Now Reading
আজও কেন এমন হয় পর্ব—৬



আজও কেন এমন হয় পর্ব—৬

– ঘরের দরজা খোলা । শয়তান গুলো আমার জন্যেই খুলে রেখেছে  হয়তো । আমি ঢুকতেই বাদল দরজাটায়  ছিটকিনি লাগিয়ে দিলো । আমি দেখলাম ঘরে একটি খাট । খাটের দুইপাশে আলমারি আর টেবিল ।  খাটের সামনে মেঝেতে মাদুর পাতা । ওরা মেঝেতে বসে বসে মদ গিলছিল । আমাকে দেখে দিগুন উৎসাহে দুজনে খাটে হেলান দিয়ে আয়েশ করে ধূমপান ও শূরা পান চলছিলো । ধোঁয়ায় ঘর ভরে আছে । দুর্গন্ধ আর ধোঁয়ায় আমার কাশির সাথে বমিও আসছিলো ।

– মুখে বিজয়ের হাসি হেসে অভি বলল,   ‘এলে তাহলে ।’

-‘উপায় কি ছিল  আর ?’

-‘হুম , বুদ্ধি যত জলদি হবে তত ভালো হবে , মনে রেখো ।’

-‘যেটা করা উচিত সেটাই তো করে ফেলা চাই । ‘ বলে কাশতে লাগলাম । ইসস কি ধোঁয়া যে খেতে পারে ।

-‘কাশি  হচ্ছে  তাই না ? সুন্দরী এমন ধোঁয়া সহ্য তো করতেই হবে ।  ‘এসো বস ।‘ ওর পাশে বসতে  ইঙ্গিত করলো অভি ।

-‘লম্বু বলল, টানতেও হবে । এই নাও একটু খেয়েই দেখো দারুণ জিনিস ।‘ বলে ও ওর হাতের সিগারেটটা আমার দিকে বাড়িয়ে ধরে ।

-আমি স্পর্শের দুরত্বে বসে কাশতে কাশতে  বললাম   ‘সময় দাও, তোমাদের চেয়ে বড় স্মোকার হয়ে দেখিয়ে দেব । আজ থাক ।’  মনে মনে ভাবছি ওদেরকে কিভাবে সামলাবো । ওরা ক্রমশই মাতাল হচ্ছে । আর আমার ভেতর ভয় বাড়ছে । আমি যথেষ্ট সাহসী মেয়ে । তাই এখানে আসতে  পেরেছি । জীবন মান হাতে নিয়ে ।  তারপরও–।

–  ‘কি সুন্দরী , এতো দূরে বসে কেন ? কাছে এসো,  একটু ঢেলে টেলে দাও, তোমার জন্য এতদিন অপেক্ষা করেছি , একটু তো রহম করো । হা হা হা । হা হা হা । দুজন কি কি  যে বলছে আর হাসছে ।

– আমি সহাস্যে বললাম,  ‘নিশ্চয়ই , আগে খাবারটা খেয়ে নাও ।‘

– ‘পরে  খাবো ।‘  অভি বলল ।

-‘এতো ভালো করে রেঁধেছি ,শুধু তোমাদের জন্য । সেই কোন সকালে গঞ্জে গিয়েছি । কত কি এনে রেঁধেছি । গরম জিনিসটা ঠাণ্ডা হয়ে যাবে যে । এতো কষ্ট করে কি হোল  বল ?’   মিষ্টি হেসে বললাম ,’ তিনজন একসাথে ড্রিংক করবো তারপরে ,প্লিজ ।‘

-অভি বলল, ‘না না , পরে  খাবো । আগে তোমার সাথে বসে কথা বলি । খাবার তো জরুরি নয় ,আসল জিনিস তো তুমি ।‘

-আমি কৃত্তিম দুখের ভাব করে বললাম, ‘জানি তোমরা পয়সাওয়ালা আমার হাতের খাবার কি আর ভালো লাগবে ?’

– ‘ আরে তা নয় , কি বলছ । আয় তো অভি খেয়ে নি । সেটাই ভালো ।‘ বাদল বলল । ‘খিদেও পেয়েছে । কই সাজিয়ে দাও ।‘

-আমি মিষ্টি একটি হাসি দিয়ে   ভেতর থেকে প্লেট বাটি এনে খুব যত্ন করে ওদেরকে আপ্যায়ন করতে লাগলাম । ওরা যখনই না বলছে অমনি  আমি আরও এক চামচ খাবার পাতে তূলে দিতে লাগলাম । অভি খেতে খেতে অন্য টিফিন বাটির দিকে ইঙ্গিত করে বলল,  , ‘ওটায় কি ? ওটা তো খুললে না । ওখানে আবার কি খাবার ?’

-‘আমার হৃৎপিণ্ডে কেউ যেন খামছে ধরল । কষ্টে নিজেকে সামলে  আমি মধুময় হেসে বললাম, ‘ ওটা ? ও আচ্ছা ।  আমার প্রিয় গেস্ট, তোমরা কি জানো না, প্রিয়জনকে খাবারের পর কি দিতে হয় ?’

-ওরা বোকার মত তাকিয়ে থাকলো চোখে প্রশ্ন নিয়ে । আরে অবুজ ভালো মানুষেরা  তোমাদের জন্য পায়েস আর মিষ্টি এনেছি ।  খাবারের পর সেটা দিচ্ছি ।‘

-‘ভালো মানুষ ?’ কথাটা অভি হজম করতে পারল না । নিজেই নিজের প্রতি সন্দেহে কনফিউজ চোখে এদিক ওদিক তাকাতে লাগলো । কিন্তু মাতাল মন মাতাল শরীর বেশি চিন্তা করতে পারল না ।

-‘ বাহ বাহ ‘ । বাদল খুব খুশির গলায় বলল ,  ‘শিক্ষিত মানুষের কাজই আলাদা । কেমন করে  কি করা উচিত ওরা ভালো জানে ।‘

-‘হুম ঠিক । এবার অভি বলল, চমৎকার খাবারের সাথে যদি চমৎকার সুন্দরী নারী থাকে তো তার তুলনা হয় না । এর চেয়ে সুখ আর কি হতে পারে ?‘ আচমকা হাত বাড়িয়ে আমার হাত টেনে ধরে বলল ,  ‘তুমিও খেতে বসে যাও সুন্দরী । সত্যি চমৎকার রেঁধেছ ।‘

–   ওদের সাথে খাবো না বলেই আমি বাসায় আগেই খেয়ে নিয়েছিলাম । আমি কষ্টে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললাম , ‘আজ রান্নার খাটুনিতে খুব খিদে পেয়েছিলো তো খেয়ে এসেছি । তোমরা মুল খাবারটা শেষ করো । মিষ্টি একসাথে  খাবো ।‘ আর কিছু না বলে দুজন সানন্দে গোগ্রাসে  গিলছে । মদ আর খাবার ।

– আমি মাদুরের এক কোনায় বসে বসে ওদের দেখছি । আর মনে মনে মিনিট  গুনছি । পাঁচ মিনিট , দশ মিনিট , পনর মিনিট । দুজনেরি হাত আস্তে আস্তে  স্লো হয়ে আসছে । মুখে খাবার দিতে গিয়েও পারছে  না । ঢলছে । কাঁপছে ।

– নিজেদের এই অবস্থা দেখে ওরা আমার দিকে বোকার মত তাকাল ।  ‘কি হল , হাত কাঁপছে কেন ? ম্যাডাম কি খাইয়েছ ? কি ছিল খাবারে ? শক্তি পাচ্ছি না কেন ?’ একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে , প্রশ্ন করছে কি হচ্ছে ?

– আমি নিরাপদ দুরত্বে বসে আছি । হাত বাড়িয়ে আমাকে ছুঁতে চাইলো । ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে আসার কারনে হাত তুলতে পারছিল না । ভয়ংকর খুনে চোখে তাকিয়ে আছে ওরা ।

– হাসছিলাম । ঘৃণার হাসি । প্রতিশোধের হাসি । বিজয়ের হাসি । হাত বাড়িয়ে ওরা আমাকে ধরতে চাইলো বার বার । আমি নাগালের বাইরে  ঠায় বসে তাকিয়ে থাকলাম ঠাণ্ডা চোখে । ওরা এক সময় ঢলে পড়লো জ্ঞান হারিয়ে ।

-ওদের চেতনা নেই । এবার আমাকে দ্রুত কাজ সারতে হবে । অপর টিফিন বাটিটা খুললাম । ভেতর থেকে বের করলাম  দড়ি,  স্কচ টেপ  কাজল পেন্সিল । এবার ওদের শরীর থেকে কাপড় গুলো খুলে নিলাম । লজ্জায় ঘৃণায় গা রি রি করছে আমার । এবার দড়ি দিয়ে দুজনের হাত পা বেঁধে ফেললাম ।  খাটের দুই পায়ের সাথে দুজনের কোমর বাধলাম । এবার একটি দড়ির টুকরো নিয়ে দড়ির একমাথা  দিয়ে অভির এবং  অন্য মাথা দিয়ে বাদলের  বিশেষ অঙ্গকে বাধলাম ।

– এরপর কাজল পেন্সিলটা হাতে নিয়ে  বসলাম । ওদের সামনে । পানি ছিটিয়ে অপেক্ষা করছিলাম ওদের সচেতন হবার ।

–  ওরা আস্তে আস্তে চেতনা ফিরে পেতে শুরু করলো । এবং যখন বুঝল যে , ওদের সাথে কি করা হয়েছে,  আমাকে ওদের ডিকশনারিতে যত গালাগালি আছে সব উজাড় করে দিলো । তার পর ভয় । ওদের কতোটা ক্ষমতা আছে আর ওরা কি কি করতে পারে তার ফিরিস্তি দিতে লাগলো ।

– আমি নির্বাক বসে আছি । এতো কিছু বলেও  কাজ হচ্ছে না দেখে কাকুতি মিনতি শুরু করলো । অবশেষে চিৎকার জুড়ে দিলো ।

 

চলবে………………।

 

©সেলিনা জান্নাত

ঢাকা- রচনাকাল

১২/০৫/২০১৭ইং

 

 

About The Author
Salina Zannat
Salina Zannat

You must log in to post a comment