Now Reading
অল এশিয়া ফাইনালের অপেক্ষায় গোটা ক্রিকেট দুনিয়া



অল এশিয়া ফাইনালের অপেক্ষায় গোটা ক্রিকেট দুনিয়া

final 1.jpg

আর মাত্র একদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ বছরের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট ম্যাচটি। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে কাল মাঠে নামবে দুই  চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত এবং পাকিস্তান। ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি কিছু, পরতে পরতে রোমান্সে ঠাসা ক্রিকেট বিনোদনের পরিপূর্ণ এক  প্যাকেজ। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বুঁদ হয়ে থাকা। এমন লড়াইয়ের জন্যই অপেক্ষায় থাকে ক্রিকেট বিশ্ব। ক্ষণে ক্ষণে রং পাল্টাবে, পেন্ডুলামের মতো দুলবে ম্যাচের ভাগ্য। প্রতি মুহূর্তে আনন্দময় উৎকণ্ঠায় চলা ব্যাট-বলের এই দ্বৈরথের আবেশ ‘শেষ হইয়াও হয় না শেষ’! কথাগুলো যে চিরসত্য; তা জানা আছে অগণিত ক্রিকেটপ্রেমীদের। যেকোনো খেলায় ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হলেই ভোল্টেজ ‘হাই’ হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি উত্তাপ, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে উপমহাদেশের সমর্থকদের মধ্যে। উপমহাদেশের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের স্নায়ুর ওপর দিয়ে যে আগামীকাল ঝড় বয়ে যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দক্ষিণ এশিয়াতেই থাকছে। সেমিফাইনালের টিকেট পাওয়া চারটি দলের তিনটিই ছিল উপমহাদেশের। আর  এখন  ফাইনালেও নিশ্চিত এশিয়ানরা।

পাকিস্তান দলের ফাইনাল যাত্রাঃ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে এজবাস্টন মাঠে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের দল ভারত নির্ধারিত ৪৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রান তোলে।হাইভোল্টেজ ম্যাচে বৃষ্টির জন্য পাকিস্তানের ইনিংস দেরিতে শুরু হওয়ায় টার্গেট ছিল ৪১ ওভারে ২৮৯ রান। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে ১২৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে দেয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে। ভারতের কাছে বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের পর থেকে পাকিস্তান দল একটা বিরাট পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। ভারতের কাছে হার ওদের কাছে এক  বিরাট বড় ধাক্কা ছিল। ওই ম্যাচের পর থেকে প্রাক্তনদের খোঁচা আর  দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনায় বিদ্ধ হতে হয়েছে শোয়েব মালিক-মহম্মদ হাফিজদের। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল ওদের। এবং তারপর থেকে একমাত্র ঘুরে দাঁড়ানোই ছিল ওদের সামনে বাঁচার রাস্তা। শুধু ঘুরে দাঁড়িয়েছে বললে ভুল হবে, যে দলকে কেউ গুণাতেই ধরেনি, সেই পাকিস্তান দল এখন শিরোপা থেকে মাত্র একটি ম্যাচ দূরে! দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে যায় পাকিস্তান। ৫০ অভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ হয়,  ২১৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে। পাকিস্তান ইনিংসের ২৭তম ওভার শেষে বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এ সময় ১১৯/৩ সংগ্রহ নিয়ে বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে এগিয়ে ছিল পাকিস্তান। ফলে আর খেলা না হওয়ায় বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে জয় পায় পাকিস্তান।‘বি’ গ্রুপ এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৪৯ দশমিক ২ ওভারে ২৩৬ রানেই  গুটিয়ে যায় শ্রীলংকা। জবাবে ৩১ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে ২৩৭ রান তুলে জয়ের স্বাদ পায় পাকিস্তান। এর ফলে সেমি ফাইনালে উঠে যায় পাকিস্তান। সেমি ফাইনালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ডের শুরু আর  শেষটা হলো ভিন্ন। পাকিস্তানি বোলারদের তোপে নির্ধারিত ৫০ ওভারই ব্যাট করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ৪৯.৫ ওভারে ২১১ রানে অলআউট  হয় ইয়ন মরগানের দল। জয়ের জন্য ২১২ রানে লক্ষ্যমাত্র নিয়ে খেলতে নেমে মাত্র ৮ উইকেট হারিয়ে ১১.৫ ওভার বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় পাকিস্তান। যার পরিপ্রেক্ষিতে জয়ের সাথে সাথে ফাইনালে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।

ভারত দলের ফাইনাল যাত্রাঃ এই ম্যাচটিতে ভারতই বেশি চাপে থাকবে। কারণ হট ফেভারিটের তকমা গায়ে মেখে মাঠে নামবে তারা।গ্রুপের প্রথম ম্যাচে এজবাস্টন মাঠে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের দল ভারত নির্ধারিত ৪৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রান তোলে।হাইভোল্টেজ ম্যাচে বৃষ্টির জন্য পাকিস্তানের ইনিংস দেরিতে শুরু হওয়ায় টার্গেট ছিল ৪১ ওভারে ২৮৯ রান। ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে ১২৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে দেয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে।দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৭ উইকেটে হেরে যায় ভারত। আসরে টিকে থাকার লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে জয় পেয়েছিল কোহলির দল। ১৫ জুন দ্বিতীয় সেমিফাইনালে একপেশে ম্যাচে  বাংলাদেশকে নয় উইকেটের বিশাল ব্যাবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে ভারত।

ভারত এ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চতুর্থবার ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রথমবার ফাইনালে খেলছে। ভারত বর্তমান চ্যাম্পিয়নও।ভারত-পাকিস্তান একবার স্বপ্নের ফাইনাল হয়েছিল। সেটা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হয়ে, সেবার ভারতের কাছে ৫ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। যদিও জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল টান টান উত্তেজনায় ভরা। এছাড়া আইসিসি বিশ্বকাপ বলুন কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি- কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে দেখা হয়নি দু’দেশের।

কাল লড়াইটাও কি হবে পাকিস্তানি বোলার বনাম ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের? সেই লড়াইয়ে কে হাসবে তা জানতে অপেক্ষা করা ছাড়া তো আর উপায় নেই।রিকেটের সব রঙ, রূপ, রস, গন্ধ মিলে মিশে একাকার হয়ে যাবে যেন এই একটি ফাইনালকে ঘিরে। যেই ট্রফি ঘরে তুলুক। আরেকটি এশিয়া ভিত্তিক ফাইনাল দেখবে ক্রিকেট বিশ্ব।

ভারত-পাকিস্তান সেরা ১০ ওয়ানডেঃ

১৮ জানুয়ারি ১৯৮৮

পাকিস্তানকে (৩১৪/৫) তিন উইকেটে হারায় ভারত। ঢাকায় ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপের ফাইনালে

* এক বল বাকি থাকতে জয়সূচক বাউন্ডারি হাঁকান ঋষিকেশ কানিতকার

১৮ এপ্রিল ১৯৮৬

ভারতকে (২৪৫/৭) এক উইকেটে হারায় পাকিস্তান (২৪৮/৯)। শারজায় অস্ট্রেলিয়া কাপ ফাইনালে

* শেষ বলে চেতন শর্মাকে ছয় হাঁকান জাভেদ মিয়াঁদাদ

২২ মার্চ ১৯৮৫

ভারত (১২৫) জয়ী ৩৮ রানে। ৮৭ রানে অলআউট পাকিস্তান।

শারজায় চার জাতির সিরিজে

* ইমরান খান মাত্র ১৪ রানে ছয় উইকেট নেন

২৫ অক্টোবর ১৯৯১

পাকিস্তান (২৬২/৬) ভারতকে (১৯০) হারায় ৭২ রানে। শারজায় উইলস ট্রফির ফাইনালে

* আকিব জাভেদ হ্যাটট্রিকসহ সাত উইকেট নেন মাত্র ৩৭ রান দিয়ে

৯ মার্চ ১৯৯৬

ভারত (২৮৭/৮) পাকিস্তানকে (২৪৮/৯) হারায় ৩৯ রানে।

বাঙ্গালোরে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে

* অজয় জাদেজা ২৫ বলে ৪১ রান করেন

১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭

ভারত (১৮২/৬) পাকিস্তানের (১৪৮) বিপক্ষে জয়ী হয় ৩৪ রানে।

টরেন্টোয় সাহারা কাপে

* সৌরভ গাঙ্গুলী ১৬ রানে পাঁচ উইকেট নেন

১৬ এপ্রিল ১৯৯৯

পাকিস্তান (১২৯/২) আট উইকেটে হারায় ভারতকে (১২৫)।

কোকাকোলা কাপে

* ওয়াসিম আকরাম ১১ রানে তিন উইকেট নেন

১ মার্চ ২০০৩

পাকিস্তানের (২৭৩/৭) বিপক্ষে ছয় উইকেটে জয়ী হয় ভারত (২৭৬/৪)

বিশ্বকাপের গ্র“প ম্যাচে

* শচীন টেন্ডুলকার ৯৮ রান করেন

৩০ মার্চ ২০১১

ভারত (২৬০/৯) পাকিস্তানকে (২৩১) হারায় ২৯ রানে।

মোহালিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

* শচীন টেন্ডুলকার ৮৫ রান করেন

১৩ মার্চ ২০০৪

ভারত (৩৪৯/৭) পাঁচ রানে জয়ী হয়

পাকিস্তানের (৩৪৪/৮) বিপক্ষে।

করাচিতে দুদেশের মধ্যে ওয়ানডে সিরিজে

* ইনজামাম-উল-হক ১২২ রান এবং রাহুল দ্রাবিড় ৯৯ করেন।

About The Author
Md. Nizam Uddin
Md. Nizam Uddin
HR & Admin In-Charge at my office & article writer.

You must log in to post a comment