে আসে ।

কি ব্যাপার কাল থেকে তোমাকে কল দিচ্ছি ধরো না কেন ?
এমনি ইচ্ছা করছিলো না ।
ইচ্ছা করছিলো না মানে , ফাজলামো করো ?
না
তো ধরণী কেন ?
ইচ্ছা হয়নি তাই
দেখো মেঘলা মেজাজ কিন্তু খারাপ হচ্ছে ।
সোহান গলা নামিয়ে কথা বলো । আমি আর তোমার সাথে সম্পর্ক রাখতে চাই না । অনেক দিন সহ্য করেছি । আর না । আমি আর পারবো না ।
এই কথা শোনা মাত্র সোহানের আকাশ ভেঙে মনে হলো তার উপরে পড়েছে । সোহান প্রায় কান্না করে দিবে দিবে এমন সময় বলে – মেঘলা প্লিজ তুমি এমন কিছু করো না । আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না । আমি ঠিক হয়ে যাবো ।
মেঘলার একটাই উত্তর – আমার পক্ষে আর সম্ভব না ।
সোহান তার সব টুকু দিয়ে চেষ্টা করেও সেদিন মেঘলার মন গলাতে পারেনি ।
তাদের দুই জন এর পথ তখন দুই দিকে ।

আজ সোহান পড়া শুনা ছেড়ে দিয়ে কাজ করছে । সেদিন কার পর থেকে আর নিজেকে বোঝাতে পারেনি সোহান । মেঘলার সামনা সামনি হওয়ার সাহস টাও ছিল না । আর মেঘলা আজ অনেক বড় সেলেব্রিটি ।

গল্পটি একটি সত্য ঘটনা । আমি গল্পের নাম গুলো ছদ্ম নাম ব্যবহার করেছি । আমাদের আশে পাশে তাকালে এই রকম হাজারো সোহান . মেঘলাকে পাবো । হয়তো সেই মেঘলা বা সোহানের মতো আপনিও এক জন ।

মোড়াল অফ দ্য স্টোরি – ভালোবাসা অতিরিক্ত হোক সমস্যা নেই , কিন্তু ভালোবাসার মধ্যে যেন রাগ না থাকে । অভিমান করা ভালো , কিন্তু রাগ করা ভালো না । এমন হাজারো সম্পর্ক আজ এই সামান্য রাগের কারণে শেষ হয়ে যাচ্ছে । আগে রাগ কে , নিজেকে কন্ট্রোল করতে শিখুন । ভালোবাসা এমনি ধরা দিবে ।

সামনে আরেকটি এই রকম সত্য গল্পের অবলম্বনে আসছে ঘটনা । সাথে থাকুন ।

 

ব্রিদ্রঃ সত্য গল্পের অবলম্বনে লেখা গুলো । প্রত্যেক মুহূর্তে মনে হবে আপনার জীবনে ঘটে গিয়েছে । প্রত্যেক গল্পের দুইটি পর্ব থাকবে । এটি একটি সিরিজ । প্রথম গল্প প্রকাশের দ্বিতীয় দিন তার দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ হবে । লেখা গুলো কেসই স্টাডি মূলক লেখা । প্রতি গল্পের শেষে অবশ্যই আপনার জন্য একটি করে ম্যাসেজ থাকবে ।

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

“Cold War” বা স্নায়ু যুদ্ধের গোড়াপত্তন

MP Comrade

ডিজিটাল যুগে মার্কেটিং যাদুর স্থান

Sharmin Boby

সুস্থতার চাবিকাঠি “খাদ্যাভাস পরিবর্তন”

MP Comrade

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy