Now Reading
“World’s Greatest Dad” মুভি রিভিউ



“World’s Greatest Dad” মুভি রিভিউ

70112475.jpg

আমরা যারা বাবা তারা সন্তানের ভুল দেখলে কি করি ? তাকে সঠিক পথে আনার চেষ্টা করি | যদি না আসে তাহলে, তাকে মানসিক কিংবা কোনক্ষেত্রে শারীরিকভাবে  নির্যাতন করি | এসব সাধারণ কাজ ছাড়াও আরো যা করি তাহলো, তাকে ত্যাজ্যপুত্র হিসেবে আন অফিসিয়াল ঘোষণা দেয়া কিংবা তার যেকোনো খারাপ কাজের দায়ভার কে তার উপরেই চাপিয়ে দেয়া | বিষয়টা, যেন এরকম সন্তানের ভালো আর সাফল্যের ভাগিদার হতেই বাবা কিংবা মা প্রস্তুত ! তবে, সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা চিত্র দেখা যায় “World’s Greatest Dad” নামক মুভিটিতে | যেখানে, একজন বাবা তার বখে যাওয়া ছেলের মৃত্যুতে তার জীবন স্মরণীয় করে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে |
সম্পূর্ণ নতুন এবং ভিন্ন এক স্বাদ পাওয়া যাবে মুভিটিতে | যারা এখনো মুভিটি দেখেন নি তারা আজ ১৮ জুন বাবা দিবস উপলক্ষে চটজলদি দেখে ফেলতে পারেন |

 

মুভির স্টোরি

এখানে, Lance Clayton (Robin Williams) নামের একজন হাই স্কুল ইংলিশ টিচারকে ঘিরে পুরো প্লট নির্মিত | যার সারা জীবনের স্বপ্ন ছিল একজন জনপ্রিয় লেখক হবার | তিনি ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সাহিত্য লিখেছিলেন কিন্তু, তার সবগুলোই পাঠক প্রিয়তা পাবেনা এই সন্দেহে পাবলিশার কর্তৃক বাতিল হয়েছিল | তার ১৫ বছরের ছেলে Kyle Clayton (Daryl Sabara) একজন পর্ণগ্রাফিতে আসক্ত বখে যাওয়া এক ছেলে | যার সারাদিনের কাজই ছিল মেয়েদের গোপন ছবি সংগ্রহ করা | এসব, দেখে নোংরা আনন্দ পেতেই সে তার সারা সময় ব্যয় করত | বলাই বাহুল্য, পড়াশোনায় সে ছিল ঠিক একেবারে পিছনের সারিতে | প্রায়ই তার নামে স্কুল থেকে বাসায় কমপ্লেইন আসত | Kyle এখানে যেই স্কুলে পড়ত সেই স্কুলেই আবার তার বাবা টিচার হিসেবে ছিল কাজেই, তার বাবার জন্য তা ছিল অনেক অসম্মানজনক | Kyle এর সাথে কেউ বন্ধুও হতে চাইতনা | কারন, সে পুরোপুরি অপদার্থ একটা ছেলে ছিল | তবে, তাও তার একজন বন্ধু ছিল যার নাম Andrew (Evan Martin) | সে সন্ধ্যার সময় তাদের বাসায় বেড়াতে আসত, কারণ, এতে তার অ্যালকোহোল আসক্ত মাকে এড়িয়ে চলতে পারত । তবে, এর মধ্যে Kyle এর অত্যাধিক খারাপ একেডেমিক পারফরমেন্স এবং লজ্জাজনক আচরনের জন্য সে স্কুলের প্রিন্সিপাল Anderson (Geoff Pierson) এর নজরে আসে । তিনি, তার বাবা অর্থাৎ, Lance কে অন্য কোন স্কুলে ট্রান্সফার করার জন্য অনুরোধ করেন ।

এদিকে, Lance সেই স্কুলের Claire (Alexie Gilmore) নামের একজন জুনিওর টিচার কে মনে মনে পছন্দ করতেন । তাদের, মধ্যে একধরনের “Non-committal” রিলেশনশীপ ছিল । অর্থাৎ, পাবলিকলি বিষয়টা কেউ জানতোনা । তবে, এখানে সেই জুনিওর টিচার অর্থাৎ, Claire তাদেরই একজন সহকর্মী Mike (Henry Simmons) এর সাথেই সময় ব্যয় করতে বেশি পছন্দ করত । যে কিনা আবার Lance এর চেয়ে অনেক বেশি সফল । এরই মধ্যে, একদিন Lance তার এক বয়স্ক প্রতিবেশী Bonnie (Mitzi McCall) এর সাথে ভাব জমিয়ে ফেলেন যেদিন কিনা তার Claire এর সাথে ডেটে যাওয়ার কথা ছিল; কিন্তু কোনো এক জটিলটায় Claire তা বাদ দিয়ে দেয় ।

মোটামুটি এইভাবেই তাদের জীবন চলছিল । তবে, হঠাৎ করেই তা ভিন্ন একদিকে মোড় নেয় যখন, Kyle মারা যায় । Lance তাকে তার কম্পিউটার স্ক্রিন এর সামনে পরে থাকতে দেখে । পরে সে আবিষ্কার করে অতিরিক্ত মাস্টারবেশনের কারনে, “Autoerotic asphyxiation” নামক জটিলতায় সে মারা যায় । কিন্তু, তার নিজের ছেলের এরকম করুন পরিণতি সে মেনে নিতে পারে না । তার কাছে মনে হয় তার ছেলে আর ভালো কিছু ডিসার্ভ করে । আর তাই তিনি এইটাকে একটা সুইসাইডের ঘটনা হিসেবে সাজায় আর তার ছেলের হয়ে একটা সুইসাইড নোট ও তার কম্পিউটার এ লিখে রাখে । পরে, তার এক ক্লাসমেট সেই নোট পান আর সাথেসাথে তা স্কুলের নিউজপেপারে ছাপিয়ে দেয় । আর এর ফলেই, পুরো ঘটনাটা পুরোপুরি ভিন্ন দিকে মোড় নেয় । পুরো স্কুলে তখন Kyle এর নাম ছড়িয়ে পরে । সবার মধ্যেই তখন Kyle  এর প্রতি একধরনের মমতাবোধ জন্মাতে থাকল । এরপরে, মোটামুটি সবাই দাবি করতে থাকল তারা একসময় Kyle এর ফ্রেন্ড ছিল ! সবাই, তখন এই ভেবে দুঃখ পেতে লাগলো যে এতো প্রতিভাধর একজন ছেলে তাদের সহপাঠী ছিল অথচ তারা কিনা তা জানতোনা !

এর মধ্যে, তার বাবা তার ছেলের হয়ে এক জার্নাল লেখার সিদ্ধান্ত নেয় । যেইটা কিনা, তার ছেলেই মৃত্যুর আগে লিখেছে বলে দাবি করা হল । বলাই, বাহুল্য এরপর সকলেই আবার নতুন করে Kyle কে জানতে পারল । আর এরমধ্যে, Kyle এর কারনে তার বাবা তুমুল জনপ্রিয়তা পেল । তবে, এসব কিছুই Kyle এর ফ্রেন্ড Andrew এর কাছে সন্দেহজনক মনে হতে লাগলো । কারণ, সে  জানতো Kyle এর ক্যারাক্টার এর সাথে লেখাগুলো মোটেও খাপ খায়না । এই নিয়ে Lance কে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো পাত্তাই দেয়না । ঘটনা দেখে মনে হতে পারে, Lance তার ছেলেকে বিক্রি করে তার নিজের ব্যাক্তিগত স্বপ্ন পূরণ করতে চাইছে । কিন্তু, ভুল ভাঙ্গে যখন এর মধ্যে, Kyle কে নিয়ে তাদের স্কুলে এক লাইব্রেরী খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং তার আগে Lance কে তার ছেলে সম্পর্কে কিছু বলতে বলা হয় । সেখানে, Lance পুরো সত্যি ঘটনাই বলে ফেলে; যে তার ছেলে অতিরিক্ত মাস্টারবেশনের কারনে মারা গিয়েছে; আর, তার সকল নোট এবং জার্নাল তার নিজেরই লেখা ! বলাই বাহুল্য, এই সত্য জানার পরে Claire এর তার উপর যেই ইন্টারেস্টটুকু ছিল তাও আর অবশিষ্ঠ থাকলোনা । শেষে, তাকে তার সেই সহকর্মী Mike এর কাছেই ফিরে যেতে দেখা যায় ! আর একেবারে, শেষ দৃশ্যে Lance কে,  Kyle এর ফ্রেন্ড Andrew এবং তাদের সেই প্রতিবেশী Bonnie এর সাথে একসাথে বসে টেলিভিশন দেখতে দেখা যায় । Lance কে যথেষ্ট হাসিখুশি মনে হচ্ছিল এবং তাকে দেখে মনে হচ্ছিল সে যেন এখন মুক্ত, স্বাধীন এবং সর্বপরি সফল একজন বাবা ।

 

যাইহোক, আজকে এই পর্যন্তই । এইটা আমার জীবনের প্রথম মুভি রিভিউ । কাজেই, গঠনগত সমস্যা থাকা স্বাভাবিক; কেউ ধরিয়ে দিলে কৃতজ্ঞ থাকব । তবে, আশা করছি লেখাটা অন্ততপক্ষে সবার মধ্যে এই মুভিটা দেখার আগ্রহ সৃষ্টি হবে; ওইটা হলেই, আমার এই লেখা সার্থক । সবাইকে ধন্যবাদ ।

About The Author
Jannatul Firdous
Studying in Computer Science & Engineering (CSE)

You must log in to post a comment