Now Reading
The Fate of the Furious রিভিউ



The Fate of the Furious রিভিউ

 

দ্য ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস হচ্ছে ফাস্ট অ্যান্ড দ্যা ফিউরিয়াস ফ্র্যাঞ্চাইজ এর অষ্টম মুভি। রেসিং এবং অ্যাকশননির্ভর মুভি প্রেমিদের  প্রিয় মুভির তালিকায় ফাস্ট অ্যান্ড দ্যা ফিউরিয়াস সিরিজের মুভিগুলো সবসময় উপরের তালিকায় থাকবে। প্রতিটা মুভির স্টান্ট দৃশ্যগুলো অসাধারণ এবং শ্বাসরুদ্ধকর। প্রথম দিকের মুভিগুলো রেসিং নিয়ে হলেও ধীরে ধীরে ফ্যামিলির সদস্য বেড়েছে এবং ফ্যামিলির বন্ধন আরো দৃঢ় হয়েছে। সিরিজের প্রথম মুভি বের হয় ২০০১ সালে। এরপর একের পর এক আরও সাতটি মুভি বের হয় এবং সিরিজের সর্বশেষ মুভিটি এ বছর মুক্তি পায়। মুক্তির পরেই মুভিটি বক্স অফিসে সাড়া ফেলে দেয়। ফিউরিয়াস ৭ এর পর দ্বিতীয় মুভি হিসেবে ১ বিলিয়ন ডলার এর মাইলফলক স্পর্শ করে। মুভিটি সর্বকালের সবচেয়ে বেশী আয় করা মুভির তালিকায় ১৩ নম্বর স্থানে অবস্থান করছে। মুভির বাজেট ছিল ২৫০ মিলিয়ন ডলার যেটি সবচেয়ে বেশী বাজেটওয়ালা মুভির তালিকায় ৭ নম্বরে রয়েছে।

মুভির শুরু হয় হাভানায়। ডম আর লেটি তাদের হানিমুনে হাভানায় যায়। সেখানকার রালডো নামের এক রেসার ডমকে রেস এ চ্যালেঞ্জ করে বসে। ডম রালডোর গাড়ির জন্য চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এবং অসম প্রতিযোগিতার পরেও ডম রেস জিতে যায়। সে রালডোকে তার গাড়ি তার কাছেই রেখে দিতে বলে এবং তার গাড়িটা তার চাচাতো ভাই ফার্নাদেজ কে দিয়ে দেয়। এরপরেই সাইফারের আবির্ভাব ঘটে। সে এসে ডমকে বলে তার জন্য কাজ করতে (এবং তার ফ্যামিলির বিরুদ্ধে যেতে)। সে তার ফোন থেকে ডমকে কিছু একটা দেখায় যেটা ডমের চিন্তাধারা পালটে দেয়।

ডমিনিক টোরেটোর বিশ্বাসঘাতকতার কারণে লুক হবস কে জেলে যেতে হয়। সাইফারের প্ল্যান ঠেকানোর জন্য ও ডমকে সাইফারের হাত থেকে ছাড়ার জন্য মি. নোবডির আবির্ভাব ঘটে। মি. নোবডির সাথে দেখা যায় তার সহযোগী মি. লিটল নোবডিকে। তারা জেল থেকে হবস কে ছাড়িয়ে আনে এবং সাইফারের সাথে পূর্বের শত্রুতার কারণে তাদের সাথে যোগ দেয় ফিউরিয়াস ৭ এর ভিলেন ডেকার্ড শ। হবস, শ, মি. নোবডির অর্গানাইজেশন, এবং তাদের ফ্যামিলি মিলে টিম গঠিত করে সাইফারকে ঠেকানো এবং ডমকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য।

কাস্টিংঃ
ভিন ডিজেল – ডমিনিক টোরেটো এর চরিত্রে
ডোয়াইন জনসন – লুক হবস এর চরিত্রে
জেসন স্ট্যাথাম – ডেকার্ড শ এর চরিত্রে
মিশেল রড্রিগেজ – লেটি অর্টিজ এর চরিত্রে
টাইরিস গিবসন – রোমান পিয়ার্স এর চরিত্রে
ক্রিস লুডাক্রিস ব্রিজ – টেজ পার্কার এর চরিত্রে
স্কট ইস্টউড – এরিক রেসনার এর চরিত্রে
নাথালি এমানুয়েল – রামসি এর চরিত্রে
এলসা পাতাকি – এলিনা নিভস এর চরিত্রে
কার্ট রাসেল – ফ্র্যাঙ্ক পেটি এর চরিত্রে
চার্লিজ থেরন – সাইফার এর চরিত্রে

মুভিটি সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ
আইএমডিবি রেটিং – ৭/১০
রোটেন টমেটোস রেটিং – ৬৬%
পরিচালক – এফ.গ্যারি গ্রে
প্রযোজক – নিল এইচ. মরিটয, ভিন ডিজেল, মাইকেল ফটরেল, ক্রিস মর্গান
মুক্তির তারিখ – ১৪ এপ্রিল, ২০১৭
রান টাইম – ১৩৬ মিনিট
বাজেট – ২৫০ মিলিয়ন ডলার
বক্স অফিস – ১.১৬৩ বিলিয়ন ডলার
ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস ফাস্ট এন্ড দ্য ফিউরিয়াস সিরিজের নিঃসন্দেহে সেরা মুভি। পুরো মুভি জুড়েই পল ওয়াকার কে মিস করেছি। অনেকের মত আমিও ভেবেছিলাম ফিউরিয়াস ৭ ই হবে সিরিজের শেষ মুভি। কিন্তু যখন শুনলাম যে সিরিজের আরো একটি মুভি আসবে তখন ভেবেছিলাম মুভিটা হয়ত বাজে হবে। কিন্তু ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস দেখার পর বুঝলাম যে এই মুভিটার আসলেই দরকার ছিল। এই মুভিটায় ভালো একটা মুভির সবগুলো উপাদানই ছিল।  পরিচালক এফ. গ্যারি গ্রে চরিত্রগুলোর ভেতরের কাহিনী দেখিয়েছেন।  যেটির প্রয়োজন ছিল। শ কে? তার পরিচয় কি? ডম কেন তার ফ্যামিলির বিরুদ্ধে গেল? শ এর বন্ধু হয়ে যাওয়ার কারণ কি এসকল প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আপনাকে মুভিটি দেখতেই হবে।
ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস তার পূর্বের মুভিগুলোর চাইতে ব্যতিক্রমধর্মী ছিল। আগের মুভিগুলোয় কিছু বিষয় যেমন জঙ্গিবাদ, প্রতিশোধ, নেয়া ইত্যাদি বিষয় মুখ্য ছিল । কিন্তু ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াসে একশনের পাশাপাশি শক্তিশালী একটা প্লট ও আছে।  যেটা আগের মুভিগুলোয় অনুপস্থিত ছিল।  সকল চরিত্রই গুরত্বপূর্ণ রোল প্লে করেছে। রোমান চরিত্রে অভিনিত টাইরিস গিবসন পুরো মুভিতেই হাসির খোরাক জুগিয়ে গেছে। তার কর্মকান্ড দেখে না হেসে থাকা যায় না।  সবাই ভালো অভিনয় করেছে।  ভিলেন চরিত্রে এই প্রথম নারী চরিত্র সাইফারকে দেখা গিয়েছে। সাইফার হচ্ছে ঠান্ডা মাথার একজন সাইবার ক্রিমিনাল।  অ্যাকশন না থাকার কারণে তাকে কিছুটা বোরিং মনে হলেও তার মূল ভূমিকাই ছিলো কিবোর্ডের পিছনে।  ফিউরিয়াস ৭ এ কিছুটা হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাট থাকলেও ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস সেটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ছিল।  পুরো মুভি জুড়ে চারটি প্রধান অ্যাকশন সিকোয়েন্স ছিল। শুরুতে ফুটবল সদৃশ বোমা যেটায় ডম বিশ্বাসঘাতকতা করে, এরপর হবস আর শ এর জেল ভাঙ্গা, ডম কে পুরো টিমের ধাওয়া এবং সাবমেরিনের সাথে লড়াই। অ্যাকশন সিকোয়েন্স ছিলো দারুণ। ফিউরিয়াস ৭ এর মতোই ৮ এও গডস আই এর ব্যবহার ছিলো।
তবে এটাই সিরিজের শেষ মুভি নয়। সিরিজের নবম মুভি মুক্তি পাবে এপ্রিল ১৯,২০১৯ সালে এবং দশম মুভিটি এপ্রিল ২,২০২১ সালে মুক্তি পাবে।

আপনি যদি মুভিটি এখনো দেখে না থাকেন তাহলে আজই দেখে ফেলুন।

আমার ব্যক্তিগত রেটিং- ৮/১০

আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে হার্ট বাটনে ক্লিক করুন। মুভিটি আপনার কেমন লেগেছে তা কমেন্ট সেকশনে জানান। ধন্যবাদ।

About The Author
Shahed Hasan
Shahed Hasan
I currently studying in St. Joseph Higher Secondary School, Dhaka. I love reading books, watching movies, playing cricket.
8 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment