খেলাধূলা

পর্দা নামলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির, সেরা একাদশে তামিম ইকবাল !!!

হাজারো জল্পনা কল্পনার অবসানের পর পর্দা নামলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির। টান টান উত্তেজনার ফাইনাল ম্যাচে দুই চির প্রতিদ্বন্দী ভারত বনাম পাকিস্তানের ম্যাচে ভারত কে প্রায় ঝড়ের মত উড়িয়ে দিয়ে প্রথম বারের মত আই সি সির এই ইভেন্ট এ চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। ভারতকে ১৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে র‍্যাঙ্কিং এ ৮ নাম্বারে থাকা পাকিস্তান ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মত দলকে টপকে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।

এদিকে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে প্রতিটি ম্যাচ ছিল ব্যাপক নাটকীয়তা পূর্ণ। বৃষ্টিতে কিছু ম্যাচ পন্ড হলেও ফলাফল হওয়া সবকটি ম্যাচ ছিল অসাধারণ চ্যালেঞ্জিং পূর্ণ। আর যার ফলেই কিনা টুর্নামেন্টকে বলা হয় চ্যাম্পিয়ন্স দের টুর্নামেন্ট। আর সেই চ্যাম্পিয়ন্স দের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান।

তবে পুরো টুর্নামেন্টে যেন এশিয়াদের দখলে ছিল বেশি। চার সেমিফাইনালিস্টের তিনটিই ছিল এশিয়ার মধ্যে। র‍্যাঙ্কিং এর প্রথম সারির দলগুলোকে ঠিক যেন কোন রকম পাত্তা না দিয়েই শেষ সারির দল গুলো টুর্নামেন্টে রীতিমত রাজত্ব করে গেল। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে পোড়া কপাল নিয়ে এবার টুর্নামেন্টে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ পর্যায়ে তিনটি খেলার দুইটি বৃষ্টিতে পন্ড ও শেষটিতে ইংল্যান্ড এর কাছে লজ্জাজনক হারে মনে হয় যেন সত্যি তারা পোড়া কপাল নিয়ে এসেছিল ইংল্যান্ড এ আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে। ফেবারিটের তকমা মাখা ইংল্যান্ড প্রথমে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম পাকিস্তান, ভারত বনাম শ্রীলঙ্কার ম্যাচে অদ্ভুত নাটকীয়তা যেন সব সমীকরণ উলট পালট করে দেয়। নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারের পর অসাধারণ ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। এরপর ঐতিহাসিক ম্যাচে নিউজিল্যান্ড এর বিপক্ষে অসম্ভাব্য জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ। এরই মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মত দল এত বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ে। ফেবারিটের তকমা মাখা ইংল্যান্ড সহ সেমিফাইনালে যায় ভারত ও পাকিস্তান এবং প্রথম বারের মত আই সি সির কোন ইভেন্টে সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ অর্জন করে বাংলাদেশ। এতেই বুঝা যায় টুর্নামেন্টে এশিয়ার দলগুলোই রাজত্ব করে গেছে।

টান টান উত্তেজনা ও সমালোচনার প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় ভারত ও বাংলাদেশ। হাজারো প্রাপ্তির টুর্নামেন্টে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও ঠিক মত কাজে লাগাতে পারে নি বাংলাদেশ। ভারতের কাছে ব্যাপক ভাবে ধরাশায়ী হয়। নয় উইকেট এ ভারতের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। তবে এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল এর মিলেছে অসাধারণ কিছু প্রাপ্তি। তামিম ইকবালের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং, সাকিব – মাহমুদুল্লাহর বিশ্ব প্রশংসনীয় ইনিংস ও প্রথম বারের মত সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ এ সবই যেন বাংলাদেশের জন্য এই টুর্নামেন্টে সেরা প্রাপ্তি। অপরদিকে যে ইংল্যান্ড কিনা টুর্নামেন্ট সেরা সেই ইংল্যান্ডকেই নাটকীয় ভাবে হারিয়ে টুর্নামেন্টে ভারতের সাথে ফাইনালের যাত্রী হয় পাকিস্তান।

দুই চির প্রতিদন্ধী ভারত বনাম পাকিস্তানের ফাইনাল ম্যাচ। অন্যরকম আমেজ তো থাকবেই। এমনিতেই চির প্রতিদন্ধী তার উপর তাদের ফাইনাল ম্যাচ। ফর্মে তুঙ্গে থাকা কোহলির দল ও সরফরাজের হারিয়ে ফিরে পাওয়া দল ( খেলোয়াড়দের ফর্ম কে বোঝানো হয়েছে )। তাই বলে কি ভারত – পাকিস্তানের খেলায় ক্রিকেট যুদ্ধ হবে না তা কিভাবে হয়। টসে জিতে ব্যাটিং এ পাঠায় পাকিস্তানকে ভারতের অধিনায়ক কোহলি। এই সিদ্ধান্তই যেন সেদিনের সবথেকে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। পাকিস্তানের তরুণ খেলোয়াড় ফখর জামানের ঝড়ো ব্যাটিং এ লন্ড ভন্ড হয় ভারতের সেরা বোলিং। ফখর জামানের সেঞ্চুরির উপর ভর করে পাকিস্তান সংগ্রহ করে ৩৩৮ রান। ৩৩৯ রানের পাহাড় তুল্য টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় ভারত। আমিরের বোলিং তোপে উইকেটে টিকতে পারেনি ভারতের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। রোহিত, কোহলি ও ধাওয়ান ৩৩ রানে মাঠ ছাড়লে পরাজয়ের ঘন্টা বাজতে শুরু করে। ধোনি, যুবরাজের মত অভিজ্ঞ সিনিয়র রাও যখন ব্যর্থ তখন পান্ডিয়া হাল ধরার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয় নি ভারতের। আমির, হাসান আলি, শাদাব খানের বোলিং ঝড়ে উড়ে যায় ভারতে ব্যাটিং দূর্গ। যে ভারতে ব্যাটিং কে কিনা বিশ্বের এক নাম্বার ব্যাটিং লাইন আপ বলা হয় সেই ব্যাটিং ৩৩৯ রান তাড়া করতে নেমে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৫৮ রানে। ৫০ ওভার তো দূরে থাক মাত্র ৩০ ওভার ৩ বলেই ইতি টানে ভারত।

প্রথম বারের মত আই সি সির চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। কোন রকম লড়াই ছাড়াই আত্মসমর্পন করে ভারত। ফখর জামানের অসাধারণ সেঞ্চুরির জন্য ম্যাচ সেরা ঘোষণা করা হয় ফখর জামানকে। অন্যদিকে চমৎকার বোলিং নৈপূণ্যে টুর্নামেন্ট সেরা হয় পাকিস্তানের আরেক তরুণ ক্রিকেটার হাসান আলি।

সেই সাথে আই সি সি প্রকাশ করেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বিশ্ব সেরা একাদশ। যেখানে স্থান করে নেয় বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল। তবে তার অবস্থান তিনে। সেরা একাদশে আরো যারা রয়েছেনঃ শিখর ধাওয়ান (ভারত), ফখর জামান (পাকিস্তান), তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ), বিরাট কোহলি (ভারত), জো রুট (ইংল্যান্ড), বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড), সরফরাজ আহমেদ (পাকিস্তান), আদিল রশিদ (ইংল্যান্ড), জুনায়েদ খান (পাকিস্তান), ভুবনেশ্বর কুমার (ভারত), হাসান আলি (পাকিস্তান), দ্বাদশ স্থানে কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড)। ৪ ম্যাচে ২৯৩ রান করে দেশের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে সেরা একাদশে জায়গা করে নেয় তামিম।

তবে স্টার স্পোর্টসের প্রকাশিত সেরা একাদশে স্থান পায় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বিডিক্রিক টাইমে প্রকাশিত নিউজে এমনটাই জানা যায়। কিন্তু আই সি সি প্রকাশিত সেরা একাদশ সত্যিই কি সেরা একাদশ হয়েছে? প্রশ্ন থাকল আপনাদের কাছে। আপনি আপনার নির্বাচিত সেরা একাদশ জানাতে ভুলবেন না।

 আমার তৈরি সেরা একাদশঃ শিখর ধাওয়ান, তামিম ইকবাল, জো রুট, কেন উইলিয়ামসন, বেন স্টোকস, সরফরাজ আহমেদ, আদিল রশিদ, ভুবনেশ্বর কুমার, হাসান আলি, জুনায়েদ খান, দ্বাদশ স্থানে ইয়ন মর্গান।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

মুশফিকুর রহিম মিতু – একটি ভরসার নাম

Atikur Rahman Titas

বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেলেন তাসকিন আহমেদ ও ইয়াসির আলী

MD BILLAL HOSSAIN

মেসির ক্লোন মাঠে নামবে, মেসি অবসরের পর

MD BILLAL HOSSAIN

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy