ডুবন্ত আমি থেকে স্বনির্ভর আমি

Please log in or register to like posts.
News

“আমার জীবনে তো কিছু হলো না, হবেও না। আমি কই যাবো? কিভাবে নিজেকে উপরে তুলবো? আমার এর দুঃসময় কি আদৌ কাটবে? আমি নিজেকে কিভাবে শুধরাবো?”- ইত্যাদি ইত্যাদি চিন্তা সারাক্ষণ মাথায় ঘুরে। হতাশা আপনাকে অক্টোপাশের মত ঘিরে আছে। সাহায্যের সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। জীবনের আশার আলোর প্রদীপটা নিভু নিভু করছে। গার্লফ্রেন্ড চলে গেছে? চাকরী নাই? পড়াশোনায় খারাপ বলে আশে পাশের সামাজিক প্রাণীদের কটু বাক্য প্রতিদিন শুনেন? দেনায় ডুবে আছেন? আচ্ছা রিলাক্স। আপনার মত এমন হাজারো ভুক্তোভুগি আপনার ই আশে পাশে ঘুর ঘুর করছে । হয়ত কারো কারো সমস্যা আপনার চেয়েও বিশাল। এদের মাঝে অনেকে হাত কাটা-কাটি,নেশা করা, সুইসাইড ইত্যাদি বাজে কাজগুলোর দিকে যাচ্ছে বা যাবার চিন্তা করছে । আপনার ও অবস্থা সেদিকে যাবার পথে। কি যাবেন সেই পথে নাকি একটু নিজেকে সামলে আগের চেয়ে দ্বিগুণ তেজে নিজেকে ঝালিয়ে নিয়ে নতুন করে শুরু করতে চান জীবন? আজকের পোস্টটা সেই জীবনযুদ্ধে পরাজিত কিন্তু আশা বাচিয়ে রাখা মানুষগুলোর জন্যই ।

একটা গল্প বলি শুরুতে। একটা ছেলের গল্প। ছেলেটা না ছিল ভাল স্টুডেন্ট না ছিল দেখতে আহামরি না ছিল ধনী পরিবারের।৫ম এবং ৮ম শ্রেনীতে বৃত্তি পায়নি বলে ৩ মাস নিজ পরিবারে একঘরে করে রাখা হয়েছিল তাকে । অনেক এক্সপেকটেশন থাকা সত্বেও সে পারেনি মাধ্যমিক এ পরিবারকে ভাল রেজাল্ট এনে দিতে।  এভারেজ রেজাল্ট নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর পরিবার আর সমাজের বাক্যবাণে জর্জরিত হয়ে পাবলিক ভার্সিটি ট্রাই ই করলো না।  ২ বছর পড়ার পর আর্থিক অসঙ্গতি এর কারনে পড়াশোনা স্থগিত থাকলো তার । সমাজ জানলো রেজাল্ট খারাপ এর জন্য ভার্সিটি তাকে কিক আউট করেছে। এতটাই ভেঙ্গে পড়েছিল সে , তার ঘর ছিল তার কারাগারের সেল। এমতাবস্থায় ভালবাসার মানুষটিও তাকে একলা করে পরপারে পাড়ি জমায় । ৬ টা মাস সে তার মেসের রুম ছাড়া কিছু চিনতো না।

নাহ! ছেলেটা সুইসাইড, হাত কাটাকাটি করেনি। নিজেকে উপযুক্ত বানিয়েছে। শান দিয়েছে নিজের মস্তিষ্কে। এভারেজ রেজাল্ট করা ছেলেটা আজকে তারই সমবয়সী ছেলেগুলার মাঝে স্পেশাল । সবাই তাকে আলাদাভাবে এডামায়ার করে। সমাজ তাকে সাদরে আমন্ত্রন জানায়। নিজের পড়াশুনা আবার শুরু করেছে সে । এবার নিজেই খরচ চালায় নিজের। বাবা – কেও খুশি রাখে।  বোনের আবদার মিটায় । কিভাবে?

সবার আগে নিজের ভিতর নিজেকে খুজুন। উপরে যিনি বসে আছেন, তিনি সবাইকে প্রিমিয়াম প্রোডাক্ট হিসেবে বানিয়েছেন। প্রত্যেকের এই দুনিয়াতে আসার পিছনে কোন না কোন কারন আছে। নিজের মুল্য নিজেকে খুজতে হবে। আপনার চারপাশের মানুষগুলোর মাঝে নিজের একটা ভ্যালু সৃষ্টি করার চেস্টা করেন। আপনি বলবেন – “মাথা থেকে মন খারাপের কারন সরাতে পারিনা। কি করবো?” আমার উত্তর হবে নেশা করুন। এই নেশা মাদকের না। এই নেশা হতে পারে সঙ্গীতের, এই নেশা হতে পারে পেইন্টিং এর, এই নেশা হতে পারে বইয়ের, এই নেশা হতে পারে লেখালেখির, খেলাখুলার, বাগান করার ইত্যাদি যে কোন কিছু যা আপনার করতে ভাললাগে এবং খুব মনযোগ দিতে করতে পারেন। এমন কাজের নেশা করুন যা করার সময় অন্য কোন দিকে আপনার মন যেতেই পারবে না।

মনে রাখবেন – টাইম ইজ এ গ্রেট হিলার। নিজেকে নিজে সময় দেন। ক্ষতগুলো একসময় সেরে যাবেই। কোন কিছুই চিরস্থায়ী না আর এ তো সামান্য ছিটকে পড়া। ছিটকে পরে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে আসা আমাদের উচিত না, বরং পুনরায় লেগে পরা উচিত। নিজের ভেতর একটা জিদ নিয়ে আসুন নিজেকে সফল দেখার। সময় পেলে সাফল্যে ঘেরা মানুষগুলোর জীবনী পড়ুন। দেখবেন তাদের লাইফের অবস্থা আপনার চেয়ে দুর্বিষহ ছিলো। তারা পারলে আপনি কেন পারবেন না? জ্যাক মা, কলোলেন স্যান্ডার্স কে দেখুন । জ্যাক মা টুরিস্টদের ফ্রি গাইড হিসেবে কাজ করতেন শুধু ইংরেজি শিখার জন্য কারন তিনি বুঝেছেন শিক্ষা ছাড়া নিজের অবস্থার উন্নতি সম্ভব না আর সেই শিক্ষা হতে হবে সু-শিক্ষা । আর সেই মানুষ দুনিয়ার অন্যতম সেরা অনলাইন মার্কেট আলীবাবা ডট কম এর মালিক । স্যান্ডার্স সাহেব তো ফেইলিউর এর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহারন। ফেইল ছাড়া তার লাইফে কি আছে? সুইসাইড করার স্পটে বসে মৃত্যুকে মধ্যাঙ্গুলি দেখি নিজেকে ঝাড়ি মেরে দাড়ালেন। আজকেই কে এফ সি তারই সেদিনের নিজেকে বুস্ট আপ করার ফসল।  এই মানুষগুলোর স্ট্রাগলিং পিরিয়ড এর গল্প গুলো পড়েন । নিজেকে বিশ্ব কাতারে দাড় করানোর মত সামর্থ্যে অর্জন করেন। সমসাময়িক ব্যাপারগুলোর ব্যাপারে নিজের জ্ঞান রাখুন। ভাবতে পারেন – কি লাভ হবে? ১ম লাভ, আপনি ব্যাস্ত থাকতে পারবেন। ২য় লাভ, আপনার নিজের জ্ঞান বাড়বে আর ৩য় লাভ যখন নিজেকে পুরোপুরি রিকোভারি করতে পারবেন তখন নিজের উপর প্রাউড ফিলিং আসবে এই ভেবে যে আপনি ভুল পথে পা বাড়াননি।

যতক্ষন না আপনি নিজের সাহায্যে নিজে করছেন, কেউ আপনার সাহায্য করতে পারবে না এটা লিখে রাখুন। ইভেন কোন সাইকাট্রিস্ট ও না। আপনি নিজেকে নিজের যোগ্য করে গড়ে তুলুন, প্রতিদিন একটু করে নিজেকে সমৃদ্ধ করুন যাতে ১০ বছর পর উপরে বসা বিধাতেকে ধন্যবাদ দিয়ে নিজের বুক নিজে চাপড়ে বলতে পারেন  – হ্যা, আমি নিজের উপর আর গর্ববোধ করছি।

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?