Now Reading
The Exam (2009) মুভি রিভিউ এবং ব্যাখ্যা



The Exam (2009) মুভি রিভিউ এবং ব্যাখ্যা

পরীক্ষায় আমরা প্রশ্নপত্র পেয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকি। কিন্তু এমন কি কোন প্রশ্নপত্রের ঘটনা শুনেছেন যেখানে কোন প্রশ্নই নেই। The Exam মুভির গল্পটা ঠিক এইরকম।

রিভিউ শুরু করার আগের মুভির ট্রেইলারটা একবার দেখে নেয়া যাক।

 

 

মুভিটি একটি সাইকোলজিকাল থ্রিলার ঘরানার মুভি। এবং এই ধরনের মুভি আমার সবসময়ই ভাল লাগে। কাহিনী খুবই সাধারণ। ৮ জন পরীক্ষার্থী একটি রহস্যময় ও বড় একটা কোম্পানিতে চাকুরির জন্য অনেক প্রতিযোগিতার পর ফাইনাল রাউন্ডের পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে। তাদেরকে একটি বদ্ধ রুমে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে কোন জানালা নেই এবং একটি মাত্র দরজা রয়েছে । তাদের প্রত্যেকের জন্য একটি করে টেবিল এবং চেয়ার রয়েছে। তাদের সবাইকে একটি করে নাম্বার দেয়া হয় ক্যান্ডিডেট #১ থেকে ক্যান্ডিডেট #৮ পর্যন্ত। একজন ইনভিজিলেটর এসে পরীক্ষার তিনটি শর্ত দিয়ে দেন।

১. গার্ড বা পরিদর্শক কারো সাথে কথা বলা বা বলার চেষ্টা করা যাবে না;
২. পরীক্ষার খাতা বা উত্তরপত্র কোন অবস্থাতেই নষ্ট করা যাবে না;
৩. যেকোন অবস্থাতেই পরীক্ষার হল থেকে বের হওয়া যাবে না;
যদি এর কোন একটা শর্তও ভঙ্গ করা হয় তাকে ডিসকোয়ালিফাই করা হবে। এখানে শুধুমাত্র কোম্পানির নিয়মে এবং আইন খাটবে, বাইরের আইন নয়। তাদেরকে একটা প্রশ্নের উত্তর দেবার জন্য ৮০ মিনিট সময় দেয়া হয়। ইনভিজিলেটর স্টপওয়াচ চালু করে আর্মড সিকিউরিটি গার্ড কে রেখে বের হয়ে যান।

সময় ৮০ মিনিট এবং প্রশ্ন মাত্র একটা। উত্তরও দিতে হবে একটাই। কিন্তু সমস্যাটা বাধে এখানেই। তাদের যে উত্তরপত্র দেয়া হয় সেটা কোন প্রশ্ন নেই এবং পুরোটাই ফাঁকা পৃষ্ঠা। তারা ভাবতে থাকে প্রশ্ন ছাড়াই উত্তর দেবে কিভাবে। একজন চাইনিজ ক্যান্ডিডেট উত্তরপত্রে লেখা শুরু করার সাথে সাথেই তাকে ডিসকোয়ালিফাই করা হয়। এটা দেখে অন্যরা উত্তরপত্রে লেখা হতে বিরত থাকে। কিছুক্ষণ পরে তারা বুঝতে পারে যে সবাই একে অপরের সাথে কথা বলতে পারবে এবং কাজও করতে পারবে। ‘হোয়াইট’ নামধারী একজন ক্যান্ডিডেট অন্যদের নামকরণ করে ‘ব্লন্ড’, ‘ব্রাউন’, ‘ডার্ক’ ইত্যাদি নামে একে অপরের সাথে যোগাযোগের জন্য। তারা সবাই প্রশ্নটা কি এটা বের করার জন্য একে অপরের সাথে কাজ করার জন্য একমত পোষণ করে। তারা বিভিন্নভাবে প্রশ্ন বের করার চেষ্টা করে। প্রথমে তারা ধারণা করে যে উত্তরপত্রেই কোন ভাবে প্রশ্ন লুকিয়ে আছে। অদৃশ্য কালি, থুথু, আলো সবকিছু দিয়েই পরীক্ষা করে দেখে কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না। এভাবেই কাহিনী এগিয়ে যেতে থাকে। বাকিটুকু আমি আর বললাম না। আপনারা বরং মুভিতেই দেখে নেবেন।

মুভির সম্পর্কে এক্সপেক্টেশনটা খুব একটা বেশি ছিল না। কিন্তু মুভিটি দেখার পর জাস্ট একটা কথাই বেরিয়ে এলো, ‘ওয়াও’। প্লট টাকে দুর্দান্ত ভাবে মুভিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক মূহুর্তের জন্যও বোরিং লাগেনি। পুরো মুভিতে মাত্র দশজন অভিনিয় করেছেন। খুব অসাধারণ অভিনয় না হলেও সকলেই সাবলিল অভিনয় করেছেন। যদিও এদের কেউই জনপ্রিয় অভিনেতা নন তবুও কাস্টিং টা একবার দেখে নেয়া যাকঃ

লুক ম্যাবলি – হোয়াইট এর চরিত্রে

অ্যাডার বেক – ডার্ক এর চরিত্রে
গেমা চ্যান – চাইনিজ মহিলার চরিত্রে

নাথালি কক্স – ব্লন্ড এর চরিত্রে
জন লয়েড ফিলিংহ্যাম – বধির এর চরিত্রে
চাকুদি ইয়ুজি – ব্ল্যাক এর চরিত্রে
পলিয়ানা ম্যাকিনটশ – ব্রুনেট এর চরিত্রে

জিমি মিস্ট্রি – ব্রাউন এর চরিত্রে
কলিন স্যামন – ইনভিজিলেটর এর চরিত্রে

ক্রিস কেরি – গার্ড এর চরিত্রে

 

মুভিটি সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাকঃ
আইএমডিবি রেটিংঃ ৬.৯

রোটেন টম্যাটোস রেটিংঃ ৬৩%

পরিচালনা, গল্প লেখা, প্রযোজনাঃ স্টুয়ার্ট হ্যাজেল্ডলাইন

মুক্তির তারিখঃ  জুন ২০০৯

রানিং টাইমঃ ৯৮ মিনিট
দেশঃ যুক্তরাজ্য

বাজেটঃ ৬ লক্ষ মার্কিন ডলার

পরিচালক খুব দক্ষতার সাথে গল্পটাকে উপস্থাপন করেছেন। দেখে মনেই হয় নি যে এটা ওনার প্রথম মুভি। প্লট টা দারুন এবং লো বাজেট হওয়া সত্ত্বেও মুভিটি অসাধারণ ছিল। পুরা সিনেমা জুড়েই থ্রিল বজায় ছিলো এবং বেশ কিছু টুইস্টও আছে মুভির শেষের দিকে। স্টুয়ার্ট হ্যাজেল্ডলাইন মূল গল্প থেকে কিছুটা পরিবর্তন করে মুভিটি বানান। মূল গল্পে পরীক্ষাটি একটি স্কুলে হয় কিন্তু পরিচালক মুভির পরীক্ষাটিকে চাকরির ইন্টারভিউ হিসেবে দেখিয়েছেন।  মুভির সিনেমাটোগ্রাফি, এডিটিং, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও ভাল ছিল।

আপনার যদি থ্রিলার মুভির ভক্ত হয়ে থাকেন তাহলে দেরি না করে আজই দেখে ফেলুন। আশা করি আমার মত আপনারও মুভিটি ভালো লাগবে।

এই মুভিটিকে আমি ১০ এ ৮ রেটিং দিব।

 

হাই স্পয়লার এলার্ট
অনেকে মুভিটা দেখার পরেও ধরতে পারেন নি যে প্রশ্নটা আসলে কি ছিল। মুভির শেষের দিকে ভাঙ্গা গ্লাস উত্তরপত্রের উপর ধরলে দেখতে পায় যে লেখা “Question 1.?” তাহলে প্রশ্নটা আসলে কি ছিল?

মুভির শুরুতেই ইনভিজিলেটর পরীক্ষার নিয়ম বলার পর সবাইকে জিজ্ঞেস করেন কোন প্রশ্ন আছে কিনা। এটা কিন্তু কোন সাধারণ প্রশ্ন ছিল না। পরীক্ষার প্রশ্ন কিন্তু মূলত এটাই ছিল। কোন পরীক্ষার্থী যদি বলত কোন প্রশ্ন নেই তাহলে সেই তখনই পরীক্ষায় উন্নীত হত। ব্লন্ড পরবর্তীতে বুঝতে পারে যে তাদেরকে একটাই প্রশ্ন করা হয়েছিল। তাই সে উত্তর দেয় ‘নো কোয়েশ্চচেন’। এরপরেই ইনভিজিলেটর এবং সিইও প্রবেশ করে এবং তাকে জানায় যে সে পরীক্ষায় উন্নীত হয়েছে।

 

রিভিউটি কেমন লেগেছে তা জানাতে ভুলবেন না। আমি আরও রিভিউ নিয়ে আপনাদের সামনে ভবিষ্যতে হাজির হব।

 

About The Author
Shahed Hasan
Shahed Hasan
I currently studying in St. Joseph Higher Secondary School, Dhaka. I love reading books, watching movies, playing cricket.

You must log in to post a comment