Now Reading
পড়াশুনার মতিভ্রম-১ ( বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি)



পড়াশুনার মতিভ্রম-১ ( বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি)

fst1.1.jpg

পড়াশুনার মতিভ্রম-১ ( বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি)

এটা একটা গবেষণামূলক কেইস স্টাডি। বর্তমানের তরুণ প্রজন্মের সূক্ষ্ম জটিল সমস্যা যা অনেকে জেনে ,না বুঝে , বন্ধু বান্ধবের পাল্লায় পড়ে , অসৎ সঙ্গের কারণে অথবা মনের অজান্তেই করে থাকে সেই বিষয় গুলোই এখানে অত্যন্ত বিশদ ভাবে উদাহরণের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সমস্যা গুলো একদমই সমসাময়িক , জটিল , সূক্ষ্ম এবং কৌশলগত। তাই অনেক সময় তা হাতে কলমে না বুঝিয়ে দিলে হৃদয়ঙ্গম করা মুশকিল । তাই পাঠকগণকে অনুরোধ করবো এই লেখাটা পড়ার সময় অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করবেন এবং অবশ্যই দুনিয়ার ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্ত হয়ে শান্ত চিত্তে স্থির মস্তিষ্কে লেখাটা পড়ার চেষ্টা করবেন। কে জানে হয়তো অত্যন্ত মূল্যবান কিছু পেয়ে যেতে পারেন যা আপনার সারাজীবনে কাজে লাগাতে পারবেন অথবা আপনি কোন ধোঁকার মধ্যে আছেন যা এতদিন জানতেন না , যা এই লেখাটা পড়ার পর বুঝতে পারবেন।

 

এই লেখাটা নিম্নলিখিত উপায়ে শ্রেণীবিন্যাস করা হয়েছে –

@ বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি

@ কিছু জীবন-ভিত্তিক বাস্তব উদাহরণ

@ পূর্বপুরুষ আর আমাদের মধ্যে পার্থক্য

@ অবনমনের কারণ

@ উত্তরণের উপায়

 

যতই দিন যাচ্ছে ততই পড়াশুনা সহজ হয়ে আসছে। এই যেমন বিশ বছর আগের কথাই ধরা যাক । তখন পড়াশুনা করার জন্য কোন কম্পিউটার ব্যবহার করা হত না , ব্যবহার করা হত না কোন ট্যাব , মোবাইল , ইলেক্ট্রনিক ডিকশনারি , প্রোজেক্টর । শুধু হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তিগত  কম্পিউটার ব্যবহার করতেন জটিল প্রোগ্রামিং শেখার জন্য । বাদবাকি বেশিরভাগ কম্পিউটারই ব্যবহার হতো অফিসিয়াল কাজের জন্য , চিকিৎসার জন্য অথবা গবেষণামূলক কাজে । কিন্তু আজ ঘরে ঘরে টিভি থাকুক আর না থাকুক কম্পিউটার ঠিকই আছে । কারও কারও ক্ষেত্রে তো এমনও দেখা যায় দুইটা ল্যাপটপ আর তিনটা ডেস্কটপ নিয়ে একসাথে কাজ করে ।

আর কম্পিউটার যদি নাও থাকে Android Mobile দুইটা তিনটা থাকা তো এখন স্বাভাবিক ব্যাপার  , আর Apps গুলো ফ্রি হওয়ায় আমেরিকার ছাত্র আর অন্য দেশের ছাত্রের মধ্যে কোন পার্থক্য রইলনা ।  তাই এখন পড়াশুনার এমন কোন বিষয় নেই যা অনলাইনে পাওয়া যায়না। কোন কোন বিষয় ইন্টারনেটের  মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং তা কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানার চেয়ে  অনেক জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে , আমাদের শিশু কিশোরেরা পড়ার এত এত অনুঘটক হাতের কাছে পাওয়ার পরও তাদের কেন পড়ার প্রতি এত অনীহা ?

এর কারণ এই নয় যে পড়া গুলো অনেক কঠিন  বা যারা পড়ায় তারা কম শিক্ষিত বা তাদের পড়ানোর  ধরণ  যাচ্ছেতাই বা পাঠ্যবইয়ের পড়াগুলো মোটেই আকর্ষণীয় নয় বা এগুলো পড়ে মনে থাকেনা  বা  পড়ে  মজা পাওয়া যায়না বা কি পড়বে তাই বুঝতে পারেনা , এমন কোন সমস্যাই নেই বরং পড়াশুনা আগের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয় , সহজবোধ্য এবং উপভোগ্য । এটা এখন এতটাই সহজ হয়ে গিয়েছে  যে শুধু  শুনে  শুনেই  পড়া অনেকাংশে  মনে রাখা যায়  এবং পড়ানোর স্টাইলেও এখন এতটা টেকনিক ফলো করা হয় যে তা ক্লাসে বসেই মুখস্থ হয়ে যায় ।  তাহলে প্রশ্ন আসে সমস্যাটা আসলে কোথায় ?

সমস্যাটা আসলে এখানেই , এই যে এত সহজ পড়াশুনায় ছেলে মেয়েরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে গিয়েছে , তারা ভাবে আরে যে পড়া আমরা ক্লাসে বসেই শেষ করে ফেলি বাসায় গিয়ে তা দেখে কি লাভ ? বরং ঐ সময় আমরা রিলাক্স মুডে ফেসবুকে সেলফি আপলোড করবো আর অন্যদের আপলোড করা গুলায় লাইক দিবো , শেয়ার দিবো আর কমেন্ট করবো ।  ব্যাস এভাবেই দিন কেটে যাবে আর গোল্ডেন A+ তো এমনিতেও আসবে অমনিতেও আসবে তাই এগুলা নিয়ে টেনশনের কিছু নাই ।

এভাবে তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে কালকে করবো মন-মানসিকতা । এই কালকে করবো মন-মানসিকতা যে কতটা ভয়াবহ তা বলে বোঝানোর অপেক্ষা রাখেনা । এটাকে ইংরেজি শব্দ Procrastination  নামে অভিহিত করা হয় । এটি একটি ব্যক্তি বিশেষের অভ্যাস । কিন্তু যখন এই অভ্যাস মারাত্মক আকার ধারণ করে তখন এটিকে মানব মস্তিষ্কের মারাত্মক ব্যাধি হিসেবে বিবেচনা করা হয় । শুধু মাত্র এই ভয়াবহ ব্যাধিটির জন্য বহু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে গেছে। উন্নত বিশ্বে এটা একটা জাতিও সমস্যা , আর আমাদের জন্য একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম বড় দুরারোগ্য মহামারী । কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই যে , উন্নত বিশ্ব যেখানে এটাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এর সমাধান করছে , স্কুল কলেজ , ভার্সিটির  শিক্ষার্থীদের খুব ভালোকরে এই রোগটির সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে , প্রচুর কৌশল বের করে শিক্ষার্থীদের  শিখিয়ে দিচ্ছে কিভাবে এর থেকে সর্বাধিক দূরে থাকা যায় , কারও মধ্যে এটা কিভাবে বিস্তার লাভ করে , কিভাবে কারও মধ্যে এই রোগ বাসা বাঁধলে তা থেকে খুব দ্রুত বেরিএ আসবে , যারা জানেনা তাদেরকে  কিভাবে এই ব্যাপারে সচেতন করা যায় এবং এর বিপরীত অভ্যাস গড়ে তুলে কিভাবে সময়ের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় । সেখানে আমদের শিক্ষার্থীরা এর সাথে একদমই পরিচিতই না । ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু মোটিভেশন প্রোগ্রাম চালু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সত্যি নগণ্য। কিন্তু আশার বিষয় দেরিতে হলেও তা চালু হয়েছে। কিন্তু প্রান্তিক এলাকা গুলো এখনও এর সুফল পাওয়া থেকে যোজন যোজন দূরে।  চলবে…………

About The Author
Md. Moinul Ahsan
The whole world is my school and i am the student of this. The more i try the better i improve.My country my responsibility , one day Bangladesh will be considered as a superpower.
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment