অশ্রুত, অপরিচিত রথসচাইল্ড পরিবার

Please log in or register to like posts.
News

কিভাবে এই রথসচাইলড পরিবারের উত্থান ?যাদের এ পৃথিবীতে ৫০০ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ রয়েছে;হাতেগোনা কয়েকটি দেশ ছাড়া সবগুলো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক;পর্দার আড়ালে থেকেই সম্রাট নেপোলিয়নের সময় থেকেই অনেক যুদ্ধের অর্থ-অস্ত্রের যোগানদাতা;তাবৎ দুনিয়ার খনিজ সম্পদ দখল করে নিতে মরিয়া আর মূলধারার গনমাধ্যম তাদের হাতের পুতুল।একসাথে কতকিছুই না নিয়ন্ত্রণ করছে, অবাক করার মত ব্যাপার। কিন্তু, এমন আমরা অনেকেই আছি যারা হয়তো রথসচাইলড শব্দটির সাথেই পরিচিত নই।
এই ধরণীর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ও ধনী পরিবার হিসেবে পরিচিত রথচাইল্ড পরিবারের কারো নাম কখনো কোন ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় পাওয়া যাবে না।এত প্রভাবশালী মানুষগুলো নিয়ে মিডিয়াতে তেমন একটা প্রচার-প্রচারণা নেই,নেই বিশদ আকারের প্রতিবেদন-প্রামান্যচিত্র ;সেলিব্রেটিদের স্ক্যানডাল সম্বলিত খবর হয়তো তার বিপরীতে অনেক।
বর্তমান এ পৃথিবী প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে নিঃসন্দেহে।কিন্তু লক্ষ করলে এটা স্পষ্টত যে ,ধনী আর গরিবের মধ্যেকার ব্যবধান দিন দিন বেড়েই চলছে।একটা নির্দিষ্ট অংশ যারা পৃথিবীর সিংহভাগ প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্তা;নানান দেশে যুদ্ধের পরোক্ষ কিন্তু মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। “বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক (নিম্নতর আয়ের) সমপরিমাণ লোকের সম্পদের পরিমাণ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী ৮ জন লোকের  সম্পদের পরিমাণের সমান “ অক্সফ্যাম এর একটি রিপোর্টে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
“বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কিং সিস্টেম “ নামক ধারণাটিকে সর্বপ্রথম বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে রথসচাইলড পরিবার। আর এখান থেকেই অর্থনৈতিক বৈষম্যের অনানুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।রথসচাইলড পরিবারের বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের শুরু হয় অষ্টাদশ শতাব্দীতে জার্মানীতে।ইহুদী স্বর্ণকার পিতার ব্যবসায়ী ছেলে মায়ের আমসেল বঊয়ার তার পাঁচ পুত্রকে পাঁচটি দেশে পাঠিয়ে তাদের ব্যাংক কে প্রথম আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।নেপলস,প্যারিস,ফ্রাঙ্কফুর্ট,ভিয়েনা এবং লন্ডনে তাদের ব্যাংক/ঋণ ব্যবসার একচ্ছত্র আধিপত্যের শুরু হয়।১৭৬০ সালেই এই আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার শুরু হয়।“ রথসচাইলড ফ্যামিলি” ট্যাগে ইউরোপের এই শহরগুলোতেই প্রথম ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রচলন হয়।ইউরোপের ধনী পরিবারগুলোকে তাদের ব্যবসার সাথে ধীরে ধীরে সংযুক্ত করতে থাকে রথসচাইলড পরিবার। আর এভাবেই বৈশ্বিক একটা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করে রথসচাইল্ডরা।আর্থিক অবস্থান পাকাপোক্ত করার পাশাপাশি ক্রমেই প্রভাবশালীদের তালিকায় চলে আসতে থাকে।
ইউরোপের এই পাঁচটি  শহরকে কেন্দ্র করেই ওদের ফুলে ফেঁপে বেড়ে ওঠার গল্পের শুরু। বৃটিশ ও ফ্রেঞ্চ সাম্রাজ্যের মধ্যে যে যুদ্ধ হয় তাতে দুইপক্ষকেই অর্থ সমর্থন করে রথসচাইলড পরিবার, ইতিহাস তাই বলছে।বৃটিশ ও ফ্রেঞ্চ অর্থনীতি বধের মাধ্যমেই ইউরোপের অর্থনীতি নিজেদের কব্জায় নিয়ে আসে রথসচাইল্ডরা।ইউরোপের রণক্ষেত্র ওয়াটারলুতে ফ্রেঞ্চদের পরাজয় হয়।প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যারন রথসচাইল্ড ব্রিটিশ সরকারকে লোন দেন এই শর্তে, যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনে ইহুদীদের জন্য নিজস্ব দেশ তৈরি করতে হবে।স্মরণকালের ভয়াবহ যুদ্ধ “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের” কয়েক বছর পরেই ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হয়।
তদকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড বেলফোর রাজি হয়ে যে ঘোষণা দেন এই ইস্যুতে তা “বেলফোর ঘোষণা” নামে পরিচিত।
আর ফলাফল হিসেবে আমরা জানি যে, ইসরাইল নামক একটি আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হয় ; দিনকে দিন তাদের বিস্তৃতির কারণে মানচিত্র থেকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আয়তন ছোট থেকে আরো ছোট হয়ে যাছে।জায়নবাদী ইসরাইলীদের আগ্রাসী মনোভাবে প্রাণ যাচ্ছে অসংখ্য ফিলিস্তিনিদের;পরিবার-গৃহহারা হয়ে হাজারো ফিলিস্তিনিদের পরিচয় হল, তারা আজ নিজ ভূমিতেই উদ্বাস্তু।
আর আজকের এ সময়ে রথসচাইল্ডরা খুবই শক্তিশালী অবস্থানে আছে।ইউরোপ নিয়ন্ত্রনের পরেই তাদের পরবর্তী লক্ষ্য ছিলঃ আমেরিকা ও বিশ্বনিয়ন্ত্রণ। অন্য অর্থে,মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার পিছনেও তাদের স্বরচিত নীল নকশা।তাদের সম্পদ বেশিরভাগই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা। তেল, কয়লা, ব্যাংক প্রভৃতি নানা ধরণের কোম্পানীতে তাদের বিনিয়োগ আছে। ধারণা করা হয় আমেরিকান কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ পৃথিবীর প্রায় প্রতিটা বড় ব্যাংকেই তাদের শেয়ার আছে।
আজকের বিশ্বে রথসচাইল্ডরা এবং তাদের মিত্ররাই রাজনীতি,যুদ্ধ,অর্থনীতি সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছে। কমার্শিয়াল কোম্পানি, মাইনিং কোম্পানি,খনিজ তেল-গ্যাস উত্তোলনকারি কোম্পানিগুলো রথসচাইল্নামটা ব্যবহার করছে না, তবে নিয়ন্ত্রণে সেই রথসচাইল্ডরাই।পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তি গুলোর নিন্দা হয় বেশি ;কিন্তু প্রভাবক হিসেবে পর্দার আড়াল থেকে কাজ করা রথসচাইল্ডদের সম্পর্কে হয়তো প্রতি ১০ জনের ৯ জন মানুষও ঠিকভাবে দুইটা লাইনও বলতে পারবে না।পৃথিবীর কারো ক্ষমতা নেই বের করবে এই পরিবার তাদের প্রাইভেট পার্টনারশীপের মাধ্যমে এই পৃথিবীর অর্থ সম্পদের ঠিক কত অংশের মালিক এবং আরো কত অংশ নিয়ন্ত্রন করে ।সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে রথসচাইল্ডদের অপতৎপরতা। আজ আবধি কোন মানবিক কাজে তাদের অংশগ্রহণের কোনরকমের রেকর্ড নাই। একবার চিন্তা করে দেখেন,এই পরিবারটি শুরু থেকেই এত প্রভাবশালী আর ক্ষমতাবান ছিল যে, ষড়যন্ত্র করে দুই দেশের রাজার মধ্যে (ওয়াটারলুর যুদ্ধ) যুদ্ধ লাগিয়ে দিতে পারত তারা । এরপর দুই রাজাকেই উচ্চ সুদে ঋণ দিত যুদ্ধের খরচ মেটানোর জন্য । যে দেশই জিততো না কেন, লাভের ভাগ ঘুরেফিরে ওই রথচাইল্ডের হাতেই যেত।
সর্বশেষ,উত্তর কোরিয়া আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান নিয়ে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে তার পিছনেও রথসচাইল্ডদের যোগসাজশ রয়েছে।কেননা, এই দুটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপরে এখন পর্যন্ত অন্য কোন দেশ বা তাদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। দেশ দুটির উপর অনেক আগে থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি আছে; অনেকটা একঘরে করেই রাখা হয়েছে দেশ দুটিকে।
রথচাইল্ড পরিবারের প্রকৃত অর্থসম্পদের পরিমান কোন বাইরের লোক জানতে পারবে না , পরিবারের কেউ জানাতে পারবে না । রথচাইল্ড পরিবারের কথা উঠলে জায়নবাদিদের সম্পর্কেও বলতে হয়; সেসব কথা আপাতত তোলা থাক।

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?