3D গ্লাস দিয়ে আমরা কিভাবে থ্রিডি দেখি ?

Please log in or register to like posts.
News

আমরা সবাই 3D এর সাথে পরিচিত । যেহেতু, 3D এর সাথে পরিচিত তাহলে নিশ্চয় কম বেশি আমরা 3D গ্লাসের সাথেও পরিচিত ? কারণ, এই 3D গ্লাস দিয়েইতো সেই 3D দেখা হয় ! 3D গ্লাস বললেই কল্পনায় চলে আসে লাল নীল রঙের উদ্ভট একধরনের সানগ্লাস ! আর, যারা আরো একটু এগিয়ে গিয়েছে তারা হয়ত সেই 3D গ্লাস কে বিভিন্ন সিনেমা হলে সাধারণ সাদা চশমার মতই দেখে অভ্যস্ত ।

তবে, আজকের পর্বে আমরা 3D কিংবা 3D গ্লাসের গুণকীর্তন করতে আসেনি । 3D চশমা দিয়ে 3D দেখার সৌন্দর্য নিয়েও আলোচনা করতে আসেনি । বরং আজকের পর্বে এর বৈজ্ঞানিক সৌন্দর্য নিয়েই আলোচনা করা হবে ।

3D কি ? কিংবা আমরা 3D গ্লাস ব্যাবহার করে কিভাবে 3D দেখি ইত্যাদি বিষয় নিয়েই আজকের পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ।

 

3D  কি ?

3D এর পূর্ণরুপ হল 3 Dimension অর্থাৎ, যার ৩টা ডিমেনশন থাকে তাই হল 3D (চিত্র দ্রষ্টব্য) । এখানে, ৩টা ডিমেনশন হল দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা । যাদের এই ৩টা জিনিস থাকবে তাদেরকে নির্দ্বিধায় 3D বলা যায় ! যেমন- আমরা বাস্তবে চোখ দিয়ে যা দেখছি তাই কিন্তু একধরনের 3D !

 

300px-Coord_planes_color.svg.png

 

3D কিভাবে কাজ করে ?

একটু আগেই বলেছি আমরা বাস্তবে যা দেখছি এর সবকিছুই থ্রিডির অন্তর্ভুক্ত । কাজেই, এইটাকেই উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে থ্রিডিকে ব্যাখা করা যেতে পারে । যার ৩টা মাত্রা দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা থাকে তাকে থ্রিডি বলা হয় । সেই হিসেবে আমাদের চোখের সামনে যা কিছু আছে তার সবকিছুই থ্রিডি বিষয়টা ঠিক আছে । কিন্তু, আমরা নিজেরা চোখ দিয়ে যা দেখছি তাই থ্রিডি এই কথা বলাটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত ? কারণ, সাধারণত টেলিভিশনে আমরা যা দেখি তার প্রতিটা উপাদানও তো থ্রিডি তাই বলে কি আমরা দাবি বসি যে এখন থ্রিডি দেখছি ? হ্যা টেলিভিশনে যা দেখা হচ্ছে তা থ্রিডি নয় যদিও এর উপাদানগুলো থ্রিডি । আসলে, থ্রিডি দেখা আর কোনো কিছু থ্রিডি হওয়া সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার ! তবে, আমরা চোখ দিয়ে যে থ্রিডি দেখি বিষয়টা ঠিক আছে । বিষয়টা ব্যাখা করি – আমাদের দুই চোখ দুটি ভিন্ন ভিন্ন ইমেজকে দেখে । হয়ত একটা জিনিসই দেখছি কিন্তু, দুই চোখের দেখার মাঝে খুব সুক্ষ হলেও একটা কৌণিক পার্থক্য থাকে । আর দুই ধরনের ইমেজ যখন আমাদের মস্তিষ্ক প্রসেস করে তখন আমরা একটা থ্রিডি দেখার স্বাদ পাই (চিত্র দ্রষ্টব্য) । বিষয়টা যে সত্যি তা আমরা চাইলে নিজেরাই এক চোখ বন্ধ করে পরীক্ষা করে দেখতে পারে । আর ঠিক এই কারণেই, আমরা এক চোখ বন্ধ করে সুচের মধ্যে সুতা ভরতে পারিনা । আবার ঠিক একই কারণেই, কেউ বল ছুড়ে দিলে এক চোখ বন্ধ করে ধরতে পারিনা । কারণ, এসব করতে হলে দূরত্ব জিনিসটা বোঝা দরকার যেইটা এক চোখ বন্ধ করে করা সম্ভব নয় !

 

pc-3-d-brain.jpg

 

3D গ্লাস দিয়ে কিভাবে 3D দেখে থাকি ?

এবার আমাদের মূল টপিকে আসি যে কিভাবে থ্রিডি চশমা ব্যবহার করে থ্রিডি দেখা হয় । যেহেতু থ্রিডি বিষয়টা কিভাবে কাজ করে তা আমরা জানি কাজেই, এইক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম কিছু হবেনা । তবে, গ্লাস এবং স্ক্রিনের ধরনভেদে এই থ্রিডি দেখার পদ্ধতি ভিন্ন হয়ে থাকে যদিও মূল বিষয়টা অর্থাৎ, ভিন্ন ভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি তোলার বিষয়টা একই ।

 

নিচে ২টা ভিন্ন ভিন্ন গ্লাসের ক্ষেত্রে কিভাবে কাজ করে তা বর্ণনা করা হয়েছে ।

Anaglyph 3D গ্লাস

এই থ্রিডি গ্লাস সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে সস্তা থ্রিডি গ্লাসগুলোর মধ্যে একটি । এর একপাশের রং হয় Red  এবং অন্যপাশেরটা হয় Cyan । আর ডিসপ্লে স্ক্রিনে যা প্রদর্শন করা হয় তা মূলত একই ছবির দুইটা ভিন্ন ভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে তোলা ছবি যাদের মধ্যে একটা হয় লাল রঙের আরেকটা অনেকটা নীল (Cyan) রঙের । যখন, আমরা সেই থ্রিডি গ্লাস পরে সেই বিশেষ ছবি বা ভিডিও দেখি তখন গ্লাসের লাল রঙের অংশটুকু স্ক্রিনের নীল রং কে ফিল্টার করে কেবল লাল রঙের ছবির অংশটুকুই প্রবেশ করতে সাহায্য করে । আবার ঠিক একই কাজ গ্লাসের নীল রঙের অংশে ঘটে থাকে যেখানে লাল রং গুলো ফিল্টার হয়ে নীল রং ভিতরে প্রবেশ করে | এভাবে একই ছবির দুটো ভিন্ন ভিন্ন ইমেজ আমরা পাই । আর আমাদের মস্তিস্ক তা প্রসেসে করার পরই আমরা সেই কাঙ্খিত থ্রিডির স্বাদ পাই । (চিত্র দ্রষ্টব্য)

 

red-blue.jpeg

 

তবে, এই থ্রিডির সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো এর ফলে থ্রিডির রঙিন স্বাদটুকু পাওয়া যায়না । কারণ, এই Red আর Cyan এই দুই ভিন্ন রং মিলে থ্রিডির মজাটুকুই মাটি করে দেয় ! এছাড়াও, আরেকটা সমস্যা হলো বেশিক্ষণ ব্যবহার করলে মাথা ব্যথা করতে পারে ।

 

Polarized 3D গ্লাস

এই থ্রিডি গ্লাসটাই আমরা বিভিন্ন মুভি থিয়েটারে থ্রিডিমুভি দেখার সময় ব্যবহার করি । এই গ্লাস দেখতে খুব সাধারণ একটা সাদা চশমার মত মনে হলেও এর দুই গ্লাসের ম্যাকানিজম ভিন্ন থাকে | আর এই গ্লাসের মাধ্যমে থ্রিডি দেখতে হলে আলাদা স্পেশাল স্ক্রিন ও দরকার । এখানে স্ক্রিনে মূলত দুইটা আলাদা আলাদা ছবি ব্যবহার করা হয় যাদের, পোলারাইজেশন ভিন্ন হয় । যখন, সেই গ্লাস ব্যবহার করে থ্রিডি দেখার কাজ করা হয় তখন গ্লাসের এক অংশ কেবল স্ক্রিনের একটা ছবির অংশকে প্রবেশ করতে দেয় আর অন্য ছবির অংশকে ফিল্টার করে । আর ঠিক একইভাবে গ্লাসের ওপর অংশে যেই ছবির অংশটুকু অন্য অংশে ফিল্টার করা হয়েছিল তাই কেবল প্রবেশ করতে পারে | অর্থাৎ, চশমার দুইটা ভিন্ন গ্লাস দিয়ে দুইটা ভিন্ন পোলারাইজেশনের ছবি প্রবেশ করে | যেহেতু, দুইটা ছবির মধ্যে সামান্য কিছু কৌণিক পার্থক্য আছে আর দুইটা ছবি আলাদাভাবে দুই চোখে প্রবেশ করছে কাজেই, এই দুই ছবি প্রসেস করে আমরা যা দেখতে পাই তাহলো সেই থ্রিডি ! (চিত্র দ্রষ্টব্য)

 

3-d-glasses-polarization-new.gif

 

এই থ্রিডির কোয়ালিটি Anaglyph থ্রিডির চেয়ে বহুগুনে ভালো । এছাড়াও, আগেরটাতে যেমন রঙিন ছবি দেখা যেত না এখানে সেই সমস্যা আবার নেই, রঙিন ছবি বেশ ভালই দেখা যায় !

 

যাইহোক, আজকে এই পর্যন্তই । আশা করি সবাই বিষয়টা বুঝতে পেরেছে । তারপরেও কারো কোন প্রশ্ন থাকলে করতে পারে উত্তর দেবার চেষ্টা করব । সবাইকে ধন্যবাদ ।

 


 

Sources:

  1. http://computer.howstuffworks.com/3d-pc-glasses1.htm
  2. http://computer.howstuffworks.com/3d-pc-glasses3.htm
  3. http://science.howstuffworks.com/3-d-glasses2.htm
  4. https://en.wikipedia.org/wiki/Polarized_3D_system
  5. https://en.wikipedia.org/wiki/Anaglyph_3D

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?