সাহিত্য কথা

আমার ভালবাসার রাজকন্যা : পর্ব-০৪

( ৩য় পর্বের পর থেকে……)

একটু পর আকাশ ফোন দিয়ে কতদূর কি হল, জানতে চাইলে, খুলে বললাম ওকে সব। সব শুনে ও বলল, “দেখ, মিলি রাজি হয় নি ঠিক আছে, কিন্তু মানাও তো করে নি। হয়ত সময় নিচ্ছে। জীবনের এমন একটা বড় সিদ্ধান্ত। তাড়াতাড়ি নেওয়া যায় না। পড়ে জানাবে হয়ত। কিন্তু তুই এত ভেঙ্গে পড়ছিস কেন।”

এমন পরিস্থিতিতেও ওর উপর রাগ হল, “আমাকে আমার ভালোবাসার মানুষ প্রত্যাখ্যাত করেছে। আর আমি কিনা হাসি খুশি থাকব।” দিলাম ফোন কেটে।

এরপর আকাশ কয়েকবার ফোন দিলেও আমি আর ধরি নাই। কথা বলতেই আর ইচ্ছা করছে না। কিছু ভাল লাগছে না।

মিলিকে ফোন দিলাম। প্রথমবার তো ধরলই না। ২য় বার কল দিলাম, কেটে দিল। ভাবলাম, গেছে সব শেষ হয়ে। যাও আগে বন্ধু হিসেবে ছিল। এখন পাগলামি করে নিজের ভালোবাসা দেখাতে গিয়ে,  বন্ধুত্বটাও নষ্ট করলাম।

এরই ভিতর শুরু হল বৃষ্টি । কেমন শীতল পরিবেশ। বারান্দায় গিয়ে কিছুক্ষণ পায়চারি করে, আমার প্রিয় চেয়ারে গিয়ে বসলাম। গায়ে হাল্কা বৃষ্টি লাগছে। অন্যদিন এমন আবহাওয়ায় মনটা খুবই খুশি থাকত। কিন্তু আজকে কেন জানি অনেক কষ্ট লাগছে। মনে হচ্ছে খুব দামি জিনিস হারিয়ে ফেলেছি। জীবনে নিজেকে খুব একা লাগছে।

যা থাকে কপালে, চিন্তা করেই মিলির ফোনে মেসেজ দিলাম, তুমি তো হ্যাঁ বা না কিছুই বললে না। আচ্ছা থাক, তোমার কিছুই বলতে হবে না। যদি তুমি আমাকে ভালোবাসো, তাহলে আগামীকাল ক্লাসে সাদা রঙের ড্রেস পড়ে এসো। আর তোমার উত্তর যদি না হয়, তাহলে ওই রঙ বাদে, অন্য যেকোনো রঙের ড্রেস পড়লেই হবে। আমি তাহলে আমার উত্তর পেয়ে যাব। আর তোমাকে কখনও জ্বালাতে আসব না।

মেসেজ দিয়েই  বসে ভাবতে থাকলাম যে মিলি কি দিবে উত্তর? ও যদি মানা করে দেয়।

দেখলাম মেসেজ দেয়ার ২ ঘণ্টা হয়ে গেলেও তার কোন উত্তর নাই। পরে চেয়ার ছেড়ে  উঠে ঘুমাতে চলে গেলাম। ক্লান্ত অনেক। এমনি অনেক ঘুরাঘুরি হয়েছে আজকে।

মনের ভিতর চিন্তা ছিল, তাই অনেক ক্লান্ত থাকার পরও ঘুমাতে পারলাম না। একটু পর পর শুধু মোবাইল দেখি। কিন্তু মেসেজ আর আসে না। এমন করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম, বুঝতেই পারি নি।

হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় দেখি সকাল ৮.৩০ টা বাজে। ক্লাস তো ১০টায়। এখনো ফোনে কোন মেসেজ বা কল, কিছু আসে নাই। সকালের নাশতাটা করতে করতে ভাবলাম, আজ আর ক্লাসে যাব না। কারণ গিয়ে কি আর হবে? মিলি তো আর হ্যাঁ বলবে না।। নাশতা সেরে রুমে গিয়ে ভাবছি ঘুম দিব। শুয়ে আছি। এর ভিতর আকাশ ফোন দিল, জানিয়ে দিলাম আজ আর যাব না ক্যাম্পাসে। ক্লান্ত অনেক। কিন্তু আকাশ যেহেতু সব জানেই, তাই পচানো শুরু করল। ঝাড়ি দিয়ে ফোন কেটে দিলাম।

এটা আমার আবার ছোটবেলা থেকে একটা বদ অভ্যাস। একজনের উপর রাগ করে, আরেকজনের উপর রাগ ঝাড়ি। এজন্য আমার হাতে গোনা ২-১ টা বন্ধু ছাড়া আর বন্ধু সংখ্যা বাড়েনি। আকাশ আবার আমাকে বুঝে, সে ইচ্ছা করেই একটু পর পর কল দিয়ে আমাকে জ্বালাতে লাগল।

মা এসে বললেন, “কিরে ক্লাসে যাবি না?”  আমি যাব না শুনে, কপালে হাত দিয়ে চেক করলেন যে জ্বর আসছে কিনা। জ্বর নাই দেখে বললেন, “তুই বিশ্রাম নে। আমি রান্নাটা শেষ করি।” বলেই মা চলে গেলেন রান্নাঘরের দিকে।।

আনুমানিক সকাল ১০.২০ এর দিকে……………………।

আবার ফোন। প্রথমে ধরি নাই। কারণ এটা আকাশের কাজ। আমি রাগ হলে, বেশি করে রাগানোর জন্য এমনটা করে প্রায়ই। ভাবলাম যে এবার ওকে ইচ্ছামত ঝাড়ব। তাই আবার কল দিতেই মোবাইলের দিকে না তাকিয়ে, ইচ্ছামত ঝাড়লাম পাক্কা ২ মিনিট। ফোনের ওইপাশের মানুষকে আর কথা বলার চান্স দেই নাই। ইচ্ছামত ঝাড়ছি।

হঠাৎ মেয়েলি আওয়াজ শুনতেই বোকা হয়ে গেলাম। মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দেখি এটা মিলির ফোন ছিল। আর আমি কিনা মিলিকে আকাশ ভেবে ইচ্ছামত ঝাড়ছি। এরপর তার কাছে অনেক ক্ষমা চেয়েও দেখি তার রাগ ভাঙ্গে না।

এরপর সে শুরু করল ঝাড়ি দেওয়া। কি আর করব। চুপচাপ মিলির ঝাড়ি শুনলাম। যদিও সেগুলি ঝাড়ি ছিল, তার মিষ্টি সুরে সেগুলি শুনতে অমৃত লাগছিল।

এরপর সে বলল, “আপনি কোথায় এখন? আমি ক্লাসে এসে আপনাকে দেখছি না। কই?”

আমি বললাম, “ভাল লাগছে না, তাই আজকে আর ক্লাসে আসি নাই।”

এটা শুনে আবার একচোট ঝাড়ি।  এরপর রেগে বলতে লাগল, “আপনার যখন ক্লাসে আসার ইচ্ছাই নাই, তাহলে আমাকে কেন সাদা রঙের ড্রেস পড়ে আসতে বললে?” এটা শুনেই বসা থেকে লাফিয়ে দাঁড়িয়ে পরলাম। মানে কি? মেয়ে যদি সাদা ড্রেস পড়ে, তার মানে তো আমার প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ বোধক!!

শুনে বিশ্বাসই হচ্ছিল না। এর ভিতর তার কড়া অর্ডার, ১৫ মিনিটের ভিতর ক্যাম্পাসে তোমাকে আমার সামনে দেখতে চাই। সেটা শুনতেই আমার যতটুকু দেরি, কোনরকমে রেডি হয়ে, ছুটলাম ক্যাম্পাসে। আমার ভালোবাসার মানুষটার সাথে দেখা করতে। আজ খুব খুশি আমি।

শাহবাগে এসেই ফুলের দোকান থেকে একগুচ্ছ লাল গোলাপ কিনে ছুটলাম আবার ক্যাম্পাসের দিকে। দেখি ক্যাফেটেরিয়ার সামনেই আমার স্বপ্নের রাজকন্যা দাঁড়িয়ে আছে। সাদা ড্রেসে মিলিকে পুরাই রাজকন্যার মত লাগছে। কোনোদিক না ভেবেই যা থাকে কপালে ভেবে নিয়ে সোজা তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে ফুলটা সামনের দিকে বাড়িয়ে ধরে বললাম , “আমি তোমাকে ভালোবাসি। প্লিজ মিলি , এবার তো আর না বোলো না। তাহলে কিন্তু পাগল হয়ে যাব।”

শুনেই সে একটু গম্ভীর ভাব নিয়ে বলল, “থাক। এখন আর কাউকে পাগল হতে হবে না। পরে সবাই আমাকে দোষ দিবে।” বলেই তার সেই ভুবন ভুলানো হাসি দিল।

আর আমি চেয়ে থাকলাম, তার সেই টোল পড়া গালের মিষ্টি হাসিটা দেখতে । যদিও অনেক খুশি আমি, তারপরও মিলিকে বুঝতে দিলাম না, “আচ্ছা তাহলে কালকে রাজি হলে না কেন?” আমার প্রশ্ন তার কাছে।

সেও তার মতই উত্তর দিল, “কালকে ফুল ছাড়া প্রপোজ করেছ ক্যান! ফুল ছাড়া কেউ প্রপোজ করে নাকি? আজকে ফুল না আনলে, আজকেও রাজি হতাম না। তবে এখন ঠিক আছে। বোকা ছেলে, কিচ্ছু বুঝে না।” বলেই আবার তার সেই হাসি।

একথা শুনেই আমরা কোথায় আছি, তা না ভেবেই জড়িয়ে ধরলাম মিলিকে ।

কারণ অবশেষে আমি যে আমার স্বপ্নের রাজকন্যাকে খুঁজে পেলাম। তাই আবেগটা অনেক বেশিই।

 

(…………শেষ……………)

 

 

এই সিরিজের পূর্বের পর্ব গুলো পড়তে চাইলে নিচের লিঙ্কগুলোতে দেখতে পারেন………

১। আমার ভালবাসার রাজকন্যা : পর্ব-০১

http://footprint.press/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE/

২। আমার ভালবাসার রাজকন্যা : পর্ব-০২

http://footprint.press/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%AA/

 

৩। আমার ভালবাসার রাজকন্যা : পর্ব-০৩

http://footprint.press/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%AA-2/

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

কিছু আসমানীদের গল্প আর তাদের ভালবাসা

Rohit Khan fzs

ধ্রুব’র কাহিনি (পর্ব ৩)

Prashanta Deb

প্রতিবিম্বঃ শেষ পর্ব

Kazi Mohammad Arafat Rahaman

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy