পাবলিক কনসার্ন

বাংলাদেশে শিল্প বিপ্লব !! Shipbuilding in BANGLADESH, massive change of ECONOMY !!

বাংলাদেশের একটি ক্রমবর্ধমান ও সম্ভাবনাময় শিল্প জাহাজনির্মাণ । সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জাহাজনির্মাণ একটি প্রধান প্রতিশ্রুতিশীল শিল্প হয়ে উঠেছে যখন স্থানীয়ভাবে দেশীয় তৈরি জাহাজ বিদেশে রপ্তানি করা শুরু হয়। বাংলাদেশ এখন ২00 টির ও বেশি জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, শিপইয়ার্ড বা ডকইয়ার্ড নৌযান নির্মাণ সংক্রান্ত কারখানা আছে যেগুলোর বেশির ভাগই চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল ও খুলনায় গড়ে উঠেছে । জাহাজ, লঞ্চ, কার্গো, সিট্রাক, বার্জ, স্টিমার অর্থাৎ পানিতে চলাচলের জন্য যে কোন ধরনের যান তৈরি বা মেরামতের কাজ এই কারখানা গুলোতে করা হয়। বাংলাদেশের শিপইয়ার্ড গুলো আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন ১০০০০ ডি ডব্লিও টি ( DWT ) মানের জাহাজ তৈরি করতে সক্ষম। বাংলাদেশে তৈরি নতুন জাহাজ গুলো বিভিন্ন ইউরোপিয়ান মার্কেটে রপ্তানি হচ্ছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড এবং জার্মানি। এছাড়াও পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামে রপ্তানি করে থাকে।

বাংলাদেশের নদনদী ভৌগলিক কারণে জাহাজনির্মাণ প্রাচীনকাল থেকেই এই দেশের জনগণের বাণিজ্যিক দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। বাংলাদেশের জাহাজ তৈরি শিল্পের ঐতিহ্য অনেক পুরোনো। মোগলদের সময়ে বা তার আগে ও পরে বাংলাদেশের কাঠের তৈরি জাহাজ একসময় ইউরোপে রপ্তানি হত। খুলনা শিপইয়ার্ড বাংলাদেশ প্রথম আধুনিক শিপইয়ার্ড, একটি জার্মান ফার্ম দ্বারা ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমত এটি একটি ব্যক্তিগত উদ্বেগ ছিল, পরে তা জাতীয়করণ করা হয় এবং ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে।

বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কিছু জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে খুলনা শিপইয়ার্ড লিঃ, কর্নফুলি শিপইয়ার্ড লিঃ, আনন্দশিপ ইয়ার্ড এন্ড স্লিপওয়েস লিঃ, চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিঃ, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিঃ, খান ব্রাদার্স শিপবিল্ডিং লিঃ, নারায়নগঞ্জ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড শিপবিল্ডিং লিঃ, ঢাকা ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস ইত্যাদি। এছাড়াও আরো অসংখ্য শিপবিল্ডিং কারখানা বাংলাদেশে আছে। কয়েকটি নামকরা শিপইয়ার্ড সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

খুলনা শিপইয়ার্ড

খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে যা  বাংলাদেশ নৌবাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং খুলনায় অবস্থিত একটি জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত কারখানা। এটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য পদ্মা-শ্রেণির অফশোর পশুর জাহাজ নির্মাণ করে। দুটি দুর্জয়-শ্রেণী এলপিসি নির্মাণাধীন আছে। এটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য দুইটি কন্টেইনার জাহাজের পাশাপাশি পাঁচটি পেট্রল কার্ট নির্মাণ করেছে।

রেডিয়েন্ট শিপইয়ার্ড লিমিটেড

রেডিয়েন্ট শিপইয়ার্ড লিমিটেড (আরএসএল) – রেডিয়েন্ট মেরিন ডিজাইন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের নতুন অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। ঢাকা থেকে এক ঘন্টা দূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এটির যাত্রা শুরু হয় ২0১২ সালে শীতলক্ষ্যা নদীর পাশে ১২ একর জমির উপর। ২0১২ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই, আরএসএল দেশের সবচেয়ে উন্নত জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের একটি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।

কর্নফুলি শিপইয়ার্ড

কর্ণফুলি শিপ বিল্ডার্স (প্রাঃ) লিমিটেড (কেএসবিএল) বাংলাদেশের বৃহত্তম বেসরকারি মালিকানাধীন একটি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান যা ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়। আট একর জমির উপর সম্পূর্ণ আধুনিক  মেশিনে সজ্জিত এবং ৬৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের ২ টি স্লিপওয়েজ রয়েছে। কেএসবিএল সাধারণত ড্রেজার, বরজ, কার্গো শিপ, মাছ ধরার ট্রলার, যাত্রী ভ্যাসেল, প্যাট্রোল এবং পাইলট ভ্যাসেল, ক্রু নৌকা ইত্যাদি নকশা এবং তৈরি করে থাকে। কেএসবিএল বাংলাদেশে বিগত কয়েক বছরে প্রায় ৪৫০ টা জাহাজ সংস্কার করেছে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৬২ টি নতুন জাহাজ নির্মাণ করেছে।

খান ব্রাদার্স শিপবিল্ডিং

খান ব্রাদার্স জাহাজনির্মাণ প্রতিষ্ঠানটি ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, এটি বাংলাদেশের একটি দ্রুত বেড়ে উঠা শিপইয়ার্ড কোম্পানি। এটি মেঘনা নদীতে অবস্থিত। এই শিপইয়ার্ড মোট ১৮৭০০০ বর্গ মিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত। এটি বছরে ১০০০০ টন ইস্পাত প্রক্রিয়া করার ক্ষমতা রাখে। এটি প্রতি বছর ৪০০০ টন DWT এর ৪ টি জাহাজ সরবরাহ করতে সক্ষম।

আনন্দ শিপইয়ার্ড এবং স্লিপওয়েস লিমিটেড

আনন্দ শিপইয়ার্ড এবং স্লিপওয়েস লিমিটেড বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। এটি টাগ বোটস, ট্যাঙ্কার, ড্রেজার, ফেরি / যাত্রী জাহাজ, পাশাপাশি অফশোর পেট্রল জাহাজ নির্মাণ করে। কোম্পানিটি এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপে তাদের জাহাজ রপ্তানি করে। আনন্দ শিপইয়ার্ড এবং স্লিপওয়েস লিমিটেড ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড বাংলাদেশের প্রধান জাহাজ নির্মাতা কোম্পানি হিসেবে পরিচিত। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সামুদ্রিক শিল্পের বৈশ্বিক চাহিদা পূরণের জন্য প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের বিকাশ সাধন করা। ধীরে ধীরে কোম্পানিটি ২০০০ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠে। এদের অভ্যন্তরীণ নৌপথ ১.৫ একর জমির উপর তৈরি করা হয়।আজ পশ্চিম মেরিন শিপইয়ার্ড দেশের বৃহত্তম জাহাজ নির্মাতা যা ৪২ একর জমির উপর অবস্থিত, একটি বিশ্বমানের শিপইয়ার্ড, নিজেদেরকে আধুনিকায়ন করার জন্য প্রায় 3 হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে সব ধরনের হাই-টেক ও ভারী কারিগরি যন্ত্রপাতি আমদানি করে। এটি দক্ষ, আধা দক্ষ মজুরসহ ৩৫০০ জন কর্মীর একটি কর্মসংস্থানের বিরাট উৎস। নৌবাহিনী, মেকানিক্যাল, বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী, নৌ-স্থপতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সহ এই কোম্পানিতে পাঁচশর ও বেশি কর্মী কাজ করে। এই শিপইয়ার্ড এত দ্রুত স্বীকৃতি লাভ করেছে যে তার খ্যাতি সারা দুনিয়ার সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আজ তারা জার্মানি, ডেনমার্ক ও পাকিস্তানের জন্য বিভিন্ন মহাসাগরীয় জাহাজ নির্মাণ করছে।

দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প খুব কম সময়েই ব্যাপক বিস্তৃতি পেয়েছে বিশ্ব দরবারে। বৈদেশিক বাজারের চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী এই কোম্পানি গুলো কাজ করে যেতে পারলে দেশের ইকোনমিতে আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে বলে আশা করা যায়।

Reference:

www.wikipedia.org

www.wms.com.bd

www.khulnashipyard.com

www.ksblbd.com

www.rsl.org.bd

www.kbgbd.com

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ফেসবুক-লাইভে তরুণীদের নোংরামোঃ সস্তা জনপ্রিয়তা নাকি বেহায়াপনা?

Ferdous Sagar zFs

“ঈদে আপনার ভ্রমণ কতটুকু নিরাপদ হচ্ছে তার দায়িত্ব আপনার হাতে”

Rajib Rudra

কুয়োর ব্যাঙঃ বাঙালিত্ববোধ ও মূল্যবোধের হন্তারক

Rafiqul Islam Heera

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy