পাবলিক কনসার্ন

“ঈদে আপনার ভ্রমণ কতটুকু নিরাপদ হচ্ছে তার দায়িত্ব আপনার হাতে”

প্রায় দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর বহু প্রতীক্ষিত রমযানের শেষে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের প্রায় সব প্রান্তে মানুষের আনাগোনা হবে।এই আনাগোনা সংখ্যার অনুপাতে দেশের বৃহত্তম দুই শহর ঢাকা এবং চট্টগ্রাম ছাঁড়বে প্রায় ৫০ লক্ষেরও অধিক মানুষ।এই সপ্তাহে রাস্তায় ঘরমুখো মানুষের প্রচন্ড ভীড় থাকে।তাই আমাদের বাড়তি সতর্কতা আমাদেরকে দিতে পারে বাড়তি নিরাপদ আর স্বাচ্ছ্যন্দময় একটা ভ্রমণ।ইতিমধ্যে গ্রামমুখী মানুষের যাত্রা শুরু হয়ে গেছে।আপনজনের সান্নিধ্যে যেতে আর প্রিয়জনের মুখ দেখার জন্য কত বিড়ম্বনা আর কষ্টই না সহ্য করতে হয় এই মানুষগুলোকে ।সমস্ত কষ্ট আর দুঃখ এক নিমিষেই মুছে যায় যখন প্রিয়জন তার পথ পানে চেয়ে থাকে আর পরম মমতায় মা-বাবা তার সন্তানকে,সন্তান তার বাবাকেু,ভাই-বোন একে অপরকে ,স্ত্রী তার স্বামীকে কাছে পাই।

এবারের ঈদ যেহেতু এই বর্ষা মৌসুমে পড়েছে তাই প্রতিকূল আবহাওয়া থাকবে এমনটা স্বাভাবিক ।এই প্রতিকূল পরিস্থিতি মেনে আমাদের নিজেদের কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে। যা কিনা আমাদেরকে দিতে পারে একটা নিরাপদ ভ্রমন আর প্রিয়জনের কাছে পৌঁছানোর একটা নিশ্চয়তা।এই যাত্রাপথে আপনার আমার সবার যে সকল সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী যা কিনা আপনার জন্য বা দেশের জন্য প্রকরান্তরে লাভজনক হবে।

আপনি যদি ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো বড় শহর হতে রাতের দুরপাল্লার ভ্রমণে যাবেন তবে আপনার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন জরুরী।

প্রথমত আপনার নির্দিষ্ট বাস,ট্রেন,লঞ্চের টিকিট নিয়েছেন কিনা সাথে করে তা দেখে নেয়া জরুরী।কেননা এই ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায় অনেককে।তাই শত ব্যস্ততার মাঝে একবার দেখে নিন কেননা এটা আপনাকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে।

দ্বিতীয়ত আপনি যদি দীর্ঘ এক সপ্তাহ বাড়িতে থাকবেন তবে আপনি বাসা ছাড়ার আগে দেখে নিন আপনার বাসার বৈদ্যুতিক লাইন,গ্যাসের লাইন এবং পানির লাইন সবগুলো বন্ধ করা আছে কিনা। এই কাজটা করা আপনার দেশের এবং দেশের সম্পদের অপচয় রোধে একটা দায়িত্ববোধের প্রকাশ যেমন ঘটবে তেমনি আপনার নিজের বা প্রতিবেশির কোন বিপদ না ঘটার ক্ষেত্রে একটা বাড়তি সতর্কতা বলা যায়।

তৃতীয়ত আপনারা যারা ছোট শিশু বা বয়স্কদের সাথে নিয়ে যাবেন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষুধ বা ব্যবস্থাপত্র সাথে নিয়ে যাওয়া জরুরী কেননা এই একটু বাড়তি সতর্কতা আপনাকে অনেকখানি বিড়ম্বনা থেকে রেহাই দিবে বলে মনে করি।

চতুর্থত আপনি যখন জনবহুল কোন স্টেশনে হাঁটবেন বা গাড়ির জন্য যাবেন তখন আপনি যদি একা হোন তবে আপনার জন্য অনাকাঙ্খিত অনেক বিপদ আসবে এটা স্বাভাবিক। এই যেমন নিজের ছোট বাচ্চাকে সামলে রাখবেন । রেল স্টেশন বা লঞ্চ ঘাটগুলোতে এই ধরনের ঘটনা হারহামেশাই ঘটে। তাই সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখুন যেন হাত ফসকে না যায়। তাছাড়া এই সব স্টেশনে অজ্ঞান পার্টির কবল বা পকেটমার, ছিনতাইকারীর যে অত্যাচার তা তো আছেই।এইসব ঘটনা এড়াতে আপনাকে অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আপনার টাকা বা মুল্যবান অলংকারের ব্যাগগুলো নিরাপদে রাখা দরকার। কাউকে যদি আপনার সন্দেহ হয় বা কারো গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সাথে থাকা কাউকে বলুন নয়তো স্টেশনে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনির লোকজনকে জানান। এতে করে আপনার বিপদ অনেকটা কমে যেতে পারে।

পঞ্চমত আপনি রাতে যদি যাত্রা করেন অবশ্য একজন সচেতন যাত্রী হিসেবে নিজের জানমালের নিরাপত্তা আপনার তার পাশাপাশি পাশের সিটের যাত্রীর সাথে কি ধরনের সম্পর্ক রাখবেন তা অবস্থানুযায়ী  বিবেচনা করুন। বিশেষভাবে যেসকল মেয়েরা একা ভ্রমণ করবেন তাদের এই বিষয়টা খেয়াল রাখা জরুরী।

আপনি কোনভাবেই রাতের ট্রেনে ছাদে চড়ে যেতে পারেন না।এখানে একটা বিপদের সম্ভাবনায় কেবল জোরদার হয়।এই ধরনের যাত্রা কোনভাবে কাম্য নয়।আপনার একটু অসর্তকতা বা খামখেয়ালীপনা আপনাকে মৃত্যুমুখে টেলে দিতে পারে। তাই হয়তো আপনার গন্তব্যস্থানে পৌঁছাতে দেরী হবে,এই ধরনের কোন পদক্ষেপ কাম্য নয়।

রাতের বাস যাত্রায় আপনি সচেতন যাত্রী হিসেবে ড্রাইভারকে বলে রাখুন প্রতিকূল পরিস্থিতি বা দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়ায় যাতে নিরাপদে ড্রাইভ করে। এতে আপনার ভ্রমণ হবে নিরাপদ আর নিশ্চিন্তময়। দুরপাল্লার বাসের এখন দুর্ঘটনা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যেসকল যাত্রী নৌ-রুটে চলাচল করেন তাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন জরুরী কেননা এখন আবহাওয়া যেকোন সময় বিরুপ পরিবেশ ধারণ করে। আপনি নিজে সজ্ঞানে কোনভাবেই অতিরিক্তি যাত্রী হয়ে উঠবেন না,দেখবেন কোন বিপদের সম্ভাবনায় রইল না। আমাদের একটু একটু অসর্তকতাই যেন কোন বিপদের পুঁজি। রাতের বেলায় লঞ্চগুলোতে যেসকল ডুবির ঘটনা বা বিপদ হয় তার অধিকাংশের নেপথ্যে অতিরিক্ত যাত্রী। তাই একজন সচেতন যাত্রীর অবস্থান হতে এই বিপদ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। এছাড়াও ফেরিঘাট দিয়ে বা দ্রুত যাতায়াতের জন্য স্পীডবোটে করে যাত্রী পার হয়।এইসব ক্ষেত্রে ফেরিতে উঠার ক্ষেত্রে বাস চালক বা যাত্রী উভয়ের সতর্ক থাকা জরুরী।কেননা এখানে অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনা যা কেবল রোধ করতে পারে আমাদের বাড়তি সতর্কতা। আপনি যদি স্পীডবোটে করে যাতায়াত করেন তবে আপনাকে লাইফ জ্যাকেট পরিধান করতে হবে এবং অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে কখনো উঠবেন না। আপনার একজনের জন্য হয়তো অন্য অনেকের বিপদের কারণ হয়ে যেতে পারে।

আমাদের সড়ক পথে আরেক দুশ্চিন্তার নাম হলো বেপোরোয়া ড্রাইভিং ।আপনি যদি দক্ষ না হোন তবে দুরপাল্লার কোন পথে আপনার ভ্রমণ করাটা ঝুঁকি।অনেকে বাড়তি উৎসাহের কারণে নিজস্ব গাড়ি ড্রাইভ করে।অনেককে দেখা যায় অতি উৎসাহী হয়ে বেপোরোয়া গতিতে ড্রাইভ করে।আপনার বেপোরোয়া গতি বা কৌতুহল অন্য অনেকের বিপদের কারণ হতে পারে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা নেয়া জরুরী আপনার সন্তানকে দক্ষ না হলে এই সময়ে অন্তত ড্রাইভ করতে দিবেন না। মোটরসাইকেল আরোহীরাও বাড়তি সতর্কতা নিতে পারেন। কেননা দুরপাল্লার কোন যাত্রায় আপনি দুয়ের অধিক যাত্রী হয়ে ভ্রমণ করবেন না। এটা ‍খুবই বিপদজনক একটা পদক্ষেপ।তাছাড়া আমাদের সকল পেশাদার ড্রাইভার বা নিজস্ব গাড়ির চালকের একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরী তা হলো আমাদেরকে অবশ্য ওভারটেকিং করার মানসিকতা এড়িয়ে চলতে হবে। দেশের অধিকাংশ দুর্ঘটনা কিন্তু এই ওভারটেকিং বা সিগন্যাল ও গতিবিধি না মেনে চলার জন্য হয়।

আপনার সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি কথাটা সবাই শুনেছি।একটু ধীরস্থির হয়ে যাত্রা করুন হয়তো একটু পরে পৌঁছাবেন তাও অন্ততপক্ষে নিরাপদে পৌঁছাবেন এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনার।

আপনার ঈদ যাত্রা শুভ হোক।

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

“ পেশাদারীত্ব যখন জনরোষের জন্য হুমকির মুখে ”

Rajib Rudra

শিশু নির্যাতনের একটি ঘটনা ও কিছু কথা…

Muktar Hossain

ভারতীয় সিরিয়াল : বিনোদন নাকি অপসংস্কৃতি?

Avrodip Biswas

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy