Now Reading
জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব ৩য়



জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব ৩য়

আমি আবার ও বলি , আবারো কথা বলার কারণ এর আগের পর্বেও বলেছি আমি আপনাদের সামনে সত্য মিথ্যা প্রমাণ করতে আসিনি , আমার সাথে বা আমার পরিবারের সাথে বা কাছের মানুষদের সাথে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো । এমন হতে পারে এই ঘটনা গুলো আপনার বা আপনার কাছের মানুষের সাথে ঘটেছে । আজ তেমনি একটা ঘটনা শেয়ার করবো আপনাদের সাথে

একদিন আমি শুয়ে ছিলাম । আমার নানু এসে আমার পাশে বসলো । আমি আবার ছোট বেলা থেকে গল্প শোনার পাগল । সেই খাতিরে নানুকে বললাম একটা ভয়ের গল্প শুনাও । নানু বলল তাহলে শুনে আমার সাথে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা

নানুর যেভাবে বলেছে আমি ঠিক সেভাবে তুলে ধরলাম । একদিন খুব সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছিলো । আমার নতুন বিয়ে হয়েছে তাই মায়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি । তোর নানা সেদিন মাছ ধরতে গিয়েছে । বর্ষা কালে নতুন পানিতে মাছ উপরে উঠে আসে । তখন জালে অনেক মাছ ধরা পড়ে । আমি তাকে নিষেধ করেছিলাম সেই সাথে আমার মা ও নিষেধ করেছে । কে শুনে কার কথা , তোর নানা মাছ ধরতে যাবেই যাবে । সারা দিন বৃষ্টি , কখন অনেক জোরে আবার কখনো গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি । আমি জানালার পাশে বসে ছিলাম । হঠাৎ করে একটা জিনিস দেখে আমার চোখ সেখানে আটকে গেলো । আমি নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না । দেখলাম একটা আগুনের গোলা একবার এই দিক থেকে দৌড় দিয়ে মাঠের অন্য প্রান্তে যাচ্ছে , আবার মাঠের ওই প্রান্ত থেকে দৌড় দিয়ে এই প্রান্তে ফিরে আসছে । আমি প্রথমে ভাবলাম হয়তো আমি ভুল কিছু দেখছি । আমি দৌড়ে মায়ের কাছে গিয়ে সব ঘটনা খুলে বললাম । আমার মায়ের বুঝতে আর বাকি রইলো না ঐটা কি ছিল । সাথে সাথে মা আমার বাবা কে ডেকে বলে – জামাই নাকি এই বৃষ্টির মধ্যে মাছ ধরতে গিয়েছে তুমি একটু গিয়ে দেখ তো কি হয়েছে , এখনো আসছে না কেন ?

তখন আমার ও একটু চিন্তা হচ্ছিলো কারণ বের হয়েছে সেই সকালে এখন প্রায় দুপুর । এতো সময় লাগার কথা না । যাই হোক আমার তোর বড় আব্বা ( মানে আমার নানুর বাবা ) গিয়ে তোর নানা কে ধরে ধরে বাসায় নিয়ে আসছিলো । আমরা সবাই অবাক হয়ে যাই । সকালে সুস্থ মানুষ মাছ ধরতে গেলো , এখন সেই মানুষকে ধরে ধরে আনতে হচ্ছে ! ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত লাগলো আমাদের কাছে । আমরা তখন কিছু তাদের জিজ্ঞেস না করে শরবত দিলাম , কিন্তু আমার আব্বা থামিয়ে দিয়ে বলল জামাই কে আগে একটু লবণ পানি দাও আর সাথে একটু কালিজিরা । তোর বড় আব্বা আবার একটু ঝাড়ফুঁক জানতো । তখন তোর নানা কে কালিজিরা আর লবণ পানিতে কি জানি বির বির করে পড়ে খাইতে দিলো । কিছুক্ষণ পর তোর নানা সুস্থ হলে জিজ্ঞেস করলাম তোমার কি হয়েছে আর মাছ কি? এই কথা শুনে তোর নানা অনেকটা রেগে গিয়ে বলল – আমি এখানে মরে যাই আর তুমি আছো মাছ নিয়ে । কেন তোমার কি হয়েছিল নানু নানাকে জিজ্ঞেস করলো । নানা তখন সব ঘটনা খুলে বলল । নানার কথা ছিল এমন –

 

আমি যখন ঘর থেকে মাছ ধরতে বের হই তখন কেন যেন মনে হচ্ছিলো আমার পিছনে কিছু একটা আসছে । আমি পিছন ফিরে তাকিয়ে কয়েক বার দেখলাম , দেখি কেউ নেই । তার পর আমি আমার মতো করে পুকুর ঘটে গিয়ে দেখলাম , পুকুরের পারে অনেক কৈ মাছ পড়ে আছে ( নতুন পানি পেলে কৈ মাছ লাফিয়ে পুকুরের পারে উঠে আসে ) । আমি ওই গুলো কিছু আমার ব্যাগ এ রেখে জাল মারলাম । প্রথম বার কিছু উঠলো না । আমি অবাক হলাম , পানিতে অনেক মাছ দেখা যাচ্ছে কিন্তু আমি জাল মারি কিন্তু উঠছে না কেন ? কিছু না ভেবে আমার জাল উড়িয়ে মারলাম । সেই বারো কিছু উঠলো না । তৃতীয় বার যখন মারলাম তখন অনেক মাছ উঠলো । তখন আমার প্রথম দুই বারের কথা ভুলে গিয়েছি । দেখে অনেক খুশি হয়েছি । মাছ গুলো বাগে রেখে আবার জাল মারলে আবার মাছ উঠলো । যখন বাগে মাছ রাখতে যাবো তখন দেখি প্রথম বার যেই মাছ গুলো ধরেছি তা নেই ? আমি প্রথমে ভয় পেয়ে যাই কারণ এতো কষ্ট করে মাছ ধরলাম যদি ব্যাগ ছিঁড়া থাকে সেখান দিয়ে মাছ গুলো চলে গেলে । তাই ভালো মতো ব্যাগ চেক করলাম , না কোথাও কোনো ছেড়া নেই । আশে পাশে খুঁজলাম কোথাও পেলাম না । যাক এতো শত না ভাবে জালের মাছ গুলো আবার বাগে রাখলাম । কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার যখন মাছ মারতে যাবো তার আগে বাগে কি ভাবে যেন তাকালাম । আর তখনি দেখলাম অবাক করা এক কাণ্ড । একটা কুকুর । যেমন তেমন কুকুর না । আমার থেকে কুকুরটা ১০ হাত দূরে , কিন্তু কিভাবে যেন মুখ থেকে জিহ্বা বের করে ব্যাগ থেকে মাছ নিয়ে খাচ্ছিল । এইটা দেখে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারিনি । অনেক ভয় পাচ্ছিলাম । এর পর কি হলো কিছু মনে নেই । যখন ঘুম ভাঙলো দেখো আব্বা আমার মাঠের উপর হাত বুলিয়ে দিচ্ছে ।

এই ছিল আমার নানা ও নানুর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা । অনেকের সাথে মিলে যেতে পারে । হয়তো আপনার পরিবারের খালা , নানা . নানী বা দাদা দাদির সাথে ঘটে যেতে পারে এমন ঘটনা । কিছু জিনিসের অস্তিত্ব ঠিকই আছে কিন্তু বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত না । যার কারণে আমাদের কাছে বিশ্বাস যোগ্য হয়ে পারে না ।

যদি আপনাদের কারো সাথে এমন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানান ।

 

চলবে

About The Author
Rohit Khan fzs
Rohit Khan fzs
বি.এস.সি করছি ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং। লিখতে ভালবাসি। নতুন নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হতে পছন্দ করি।

You must log in to post a comment