Now Reading
নবাব শাকিব খান



নবাব শাকিব খান

nobab.jpg

ঈদের আনন্দ দিগুণ করতে যেই কাজটা সবচেয়ে বেশী করা হয়, তা হল এক কোথাও ঘুরতে যাওয়া অথবা দুই হলে বসে ছবি দেখা, সেটা যদি বাংলা ছবি হয়, তাহলেতো কথাই নেই। এবারের ঈদে মুক্তি প্রাপ্ত তিনটি ছবির মধ্যে যেই ছবিটা মুক্তির অনেক আগে থেকেই আমার মন কেরে নিয়েছিল, তা হল সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত ছবি “নবাব”। গত বছর ঈদে মুক্তি পায় শাকিব খানের আরেকটি যৌথ প্রযোজনার ছবি শিকারি। সেই বছরের মধ্যে শিকারি ছিল ব্যবসাসফল। শিকারি ছবি দেখেই মনে হয়েছিল যে নবাব ছবিটাও সেরকম হিট কিছুই হবে। তাই নবাব ছবিটা হলে বসে দেখার লোভ আমি সামলাতে পারলাম না। যেই ভাবা সেই কাজ।

ঈদের পরদিন বিকালেই সিনেমা হলে চলে গেলাম (সংগত কারণেই সিনেমা হলের নাম বলতে চাইনা)। উদ্দেশ্য নবাব ছবিটি দেখবো। কিন্তু হলে পৌঁছেই হতাশ হতে হল। হলের সামনে বিরাট লাইন। কোন মতেই টিকিট কেটে হলে যাওয়া সম্ভব নয়। আমরা টিকিট কাটতে কাটতে হাউজফুল হয়ে যাবে নিশ্চিত। কি আর করা, ব্ল্যাকার এর খোঁজ করতে লাগলাম এবং টিকিট পেয়েও গেলাম। (আশা করি ব্ল্যাকার এর কাছ থেকে টিকিট নেয়াটা সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)।

অজস্র ভালো ছবির নির্মাতা জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে নির্মিত নবাব। ছবিটি দেশের ১২৪টি হলে মুক্তি পেয়েছে। যৌথ প্রযোজনার এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের আব্দুল আজিজ এবং কলকাতার জয়দেব মুখার্জী। ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান,শুভশ্রী,অমিত হাসান,রজতাভ দত্ত,সব্যসাচী চক্রবর্তী,খরাজ মুখার্জিসহ অনেকে।

ছবির কাহিনীটা আপাতত নাই বললাম, কারণ ছবি যেহেতু এখনো হলে চলতেছে, আতি সবাইকে ছবিটি হলে দেখার আমন্ত্রণ জানাবো।

শাকিব খান অভিনীত যৌথ প্রযোজনার ছবি নবাবও দক্ষিন ভারতের অ্যাকশন থ্রিলারের ফর্মুলায় সস্তা ভারতীয় বাংলা ছবি। ছবিটি মুক্তির আগেই অবশ্য এর কাহিনী নিয়ে বেশ আলোচনা সমালোচনা হয়েছে যে কাহিনী অন্যান্য কিছু ছবি থেকে কপি করা হয়েছে। যেখানে বলিউড কিন্তু তাদের বেশিরভাগ ছবি হলিউড কিংবা কোরিয়ান মুভি কপি করে বানায় এবং আমরা সেগুলো দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ি। হলিউডের অনেক ছবিও অন্যান্য বিভিন্ন দেশের ছবির অবলম্বনে নির্মিত হয়।

সেখানে আমাদের দেশের ছবি যদি নির্মাণের দিক থেকে ভালো হয় তবে কেন দেখবো না হলে গিয়ে? হোক সেটা দুই চারটা ছবি থেকে কপি করা কিন্তু পরিপূর্ণ বিনোদন তো পাচ্ছি আমরা। আবার যৌথ প্রযোজনা নিয়েও অনেকে অনেক কথা বলতেছেন। বলা হচ্ছে যে যৌথ প্রযোজনার নামে প্রতারণা করা হচ্ছে। এখন যারা এই যৌথ প্রযোজনার ছবি নিয়ে কথা বলছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলব,আপনারা নিজেরা কেন মান সম্পন্ন ছবি বানাচ্ছেন না দেশে? আপনারা যদি এরকম মনসম্পন্ন ভালো ছবি বানান, তাহলে নিশ্চয় দর্শক আপনাদের ছবি দেখবে। দেশের দর্শক আর যৌথ প্রযোজনার ছবি দেখবে না তাহলে। পরিপূর্ণ দেশীয় ছবিই দেখবে। তবে মনে রাখবেন, এখন বিশ্বায়নের যুগ। মানুষ ঘরে বসেই পুরো দুনিয়া ঘুরে আসতে পারে, তাই বিনোদনের মাধ্যম চলচ্চিত্রকেও কোন বাঁধনে বেঁধে রাখবেন না। আর প্রতিযোগিতা থাকবেই, আপনারাও দেখিয়ে দিন, আপনারাও কোন অংশে কম না।

যাই হোক,আমরা আবার নবাবে ফিরে আসি। অভিনয়ের দিক থেকে সবার পারফর্মেন্স ছিল অসাধারণ। কি কেন্দ্রীয় চরিত্র,কি পার্শ্ব চরিত্র সবার অভিনয় শৈলী চোখে পড়ার মত। তবে সবচেয়ে বেশী নজর কেড়েছে আমাদের সুপারস্টার নায়ক শাকিব খানের রাজীব চৌধুরী ওরফে নবাব নামের কেন্দ্রীয় চরিত্রটি। শাকিব খানকে দেখতে বেশ সুদর্শন লেগেছে। স্লিম, হিট এন্ড ফিট; একেবারেই বলিউডের নায়কদের মতো। ছবিতে তার অভিনয় দেখেই বোঝা যায় যে চরিত্রটির জন্য বেশ পরিশ্রম করেছেন তিনি, যা ছিল বেশ সাবলীল এবং উপভোগ্য। তার সংলাপ ডেলিভারি,নাচ,অ্যাকশন সব মিলিয়ে যেন একটি যথাযথ প্যাকেজ। যদিও নবাব নামটি ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র কয়েকবার তাই শুধু নায়িকার মুখে । পুরো ছবিতে শাকিব খানের নাম ছিল রাজিব চৌধুরী সাহেব । তবু ছবির নাম নবাব দিল কোন যুক্তিতে সেইটাও মাথার উপর দিয়ে গেল ।

ক্রাইম রিপোর্টারের চরিত্রে শুভশ্রীও ভালো করেছেন। তবে তার চরিত্রের ব্যাপ্তি আরেকটু হলে ভালো হত। মুখ্যমন্ত্রীর চরিত্রে অপরাজিতা এবং সব সময় কমেডি চরিত্রে অভিনয় করা খরাজের ভিলেনের চরিত্রটি ছিল আকাঙ্ক্ষার চেয়েও অনেক বেশী ভালো।

ছবিতে মোট তিনটি গান রয়েছে এবং তিনটি গানেই তিন ধরনের স্বাদ পাওয়া যায়। ‘যাবো নিয়ে’ গানটিতে পাওয়া যাবে সফট মেলোডি,‘ষোলআনা’ গানে রয়েছে মশলাদার বিট আবার ‘ও ডিজে’ গানে পাওয়া যাবে পরিপূর্ণ বাংলা আইটেম গানের আমেজ। গানের সাথে সাথে ভালো ছিল ছবির আবহ সংগীতও।

ছবির শিল্প নির্দেশনা,ঝকঝকে ক্যামেরার কাজ,পোশাক পরিচ্ছদ,মেকআপ সব কিছু মিলিয়ে যথাযথ মনে হয়েছে। ছবির প্রতি পদে পদে যে টুইস্ট সেটাও অনেক উপভোগ্য, কেউ কেউ বলতে পারেন এ আর নতুন কি? কোথাও কোথাও কাহিনীর প্যাঁচে একটু আধটু বিরক্তি ধরলেও সব মিলিয়ে নবাব একটি পয়সা উসুল ছবি।

তবে, আর সব যৌথ প্রযোজনার ছবির মত এই ছবিতেও বাংলাদেশকে খুঁজতে গেলে আপনাকে কষ্ট করতে হবে। এটা বাংলাদেশী না কলকাতার ছবি তা আপনার চোখেই ধরা পরে যাবে।

আসলে ভুল ধরতে গেলে সবকিছুতেই হাজারটা ভুল ধরা যাবে। তাই ভুলের ভুলের দিকে না তাকিয়ে অন্তত বিনোদনের জন্যে হলেও সবাইকে আমি নবাব ছবিটি হলে গিয়ে দেখার আহবান জানাব। জয় হোক বাংলা ছবির। বাংলা ছবি হোক সুস্থ বিনোদনের অন্যতম হাতিয়ার। তবে একক প্রযোজনা হোক আর যৌথ প্রযোজনা হোক, আমরা যেন আমাদের দেশকে সহজে খুঁজে পেতে পারি এরকম ছবি নির্মাণ করার দাবি থাকল।

About The Author
Md. Nizam Uddin
Md. Nizam Uddin
HR & Admin In-Charge at my office & article writer.

You must log in to post a comment